সিন্ডিকেট চক্রের কাছে জিম্মি রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ এর জেলেরা

মেহেদী হাসান (রাংঙ্গাবালী,পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ক্যারিংবোট (পরিবহন) মৎস্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন ইলিশ জেলেরা। তারা সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে অন্য এলাকা থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে আসলেও সিন্ডিকেটের বাঁধা-বিপত্তির কারণে ফিরে যেতে হয়। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলেরা।

 

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্থানীয় ৪০ জন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী একত্রিতভাবে সমিতি করে একটি সিন্ডিকেট গড়েছেন। ওই ইউনিয়নের আওতাধীন নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা স্থানীয় এবং অন্যত্র থেকে আসা জেলেদের সেই সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। যার কারণে গলাচিপা, দশমিনা ও ভোলার মৎস্য ব্যবাসায়ীরা চরমোন্তাজের জলসীমায় মাছ কিনতে আসলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ভোলা থেকে মাছ কিনতে এসে হয়রানির শিকার কয়েকজন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, বুধবার চরমোন্তাজের সোনারচরের খালে ক্যারিংবোটে মাছ কিনতেছিলেন তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা গিয়ে তাদের সঙ্গে হট্টগোল করে। তাদের লোকদের মারধর করে। একপর্যায় তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

চরমোন্তাজের জলসীমায় মাছ শিকারী কয়েকজন জেলে জানান, চরমোন্তাজের মৎস্য ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে জেলেদের ঠকাচ্ছে। ইচ্ছেখুশি মতো মাছের দর নির্ধারণ করছে তারা। সেই দরেই জেলেরা মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া প্রতি কেজিতে এক শ গ্রাম মাছ বেশি নিচ্ছে সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা। তবে অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা এলে দর কষাকষি করা যায় এবং ওজনেও বেশি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই অন্যসব এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী আসা একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলেরা। তারা মাছের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা জেলে জামাল বলেন, প্রতি বছর মাছ বেইচ্চা আরাম পাই। এই বছর তেমন সুবিধা করতে পারি না। মোন্তাজের সব ব্যাহারি (মৎস্য ব্যবসায়ী) সিন্ডিকেট কইরা অন্য এলাকার ব্যাহারিগোরে পিডাইয়া পাডাইয়া উডাইয়া দেয়।

 

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ক্যারিংবোট মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোশাররফ দালাল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ক্যারিং ব্যবসা করি। আমাদের ইউনিয়নে ক্যারিং ৪০টি। আমরা একটি মিটিং ডেকে সকলকে এক হয়ে ব্যবসা করার জন্য সমিতি করার আলোচনা করি। তখন ওখানে কথা আসছে, বহিরাগত যারা আছে সেই ক্যারিংগুলো কিভাবে ব্যবসা করতে পারে। তখন আমরা বলছি, আগে সমিতি পাস হোক। এজন্য তারা (অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী) ৭-৮ দিন অপেক্ষা করুক।

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজ খবর নেব। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করব। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

» পদ্মার বুকে ৩২ পিলার, বসছে আরেক স্প্যান

» কম বয়সে বিয়ে করার ৬টি সুফল

» নাচতে গিয়ে জ্ঞান হারালেন জ্যাকলিন

» বুয়েট শহীদ মিনার থেকে এবার মুছে ফেলা হলো ছাত্রলীগের নাম

» নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ১৭৯ জন জেলেকে আটক

» শিক্ষা বঞ্চিত জলে ভাসা মান্তা পরিবার গুলো

» নেত্রকোনায় পাগলিটা মা হলেন, বাবা হলো না কেউ

» ফরিদপুর শহরে আবাসিক হোটেল থেকে আপত্তিকর অবস্থায় ১১ নারী-পুরুষ ধরা

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবজাতককে হাসপাতালে রেখে মা উধাও

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১লা কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেট চক্রের কাছে জিম্মি রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ এর জেলেরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মেহেদী হাসান (রাংঙ্গাবালী,পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ক্যারিংবোট (পরিবহন) মৎস্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন ইলিশ জেলেরা। তারা সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে অন্য এলাকা থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে আসলেও সিন্ডিকেটের বাঁধা-বিপত্তির কারণে ফিরে যেতে হয়। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলেরা।

 

জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্থানীয় ৪০ জন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী একত্রিতভাবে সমিতি করে একটি সিন্ডিকেট গড়েছেন। ওই ইউনিয়নের আওতাধীন নদী ও সাগরে ইলিশ ধরা স্থানীয় এবং অন্যত্র থেকে আসা জেলেদের সেই সিন্ডিকেটের নির্ধারিত ব্যবসায়ীদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। যার কারণে গলাচিপা, দশমিনা ও ভোলার মৎস্য ব্যবাসায়ীরা চরমোন্তাজের জলসীমায় মাছ কিনতে আসলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। ভোলা থেকে মাছ কিনতে এসে হয়রানির শিকার কয়েকজন ক্যারিং মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, বুধবার চরমোন্তাজের সোনারচরের খালে ক্যারিংবোটে মাছ কিনতেছিলেন তারা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা গিয়ে তাদের সঙ্গে হট্টগোল করে। তাদের লোকদের মারধর করে। একপর্যায় তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

চরমোন্তাজের জলসীমায় মাছ শিকারী কয়েকজন জেলে জানান, চরমোন্তাজের মৎস্য ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে জেলেদের ঠকাচ্ছে। ইচ্ছেখুশি মতো মাছের দর নির্ধারণ করছে তারা। সেই দরেই জেলেরা মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া প্রতি কেজিতে এক শ গ্রাম মাছ বেশি নিচ্ছে সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা। তবে অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা এলে দর কষাকষি করা যায় এবং ওজনেও বেশি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই অন্যসব এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী আসা একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলেরা। তারা মাছের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা জেলে জামাল বলেন, প্রতি বছর মাছ বেইচ্চা আরাম পাই। এই বছর তেমন সুবিধা করতে পারি না। মোন্তাজের সব ব্যাহারি (মৎস্য ব্যবসায়ী) সিন্ডিকেট কইরা অন্য এলাকার ব্যাহারিগোরে পিডাইয়া পাডাইয়া উডাইয়া দেয়।

 

চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ক্যারিংবোট মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত মোশাররফ দালাল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ক্যারিং ব্যবসা করি। আমাদের ইউনিয়নে ক্যারিং ৪০টি। আমরা একটি মিটিং ডেকে সকলকে এক হয়ে ব্যবসা করার জন্য সমিতি করার আলোচনা করি। তখন ওখানে কথা আসছে, বহিরাগত যারা আছে সেই ক্যারিংগুলো কিভাবে ব্যবসা করতে পারে। তখন আমরা বলছি, আগে সমিতি পাস হোক। এজন্য তারা (অন্য এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী) ৭-৮ দিন অপেক্ষা করুক।

 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজ খবর নেব। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করব। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited