জিয়া এবং এরশাদ হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ প্রেসিডেন্ট: প্রধানমন্ত্রী

Spread the love

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং তা জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে মার্শাল ল’ জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াউর রহমান। তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাদেরকে আর প্রেসিডেন্ট বলা যায় না -বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি সংসদে পাস করান।

 

শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সংসদ প্রস্তাব করছে যে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ, আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুম বিরোধী দলের নেতা এইচএম এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক এমএলএ প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারা বেগম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন ছিলেন বিচারপতি সাত্তার। তাকে প্রার্থী করার কথা এরশাদ নিজেই বিদেশি পত্রিকায় বলেছেন। আমরা ওইসময় প্রতিবাদ করেছি। এরশাদ ’৮২ সালে যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সেটির সুযোগ দেন কিন্তু খালেদা জিয়া। তিনি শুধু দুটি বাড়িই নয়, ১০ লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে তার কোন ডায়েরিই হয়নি, তদন্তই হয়নি এখনো পর্যন্ত। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জিয়া হত্যার জন্য এরশাদকে দায়ী পর্যন্ত করেননি। আমরাই প্রতিবাদ করি। কারণ এক স্বৈরাচারের পরে আরেক স্বৈরাচার আমরা চাইনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মার্শাল ল’ জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছেন এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাকে আর প্রেসিডেন্ট বলা যায় না। শেখ হাসিনা বলেন, এরশাদ কিছু ভাল কাজ করেছেন এটা সত্য। তবে তার সময়ে বার বার আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি লালদীঘির ময়দানে সভা করতে বাধা দেয়া হয়। ওই সভায় গুলিতে নিহত হন ২ জন। ওই বছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করে তিনি আরো বেশি বিতর্কিত হন। তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। এসব কারণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি এবং তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

 

সংসদ নেতা বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হয় না। গত টার্মে এবং এবারো জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এজন্য এবারের সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল তখন যে ধরনের আচরণ করা হতো, মোমবাতি হাতে নিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকা, স্পিকারকে মারার চেষ্টা, চেয়ার ছোড়া- সবই করেছে। বর্তমানে সংসদ অনেক ভাল আচরণ করছে বিরোধী দল। আজকের পার্লামেন্টে আমরা বিএনপিকে অনেক উদারতা দেখাচ্ছি। বরং জাপা বিলসহ সব ব্যাপারে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাতে জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে জসনগণের স্বার্থে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যাতে উন্নয়নের ফসল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছায় সেদিকে লক্ষ্য করে কাজ করে যাচ্ছি।

 

রওশন এরশাদ বলেন, তিনি অনেক জনদরদী নেতা ছিলেন। উনি দেশ ও জনগণের জন্য অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যে কাজ অসমাপ্ত রেখে গিয়েছিলেন, তার অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তিনি যা শেষ করে যেতে পারেননি এইচ এম এরশাদ তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি অনেক জনপ্রিয় ছিলেন তা তার মৃত্যুর পরেও বোঝা গেছে। তার চার চারটি জানাজা করতে হয়েছে। এসময় রওশন এরশাদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আমির হোসেন আমু মাত্র ১৭ সেকেন্ডের বক্তব্যে বলেন, আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। দোষে-গুণে মানুষ সেগুলো আজকে আলোচনা না করাই ভালো। একথা বলে তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মেজর থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করে সেনা প্রধান করেন। তবে যখন উনি প্রেসিডেন্ট হন, তার সঙ্গে আমাদের মতানৈক্য তৈরি হয়। তবে উনি বিনয়ী ছিলেন। তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণতন্ত্র রক্ষা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কাজ করেছেন। তিনি একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। তিনি পল্লী উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তিনি প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করেন, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।

 

শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর তার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের এমপি শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ। অধিবেশন চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নিয়ম রক্ষার এই অধিবেশন শুরু হয়। মাত্র ৪ কার্যদিবসের স্বল্পকালীন এ অধিবেশন আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিবেশনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে। তবে স্পিকার চাইলে অধিবেশনের সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপ নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া প্রমুখ।

 

রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ জন প্যানেল সভাপতি মনোনীত করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই প্যানেল সভাপতিগণ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অগ্রবর্তিতা অনুসারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। চতুর্থ অধিবেশনে প্যানেল সভাপতিরা হলেন- আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, এনামুল হক, মৃণাল কান্তি দাস, কাজী ফিরোজ রশীদ ও জয়া সেনগুপ্ত।

 

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য ৩টি সরকারি বিলের নোটিস পাওয়া গেছে। এছাড়া আগের অধিবেশনে অনিষ্পন্ন ২টি সরকারি বিল পাসের জন্য কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে। এদিকে বেসরকারি সদস্যদের নিকট হতে ১টি বিলের নোটিস পাওয়া যায়। এছাড়া পূর্বে প্রাপ্ত ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৭০টি ও মন্ত্রীদের জন্য ১ হাজার ৫৫৩ টিসহ প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৩টি। সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি ১৩১) ১০৯টি, মূলতবী প্রস্তাবের সংখ্যা (বিধি ৬২) ১৫টি ও মনোযোগ আকর্ষণের নোটিস (বিধি ৭১) ৬০টি পাওয়া গেছে। এর আগে গত ১১ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। -সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» তেজগাঁওয়ের ফু-ওয়াং ক্লাবে চলছে অভিযান

» কপাল খুলে গেল ১২শ’ বেসরকারি শিক্ষকের

» সংস্কার হতেনা হতেই দশমিনায় গুরুত্বপূর্ন সড়কের বেহাল দশা

» মাদক সেবন কারিদেরকে দশমিনায় পূর্নবাসন

» ভিসি নাসিরের পদত্যাগ দাবিতে ৬ষ্ঠ দিনেও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা: উত্তাল বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাস

» বড়লেখায় ভোক্তা অধিকার আইনে  ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে গোল টেবিল বৈঠক

» ঝালকাঠিতে নারীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ২ ডাকাতের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

» জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারন: দখল ও দূষনের কারনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে শিববাড়িয়া নদী

» মৌলভীবাজারের মেয়ে আলেয়া মান্নান পিংকি বাংলাদেশ বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জিয়া এবং এরশাদ হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ প্রেসিডেন্ট: প্রধানমন্ত্রী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং তা জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে মার্শাল ল’ জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াউর রহমান। তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাদেরকে আর প্রেসিডেন্ট বলা যায় না -বলে মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি সংসদে পাস করান।

 

শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সংসদ প্রস্তাব করছে যে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ, আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মরহুম বিরোধী দলের নেতা এইচএম এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক এমএলএ প্রিন্সিপাল খালেদা হাবিব, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারা বেগম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন ছিলেন বিচারপতি সাত্তার। তাকে প্রার্থী করার কথা এরশাদ নিজেই বিদেশি পত্রিকায় বলেছেন। আমরা ওইসময় প্রতিবাদ করেছি। এরশাদ ’৮২ সালে যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সেটির সুযোগ দেন কিন্তু খালেদা জিয়া। তিনি শুধু দুটি বাড়িই নয়, ১০ লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে তার কোন ডায়েরিই হয়নি, তদন্তই হয়নি এখনো পর্যন্ত। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জিয়া হত্যার জন্য এরশাদকে দায়ী পর্যন্ত করেননি। আমরাই প্রতিবাদ করি। কারণ এক স্বৈরাচারের পরে আরেক স্বৈরাচার আমরা চাইনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মার্শাল ল’ জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছেন এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাকে আর প্রেসিডেন্ট বলা যায় না। শেখ হাসিনা বলেন, এরশাদ কিছু ভাল কাজ করেছেন এটা সত্য। তবে তার সময়ে বার বার আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি লালদীঘির ময়দানে সভা করতে বাধা দেয়া হয়। ওই সভায় গুলিতে নিহত হন ২ জন। ওই বছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করে তিনি আরো বেশি বিতর্কিত হন। তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। এসব কারণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি এবং তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

 

সংসদ নেতা বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হয় না। গত টার্মে এবং এবারো জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এজন্য এবারের সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল তখন যে ধরনের আচরণ করা হতো, মোমবাতি হাতে নিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকা, স্পিকারকে মারার চেষ্টা, চেয়ার ছোড়া- সবই করেছে। বর্তমানে সংসদ অনেক ভাল আচরণ করছে বিরোধী দল। আজকের পার্লামেন্টে আমরা বিএনপিকে অনেক উদারতা দেখাচ্ছি। বরং জাপা বিলসহ সব ব্যাপারে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাতে জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে জসনগণের স্বার্থে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যাতে উন্নয়নের ফসল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছায় সেদিকে লক্ষ্য করে কাজ করে যাচ্ছি।

 

রওশন এরশাদ বলেন, তিনি অনেক জনদরদী নেতা ছিলেন। উনি দেশ ও জনগণের জন্য অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যে কাজ অসমাপ্ত রেখে গিয়েছিলেন, তার অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তিনি যা শেষ করে যেতে পারেননি এইচ এম এরশাদ তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি অনেক জনপ্রিয় ছিলেন তা তার মৃত্যুর পরেও বোঝা গেছে। তার চার চারটি জানাজা করতে হয়েছে। এসময় রওশন এরশাদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আমির হোসেন আমু মাত্র ১৭ সেকেন্ডের বক্তব্যে বলেন, আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। দোষে-গুণে মানুষ সেগুলো আজকে আলোচনা না করাই ভালো। একথা বলে তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে মেজর থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল করে সেনা প্রধান করেন। তবে যখন উনি প্রেসিডেন্ট হন, তার সঙ্গে আমাদের মতানৈক্য তৈরি হয়। তবে উনি বিনয়ী ছিলেন। তিনি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তোফায়েল আহমেদ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণতন্ত্র রক্ষা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কাজ করেছেন। তিনি একটি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। তিনি পল্লী উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তিনি প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ করেন, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।

 

শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর তার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। শোক প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের এমপি শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ। অধিবেশন চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে নিয়ম রক্ষার এই অধিবেশন শুরু হয়। মাত্র ৪ কার্যদিবসের স্বল্পকালীন এ অধিবেশন আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

 

সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিবেশনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন বিকেল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে। তবে স্পিকার চাইলে অধিবেশনের সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপ নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া প্রমুখ।

 

রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ জন প্যানেল সভাপতি মনোনীত করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই প্যানেল সভাপতিগণ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অগ্রবর্তিতা অনুসারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। চতুর্থ অধিবেশনে প্যানেল সভাপতিরা হলেন- আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, এনামুল হক, মৃণাল কান্তি দাস, কাজী ফিরোজ রশীদ ও জয়া সেনগুপ্ত।

 

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য ৩টি সরকারি বিলের নোটিস পাওয়া গেছে। এছাড়া আগের অধিবেশনে অনিষ্পন্ন ২টি সরকারি বিল পাসের জন্য কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে। এদিকে বেসরকারি সদস্যদের নিকট হতে ১টি বিলের নোটিস পাওয়া যায়। এছাড়া পূর্বে প্রাপ্ত ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৭০টি ও মন্ত্রীদের জন্য ১ হাজার ৫৫৩ টিসহ প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৩টি। সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি ১৩১) ১০৯টি, মূলতবী প্রস্তাবের সংখ্যা (বিধি ৬২) ১৫টি ও মনোযোগ আকর্ষণের নোটিস (বিধি ৭১) ৬০টি পাওয়া গেছে। এর আগে গত ১১ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। -সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited