রাতের আকাশে রং উড়িয়েছে বে-রংয়ের ফানুস বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারণা উৎসব শুরু

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৪অক্টোবর।। গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সুখ-শান্তি, কল্যাণ কামনা করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্নিমা। তিনদিন ব্যাপী প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাখাইন পল্লী গুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লী থেকে রাতের আকাশে উড়ানো হয়েছে শতাধিক বে-রংয়ের ফানুস ফানুস। দৃষ্টিনন্দন ও সার্বজনীন এ উৎসবকে ঘিরে গভীর রাত পর্যন্ত বৌদ্ধ মন্দিরগুলোর ভিড় জমায় জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে হাজারো মানুষ।

 

বৌদ্ধ ধর্মের মতে প্রবারণা শব্দের অর্থ আত্মনিবেদন। আর বৌদ্ধ ধর্মানুসারে ফানুসকে বলা হয় আকাশ বাতি। ধর্মী বিশ্বাস মতে প্রবারনা পূর্নিমা তিথীতে জগতের সুখ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় আকাশে উড়ানো হয় বে-রংয়ের ফানুস। স্থানীয় আদিবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সূত্রে জানা গেছে, এই দিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ধর্মচক্র প্রবর্তন পাশাপাশি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেন এবং এই দিনেই তিনি স্বর্গে গমন করেন। ফলে এ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন। প্রতি বছর পূর্ণিমার এ তিথিতে রাতে আকাশে ওড়ানো হয় ফানুস। আর আনন্দে মাতোয়ারা থাকে রাখাইন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে সবাই।

 

এদিকে এ উৎসবকে সমৃদ্ধ করতে সমাগম ঘটে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা ফানুস উড়ানো উপভোগ করে গভীর রাত পর্যন্ত। আবার অনেকেই ফানুস ওড়ানোর এমন দৃশ্য সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে পোষ্ট করে দিয়েছেন। কুয়াকাটার কেরানীপাড়ার রাখাইন তরুনী নিশো জানান, উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পিঠে-পুলি বানানো হয়। শিশু কিশোর সহ সব বয়সের নারী-পুরুষ এই দিনে নতুন পোশাক পড়ে উপসনালয় প্রার্থনা করে। রাখাইন যুবক তেনান জানান, রবিবার সন্ধার পরপরই আমখোলা পাড়ায় অর্ধশত ফানুস আকাশে উড়ানো হয়েছে। ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

কুয়াকাটা যুবলীগের আহব্বায়ক শেখ ইসাহাক আলী জানান, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তাদের এ উৎসবে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। রাতের আকাশে ফানুস উড়ানোর এমন দৃশ্য এখানে আশা পর্যটকরা উপভোগ করেছে। কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু জ্ঞ্যানেত্র মহাথেরো জানান, নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শুভ প্রবারণা পূর্নিমা উৎসব শুরু হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবে রাতের আকাশে ওড়ানো হবে রং বেরংয়ের ফানুস। এছাড়া প্রতিটি পাড়ার মন্দিরে মন্দিরে পূজার্চনা সহ বাড়িতে বাড়িতে পিঠা পুলি বানানো হয়। তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বলে তিনি জানান।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, এ বছর প্রবারণা পুর্ণিমা উপলক্ষ্যে উপজেলার ২০ টি রাখাইন বৌদ্ধবিহারে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, প্রবারণা ও ফানুস উড়ানো উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি পাড়ায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহের স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তীতে যাত্রীরা

» ঝিনাইদহে আলোচিত স্কুলছাত্র সিফাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

» হরিণাকুন্ডুতে ৯মামলার আসামি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী নিহত

» ইভটিজিংয়ের সাথে আমার পুত্র জড়িত নয় এমনটাই দাবী কওে পিতার সংবাদ সম্মেলন

» গলাচিপায় ৪ জন আহত হওয়ায়! থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

» সাপাহারে তিলনা ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সাংবাদিক হাফিজুলকে দেখতে চায় তিলনাবাসী

» আগৈলঝাড়া থানার উদ্যোগে বাল্য বিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা

» ঘুমের ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি এমপি নুসরাত

» ইজিবাইকে দিনরাত কাটানো বাবা-মেয়েকে ঘর দিলেন ডিসি

» মাত্র ১৯ বছরেই ৩ হাজার ৩২৩ জন পুরুষের সঙ্গে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাতের আকাশে রং উড়িয়েছে বে-রংয়ের ফানুস বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারণা উৎসব শুরু

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৪অক্টোবর।। গৌতম বুদ্ধের অহিংস বাণী ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সুখ-শান্তি, কল্যাণ কামনা করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্নিমা। তিনদিন ব্যাপী প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাখাইন পল্লী গুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লী থেকে রাতের আকাশে উড়ানো হয়েছে শতাধিক বে-রংয়ের ফানুস ফানুস। দৃষ্টিনন্দন ও সার্বজনীন এ উৎসবকে ঘিরে গভীর রাত পর্যন্ত বৌদ্ধ মন্দিরগুলোর ভিড় জমায় জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে হাজারো মানুষ।

 

বৌদ্ধ ধর্মের মতে প্রবারণা শব্দের অর্থ আত্মনিবেদন। আর বৌদ্ধ ধর্মানুসারে ফানুসকে বলা হয় আকাশ বাতি। ধর্মী বিশ্বাস মতে প্রবারনা পূর্নিমা তিথীতে জগতের সুখ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় আকাশে উড়ানো হয় বে-রংয়ের ফানুস। স্থানীয় আদিবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সূত্রে জানা গেছে, এই দিন গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ধর্মচক্র প্রবর্তন পাশাপাশি ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেন এবং এই দিনেই তিনি স্বর্গে গমন করেন। ফলে এ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন। প্রতি বছর পূর্ণিমার এ তিথিতে রাতে আকাশে ওড়ানো হয় ফানুস। আর আনন্দে মাতোয়ারা থাকে রাখাইন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর থেকে সবাই।

 

এদিকে এ উৎসবকে সমৃদ্ধ করতে সমাগম ঘটে ভিন্ন ধর্মের মানুষদের। এছাড়া পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা ফানুস উড়ানো উপভোগ করে গভীর রাত পর্যন্ত। আবার অনেকেই ফানুস ওড়ানোর এমন দৃশ্য সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে পোষ্ট করে দিয়েছেন। কুয়াকাটার কেরানীপাড়ার রাখাইন তরুনী নিশো জানান, উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের পিঠে-পুলি বানানো হয়। শিশু কিশোর সহ সব বয়সের নারী-পুরুষ এই দিনে নতুন পোশাক পড়ে উপসনালয় প্রার্থনা করে। রাখাইন যুবক তেনান জানান, রবিবার সন্ধার পরপরই আমখোলা পাড়ায় অর্ধশত ফানুস আকাশে উড়ানো হয়েছে। ফানুস উৎসব এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

 

কুয়াকাটা যুবলীগের আহব্বায়ক শেখ ইসাহাক আলী জানান, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তাদের এ উৎসবে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। রাতের আকাশে ফানুস উড়ানোর এমন দৃশ্য এখানে আশা পর্যটকরা উপভোগ করেছে। কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু জ্ঞ্যানেত্র মহাথেরো জানান, নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শুভ প্রবারণা পূর্নিমা উৎসব শুরু হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী এ উৎসবে রাতের আকাশে ওড়ানো হবে রং বেরংয়ের ফানুস। এছাড়া প্রতিটি পাড়ার মন্দিরে মন্দিরে পূজার্চনা সহ বাড়িতে বাড়িতে পিঠা পুলি বানানো হয়। তবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বলে তিনি জানান।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানান, এ বছর প্রবারণা পুর্ণিমা উপলক্ষ্যে উপজেলার ২০ টি রাখাইন বৌদ্ধবিহারে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, প্রবারণা ও ফানুস উড়ানো উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি পাড়ায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited