ঘুর্ণিঝড় বুলবুল শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে নেয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৯ নভেম্বর।। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ধরণের গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের পানিতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতিপাড়া, চাড়িপাড়া, নয়াকাটা, চৌধুরীপাড়া, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং ও মুন্সীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ্ছাড়া ওই ইউনিয়নের ৪৭/৫ নং বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় দুর্গত মানুষজনকে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় দেয়া হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাতে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় পৌনে দুই লাখ লোক আশ্রয় নিতে পারবে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই ওইসব আশ্রয় কেন্দ্র গুলো বিভিন্ন এলাকার লোকজন আশ্রয় নিতে থাকে। এদিকে শুক্র, শনি ও রবিবার তিনদিনের ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতে বেশ কিছু পর্যটক বেড়াতে এসে আটকা পড়েছেন। তারা সবাই হোটেলে অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা সৈকতের ভাসমান দোকানগুলি থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে দোকানগুলো এখনও সরিয়ে নেয়া হয়নি। কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খেপুরাপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র দিয়ে দেখা গেছে। প্রতিটি রুমেই লোকজন কানায় কানায় পরিপূর্ন।

 

এসময় কথা হয় আশ্রয় নেয়া আব্দুল রব মিয়ার সাথে। সে বলেন নদীর পারে আমরা থাকি। তাই কোন সময় পানিতে চাপ বুঝে উঠতে পারবোনা। তার চেয়ে আগেভাগেই ছেলে মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। অপর এক গৃহিনী তাসলিমা জানান, ঘর্ণিঝড় বুলবুল কলাপাড়ায় আঘাত হানতে পারে। সিপিপির সদস্যদের মাইকিং শুনে এই আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নের ওই ৮টি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮-১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী এসব মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।

 

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, মাইকিং করে এসব পর্যটককে হোটেলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া বিপদ এড়াতে কুয়াকাটা সৈকতে নামার প্রধান সড়কসহ জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে যাতায়াত আটকে দেয়া হয়েছে। পর্যটকসহ কোনো মানুষ সৈকতে না নামতে পারে সে জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মদ আলী বলেন, পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে সকাল ৬ টা থেকে মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাথে পুলিশের একটি করে টিম এ জন্য কাজ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনিবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় দুর্গত মানুষজনকে আশ্রয় দিতে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র আগেই প্রস্তুত রাখা ছিলো। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯০০-১২০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। দুপুর থেকেই ওইসব আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহের সিমান্তে বিজিবি কর্তৃক সাড়ে ২৯ লাখ টাকার ২১৬টি সোনার আংটি উদ্ধার

» গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা : আটক ১০

» রাজাপুরে পিতার মাথায় রড ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক ছেলে গ্রেফতার

» রাজাপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গুচ্ছ গ্রামের ২৭ টি ঘর লন্ডভন্ড, ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি

» উপকূল দিবস’ চান ঝালকাঠির মানুষ, মানববন্ধন

» দৈনিক আমার সংবাদ কমলগঞ্জ প্রতিনিধির পিতার ৩য় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

» সৈয়ারপুর লক্ষ্মীবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

» কালী প্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়ে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়

» শেষ হলো কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান

» কাঠালিয়ায় পুলিশ সুপার মার্কেটের জমি উদ্ধার

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৮শে কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘুর্ণিঝড় বুলবুল শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে নেয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,০৯ নভেম্বর।। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকেই উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ধরণের গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করছে। শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের পানিতে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতিপাড়া, চাড়িপাড়া, নয়াকাটা, চৌধুরীপাড়া, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং ও মুন্সীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ্ছাড়া ওই ইউনিয়নের ৪৭/৫ নং বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় দুর্গত মানুষজনকে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় দেয়া হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাতে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় পৌনে দুই লাখ লোক আশ্রয় নিতে পারবে। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই ওইসব আশ্রয় কেন্দ্র গুলো বিভিন্ন এলাকার লোকজন আশ্রয় নিতে থাকে। এদিকে শুক্র, শনি ও রবিবার তিনদিনের ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতে বেশ কিছু পর্যটক বেড়াতে এসে আটকা পড়েছেন। তারা সবাই হোটেলে অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া কুয়াকাটা সৈকতের ভাসমান দোকানগুলি থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে দোকানগুলো এখনও সরিয়ে নেয়া হয়নি। কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। খেপুরাপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র দিয়ে দেখা গেছে। প্রতিটি রুমেই লোকজন কানায় কানায় পরিপূর্ন।

 

এসময় কথা হয় আশ্রয় নেয়া আব্দুল রব মিয়ার সাথে। সে বলেন নদীর পারে আমরা থাকি। তাই কোন সময় পানিতে চাপ বুঝে উঠতে পারবোনা। তার চেয়ে আগেভাগেই ছেলে মেয়েদের নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। অপর এক গৃহিনী তাসলিমা জানান, ঘর্ণিঝড় বুলবুল কলাপাড়ায় আঘাত হানতে পারে। সিপিপির সদস্যদের মাইকিং শুনে এই আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি। লালুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস জানান, তার ইউনিয়নের ওই ৮টি ইউনিয়নের কমপক্ষে ৮-১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী এসব মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।

 

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক মো.জহিরুল ইসলাম বলেন, মাইকিং করে এসব পর্যটককে হোটেলে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তাছাড়া বিপদ এড়াতে কুয়াকাটা সৈকতে নামার প্রধান সড়কসহ জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে যাতায়াত আটকে দেয়া হয়েছে। পর্যটকসহ কোনো মানুষ সৈকতে না নামতে পারে সে জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মদ আলী বলেন, পুলিশ বিভাগের উদ্যোগে সকাল ৬ টা থেকে মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সাথে পুলিশের একটি করে টিম এ জন্য কাজ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনিবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় দুর্গত মানুষজনকে আশ্রয় দিতে ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র আগেই প্রস্তুত রাখা ছিলো। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯০০-১২০০ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। দুপুর থেকেই ওইসব আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited