প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান হোক ত্যাগীদের তরে

সাইদুর রহমান: জননেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান আপোষহীন রক্তের বহিঃ প্রকাশ। নিজের ঘর নিজের মতো করে ঝাড়ু দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার দুঃসাহসিক এই অভিযানে দেশের সকল স্তরের মানুষ তাঁর সাথের সহযাত্রী। আর দলের ত্যাগীরা ত্যাগের জন্য প্রস্তুত। ত্যাগীরা হলেন দলের প্রাণ আর দলের আদর্শ ও নীতির ধারক ও বাহক।

 

ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক দল গুলোতে দিনে দিনে কদর কমে যাচ্ছে অথবা কদর দিতে রাজনৈতিক দল গুলো অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে না। দলের নীতি নির্ধারকের ইচ্ছাকৃত হোক অথবা অনিচ্ছাকৃত হোক ত্যাগীরা অবহেলীত, সুবিধা বঞ্চিত এটা সাতশত সত্য। আমি এরশাদ সাহেবের শাসনকাল দেখেছি, তেমনি বিএনপি কিংবা চারদলীয় জোটের শাসনকাল দেখেছি। এরশাদ সাহেবের আমলে জাতীয় পার্টি মানেই ; বিএনপি মনে হতো। এরশাদ সাহেব দলছুট নেতার সমন্বয়ের জাতীয় পার্টি গঠন করেন। তখন দেশের মানুষ বুঝতো বিএনপির নেতারা সুধিবার জন্য জাতীর পার্টিতে যাবেন আর বিএনপির নেতারা আবার প্রয়োজনে বিএনপিতে ফিরে আসবেন। এরশাদের রক্ত চক্ষু শাসন আমলে অনেক বড় বড় নেতার বহর দেখা গেছে । আজকে জাতীয় পার্টি তলানী পড়ে গেছে, তার পিছনে অনেকগুলো কারন আছে। তবে সবচেয়ে বড় কারন দলের নির্ধারকরা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেনি এবং নতুন করে ত্যাগী নেতা তৈরী করতে পারেনি। তারপর বিএনপি কিংবা চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় পার্টিতে থাকা সেই দলছুট নেতাদের প্রতি সুদৃষ্টি পরলো বিএনপি। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্যাকেজের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপি কিছু কর্মী বিছিন্ন নেতাদের দলে ভিড়ালেন । চারদলীয় জোট চালাচ্ছে দেশ আর হাইব্রীড নেতারা চালাচ্ছে দুর্নীতির মহাসমাবেশ।জিয়াউর রহমান সাহেব বলেছিলেন, ” রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব। ” দলের ত্যাগীরা নিজের সন্তানের মুখে খাবার না দিয়ে দলের মুখে খাবার দেয়। চারদলীয় জোটের দৌরাত্ম্যের যাতাকলে পিষ্ট হতে থাকলো ; বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অভিযোগহীন ভাবে ত্যাগীরা দল থেকে প্রস্হান করলেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব অথবা দুর্নীতির কারনেই হোক, দেশের কয়েক বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ জেলের গ্লানি টানছেন। বিএনপিতে যদি আজ ত্যাগীরা থাকতো, তাহলে বুকে পাথর বেঁধে, রাজপথ রক্তে রন্জিত করতো। কোথায় যারা চারদলীয় জোটের আমলে টাকা পাহাড় গড়ে ছিল? এসির ঠান্ডা হাওয়ার মায়ায় পরে আছেন অথবা দেশের বাইরে বিলাস বহুল জীবন-যাপন করেন।

 

” রাজনীতিতে দেশের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী নয় কিন্তুু দল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে “। ত্যাগীরা যেমন উচ্চ বিলাসী হয় না তেমনী পদ লোভী না হলেও দলের সম্মানজনক স্হানে থাকতে চায়। ত্যাগীরা নালিশ করতে পারে না আবার অভিমান পরিহার করতেও পারেনা। ত্যাগীরা স্বার্থের জন্য চোখ গুলো রক্ত বর্ণ করতে পারেনা আবার আড়ালে চোখের অশ্রু বারণ করতে পারে না। ত্যাগীদের কোনদিন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়না কিন্তু দলের প্রযোজনে আঙ্গুলের চেয়ে বড় অঙ্গ দিতে প্রস্তুত। দলের সুসময়ে হয়তো তাঁদের উপস্হিতি কম কিন্তু দুঃসময়ে জীবন বাজি রাখেন।

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। রাজপথে যে দলের সৃষ্টি । দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহনকারী আওয়ামীলীগের আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল।এখন বাংলাদেশের চারিদিকে শুধু জয় বাংলার জয়গান। জাতীয় কাউন্সিলে ত্যাগীরা স্হান না পেলে দলে বিপর্যয় শুধু সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন। দেশের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে কিন্তুু দলের ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। ১৫ বছরের ক্ষমতায় দলের আদর্শীক শিক্ষায় কয়জন নেতাকর্মী দীক্ষিত হয়েছে? এই দীর্ঘ সময়ে কয়জন ত্যাগী নেতাকর্মী দলে তৈরী হয়েছে? যারা দলের সাইনবোড ব্যাবহার করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তারা হলো ; অনুপ্রবেশকারী। দলের ভিতরে অনুপ্রবেশকারীরা বা হাইব্রীডরা দলের সত্তর বছরের নীতি আদর্শকে কলঙ্কিত করেছে ক্যাসিনো স্টাইলে। এখন শুধু বাকী দলের গঠনতন্ত্রটা ছিঁড়ে খাবার! ” ত্যাগীরা দলকে ভালবাসে পাজরের অনুভূতি দিয়ে আর অনুপ্রবেশকারী ভালবাসে ক্যাসিনো অনুভূতিতে। ” দল এখন সুসময়ের পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত। এখন দলীয় অফিসে নেতাকর্মীর অভাব নাই। আগের মতো হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে কর্মী জোগাড় করতে হয় না। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সবচেয়ে দুঃসময় গেছে ৯০ দশকে। তখন জয় বাংলা বললে এদিক সেদিক তাকাতে হতো নির্যাতন অথবা মামলার ভয়ে। সেই ৯০ দশকের ত্যাগী ছাত্রনেতা, কর্মীরা আজ কোথায় ? যাঁরা দলের অস্তিত্ব ঠিকানোর লড়াইয়ে জীবন বাজি রেখেছিল প্রতিমুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। যাঁরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, রাজপথ জয়বাংলা স্লোগানে কম্পিত করতেন, ক্ষমতার স্বাদ কি তাঁদের জিহ্বাপ্রান্তকে স্পর্শ করেছে? হাইব্রীডের দৌরাত্ম্যে ত্যাগীরা আজ দলে কোনঠাসা। কিন্তু ত্যাগীরা দলের নীতি আদর্শকে বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে শিখেছে।

 

দলের আদর্শ এবং লক্ষ সম্পর্কে অনেকের ধারনা নেই ; তারপরও বড় নেতা। মুজিবকোর্ট গায়ে দিয়ে নিজেকে প্রকাশের ব্যর্থ প্রয়াস। বিভিন্ন দলীয় ব্যানার বা পোস্টারে অসংগতি দেখে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়। রাজনেতিতে দলীয় শিক্ষার বড় অভাব! বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “নীতিবিহীন নেতা নিয়ে অগ্রসর হলে সাময়িকভাবে কিছু ফল পাওয়া যায়। কিন্তু সংগ্রামের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায়না।” সব রাজনৈতিক দল গুলো ত্যাগী কিংবা মেধাবী নেতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না। প্রাধান্য দিচ্ছেন টাকার কুমিরকে। এখানেই শেষ না, আছে আত্বীয়করন, মামাকরন।

 

আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ২১ আগস্টে মানব ঢাল তৈরী করে ভালবাসার নেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন। শুধু তা নয় ; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তাঁরা অনেকেই হয়তোবা জীবিত নেই। আর যাঁরা জীবিত আছেন, তাঁরা দলীয় মূল্যায়ন কতটুকু পাচ্ছেন? ময়মনসিংহের নান্দাইলের আওয়ামীলীগ ত্যাগী নেতা তোফাজ্জল ডাক্তার সাহেব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না আসলে জুতা পরবেননা। চৈত্রমাসের তপ্ত রাজপথ বলেন আর অগ্নি বালুকণা বলেন সবই তাঁর প্রতিজ্ঞার কাছে পরাস্হ হয়েছিল। জুতা না পরেই তিনি কয়েক যুগ কাটিয়েছেন। তিনি বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছেন। আমি তখন ছোট, তাঁর পায়ের বিভৎস চিত্র এখনও আমাকে বিচলিত করে তুলে। পা গুলো চৈত্রের খড়া রোদে মাটি ফাটার মতো চৌচির দেখেছি। পায়ের গোড়ালীর নীচে দেখেছি আঙ্গুল পরার মতো ফাটল। রক্ত ঝড়তে ঝড়তে ক্লান্ত রক্ত নালি গুলো দেখেছি । ছেলে/ মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ায় বিদেশ ভ্রমণেই খালি পায়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেখানেও খালি পায়ের জন্য অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন আবার অনেকবার তাঁর বিদেশ যাত্রা বাতিলও হয়েছে। অবশেষে আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁর পায়ে জুতা পরিয়ে দিয়ে ত্যাগের কিঞ্চিৎ ঋণ শোধ করেন। ২১ আগস্ট যাঁরা নিহত বা আহত হয়েছেন তাঁরা নিঃসন্দেহে ত্যাগী নেতা। সবার কথা লিখতে পারছিনা বলে ক্ষমা চাইছি।

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা রফিকুল ইসলাম ( আদা চাচা)। সহজ, সরল, দল পাগল মানুষ ছিলেন আদা চাচা। দলের লোকদের জন্য বিনামূল্যে আদা দিতে গিয়ে তাঁর পৈতৃক নামটা বিলুপ্ত হয়ে যায়! তিনি হয়ে উঠেন সবার প্রিয় আদা চাচা। তিনি ত্যাগীদের উজ্জল দৃষ্টান্ত। আদা চাচা ১৯৬০ সাল থেকে আওয়ামী লীগের এমন কোনো কর্মসূচী নেই যাতে অংশ নেননি। খয়েরি পাঞ্জাবি আর সাদা পাজামা পরতেন আদা চাচা। তাঁর পাঞ্জাবির পকেট গুলো কুচি কুচি করে শুকনা আদার কৌটাতে ভর্তি থাকতো। আদা খাইয়ে সবার কন্ঠ সচল রাখতেন রাজপথের মিছিলে। আদা চাচার আদা খাইনি এমন কোন নেতা নেই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আদা চাচার আদার ভক্ত। জানা যায় ২১ আগস্ট তখনকার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আদা দিতে গিয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত হলেন আদা চাচা। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে আদা চাচা একটি কথাই বলেছিলেন ” নেত্রী বেঁচে আছেন? ” ত্যাগীদের মূল্যায়ন তখনও হবে যখন প্রতিটি দলে ত্যাগীদের ত্যাগের কথা লিপিবদ্ধ থাকবে। নতুন প্রজন্ম পড়বে আর নতুন করে ত্যাগী নেতা তৈরী হবে।

 

 

লেখক ও কলামিস্ট
নান্দাইল, ময়মনসিংহ ।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» আগামীকাল ফেনীর আলোচিত নুসরাত হ’ত্যা মা’মলার রায়

» জাতীয় শহীদ মিনারে ও দোয়েল চত্বরে লাখো প্রাথমিক শিক্ষকের ঢল

» অবশেষে আটক: গাছ কাটা নিয়ে বোল পাল্টালেন সেই নারী (ভিডিওসহ)

» পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

» রাস মোল ও গঙ্গাস্নান উৎযাপন উপলক্ষে কলাপাড়ায় প্রস্তুতি মুলক সভা

» নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জে সিএনজি চালক মামুনের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধ

» “নীম পাতার” জাদুকরী উপকারিতা: মালয়েশিয়া হয়ে গেলো বিশেষ অনুষ্ঠান

» চট্টগ্রামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশের এসআই আটক

» সোনার চর হতে পারে পর্যটন স্পট

» নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে দেশের সকল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযান হোক ত্যাগীদের তরে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

সাইদুর রহমান: জননেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান আপোষহীন রক্তের বহিঃ প্রকাশ। নিজের ঘর নিজের মতো করে ঝাড়ু দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার দুঃসাহসিক এই অভিযানে দেশের সকল স্তরের মানুষ তাঁর সাথের সহযাত্রী। আর দলের ত্যাগীরা ত্যাগের জন্য প্রস্তুত। ত্যাগীরা হলেন দলের প্রাণ আর দলের আদর্শ ও নীতির ধারক ও বাহক।

 

ত্যাগী নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক দল গুলোতে দিনে দিনে কদর কমে যাচ্ছে অথবা কদর দিতে রাজনৈতিক দল গুলো অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে না। দলের নীতি নির্ধারকের ইচ্ছাকৃত হোক অথবা অনিচ্ছাকৃত হোক ত্যাগীরা অবহেলীত, সুবিধা বঞ্চিত এটা সাতশত সত্য। আমি এরশাদ সাহেবের শাসনকাল দেখেছি, তেমনি বিএনপি কিংবা চারদলীয় জোটের শাসনকাল দেখেছি। এরশাদ সাহেবের আমলে জাতীয় পার্টি মানেই ; বিএনপি মনে হতো। এরশাদ সাহেব দলছুট নেতার সমন্বয়ের জাতীয় পার্টি গঠন করেন। তখন দেশের মানুষ বুঝতো বিএনপির নেতারা সুধিবার জন্য জাতীর পার্টিতে যাবেন আর বিএনপির নেতারা আবার প্রয়োজনে বিএনপিতে ফিরে আসবেন। এরশাদের রক্ত চক্ষু শাসন আমলে অনেক বড় বড় নেতার বহর দেখা গেছে । আজকে জাতীয় পার্টি তলানী পড়ে গেছে, তার পিছনে অনেকগুলো কারন আছে। তবে সবচেয়ে বড় কারন দলের নির্ধারকরা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেনি এবং নতুন করে ত্যাগী নেতা তৈরী করতে পারেনি। তারপর বিএনপি কিংবা চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় পার্টিতে থাকা সেই দলছুট নেতাদের প্রতি সুদৃষ্টি পরলো বিএনপি। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্যাকেজের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপি কিছু কর্মী বিছিন্ন নেতাদের দলে ভিড়ালেন । চারদলীয় জোট চালাচ্ছে দেশ আর হাইব্রীড নেতারা চালাচ্ছে দুর্নীতির মহাসমাবেশ।জিয়াউর রহমান সাহেব বলেছিলেন, ” রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দেব। ” দলের ত্যাগীরা নিজের সন্তানের মুখে খাবার না দিয়ে দলের মুখে খাবার দেয়। চারদলীয় জোটের দৌরাত্ম্যের যাতাকলে পিষ্ট হতে থাকলো ; বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মীরা। অভিযোগহীন ভাবে ত্যাগীরা দল থেকে প্রস্হান করলেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব অথবা দুর্নীতির কারনেই হোক, দেশের কয়েক বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ জেলের গ্লানি টানছেন। বিএনপিতে যদি আজ ত্যাগীরা থাকতো, তাহলে বুকে পাথর বেঁধে, রাজপথ রক্তে রন্জিত করতো। কোথায় যারা চারদলীয় জোটের আমলে টাকা পাহাড় গড়ে ছিল? এসির ঠান্ডা হাওয়ার মায়ায় পরে আছেন অথবা দেশের বাইরে বিলাস বহুল জীবন-যাপন করেন।

 

” রাজনীতিতে দেশের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী নয় কিন্তুু দল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে “। ত্যাগীরা যেমন উচ্চ বিলাসী হয় না তেমনী পদ লোভী না হলেও দলের সম্মানজনক স্হানে থাকতে চায়। ত্যাগীরা নালিশ করতে পারে না আবার অভিমান পরিহার করতেও পারেনা। ত্যাগীরা স্বার্থের জন্য চোখ গুলো রক্ত বর্ণ করতে পারেনা আবার আড়ালে চোখের অশ্রু বারণ করতে পারে না। ত্যাগীদের কোনদিন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়না কিন্তু দলের প্রযোজনে আঙ্গুলের চেয়ে বড় অঙ্গ দিতে প্রস্তুত। দলের সুসময়ে হয়তো তাঁদের উপস্হিতি কম কিন্তু দুঃসময়ে জীবন বাজি রাখেন।

 

বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। রাজপথে যে দলের সৃষ্টি । দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহনকারী আওয়ামীলীগের আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল।এখন বাংলাদেশের চারিদিকে শুধু জয় বাংলার জয়গান। জাতীয় কাউন্সিলে ত্যাগীরা স্হান না পেলে দলে বিপর্যয় শুধু সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন। দেশের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে কিন্তুু দলের ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। ১৫ বছরের ক্ষমতায় দলের আদর্শীক শিক্ষায় কয়জন নেতাকর্মী দীক্ষিত হয়েছে? এই দীর্ঘ সময়ে কয়জন ত্যাগী নেতাকর্মী দলে তৈরী হয়েছে? যারা দলের সাইনবোড ব্যাবহার করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তারা হলো ; অনুপ্রবেশকারী। দলের ভিতরে অনুপ্রবেশকারীরা বা হাইব্রীডরা দলের সত্তর বছরের নীতি আদর্শকে কলঙ্কিত করেছে ক্যাসিনো স্টাইলে। এখন শুধু বাকী দলের গঠনতন্ত্রটা ছিঁড়ে খাবার! ” ত্যাগীরা দলকে ভালবাসে পাজরের অনুভূতি দিয়ে আর অনুপ্রবেশকারী ভালবাসে ক্যাসিনো অনুভূতিতে। ” দল এখন সুসময়ের পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত। এখন দলীয় অফিসে নেতাকর্মীর অভাব নাই। আগের মতো হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে কর্মী জোগাড় করতে হয় না। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সবচেয়ে দুঃসময় গেছে ৯০ দশকে। তখন জয় বাংলা বললে এদিক সেদিক তাকাতে হতো নির্যাতন অথবা মামলার ভয়ে। সেই ৯০ দশকের ত্যাগী ছাত্রনেতা, কর্মীরা আজ কোথায় ? যাঁরা দলের অস্তিত্ব ঠিকানোর লড়াইয়ে জীবন বাজি রেখেছিল প্রতিমুহূর্তে, প্রতিক্ষণে। যাঁরা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে, রাজপথ জয়বাংলা স্লোগানে কম্পিত করতেন, ক্ষমতার স্বাদ কি তাঁদের জিহ্বাপ্রান্তকে স্পর্শ করেছে? হাইব্রীডের দৌরাত্ম্যে ত্যাগীরা আজ দলে কোনঠাসা। কিন্তু ত্যাগীরা দলের নীতি আদর্শকে বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে শিখেছে।

 

দলের আদর্শ এবং লক্ষ সম্পর্কে অনেকের ধারনা নেই ; তারপরও বড় নেতা। মুজিবকোর্ট গায়ে দিয়ে নিজেকে প্রকাশের ব্যর্থ প্রয়াস। বিভিন্ন দলীয় ব্যানার বা পোস্টারে অসংগতি দেখে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়। রাজনেতিতে দলীয় শিক্ষার বড় অভাব! বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “নীতিবিহীন নেতা নিয়ে অগ্রসর হলে সাময়িকভাবে কিছু ফল পাওয়া যায়। কিন্তু সংগ্রামের সময় তাদের খুঁজে পাওয়া যায়না।” সব রাজনৈতিক দল গুলো ত্যাগী কিংবা মেধাবী নেতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না। প্রাধান্য দিচ্ছেন টাকার কুমিরকে। এখানেই শেষ না, আছে আত্বীয়করন, মামাকরন।

 

আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ২১ আগস্টে মানব ঢাল তৈরী করে ভালবাসার নেত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছিলেন। শুধু তা নয় ; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্য যাঁরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তাঁরা অনেকেই হয়তোবা জীবিত নেই। আর যাঁরা জীবিত আছেন, তাঁরা দলীয় মূল্যায়ন কতটুকু পাচ্ছেন? ময়মনসিংহের নান্দাইলের আওয়ামীলীগ ত্যাগী নেতা তোফাজ্জল ডাক্তার সাহেব প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না আসলে জুতা পরবেননা। চৈত্রমাসের তপ্ত রাজপথ বলেন আর অগ্নি বালুকণা বলেন সবই তাঁর প্রতিজ্ঞার কাছে পরাস্হ হয়েছিল। জুতা না পরেই তিনি কয়েক যুগ কাটিয়েছেন। তিনি বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করেছেন। আমি তখন ছোট, তাঁর পায়ের বিভৎস চিত্র এখনও আমাকে বিচলিত করে তুলে। পা গুলো চৈত্রের খড়া রোদে মাটি ফাটার মতো চৌচির দেখেছি। পায়ের গোড়ালীর নীচে দেখেছি আঙ্গুল পরার মতো ফাটল। রক্ত ঝড়তে ঝড়তে ক্লান্ত রক্ত নালি গুলো দেখেছি । ছেলে/ মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ায় বিদেশ ভ্রমণেই খালি পায়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। সেখানেও খালি পায়ের জন্য অনেক বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন আবার অনেকবার তাঁর বিদেশ যাত্রা বাতিলও হয়েছে। অবশেষে আওয়ামীলীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে তাঁর পায়ে জুতা পরিয়ে দিয়ে ত্যাগের কিঞ্চিৎ ঋণ শোধ করেন। ২১ আগস্ট যাঁরা নিহত বা আহত হয়েছেন তাঁরা নিঃসন্দেহে ত্যাগী নেতা। সবার কথা লিখতে পারছিনা বলে ক্ষমা চাইছি।

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা রফিকুল ইসলাম ( আদা চাচা)। সহজ, সরল, দল পাগল মানুষ ছিলেন আদা চাচা। দলের লোকদের জন্য বিনামূল্যে আদা দিতে গিয়ে তাঁর পৈতৃক নামটা বিলুপ্ত হয়ে যায়! তিনি হয়ে উঠেন সবার প্রিয় আদা চাচা। তিনি ত্যাগীদের উজ্জল দৃষ্টান্ত। আদা চাচা ১৯৬০ সাল থেকে আওয়ামী লীগের এমন কোনো কর্মসূচী নেই যাতে অংশ নেননি। খয়েরি পাঞ্জাবি আর সাদা পাজামা পরতেন আদা চাচা। তাঁর পাঞ্জাবির পকেট গুলো কুচি কুচি করে শুকনা আদার কৌটাতে ভর্তি থাকতো। আদা খাইয়ে সবার কন্ঠ সচল রাখতেন রাজপথের মিছিলে। আদা চাচার আদা খাইনি এমন কোন নেতা নেই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আদা চাচার আদার ভক্ত। জানা যায় ২১ আগস্ট তখনকার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আদা দিতে গিয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত হলেন আদা চাচা। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে আদা চাচা একটি কথাই বলেছিলেন ” নেত্রী বেঁচে আছেন? ” ত্যাগীদের মূল্যায়ন তখনও হবে যখন প্রতিটি দলে ত্যাগীদের ত্যাগের কথা লিপিবদ্ধ থাকবে। নতুন প্রজন্ম পড়বে আর নতুন করে ত্যাগী নেতা তৈরী হবে।

 

 

লেখক ও কলামিস্ট
নান্দাইল, ময়মনসিংহ ।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited