কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা: চোখের পানি মুছিয়ে দেবে কে? (ভিডিও)

কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা। কিন্তু তার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার কেউ নেই। সে জানে না তার মা আর ফিরে আসবে না। সে জানে না খোদ রাজধানীতেই কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তার মা। ছেলেধরা গুজবে ঢাকার বাড্ডায় শনিবার সকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার শিশু কন্যা তুবার কান্না থামছেই না।কি হবে এই শিশু কন্যার ভবিষ্যত? মা আসার অপেক্ষায় রয়েছে তুবা।তার মাকে কি এনে দিতে পারবে সমাজ? ছোট্ট তুবা বলছে- মা নিচে গেছে জামা আনতে, এখনো আসছে কেন? কিন্তু সে জানে তার মা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। মায়ের আসার দেরি দেখে ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ওই শিশুটি।

 

কিন্তু তার চোখের জল মুছিয়ে দেবে কে? শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহুর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় রেনুর লাশ বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।জানা গেছে, রেনুরা এক ভাই ও পাঁচ বোন। সে সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার। বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে থাকে। মেয়ে তাসলিমা তুবা (৪) থাকতো মায়ের কাছে।

 

নিহতের ভগ্নিপতি বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়। শনিবার সকালে তাসলিমাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতেই নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাড্ডা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে বলেন, বাদী নাসির উদ্দিন এজাহারে বলেছেন, হঠাৎ অনেকেই তসলিমা বেগম রেনুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে গণপিটুনি দেয়া হলে তিনি নিহত হন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পথচারীসহ স্থানীয় অনেকেই তাকে হত্যা করেছে।

 

ওসি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, বেকার সমস্যা এবং এক সন্তানকে নিজের থেকে দূরে রাখার কারণে তাসলিমা বেগম রানু হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি হয়তো হাঁটতে হাঁটতে বাড্ডায় চলে এসেছেন, এসে ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া যে স্কুলের কাছে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন ওই স্কুলে এ সময়ে ছাত্র ভর্তির কথা নয় বলে জানান ওসি।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় রান্নার চুলা ভাঙ্গার প্রতিবাদ করায় গৃহবধুকে নির্যাতন

» নওগাঁর আত্রাই ২নং ভোঁ-পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী কাউন্সিল অধিবেশন-২০১৯

» ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডশেনের আয়োজনে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

» ঝিনাইদহে তারেক রহমানের জন্ম-বাষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

» ঝিনাইদহে তৃতীয় দিনের মত চলছে পরিবহণ ধর্মঘট, যাত্রীরা পড়ছেন মহা দুর্ভগে

» মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে এরা কারা?

» দুই হাত ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ফাল্গুনী আজ অফিসার

» সুফিয়া কামালের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা করেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট

» কলাপাড়ায় চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

» কলাপাড়ায় আয়কর মেলার উদ্বোধন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা: চোখের পানি মুছিয়ে দেবে কে? (ভিডিও)

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

কাঁদছে চার বছরের শিশু তুবা। কিন্তু তার চোখের পানি মুছিয়ে দেয়ার কেউ নেই। সে জানে না তার মা আর ফিরে আসবে না। সে জানে না খোদ রাজধানীতেই কয়েকজন বিবেকহীন মানুষের গুজবের বলি হয়েছেন তার মা। ছেলেধরা গুজবে ঢাকার বাড্ডায় শনিবার সকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার শিশু কন্যা তুবার কান্না থামছেই না।কি হবে এই শিশু কন্যার ভবিষ্যত? মা আসার অপেক্ষায় রয়েছে তুবা।তার মাকে কি এনে দিতে পারবে সমাজ? ছোট্ট তুবা বলছে- মা নিচে গেছে জামা আনতে, এখনো আসছে কেন? কিন্তু সে জানে তার মা আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। মায়ের আসার দেরি দেখে ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছে ছোট্ট ওই শিশুটি।

 

কিন্তু তার চোখের জল মুছিয়ে দেবে কে? শনিবার সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়ে কথাবার্তায় সন্দেহ হলে মুহুর্তের মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে পিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় রেনুর লাশ বাড়িতে আনা হলে বৃদ্ধা মা ছবুরা খাতুনসহ স্বজনদের মাতম আর আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।জানা গেছে, রেনুরা এক ভাই ও পাঁচ বোন। সে সবার ছোট। পড়ালেখা শেষে তিনি ঢাকায় আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছিলেন। প্রাইভেটও পড়াতেন তিনি। পারিবারিক কলহের কারণে দুই বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তার। বিচ্ছেদের পর ছেলে তাসফিক আল মাহি (১১) বাবার সঙ্গে থাকে। মেয়ে তাসলিমা তুবা (৪) থাকতো মায়ের কাছে।

 

নিহতের ভগ্নিপতি বদিউজ্জামান বলেন, অভিভাবকরা সন্তান ভর্তি করার জন্য স্কুলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে গুজব ছড়িয়ে একজন শিক্ষিত-সংগ্রামী নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করতে হবে। এ সভ্য সমাজে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়। শনিবার সকালে তাসলিমাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রাতেই নিহতের বোনের ছেলে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫শ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাড্ডা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে বলেন, বাদী নাসির উদ্দিন এজাহারে বলেছেন, হঠাৎ অনেকেই তসলিমা বেগম রেনুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে গণপিটুনি দেয়া হলে তিনি নিহত হন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পথচারীসহ স্থানীয় অনেকেই তাকে হত্যা করেছে।

 

ওসি বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ, বেকার সমস্যা এবং এক সন্তানকে নিজের থেকে দূরে রাখার কারণে তাসলিমা বেগম রানু হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এ কারণে তিনি হয়তো হাঁটতে হাঁটতে বাড্ডায় চলে এসেছেন, এসে ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া যে স্কুলের কাছে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন ওই স্কুলে এ সময়ে ছাত্র ভর্তির কথা নয় বলে জানান ওসি।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited