ভর্তি পরীক্ষাকালীন রাবি প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ‘যেই লাউ সেই কদু’!

এমএ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই বেপরোয়া হয়ে উঠে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীরা। এসবের কবলে পড়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে মেসে থাকতে গেলে মেস কিংবা বাসার মালিকেরা অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেন। এসব নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কার্যত ‘যেই লাউ সেই কদু’র মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

 

প্রতিবারের এসব অস্বস্তিকর অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই জানান, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনতাই করতে ওত পেতে থাকে দুর্বৃত্তরা। ভিতরে বা বাহিরে কোনো না কোনো স্থানে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির শিকার হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ও কাজলা গেট, মেহেরেচন্ডি, জুবেরী মাঠ, ইবলিশ চত্বর, তুঁতবাগান, প্যারিস রোডসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ছিনতাইয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার বখাটে ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আশ্রয় নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী মেসসমূহে। মেস মালিকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করেন। হলের ভিতরে শিকার হতে হয় র‌্যাগিং এর। ক্যাম্পাসের পথেঘাটে অগণিত স্টল বসায় চলতে ফিরতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

এবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করছেন। অভিভাবকদের থাকার সুবিধার্থে জায়গা করা হচ্ছে তবে হলের ভিতর অভিভাবকরা থাকতে পারবেন না বলেও ঘোষণা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনো স্টল বসাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যে স্টলের জন্য জায়গা বরাদ্দ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মেস মালিক সমিতি বরাবরের মতো বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন। মেস মালিক সমিতি জানান, এবার কোনো মেস মালিক অর্থ আদায় করবেন না। আগত শিক্ষার্থীদের সম্মানের সহিত জায়গা দেওয়া হবে। কোনো অসুবিধার শিকার হলে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবার স্পেশালভাবে নিরাপত্তা দিবেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসের ভিতরে যেসব স্টলের জায়গা বরাদ্দ হয়েছে তা তুলে দেওয়া হবে। আমরা এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুবিধার ব্যাপারে সকলের সহযোগীতা আশা করছি। একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতিশ্রুতি নামক মুলা ঝুলিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অর্থ আদায়, র‌্যাগিং, হয়রানি চলেই। প্রশাসন এ ব্যাপারে সজাগ হোক সেটা আশা করি। ঘোষণাগুলো অন্তত ফলপ্রসু হোক।

 

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহের স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তীতে যাত্রীরা

» ঝিনাইদহে আলোচিত স্কুলছাত্র সিফাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

» হরিণাকুন্ডুতে ৯মামলার আসামি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী নিহত

» ইভটিজিংয়ের সাথে আমার পুত্র জড়িত নয় এমনটাই দাবী কওে পিতার সংবাদ সম্মেলন

» গলাচিপায় ৪ জন আহত হওয়ায়! থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

» সাপাহারে তিলনা ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সাংবাদিক হাফিজুলকে দেখতে চায় তিলনাবাসী

» আগৈলঝাড়া থানার উদ্যোগে বাল্য বিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা

» ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি এমপি নুসরাত

» ইজিবাইকে দিনরাত কাটানো বাবা-মেয়েকে ঘর দিলেন ডিসি

» মাত্র ১৯ বছরেই ৩ হাজার ৩২৩ জন পুরুষের সঙ্গে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভর্তি পরীক্ষাকালীন রাবি প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ‘যেই লাউ সেই কদু’!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

এমএ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয়: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই বেপরোয়া হয়ে উঠে চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীরা। এসবের কবলে পড়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া ক্যাম্পাসের বাহিরে মেসে থাকতে গেলে মেস কিংবা বাসার মালিকেরা অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেন। এসব নিয়ে বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও কার্যত ‘যেই লাউ সেই কদু’র মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

 

প্রতিবারের এসব অস্বস্তিকর অবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই জানান, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনতাই করতে ওত পেতে থাকে দুর্বৃত্তরা। ভিতরে বা বাহিরে কোনো না কোনো স্থানে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির শিকার হয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ও কাজলা গেট, মেহেরেচন্ডি, জুবেরী মাঠ, ইবলিশ চত্বর, তুঁতবাগান, প্যারিস রোডসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘটে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনা। এসব ছিনতাইয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার বখাটে ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা সম্পৃক্ত থাকেন। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আশ্রয় নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী মেসসমূহে। মেস মালিকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করেন। হলের ভিতরে শিকার হতে হয় র‌্যাগিং এর। ক্যাম্পাসের পথেঘাটে অগণিত স্টল বসায় চলতে ফিরতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

 

এবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করছেন। অভিভাবকদের থাকার সুবিধার্থে জায়গা করা হচ্ছে তবে হলের ভিতর অভিভাবকরা থাকতে পারবেন না বলেও ঘোষণা হয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনো স্টল বসাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যে স্টলের জন্য জায়গা বরাদ্দ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মেস মালিক সমিতি বরাবরের মতো বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন। মেস মালিক সমিতি জানান, এবার কোনো মেস মালিক অর্থ আদায় করবেন না। আগত শিক্ষার্থীদের সম্মানের সহিত জায়গা দেওয়া হবে। কোনো অসুবিধার শিকার হলে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবার স্পেশালভাবে নিরাপত্তা দিবেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসের ভিতরে যেসব স্টলের জায়গা বরাদ্দ হয়েছে তা তুলে দেওয়া হবে। আমরা এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুবিধার ব্যাপারে সকলের সহযোগীতা আশা করছি। একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রতিশ্রুতি নামক মুলা ঝুলিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অর্থ আদায়, র‌্যাগিং, হয়রানি চলেই। প্রশাসন এ ব্যাপারে সজাগ হোক সেটা আশা করি। ঘোষণাগুলো অন্তত ফলপ্রসু হোক।

 

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited