বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় কিছু ছাত্র সংগঠন ক্ষুব্ধ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।বুয়েটের একটি আবাসিক হলের কক্ষে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রলীগের ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা ১০দফা দাবিতে টানা আন্দোলন করছিলেন। তাদের দাবি-দফার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ৫টি দাবি মেনে নিয়ে শনিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির দায় পুরো ছাত্র রাজনীতির ওপর চাপানো হলে, সেটি আত্নঘাতী হবে।

 

আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রলীগের ওপর ক্ষোভ থেকে পুরো ছাত্র রাজনীতির প্রতিই নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। আর সেজন্যই তাদের আন্দোলনের দাবিগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ৬ই অক্টোবর গভীর রাতে আর তার সূত্র ধরে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাটাই সমস্যার সমাধান কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এই প্রশ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর একটি জোট প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

 

জোটের অন্যতম একজন নেতা মাসুদ রানা বলছেন, বুয়েটে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে পুরো ছাত্র রাজনীতিকে মিলিয়ে ফেলাটা সঠিক নয় বলে তারা মনে করছেন। “সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর ছাত্র রাজনীতি তো এক না। বুয়েটে যেটা হয়েছে, সেটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা গত ১০ বছর ধরে যেটা দেখেছে, সেটা সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজি, সেটাকে দেখিয়ে পুরো ছাত্র রাজনীতির ওপর দায় চাপানো হচ্ছে,” বলছেন মাসুদ রানা। “দেখেন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। আসলে সেগুলোতে কিন্তু ছাত্রদের পক্ষে কথা বলার রাজনীতি নিষিদ্ধ। সেখানে সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড, ক্ষমতাসীনদের কর্মকান্ড কিন্তু পরিচালিত হয়।”

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিরোধিতা করে তাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে।

এদিকে ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর এক সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫১টি ছাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এগুলোর দু’একটি ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগেরই বিচার হয়নি। সেজন্য বিভিন্ন সময়ই ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িতদের মাঝে একটা বেপোরোয়া আচরণ দেখা যায় বলে বলা হচ্ছে।

সেখানে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। ডাকসু’র সাবেক জিএস এবং এখন জাসদের একাংশের একজন নেতা ড: মুশতাক হোসেন বলছিলেন, লেজুড়বৃত্তির কারণে পুরো ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হলে সেটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই নেতিবাচক হবে।

“ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাটাও কিন্তু একটা রাজনীতি। সেই রাজনীতি সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যায়। এখন যে বুয়েটে ছাত্ররা আন্দোলন করছেন, এটাই কিন্তু স্বাধীন স্বকীয় ধারার ছাত্র আন্দোলন,” বলেন ড. হোসেন।

”এখানে তাদের সংগঠিত হতে হচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। যে কোন ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করতে গেলে এখন তারা নিজেরা যেটা করছেন, সেটা কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। কাজেই সুস্থ এবং স্বকীয় ধারার ছাত্র রাজনীতিকে অবশ্যই কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।”

ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনা প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেন বুয়েটে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নেতিবাচক নানান কর্মকান্ডের কারণে বিভিন্ন সময় ছাত্র রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে সেই ছাত্র সংগঠন পার পেয়ে যাচ্ছে এবং আসল সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবায়দা নাসরীন বলছিলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করে সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজির মতো সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত।

“কোনো কিছু হলেই আমরা মনে করছি যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলেই এর সমাধান হবে। আসলে কিন্তু না। ছাত্র রাজনীতির এই বিষয়গুলো যদি বন্ধ করা যায়, যেমন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, টর্চার, সাধারণ ছাত্রদের মারধোর করা- এগুলো যদি বন্ধ করা যায়, তাহলে সমাধান হবে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়,” বলছেন জোবায়দা নাসরীন।

“ছাত্র রাজনীতি যদি দলগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাহলে সমাধান অনেকটা সম্ভব। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনেরও দায় এবং দায়িত্ব আছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মাঝে ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে নতুন করে আস্থা তৈরির জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকেই দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে একটা ভূমিকা নিতে হবে।

এমন পরিবেশ তৈরির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব পালন করা উচিত। কিন্তু তেমন কোন উদ্যোগ কেউ নেবে কিনা, বিশ্লেষকদের সেই সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে, বুয়েটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল রোববার থেকে দু’দিন তাদের কর্মসূচি শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। –বিবিসি বাংলা

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় রান্নার চুলা ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় গৃহবধুকে নির্যাতন

» নওগাঁর আত্রাই ২নং ভোঁ-পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী কাউন্সিল অধিবেশন-২০১৯

» ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডশেনের আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

» ঝিনাইদহে তারেক রহমানের জন্ম-বাষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

» ঝিনাইদহে তৃতীয় দিনের মত চলছে পরিবহণ ধর্মঘট, যাত্রীরা পড়ছেন মহা দুর্ভগে

» মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে এরা কারা?

» দুই হাত ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ফাল্গুনী আজ অফিসার

» সুফিয়া কামালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা করেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট

» কলাপাড়ায় চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

» কলাপাড়ায় আয়কর মেলার উদ্বোধন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় কিছু ছাত্র সংগঠন ক্ষুব্ধ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।বুয়েটের একটি আবাসিক হলের কক্ষে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রলীগের ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা ১০দফা দাবিতে টানা আন্দোলন করছিলেন। তাদের দাবি-দফার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ ৫টি দাবি মেনে নিয়ে শনিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ।কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির দায় পুরো ছাত্র রাজনীতির ওপর চাপানো হলে, সেটি আত্নঘাতী হবে।

 

আবরার ফাহাদকে হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ আলোচনায় এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্রলীগের ওপর ক্ষোভ থেকে পুরো ছাত্র রাজনীতির প্রতিই নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। আর সেজন্যই তাদের আন্দোলনের দাবিগুলোতে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে ধারণা পাওয়া গেছে বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ৬ই অক্টোবর গভীর রাতে আর তার সূত্র ধরে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাটাই সমস্যার সমাধান কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এই প্রশ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর একটি জোট প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

 

জোটের অন্যতম একজন নেতা মাসুদ রানা বলছেন, বুয়েটে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে পুরো ছাত্র রাজনীতিকে মিলিয়ে ফেলাটা সঠিক নয় বলে তারা মনে করছেন। “সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আর ছাত্র রাজনীতি তো এক না। বুয়েটে যেটা হয়েছে, সেটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা গত ১০ বছর ধরে যেটা দেখেছে, সেটা সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজি, সেটাকে দেখিয়ে পুরো ছাত্র রাজনীতির ওপর দায় চাপানো হচ্ছে,” বলছেন মাসুদ রানা। “দেখেন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যেগুলোতে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। আসলে সেগুলোতে কিন্তু ছাত্রদের পক্ষে কথা বলার রাজনীতি নিষিদ্ধ। সেখানে সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ড, ক্ষমতাসীনদের কর্মকান্ড কিন্তু পরিচালিত হয়।”

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের বিরোধিতা করে তাদের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে।

এদিকে ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর এক সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫১টি ছাত্র হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এগুলোর দু’একটি ঘটনা ছাড়া বেশিরভাগেরই বিচার হয়নি। সেজন্য বিভিন্ন সময়ই ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িতদের মাঝে একটা বেপোরোয়া আচরণ দেখা যায় বলে বলা হচ্ছে।

সেখানে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। ডাকসু’র সাবেক জিএস এবং এখন জাসদের একাংশের একজন নেতা ড: মুশতাক হোসেন বলছিলেন, লেজুড়বৃত্তির কারণে পুরো ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা হলে সেটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যই নেতিবাচক হবে।

“ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাটাও কিন্তু একটা রাজনীতি। সেই রাজনীতি সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যায়। এখন যে বুয়েটে ছাত্ররা আন্দোলন করছেন, এটাই কিন্তু স্বাধীন স্বকীয় ধারার ছাত্র আন্দোলন,” বলেন ড. হোসেন।

”এখানে তাদের সংগঠিত হতে হচ্ছে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। যে কোন ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করতে গেলে এখন তারা নিজেরা যেটা করছেন, সেটা কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। কাজেই সুস্থ এবং স্বকীয় ধারার ছাত্র রাজনীতিকে অবশ্যই কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।”

ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনা প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরেন বুয়েটে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতাসীনদের সহযোগী ছাত্র সংগঠনের নেতিবাচক নানান কর্মকান্ডের কারণে বিভিন্ন সময় ছাত্র রাজনীতিই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর ফলে সেই ছাত্র সংগঠন পার পেয়ে যাচ্ছে এবং আসল সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করা হচ্ছে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবায়দা নাসরীন বলছিলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করে সন্ত্রাস-টেন্ডারবাজির মতো সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত।

“কোনো কিছু হলেই আমরা মনে করছি যে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করলেই এর সমাধান হবে। আসলে কিন্তু না। ছাত্র রাজনীতির এই বিষয়গুলো যদি বন্ধ করা যায়, যেমন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, টর্চার, সাধারণ ছাত্রদের মারধোর করা- এগুলো যদি বন্ধ করা যায়, তাহলে সমাধান হবে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়,” বলছেন জোবায়দা নাসরীন।

“ছাত্র রাজনীতি যদি দলগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারে, তাহলে সমাধান অনেকটা সম্ভব। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনেরও দায় এবং দায়িত্ব আছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মাঝে ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে নতুন করে আস্থা তৈরির জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকেই দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে এসে একটা ভূমিকা নিতে হবে।

এমন পরিবেশ তৈরির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব পালন করা উচিত। কিন্তু তেমন কোন উদ্যোগ কেউ নেবে কিনা, বিশ্লেষকদের সেই সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে, বুয়েটে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল রোববার থেকে দু’দিন তাদের কর্মসূচি শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। –বিবিসি বাংলা

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited