প্রতিদিন যন্ত্রনা ভোগ করে অসহায় জীবন যাপন করছে টুঙ্গিপাড়ার একরাম মোল্লা

Spread the love

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : আমার বয়সী অনেক লোকই মারা গিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে জীবিত রেখেছেন। কিন্তু বেঁচে থেকেও প্রতিদিন যন্ত্রনা ভোগ করছি। দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে পার করেছি প্রায় ৭০ বছর। বাকি জীবনও হয়তো এ ভাবেই কাটবে। একটু ভালো থাকার আশায় চেয়ারম্যান মেম্বারদের দারস্থ হলেও কেউ কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনি। এখন আর তাদের কাছে যেতে মন চায় না। আমাদের বাড়ির কাছে কেউ চাল পায়, কেউ ভাতা পায় কিন্তু আমি কিছুই পাই না। এখন বুড়ো হাড়ে আর সয়না। আমি না থাকলে আমার পরিবারের কি হবে সেটাই এখন ভাবি। এ ভাবেই তার আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কাসেম মোল্লার ছেলে একরাম মোল্লা।

 

একরাম মোল্লা তার দারিদ্রতার কথা তুলে ধরে এ প্রতিবেদককে বলেন, দেড় মাস বয়সে আমার বাবা মারা যায়। ছোটবেলা থেকেই অনেক অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ছেলেবেলা থেকেই অন্যের জমিতে দিন মজুর হিসাবে চাষাবাদ ও বিল থেকে শাপলা উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করে তার সংসার চলে আমার । স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে চারটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। নিজের ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘর ছিল। কিন্তু কিছু দিন আগে মেয়ে জামাইরা মিলে একটি ঘর করে দেয়। বর্তমানে অবিবাহিত দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আমার সংসার। এছাড়া আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। তাই একটু ভালো থাকার জন্য সরকারি সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

স্থানীয় এক মুরব্বি জানান, তিনি ও একরাম মোল্লা একই বয়সের। ছোট বেলা থেকেই এক সাথে বড় হয়েছে তারা। কিন্তু তিনি বয়স্ক ভাতা পেলেও সে পায় না। এছাড়া সে কোন ভাতাই পায়না। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি একরাম অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন বয়সের ভারে আক্রান্ত হয়েছেন সে। এখন তার সংসার চালাতে বড্ড কষ্ট হয়। তার এখনো দুইটি মেয়ে অবিবাহিত। তাই একরাম যাতে একটু ভালো থাকতে পারে সেজন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

সরজমিনে দেখা যায়, একটি নৌকায় বসে লাঠি দিয়ে নৌকাটি ঠেলে ঠেলে খালে পাট জাগ দিচ্ছেন একরাম মোল্লা। পাট আপনার কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন অন্যের পাট জাগ দিয়ে আমি কিছু টাকা পাই। আর যখন যে কাজ পাই সেটা করেই দিন যায় আমার। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি হলেও কিন্তু ভোটার আইডি কার্ডে দেখা যায় তার বয়স প্রায় ৬৩ বছর। তখন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মূর্খ মানুষ। ভোটার আইডি কার্ড করার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম আমার প্রকৃত বয়স থেকে সেখানে অনেক কম দেয়া।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মানব রঞ্জন বাছাড় বলেন, যদি ভোটার আইডি কার্ড অনুসারে তার বয়স ৬৫ বছর হয় তাহলে আমরা তাকে ভাতার আওতায় আনতে পারবো। এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাকিব হাসান তরফদার বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম সে একজন গরীব ও অসহায় ব্যাক্তি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ১০ম মৌলভীবাজার রোভার মেটকোর্স ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন

» খানা-খন্দে জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগে দশমিনা-রনগোপালদী মানুষ

» মৌলভীবাজারে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» ঝিনাইদহ সদর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

» মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারকে এসপির অনুদান

» সাগরে ভাসছে তরল পদার্থ ব্যারেল ও প্রসাধনী ৫দিনেও উদ্ধার হয়নি ডুবে জাহাজ গলফ আরগো

» কলাপাড়ায় তাল বীজ রোপন কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» সিলেটে সুরমা নদীর তীর পরিচ্ছন্নতায় ৩ ব্রিটিশ এমপি

» জাতি আপনাকে নিয়ে কী ভাবছে? রাব্বানীকে সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী

» ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সার্জেন্ট নির্বাচিত মোঃ শাহারিয়ার ইসলাম

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২রা আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন যন্ত্রনা ভোগ করে অসহায় জীবন যাপন করছে টুঙ্গিপাড়ার একরাম মোল্লা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : আমার বয়সী অনেক লোকই মারা গিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে জীবিত রেখেছেন। কিন্তু বেঁচে থেকেও প্রতিদিন যন্ত্রনা ভোগ করছি। দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে পার করেছি প্রায় ৭০ বছর। বাকি জীবনও হয়তো এ ভাবেই কাটবে। একটু ভালো থাকার আশায় চেয়ারম্যান মেম্বারদের দারস্থ হলেও কেউ কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনি। এখন আর তাদের কাছে যেতে মন চায় না। আমাদের বাড়ির কাছে কেউ চাল পায়, কেউ ভাতা পায় কিন্তু আমি কিছুই পাই না। এখন বুড়ো হাড়ে আর সয়না। আমি না থাকলে আমার পরিবারের কি হবে সেটাই এখন ভাবি। এ ভাবেই তার আক্ষেপ করে কথা গুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কাসেম মোল্লার ছেলে একরাম মোল্লা।

 

একরাম মোল্লা তার দারিদ্রতার কথা তুলে ধরে এ প্রতিবেদককে বলেন, দেড় মাস বয়সে আমার বাবা মারা যায়। ছোটবেলা থেকেই অনেক অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। ছেলেবেলা থেকেই অন্যের জমিতে দিন মজুর হিসাবে চাষাবাদ ও বিল থেকে শাপলা উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করে তার সংসার চলে আমার । স্থানীয়দের সহযোগিতা ও ধারদেনা করে চারটি মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। নিজের ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘর ছিল। কিন্তু কিছু দিন আগে মেয়ে জামাইরা মিলে একটি ঘর করে দেয়। বর্তমানে অবিবাহিত দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আমার সংসার। এছাড়া আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। তাই একটু ভালো থাকার জন্য সরকারি সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

স্থানীয় এক মুরব্বি জানান, তিনি ও একরাম মোল্লা একই বয়সের। ছোট বেলা থেকেই এক সাথে বড় হয়েছে তারা। কিন্তু তিনি বয়স্ক ভাতা পেলেও সে পায় না। এছাড়া সে কোন ভাতাই পায়না। ছোট বেলা থেকেই দেখেছি একরাম অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। কিন্তু এখন বয়সের ভারে আক্রান্ত হয়েছেন সে। এখন তার সংসার চালাতে বড্ড কষ্ট হয়। তার এখনো দুইটি মেয়ে অবিবাহিত। তাই একরাম যাতে একটু ভালো থাকতে পারে সেজন্য প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

সরজমিনে দেখা যায়, একটি নৌকায় বসে লাঠি দিয়ে নৌকাটি ঠেলে ঠেলে খালে পাট জাগ দিচ্ছেন একরাম মোল্লা। পাট আপনার কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন অন্যের পাট জাগ দিয়ে আমি কিছু টাকা পাই। আর যখন যে কাজ পাই সেটা করেই দিন যায় আমার। বয়স ৭০ এর কাছাকাছি হলেও কিন্তু ভোটার আইডি কার্ডে দেখা যায় তার বয়স প্রায় ৬৩ বছর। তখন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মূর্খ মানুষ। ভোটার আইডি কার্ড করার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। পরে জানতে পারলাম আমার প্রকৃত বয়স থেকে সেখানে অনেক কম দেয়া।

 

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মানব রঞ্জন বাছাড় বলেন, যদি ভোটার আইডি কার্ড অনুসারে তার বয়স ৬৫ বছর হয় তাহলে আমরা তাকে ভাতার আওতায় আনতে পারবো। এ ব্যাপারে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাকিব হাসান তরফদার বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম সে একজন গরীব ও অসহায় ব্যাক্তি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে তাকে সাহায্য সহযোগিতা করার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited