জাতীয় সংগীত নিয়ে মন্তব্য নোবেল: ফেইসবুকে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়

ভারতের জি বাংলার সঙ্গীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’তে অংশগ্রহণ করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। প্রতিযোগীতায় যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েও নোবেল ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। ফাইনালের ফলাফল নিয়ে ছিলো ব্যাপক সমালোচনা। এবার নোবেলকে নিয়ে শুরু হলো নতুন আলোচনা সমালোচনা। এক ভিজুয়্যাল সাক্ষাৎকারে নোবেল বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ আমাদের দেশটাকে যতটা প্রকাশ করে, তার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি প্রকাশ করেছে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা ‘বাংলাদেশ’ গানটি।’ যদিও নোবেল কথাটি বলার আগে বলে নিয়েছিলেন যে, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত মত।

 

এছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকারে নোবেল বলেন, ‘সা রে গা মা পা’তে ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি গেয়েছিলাম, কিন্তু টেলিকাস্ট হয়নি। কারণ জেমস ভাই তাঁর ম্যানেজারকে দিয়ে ফোন করান এবং বলেন, ‘পাগলা হাওয়া’ গানটা যেন টেলিকাস্ট না হয়। আমাকে জেলে পাঠানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়, এমন নানা রকমের আন-এক্সপেক্টেড কার্যকলাপ হয়েছে আর কি! একজন আইডলের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি-ধমকি সত্যিই অপ্রত্যাশিত। আমি উনার ছেলের বয়সী। এরপরও জেমস ভাইয়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনোই কমবে না। একই সাক্ষাতকারে প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, জাতীয় সংগীতের পর ‘বাংলাদেশ’ গানটাই আমাদের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে এবং দুই বাংলাকেই রিপ্রেজেন্ট করে ‘আমি বাংলায় গান গাই’।

 

এই দু’টি বিষয়ে নোবেলের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হয় বিতর্কের ঝড়। ফেইসবুকে কেউ কেউ তার এসব মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। আবার অনেকে তাকে সমার্থন জানান। কেউ কেউ আবার তাকে কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। শিশু সাহিত্যিক হুমায়ন কবির ঢালী ফেইসবুকে নোবেলকে সতর্ক করে লিখেন, ‘নোবেল, শুধু গান গেয়ে যাও। কথা কম কও। তোমার কথার নমুনা ভালো না। তোমার উঠতে দীর্ঘ সময় লাগলেও নামতে এক সেকেন্ডও লাগবে না। নোবেলের জনপ্রিয়তা হয়তো আজ আছে, কাল থাকবে না বা অনেক দিন থাকবে। গান সে ভালই গায়, আর জাতীয় সংগীত নিয়ে সে যে কথা বলছে সেটাও খুবই লাইটলি বলছে। নোবেল এমনিতেও কথা গুছায়ে বলতে পারে না বলে আমার মনে হয়। – লিখেছেন হৃদয় সাহা। ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজুর রহমান লিখেছেন, ‘পুকুরের মাছ যখন নদীর পানি পায়, তখন সে দিশেহারা হয়ে যায়। নোবেলের ক্ষেত্রেও মনে হচ্ছে সেটাই ঘটছে।

 

‘জাতীয় সংগীতের পর বাংলাদেশ গানটাই আমাদের রিপ্রেজেন্ট করে!- নোবেল। বাট সবাই কথাটাকে উল্টা করে বলছে, জাতীয় সংগীতকে অপমান করছে। কথার অর্থ বুঝতে হবে। বিষয়গুলো সঠিকভাবে বোঝা উচিত। বয়কট করা, কাউকে নিচু করা আমাদের স্বভাবে যেন না হয়, আগে নিজে দেখুন জানুন, পরে কথা বলুন! ৬ কে ৯ বানাবেন না।’ – এমডি প্লাবন চৌধুরীর মন্তব্য। রহমান মতি লিখেছেন, ‘নোবেলকে নিয়ে তোলপাড় অলরেডি টক অফ দ্য কান্ট্রি। আমাদের দেশে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে কারো সমালোচনা করতে করতে তাকে হুট করে বর্জন করতে একজোট হওয়া। যে নোবেলের সারেগামাপা-র একেকটা গান প্রকাশ হবার পর ভাইরাল করতে ব্যস্ত থাকত লোকজন তারাই এখন তাকে বর্জন করতে চাচ্ছে।

 

নোবেলভক্ত শরীফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘নোবেল এখন তারকা। তার ব্যক্তগত মত নিয়ে আলোচনা হবে। তাই জাতীয় সংগীতের মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নোবেলকে আরও সতর্ক হতে হবে। ‘সা রে গা মা পা’তে ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি প্রচার না হওয়া প্রসঙ্গে নওরীন জাহান লিখেছেন, ‘কেন গানটি প্রচার হয় নি, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, জেমস ও নোবেল জানে। কিন্তু কথা হলো এই বিষয়টি নোবেল মিডিয়াকে না বললেও পারতেন। কারণ জেমস উপমহাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তার সম্মানহানী হয়, এমন কোন কথা বলা নোবেলের উচিত হয় নি।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান

» ঝিনাইদহের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হলেন আসিফ কাজল

» মহেশপুরের অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ প্রশাসন নির্বকার

» ঝিনাইদহে তৃতীয় লিঙ্গ সদস্যদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» রাজনগরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে অবহিতকরণ সভা

» রাজনগরে ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» গোপালগঞ্জের মেধাবী মুখ মাহমুদা হাবিব নীতির সাফল্য

» মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত

» গলাচিপায় মেয়র কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

» আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে- জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের র‌্যালী ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মানবাধিকারের মূলনীতি বাংলাদেশ সংবিধানে আছে, বাস্তবে কিছুই নেই – মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংগীত নিয়ে মন্তব্য নোবেল: ফেইসবুকে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ভারতের জি বাংলার সঙ্গীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’তে অংশগ্রহণ করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেল। প্রতিযোগীতায় যৌথভাবে দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েও নোবেল ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। ফাইনালের ফলাফল নিয়ে ছিলো ব্যাপক সমালোচনা। এবার নোবেলকে নিয়ে শুরু হলো নতুন আলোচনা সমালোচনা। এক ভিজুয়্যাল সাক্ষাৎকারে নোবেল বলেছেন, ‘আমাদের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ আমাদের দেশটাকে যতটা প্রকাশ করে, তার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি প্রকাশ করেছে প্রিন্স মাহমুদ স্যারের লেখা ‘বাংলাদেশ’ গানটি।’ যদিও নোবেল কথাটি বলার আগে বলে নিয়েছিলেন যে, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত মত।

 

এছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাতকারে নোবেল বলেন, ‘সা রে গা মা পা’তে ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি গেয়েছিলাম, কিন্তু টেলিকাস্ট হয়নি। কারণ জেমস ভাই তাঁর ম্যানেজারকে দিয়ে ফোন করান এবং বলেন, ‘পাগলা হাওয়া’ গানটা যেন টেলিকাস্ট না হয়। আমাকে জেলে পাঠানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়, এমন নানা রকমের আন-এক্সপেক্টেড কার্যকলাপ হয়েছে আর কি! একজন আইডলের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকি-ধমকি সত্যিই অপ্রত্যাশিত। আমি উনার ছেলের বয়সী। এরপরও জেমস ভাইয়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কখনোই কমবে না। একই সাক্ষাতকারে প্রিন্স মাহমুদের লেখা ও জেমসের গাওয়া ‘বাংলাদেশ’ গানটি প্রসঙ্গে নোবেল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, জাতীয় সংগীতের পর ‘বাংলাদেশ’ গানটাই আমাদের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করে এবং দুই বাংলাকেই রিপ্রেজেন্ট করে ‘আমি বাংলায় গান গাই’।

 

এই দু’টি বিষয়ে নোবেলের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শুরু হয় বিতর্কের ঝড়। ফেইসবুকে কেউ কেউ তার এসব মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। আবার অনেকে তাকে সমার্থন জানান। কেউ কেউ আবার তাকে কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন। শিশু সাহিত্যিক হুমায়ন কবির ঢালী ফেইসবুকে নোবেলকে সতর্ক করে লিখেন, ‘নোবেল, শুধু গান গেয়ে যাও। কথা কম কও। তোমার কথার নমুনা ভালো না। তোমার উঠতে দীর্ঘ সময় লাগলেও নামতে এক সেকেন্ডও লাগবে না। নোবেলের জনপ্রিয়তা হয়তো আজ আছে, কাল থাকবে না বা অনেক দিন থাকবে। গান সে ভালই গায়, আর জাতীয় সংগীত নিয়ে সে যে কথা বলছে সেটাও খুবই লাইটলি বলছে। নোবেল এমনিতেও কথা গুছায়ে বলতে পারে না বলে আমার মনে হয়। – লিখেছেন হৃদয় সাহা। ক্ষোভ প্রকাশ করে আজিজুর রহমান লিখেছেন, ‘পুকুরের মাছ যখন নদীর পানি পায়, তখন সে দিশেহারা হয়ে যায়। নোবেলের ক্ষেত্রেও মনে হচ্ছে সেটাই ঘটছে।

 

‘জাতীয় সংগীতের পর বাংলাদেশ গানটাই আমাদের রিপ্রেজেন্ট করে!- নোবেল। বাট সবাই কথাটাকে উল্টা করে বলছে, জাতীয় সংগীতকে অপমান করছে। কথার অর্থ বুঝতে হবে। বিষয়গুলো সঠিকভাবে বোঝা উচিত। বয়কট করা, কাউকে নিচু করা আমাদের স্বভাবে যেন না হয়, আগে নিজে দেখুন জানুন, পরে কথা বলুন! ৬ কে ৯ বানাবেন না।’ – এমডি প্লাবন চৌধুরীর মন্তব্য। রহমান মতি লিখেছেন, ‘নোবেলকে নিয়ে তোলপাড় অলরেডি টক অফ দ্য কান্ট্রি। আমাদের দেশে একটা বড় সমস্যা হচ্ছে কারো সমালোচনা করতে করতে তাকে হুট করে বর্জন করতে একজোট হওয়া। যে নোবেলের সারেগামাপা-র একেকটা গান প্রকাশ হবার পর ভাইরাল করতে ব্যস্ত থাকত লোকজন তারাই এখন তাকে বর্জন করতে চাচ্ছে।

 

নোবেলভক্ত শরীফুল ইসলাম লিখেছেন, ‘নোবেল এখন তারকা। তার ব্যক্তগত মত নিয়ে আলোচনা হবে। তাই জাতীয় সংগীতের মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নোবেলকে আরও সতর্ক হতে হবে। ‘সা রে গা মা পা’তে ‘পাগলা হাওয়া’ গানটি প্রচার না হওয়া প্রসঙ্গে নওরীন জাহান লিখেছেন, ‘কেন গানটি প্রচার হয় নি, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, জেমস ও নোবেল জানে। কিন্তু কথা হলো এই বিষয়টি নোবেল মিডিয়াকে না বললেও পারতেন। কারণ জেমস উপমহাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তার সম্মানহানী হয়, এমন কোন কথা বলা নোবেলের উচিত হয় নি।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited