আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে শহীদ মিনারকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

Spread the love

মো: মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: শহীদ দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

 

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনার এলাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা  পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম এসব কথা জানান। এসময় ডিএমপি কমিশনার জানান, শহীদ মিনারের বেদী কেন্দ্রীক প্রথম স্তর, শহীদ মিনারের বাইরে দ্বিতীয় স্তর, দোয়েল চত্বর-শাহবাগ-নীলক্ষেত-পলাশী-বকশীবাজার কেন্দ্রীক তৃতীয় স্তর ও এর বাইরে আরেক স্তর। এর মাধ্যমে শহীদ মিনারকে ঘিরে মোট চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

 

শহীদ মিনারের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে মোট আট হাজার পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরো বলেন, শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবাইকে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে মূল বেদীতে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া ম্যানুয়ালি ও হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। মৎস্যভবন থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং দোয়েল চত্বর থেকে পলাশী পর্যন্ত শহীদ মিনারের পুরো এলাকার প্রতি ইঞ্চি সিসিটিভির আওতায় থাকবে বলেও জানান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, সিসিটিভিগুলো কন্ট্রোলরুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোথাও সমস্যা মনে হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এসময় নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারের পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। শহীদ মিনারের চারপাশে ডিএমপির ওয়াচ টাওয়ার থাকবে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৫টি ফুট পেট্রোল টিম শহীদ মিনারের চারপাশে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত গাড়ি প্রবেশ বন্ধ থাকবে। মহান একুশের প্রথম প্রহরে ভিভিআইপি ছাড়া সবাই শহীদমিনারে যাবেন পলাশীর মোড় হয়ে। কঠোরভাবে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

 

এসময় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, কূটনীতিক কোরের সদস্যরা মৎস্যভবন হয়ে দোয়েল চত্বর দিয়ে শহীদ মিনারের পথে যাবেন। এর বাইরে যারা রয়েছেন তাদের সবাইকে পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে যেতে হবে। গতবছর শহীদ মিনারে প্রবেশে দোয়েল চত্বরে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বিশৃংখলা সৃষ্টি করে এবং পরে জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে উঠে পড়ে, সে কথা উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর যেন তেমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিরা শহীদ মিনারে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর চলে গেলেই পলাশীর পথ খুলে দেওয়া হবে। তার আগে এ পথ আটকে রাখা হবে। এ অবস্থায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

কমিশনার বলেন-বিদেশী রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ও নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে ফায়ার টেন্ডার ও লাইটিং ইউনিট মোতায়েন থাকবে।  সাইন্স এনেক্স চত্বরে সাব-কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এ বছর কেউ যাতে শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে উঠে পড়তে না পারে সেজন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাণের এ উৎসবে কেউ যেন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে, সব পর্যায়ের মানুষ যাতে ভাষার শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দফায় দফায় সমন্বয় সভা করা হয়েছে আর তার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

 

এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপনে কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে  তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনকে ঘিরে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই। আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি। ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এসময় দুই বছর আগে ২১ ফেব্রুয়ারির দুইদিন পর লেখক অভিজিৎ রায়  হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বইমেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় এবার তেমনটাই নেওয়া হয়েছে। অতীতে আমাদের যে ব্যর্থতা তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতেই চলছে।অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দু’একজন আমাদের অভিযানে নিহত হয়েছেন। কয়েকজন আটক আছেন। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ব্যানার, ফ্যাস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিষিদ্ধকরণ নিয়ে কমিশনার বলেন-মহান একুশে ফেব্রয়ারী ভাব গাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে শহীদ মিনারের আশপাশে সকল ধরণের ব্যানার, ফ্যাস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন নিরুৎসাহিত/নিষিদ্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের পত্র দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সফল করার আহবান জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» পাকিস্তানের বোলিং তোপে কোণঠাসা নিউজিল্যান্ড

» যশোরের বেনাপোল পুটখালী থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» শ্রমিকদের জন্য হাসপাতল, আবাসন, রেশনিং, শিক্ষা, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ন মৌলিক বিষয়ে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবীতে। মাননীয় স্পিকারের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

» উলাশীর নীলকুঠি পার্কে-বোমা হামলা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ১৫ লাখ টাকা

» ধামইরহাট মঙ্গল খাল পুনঃ খনন হওয়ায় খুশি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির উপকারভোগী কৃষকরা

» বেনাপোলে জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান সিষ্টার হেলেনা জাহাঙ্গীরের সুস্থতা কামনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

» ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

» কলাপাড়ায় তেগাছিয়ার খেঁয়াঘাট টি যেন এখন মরণ ফাঁদ! যাত্রীদের চরম দুর্ভ্যোগ

» টাকা ছাড়াই ১৮ জন বেকার যুবককে পুলিশে চাকরি দিলেন এসপি মাহবুবুর রহমান

» প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে শহীদ মিনারকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মো: মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: শহীদ দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

 

রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহীদ মিনার এলাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা  পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম এসব কথা জানান। এসময় ডিএমপি কমিশনার জানান, শহীদ মিনারের বেদী কেন্দ্রীক প্রথম স্তর, শহীদ মিনারের বাইরে দ্বিতীয় স্তর, দোয়েল চত্বর-শাহবাগ-নীলক্ষেত-পলাশী-বকশীবাজার কেন্দ্রীক তৃতীয় স্তর ও এর বাইরে আরেক স্তর। এর মাধ্যমে শহীদ মিনারকে ঘিরে মোট চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

 

শহীদ মিনারের নিরাপত্তায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে মোট আট হাজার পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরো বলেন, শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবাইকে আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে মূল বেদীতে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া ম্যানুয়ালি ও হ্যান্ডমেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। মৎস্যভবন থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং দোয়েল চত্বর থেকে পলাশী পর্যন্ত শহীদ মিনারের পুরো এলাকার প্রতি ইঞ্চি সিসিটিভির আওতায় থাকবে বলেও জানান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, সিসিটিভিগুলো কন্ট্রোলরুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোথাও সমস্যা মনে হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এসময় নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে শহীদ মিনারের পুরো এলাকা ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। শহীদ মিনারের চারপাশে ডিএমপির ওয়াচ টাওয়ার থাকবে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৫টি ফুট পেট্রোল টিম শহীদ মিনারের চারপাশে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগত গাড়ি প্রবেশ বন্ধ থাকবে। মহান একুশের প্রথম প্রহরে ভিভিআইপি ছাড়া সবাই শহীদমিনারে যাবেন পলাশীর মোড় হয়ে। কঠোরভাবে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

 

এসময় তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, কূটনীতিক কোরের সদস্যরা মৎস্যভবন হয়ে দোয়েল চত্বর দিয়ে শহীদ মিনারের পথে যাবেন। এর বাইরে যারা রয়েছেন তাদের সবাইকে পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে যেতে হবে। গতবছর শহীদ মিনারে প্রবেশে দোয়েল চত্বরে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বিশৃংখলা সৃষ্টি করে এবং পরে জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে উঠে পড়ে, সে কথা উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর যেন তেমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিরা শহীদ মিনারে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর চলে গেলেই পলাশীর পথ খুলে দেওয়া হবে। তার আগে এ পথ আটকে রাখা হবে। এ অবস্থায় আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

কমিশনার বলেন-বিদেশী রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক ও নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে ফায়ার টেন্ডার ও লাইটিং ইউনিট মোতায়েন থাকবে।  সাইন্স এনেক্স চত্বরে সাব-কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এ বছর কেউ যাতে শহীদ বেদীতে জুতা পায়ে উঠে পড়তে না পারে সেজন্য সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রাণের এ উৎসবে কেউ যেন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে না পারে, সব পর্যায়ের মানুষ যাতে ভাষার শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেন সেজন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দফায় দফায় সমন্বয় সভা করা হয়েছে আর তার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার।

 

এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান উদযাপনে কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে  তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনকে ঘিরে কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই। আমরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছি। ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। এসময় দুই বছর আগে ২১ ফেব্রুয়ারির দুইদিন পর লেখক অভিজিৎ রায়  হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বইমেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলতে যা বোঝায় এবার তেমনটাই নেওয়া হয়েছে। অতীতে আমাদের যে ব্যর্থতা তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাঙ্ক্ষিত গতিতেই চলছে।অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দু’একজন আমাদের অভিযানে নিহত হয়েছেন। কয়েকজন আটক আছেন। আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ব্যানার, ফ্যাস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিষিদ্ধকরণ নিয়ে কমিশনার বলেন-মহান একুশে ফেব্রয়ারী ভাব গাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে শহীদ মিনারের আশপাশে সকল ধরণের ব্যানার, ফ্যাস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন নিরুৎসাহিত/নিষিদ্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের পত্র দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিশেষে তিনি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সফল করার আহবান জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited