ভিসিকে পদত্যাগের আহ্বান ৩০০ শিক্ষকের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন বুয়েটের ৩০০ শিক্ষক। বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষক এ আহ্বান জানান। এরই মধ্যে শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন। রবিবার ( ৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলা থেকে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

আবরারকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যার পর ৩৮ ঘণ্টা ধরে ভিসি ক্যাম্পাসে আসেন নি। আবরারের লাশ দেখা, তার স্বজনের খোঁজ খবর নেয়া বা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া- এমন কোনো পদক্ষেপই নেন নি তিনি। এতে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিচারের দাবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছাত্র হত্যার পর ভিসির আচরণে শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন বুয়েটের শিক্ষকরাও। এর প্রেক্ষিতেই আজ তার পদত্যাগের আহ্বান জানালেন ৩০০ শিক্ষক। এদিকে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত আবরার ফাহাদ প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ভিসিকে আলটিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার সকালে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের ১০ দফা দাবি পড়ে শোনান। তারা বলেন, আবরার হত্যার ৩০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ভিসি ঘটনাস্থলে কেন উপস্থিত হয়নি। পরে এলেও আন্দোলনকারীদের অপদস্থ করা হয়। এ জন্য বিকাল ২টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় বক্তারা বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে সিসিটিভিতে শনাক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে।

 

আন্দোলনকারীরা জানান, মামলার সব খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে। মামলাটি দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অধীনে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে। দাবিতে আরও বলা হয়, র‌্যাগের নামে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। ছাত্ররা আরও দাবি করেন, পূর্বে ঘটা এ ধরনের নির্যাতন ও পরে ঘটা নির্যাতন প্রকাশের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে। তা রিভিউ করে দ্রুততম বিচারের ব্যবস্থা করা। এ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানান তারা।

 

দাবিগুলো হলো:

 

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করা সবাইকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল পাঁচটার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালে সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ পাঁচটার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েট হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সব সময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিটিং–মিছিলে যুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোর প্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবর) বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ দুপুর দুইটার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল পাঁচটার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বের ঘটনা এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম, কোনো সাইট বা ফর্ম থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে। পরবর্তী ১ তারিখের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব হলের প্রত্যেক ফ্লোরে উইংয়ের দুপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» অবশেষে আটক: গাছ কাটা নিয়ে বোল পাল্টালেন সেই নারী (ভিডিওসহ)

» পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

» রাস মোল ও গঙ্গাস্নান উৎযাপন উপলক্ষে কলাপাড়ায় প্রস্তুতি মুলক সভা

» নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জে সিএনজি চালক মামুনের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধ

» “নীম পাতার” জাদুকরী উপকারিতা: মালয়েশিয়া হয়ে গেলো বিশেষ অনুষ্ঠান

» চট্টগ্রামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশের এসআই আটক

» সোনার চর হতে পারে পর্যটন স্পট

» নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়

» বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি’র সাধারন সম্পাদককের বাড়িতে বোমা হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

» প্রাইভেট পড়ানোর সময় ছাত্রীকে একা পেয়ে শিক্ষকের কাণ্ড

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভিসিকে পদত্যাগের আহ্বান ৩০০ শিক্ষকের

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন বুয়েটের ৩০০ শিক্ষক। বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষক এ আহ্বান জানান। এরই মধ্যে শের-ই বাংলা হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেছেন। রবিবার ( ৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলা থেকে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

আবরারকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যার পর ৩৮ ঘণ্টা ধরে ভিসি ক্যাম্পাসে আসেন নি। আবরারের লাশ দেখা, তার স্বজনের খোঁজ খবর নেয়া বা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া- এমন কোনো পদক্ষেপই নেন নি তিনি। এতে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিচারের দাবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছাত্র হত্যার পর ভিসির আচরণে শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন বুয়েটের শিক্ষকরাও। এর প্রেক্ষিতেই আজ তার পদত্যাগের আহ্বান জানালেন ৩০০ শিক্ষক। এদিকে ছাত্রলীগের হাতে নির্মমভাবে নিহত আবরার ফাহাদ প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের ভিসিকে আলটিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

 

বুধবার সকালে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের ১০ দফা দাবি পড়ে শোনান। তারা বলেন, আবরার হত্যার ৩০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ভিসি ঘটনাস্থলে কেন উপস্থিত হয়নি। পরে এলেও আন্দোলনকারীদের অপদস্থ করা হয়। এ জন্য বিকাল ২টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। এ সময় বক্তারা বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ১১ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে সিসিটিভিতে শনাক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে।

 

আন্দোলনকারীরা জানান, মামলার সব খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে। মামলাটি দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অধীনে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে। দাবিতে আরও বলা হয়, র‌্যাগের নামে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। ছাত্ররা আরও দাবি করেন, পূর্বে ঘটা এ ধরনের নির্যাতন ও পরে ঘটা নির্যাতন প্রকাশের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফরম তৈরি করতে হবে। তা রিভিউ করে দ্রুততম বিচারের ব্যবস্থা করা। এ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানান তারা।

 

দাবিগুলো হলো:

 

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে শনাক্তকারী খুনিদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করা সবাইকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল পাঁচটার মধ্যে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. মামলা চলাকালে সব খরচ এবং আবরারের পরিবারের সব ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে। এ মর্মে অফিশিয়াল নোটিশ ১১ তারিখ পাঁচটার মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। বুয়েট প্রশাসনকে সক্রিয় থেকে সব প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মিত ছাত্রদের আপডেট করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিশিয়াল নোটিশ দিতে হবে।

৬. বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বুয়েট হলে হলে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করে রাখা হয়েছে। জুনিয়র মোস্ট ব্যাচকে সব সময় ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক জোর করে রাজনৈতিক মিটিং–মিছিলে যুক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় যেকোনো হল থেকে সাধারণ ছাত্রদের জোর প্রদর্শনপূর্বক হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে হলে হলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামী ৭ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবর) বুয়েটে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি এবং ৩৮ ঘণ্টা পরে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেন এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ দুপুর দুইটার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

৮. আবাসিক হলগুলোতে র‍্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে করতে হবে এবং এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িত সবার ছাত্রত্ব প্রশাসনকে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লা হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকাল পাঁচটার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৯. পূর্বের ঘটনা এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে ঘটা যেকোনো ঘটনা প্রকাশের জন্য একটা কমন প্ল্যাটফর্ম, কোনো সাইট বা ফর্ম থাকতে হবে এবং নিয়মিত প্রকাশিত ঘটনা রিভিউ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এই প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বুয়েটের বিআইআইএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে। পরবর্তী ১ তারিখের মধ্যে কার্যক্রম পূর্ণরূপে শুরু করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সব হলের প্রত্যেক ফ্লোরে উইংয়ের দুপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে।

১০. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ায় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited