ঝিনাইদহে পানির অভাবে সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলায় ফাঁস

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ধানের লোকসান পোষাতে পাট চাষে ঝুঁকেছিলেন ঝিনাইদহ জেলার কৃষকরা। কিন্তু চলতি বছর এ উপজেলায় তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ মাঠ জুড়ে দন্ডায়মান রয়েছে কৃষকের ক্ষেতের পাট। বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ কৃষক পাট জাগ দিতে পারছে না। ফলে অনেক কৃষক ক্ষেতে পাট কেটে ফেলে রেখেছে। আবার অনেকে ক্ষেতের পাট এখনো কাটেনি। যার কারণে ক্ষেতেই কৃষকের দন্ডায়মান ও কেটে রাখা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার ৮৫০ জন কৃষক ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষমাত্রার চেয়ে এবার ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে।

 

উপজেলার বুজরুখমুন্দিয়া গ্রামের কৃষক ইউনুচ আলী জমাদ্দার বলেন, তিনি বৈশাখ মাসে দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেন। বীজ, সার, কীটনাশক পরিচর্যাসহ তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে পাট কাটার মত অবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে পাট কাটতে পারেননি। কারণ বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকার পুকুর, খাল বিল, খানা গর্ত কোন স্থানেই পানি নেই। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারছে না। তিনি অর্ধেক জমির পাট কেটে ক্ষেতে ফেলে রেখেছে আর অর্ধেক পাট এখনো জমিতে দন্ডায়মান রয়েছে। কৃষক সব্দুল হোসেন জানান, তিনিও ২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর খাল বিল খানা গর্তে কোন স্থানে পানি জমেনি। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারেনি। বর্তমানে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাজারে প্রথম দিকে ১৫,শ থেকে ১৮,শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এখন দাম কমে এসেছে। বর্তমানে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য গত বছর পাটের বাজার ভাল ছিল। আমরা আশা করেছিলাম ধানের লোকসান কিছুটা হলেও পাট থেকে তুলে নিব। কিন্তু পানির অভাবে এখন পাটই কাটতে পারছি না। ভালভাবে পাট জাগ দিতে না পারলে তাতে পাটের রং ভাল আসবে না।

 

দামও পাবো না। বর্তমানে পাট নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। বুজিডাঙ্গা গ্রামের পাট চাষী আশাদুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে পাটের দাম অনেক কম। এবার পাট চাষ করে বিপদে পড়েছি। ধানের দাম পায়নি, এবার পাটের দামও পাবো না। তিনি আরো জানান, ১০ কাঁটা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। তাতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর খালে পানি জমেনি। পানির অভাবে স্যালোমেশিন দিয়ে পুকুরে পানি ভর্তি করে পাট জাগ দিবো। ঘন্টা চুক্তিতে পানির দাম দিতে হচ্ছে। ১শ বান্ডিল (১২ থেকে ১৫টিতে একটি বান্ডিল) পাট চিকাতে (ছুলতে) ৩,শ টাকা করে দিতে হবে। সব খরচ খরচা বাদে পাটে লোকসান গুনতে হবে। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, এবার লক্ষামাত্রার চেয়ে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। কিন্তু পাট পঁচানোর জন্য গ্রামাঞ্চলে যে পরিমান পানি থাকার কথা সে পরিমান পানিই নেই। এখন কৃষকরা গর্তের মধ্যে স্যালোমেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট পঁচাচ্ছে। তাতে পাটের মান নিম্ন মানের হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ভাল পাট বাজারে ১৮.শ থেকে ১৯,শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোয়ালিটি খারাপ হলে সে পাটের দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় স্টুডেন্ড কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত

» কলাপাড়ায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির চূড়ান্ত বাছাই শেষ

» আগৈলঝাড়ায় স্বাস্থ্য সহকারীদের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে কর্মবিরতি পালন

» আগৈলঝাড়ায় ভুলে ভরা বিদ্যালয়ের দাওয়াতপত্র: শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ

» আত্রাইয়ে ছাত্র দলের মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

» আত্রাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিল

» আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে আত্রাইয়ে মাটির ঘর

» আইসিটি খাতের উন্নয়নে সব রকমের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টায় এগিয়ে এসেছে সরকার

» ঝিনাইদহে ৩ দিন ব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলন শুরু

» সারাদেশের ন্যায়ে সিড্যা উচ্চ বিদ্যালয় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে পানির অভাবে সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলায় ফাঁস

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ ধানের লোকসান পোষাতে পাট চাষে ঝুঁকেছিলেন ঝিনাইদহ জেলার কৃষকরা। কিন্তু চলতি বছর এ উপজেলায় তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অধিকাংশ মাঠ জুড়ে দন্ডায়মান রয়েছে কৃষকের ক্ষেতের পাট। বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ কৃষক পাট জাগ দিতে পারছে না। ফলে অনেক কৃষক ক্ষেতে পাট কেটে ফেলে রেখেছে। আবার অনেকে ক্ষেতের পাট এখনো কাটেনি। যার কারণে ক্ষেতেই কৃষকের দন্ডায়মান ও কেটে রাখা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে সোনালী আঁশ এখন কৃষকের গলায় ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলার ৮৫০ জন কৃষক ১ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলে লক্ষমাত্রার চেয়ে এবার ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে।

 

উপজেলার বুজরুখমুন্দিয়া গ্রামের কৃষক ইউনুচ আলী জমাদ্দার বলেন, তিনি বৈশাখ মাসে দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেন। বীজ, সার, কীটনাশক পরিচর্যাসহ তার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে পাট কাটার মত অবস্থা হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে পাট কাটতে পারেননি। কারণ বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকার পুকুর, খাল বিল, খানা গর্ত কোন স্থানেই পানি নেই। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারছে না। তিনি অর্ধেক জমির পাট কেটে ক্ষেতে ফেলে রেখেছে আর অর্ধেক পাট এখনো জমিতে দন্ডায়মান রয়েছে। কৃষক সব্দুল হোসেন জানান, তিনিও ২ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর খাল বিল খানা গর্তে কোন স্থানে পানি জমেনি। যার কারণে পাট জাগ দিতে পারেনি। বর্তমানে পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাজারে প্রথম দিকে ১৫,শ থেকে ১৮,শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এখন দাম কমে এসেছে। বর্তমানে ১২শ থেকে ১৩শ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য গত বছর পাটের বাজার ভাল ছিল। আমরা আশা করেছিলাম ধানের লোকসান কিছুটা হলেও পাট থেকে তুলে নিব। কিন্তু পানির অভাবে এখন পাটই কাটতে পারছি না। ভালভাবে পাট জাগ দিতে না পারলে তাতে পাটের রং ভাল আসবে না।

 

দামও পাবো না। বর্তমানে পাট নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। বুজিডাঙ্গা গ্রামের পাট চাষী আশাদুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজারে পাটের দাম অনেক কম। এবার পাট চাষ করে বিপদে পড়েছি। ধানের দাম পায়নি, এবার পাটের দামও পাবো না। তিনি আরো জানান, ১০ কাঁটা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। তাতে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুর খালে পানি জমেনি। পানির অভাবে স্যালোমেশিন দিয়ে পুকুরে পানি ভর্তি করে পাট জাগ দিবো। ঘন্টা চুক্তিতে পানির দাম দিতে হচ্ছে। ১শ বান্ডিল (১২ থেকে ১৫টিতে একটি বান্ডিল) পাট চিকাতে (ছুলতে) ৩,শ টাকা করে দিতে হবে। সব খরচ খরচা বাদে পাটে লোকসান গুনতে হবে। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, এবার লক্ষামাত্রার চেয়ে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। কিন্তু পাট পঁচানোর জন্য গ্রামাঞ্চলে যে পরিমান পানি থাকার কথা সে পরিমান পানিই নেই। এখন কৃষকরা গর্তের মধ্যে স্যালোমেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়ে পাট পঁচাচ্ছে। তাতে পাটের মান নিম্ন মানের হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ভাল পাট বাজারে ১৮.শ থেকে ১৯,শ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কোয়ালিটি খারাপ হলে সে পাটের দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited