নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

Spread the love

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে “ধর্ষক-নির্যাতক ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই; নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন” এই শ্লোগান সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অর্থ সম্পাদক তসলিমা আক্তার বিউটি, সদস্য তৌফিকা লিজা, ফারজানা আক্তার মালা প্রমুখ।

 

সীমা দত্ত বলেন, ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে ১৪ বছরের কিশোরী ইয়াসমিনকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নামে পুলিশ পিকআপে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যা করে। ঘটনাটিতে দিনাজপুরসহ সারাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বিবেক আলোড়িত হয়। সৃষ্টি হয় এক অভ্যূত্থানমূলক পরিস্থিতির। পুলিশের গুলিতে সাতটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। কিন্তু আন্দোলনের চাপে পরবর্তীতে বিচারে তিনজন আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। তাই এই দিনটিকে বাংলাদেশের নারীসমাজ ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছে। সম্মিলিত প্রতিরোধই যে একমাত্র অন্যায় রুখে দিতে পারে তা সেদিন প্রমাণ হয়েছিল। আজ ২৪ বছর পরে আমরা দেখছি নারী শিশুর উপর নির্মম নৃসংশতা কিন্তু অপরাধীরা সরকারী রাজনৈতিক দল অথবা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গেলে কিংবা মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বছরে ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তি হয় ৩.৬৬%, আর সাজা হয় ১% এরও কম। গত মাসে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় শুধু গত ছয় মাসের পরিসংখ্যানের নারী শিশু নির্যাতনের যে রূপ আমরা দেখি তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

 

শিশু সায়মাকে আমরা এখনো ভুলিনি। ভোলার সে শিশুটি, যে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়ে আছে তাকে পাষ-রা এমনভাবে ধর্ষণ করেছে যে শারীকিভাবে তো অবশ্যই মানসিকভাবেও সে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। ঘুমের মধ্যে ভয়ে চিৎকার করে উঠছে সে। চাঁদপুরের শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তীকে ধর্ষণ করে হত্যার খবর আমাদের আবারও মর্মাহত করেছে। বর্তমানে সারা দেশে যেভাবে নারী শিশু নির্যাতন চলছে তার দায় একমাত্র সরকারের। নারী ও শিশুর এই বিপন্নতার কারণ মূল্যবোধহীন অবক্ষয়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা। সরকার এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যুবক-তরুণদের সংগ্রামের শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়ার সমস্ত পরিকল্পনা করছে। যুব সমাজের মধ্যে ভোগবাদ অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের নৈতিক মেরুদ-কেই ভেঙে দিচ্ছে। কারণ, তারা জানে একাজে সফল হলে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি থাকবে না।

 

তিনি আরো বলেন, আজ সময় হয়েছে রাজপথে নেমে সম্মিলিতভাবে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি দেখেও যদি আমরা চুপ থাকি তাহলে আমাদের বোন, কন্যা, মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করা যাবে না। আমাদের সন্তানদের অন্ধাকার জগত থেকে ফেরানো যাবে না। আসুন আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে আমরা শপথ নিই, অবিলম্বে সকল ধর্ষক-নির্যাতক ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে যে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে উঠবে তা রুখে দেয়ার শক্তি কোন সরকারের কিংবা তার লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী, সন্ত্রাসী মাস্তানদেরও থাকবে না।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ফেনী জেলা কারাগারে মা হলেন নুসরাত হত্যার আসামি কামরুন নাহার মনি

» উত্তরায় ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে: মেয়র আতিকুল ইসলাম

» যেখানে পাওয়া যাবে ১০০ টাকায় ফাইনালের টিকিট

» অসুস্থ এন্ড্রু কিশোরকে দেখতে গেলেন ওমর সানী

» ক্যাসিনোর টাকা গ্রামের মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান ব্যারিস্টার সুমনের

» নিরাপত্তা চেয়ে সিলেটের অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের জিডি

» টানা ৪ দিন অনশনের পর প্রেমিকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর বিয়ে

» কলাপাড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরন ও রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কম্পিউটার বিতরন

» নওগাঁয় গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা প্রেমিকের, অজ্ঞান প্রেমিকা

» গ্রেফতার হওয়ার পরেও র‌্যাবকে ১০ কোটির অফার দেন জি কে শামীম

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে “ধর্ষক-নির্যাতক ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই; নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন” এই শ্লোগান সামনে রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অর্থ সম্পাদক তসলিমা আক্তার বিউটি, সদস্য তৌফিকা লিজা, ফারজানা আক্তার মালা প্রমুখ।

 

সীমা দত্ত বলেন, ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে ১৪ বছরের কিশোরী ইয়াসমিনকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নামে পুলিশ পিকআপে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যা করে। ঘটনাটিতে দিনাজপুরসহ সারাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বিবেক আলোড়িত হয়। সৃষ্টি হয় এক অভ্যূত্থানমূলক পরিস্থিতির। পুলিশের গুলিতে সাতটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। কিন্তু আন্দোলনের চাপে পরবর্তীতে বিচারে তিনজন আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। তাই এই দিনটিকে বাংলাদেশের নারীসমাজ ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছে। সম্মিলিত প্রতিরোধই যে একমাত্র অন্যায় রুখে দিতে পারে তা সেদিন প্রমাণ হয়েছিল। আজ ২৪ বছর পরে আমরা দেখছি নারী শিশুর উপর নির্মম নৃসংশতা কিন্তু অপরাধীরা সরকারী রাজনৈতিক দল অথবা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গেলে কিংবা মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগীকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বছরে ধর্ষণ মামলা নিষ্পত্তি হয় ৩.৬৬%, আর সাজা হয় ১% এরও কম। গত মাসে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় শুধু গত ছয় মাসের পরিসংখ্যানের নারী শিশু নির্যাতনের যে রূপ আমরা দেখি তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

 

শিশু সায়মাকে আমরা এখনো ভুলিনি। ভোলার সে শিশুটি, যে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়ে আছে তাকে পাষ-রা এমনভাবে ধর্ষণ করেছে যে শারীকিভাবে তো অবশ্যই মানসিকভাবেও সে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। ঘুমের মধ্যে ভয়ে চিৎকার করে উঠছে সে। চাঁদপুরের শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তীকে ধর্ষণ করে হত্যার খবর আমাদের আবারও মর্মাহত করেছে। বর্তমানে সারা দেশে যেভাবে নারী শিশু নির্যাতন চলছে তার দায় একমাত্র সরকারের। নারী ও শিশুর এই বিপন্নতার কারণ মূল্যবোধহীন অবক্ষয়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা। সরকার এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে যুবক-তরুণদের সংগ্রামের শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়ার সমস্ত পরিকল্পনা করছে। যুব সমাজের মধ্যে ভোগবাদ অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের নৈতিক মেরুদ-কেই ভেঙে দিচ্ছে। কারণ, তারা জানে একাজে সফল হলে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তি থাকবে না।

 

তিনি আরো বলেন, আজ সময় হয়েছে রাজপথে নেমে সম্মিলিতভাবে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি দেখেও যদি আমরা চুপ থাকি তাহলে আমাদের বোন, কন্যা, মায়ের সম্ভ্রম রক্ষা করা যাবে না। আমাদের সন্তানদের অন্ধাকার জগত থেকে ফেরানো যাবে না। আসুন আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে আমরা শপথ নিই, অবিলম্বে সকল ধর্ষক-নির্যাতক ও তাদের প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে যে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে উঠবে তা রুখে দেয়ার শক্তি কোন সরকারের কিংবা তার লাঠিয়াল পুলিশ বাহিনী, সন্ত্রাসী মাস্তানদেরও থাকবে না।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited