গ্রেফতারের পর যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হলেন কাউন্সিলর রাজিব

ক্যসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবকে বহিষ্কার করেছে যুবলীগ। যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাজীব শনিবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, চলমান অভিযানে যুবলীগের কেউ দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে গ্রেফতার হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা ছিল আমাদের। সেই মোতাবেক রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ নিয়ে চলমান অভিযানে দু’জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, রাজীব বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছেন- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসা ঘেরাও করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়।

 

জানা গেছে, অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন রাজীব। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাতমসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি, জমি আছে ও একাধিক বিলাসী গাড়ির মালিক তিনি। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেন। এক দশক আগে মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ে ছোট্ট বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। কাউন্সিলর হওয়ার পর চলতেন দামি গাড়িতে। তৈরি করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী।

 

সব সময় চলাফেরা করতেন গাড়ির বহর নিয়ে। কাউন্সিলর হওয়ার পর দ্রুত ভাগ্য বদলে যেতে থাকে তার। রাজীবের লোকজন এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে তার ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। এরপর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান।

 

অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ, বছিলা এলাকার পরিবহনে চাঁদাবাজি রাজীবের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরিবহন খাত থেকেও মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি। এলাকার পশুর হাটে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। প্লট ও জমি দখল করে দেওয়ার বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা কামান তিনি। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে তিনি প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করেন। এলাকায় অনেকে বলছেন ৫ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি তৈরি করতে ৫ কোটি টাকার ওপর খরচ করেন তিনি।

 

এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর রাজীবের বাবার নাম তোতা মিয়া। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। এক সময় রাজীব মোহাম্মদপুর এলাকায় টং দোকানি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজীবের প্রভাব দেখিয়ে তার স্বজনরা অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। তার চাচা ইয়াসিন হাওলাদার মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক প্লট দখল করেছেন।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহের স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তীতে যাত্রীরা

» ঝিনাইদহে আলোচিত স্কুলছাত্র সিফাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

» হরিণাকুন্ডুতে ৯মামলার আসামি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী নিহত

» ইভটিজিংয়ের সাথে আমার পুত্র জড়িত নয় এমনটাই দাবী কওে পিতার সংবাদ সম্মেলন

» গলাচিপায় ৪ জন আহত হওয়ায়! থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

» সাপাহারে তিলনা ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সাংবাদিক হাফিজুলকে দেখতে চায় তিলনাবাসী

» আগৈলঝাড়া থানার উদ্যোগে বাল্য বিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা

» ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি এমপি নুসরাত

» ইজিবাইকে দিনরাত কাটানো বাবা-মেয়েকে ঘর দিলেন ডিসি

» মাত্র ১৯ বছরেই ৩ হাজার ৩২৩ জন পুরুষের সঙ্গে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গ্রেফতারের পর যুবলীগ থেকে বহিষ্কার হলেন কাউন্সিলর রাজিব

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ক্যসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবকে বহিষ্কার করেছে যুবলীগ। যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। রাজীব শনিবার রাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, চলমান অভিযানে যুবলীগের কেউ দুর্নীতি বা অন্য কোনো কারণে গ্রেফতার হলে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা ছিল আমাদের। সেই মোতাবেক রাজিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

 

এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৮ নম্বর সড়কের ৪০৪ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ নিয়ে চলমান অভিযানে দু’জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, রাজীব বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অবস্থান করছেন- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসা ঘেরাও করা হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে বাসায় তল্লাশি চালানো হয়।

 

জানা গেছে, অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন রাজীব। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ, চন্দ্রিমা হাউজিং, সাতমসজিদ হাউজিং, ঢাকা উদ্যানসহ বিভিন্ন এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর এলাকায় তার একাধিক বাড়ি, জমি আছে ও একাধিক বিলাসী গাড়ির মালিক তিনি। ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর পদে জয়লাভ করেন। এক দশক আগে মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ে ছোট্ট বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। কাউন্সিলর হওয়ার পর চলতেন দামি গাড়িতে। তৈরি করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী।

 

সব সময় চলাফেরা করতেন গাড়ির বহর নিয়ে। কাউন্সিলর হওয়ার পর দ্রুত ভাগ্য বদলে যেতে থাকে তার। রাজীবের লোকজন এক মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর করেন। ওই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে তার ওই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হয়েছিল। এরপর তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান।

 

অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর, বেড়িবাঁধ, বছিলা এলাকার পরিবহনে চাঁদাবাজি রাজীবের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরিবহন খাত থেকেও মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি। এলাকার পশুর হাটে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল তার। প্লট ও জমি দখল করে দেওয়ার বিনিময়ে লাখ লাখ টাকা কামান তিনি। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে তিনি প্রাসাদোপম বাড়ি তৈরি করেন। এলাকায় অনেকে বলছেন ৫ কাঠা জমির ওপর ওই বাড়ি তৈরি করতে ৫ কোটি টাকার ওপর খরচ করেন তিনি।

 

এলাকাবাসী জানান, কাউন্সিলর রাজীবের বাবার নাম তোতা মিয়া। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। এক সময় রাজীব মোহাম্মদপুর এলাকায় টং দোকানি ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজীবের প্রভাব দেখিয়ে তার স্বজনরা অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। তার চাচা ইয়াসিন হাওলাদার মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক প্লট দখল করেছেন।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited