মৎস্য বন্দর মহিপুরে চলছে খাস জমি দখলের মাহোৎসব; যেন দেখার কেউ নেই

Spread the love

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৭জুলাই।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্য বন্দর মহিপুরে সরকারী খাস জমি দখলের মাহোৎসব চলছে। নির্মান করা হচ্ছে পাকা আধা পাকা অসংখ্য স্থাপনা। সরকারী পুকুরও রক্ষা পাচ্ছেনা ওই দখলদারদের হাত থেকে। এছাড়া শেখ কামাল সেতু দু’পাশ দখল করে নির্মান করা হচ্ছে ইমারত। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী ও স্থানীয় তহসিল অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনে দুপুরে ফ্রি স্টাইলে এসব স্থাপনার কাজ চলছে।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভূমি অফিসের একমাত্র খাস পুকুরটি দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত দোকান ঘর। এছাড়া ওখানকার তহসিল অফিসের নিজস্ব পুকুরটিও দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় আট-দশটি দোকান ঘর। বর্তমানে অনেক স্থাপনা নির্মানধীন। দিনে দুপুরেই কাজ চলছে এসব স্থাপনার। যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমানে মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের বিপরীতে জমি দখল করে নতুন স্থাপনার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারী জমি দখল করে ঘর তোলার হিড়িক চলছে। ফলে বে-দখল হচ্ছে সরকারী জমি।

 

জানা য়ায়, মহিপুর বাজারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমি বর্তমানে বে-দখল রয়েছে। এদিকে ভূমি অফিসের রয়েছে ৯.২৩ একর জমি। এর মধ্যে বেশির ভাগই প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের শেখ রাসেল সেতুর নিচের জমি দখল করে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। মহিপুর এস আর ও এস বি লিমিটেডের সভাপতি ওমর ফারুক আকন জানান, তাদের সমিতির সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে একটি অবৈধ স্থাপনা তুলেছে শানু মাঝি নামে এক ব্যক্তি। এভাবে মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারী জমি দখল করে প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। আবার অনেক স্থানে স্থাপনা নির্মানের কাজ চলছে।

 

মহিপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সত্তার হাওলাদার বলেন, রাতের আধারে এসব অবৈধ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এর ফলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। সাবেক ইউপি সদস্য হাজী আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, পুকুর ছিল সাধারন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের একমাত্র অবলম্বন। এ পুকুরে মাছের চাষ হত। বড় বড় মাছ ছিল। মানুষ ধরে খেত। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পুকুর গুলির অস্তিত্ব এখন বিলীন হয়ে গেছে। মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আজিজুর রহমান (তহশিলদার) বলেন, পূর্বতন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা এক বছরের বন্দোবস্ত দিয়ে গেছেন। আর এ সুযোগ কাছে লাগিয়ে বন্দোবস্ত গ্রহীতারা পাকা স্থাপনা তুলেছে।স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় একের পর এক নতুন স্থাপনা উঠছে। আমি যোগদানের পর সকল বিষয় উর্ধ্বতনদের অবহিত করেছি।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিবুর রহমান বলেন, মহিপুরের যে সমস্ত খাস পুকুর ও খাস জমি বেদখল হয়ে গেছে তা উদ্ধারে খুব দ্রুত এবং জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালীকে ছাড় দেয়া হবেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো.অলিউজ্জামান বলেন, আমাদের সকল বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। মহিপুরে যেসব বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তার মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়ে গেছে। এখন যেসব স্থাপনা রয়েছে তা সম্পূর্ন অবৈধ। ইতোমধ্যে ৩০.১০.২০১৭ তারিখে ২৯৭ নংস্মারকের মাধ্যমে এসব উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ শামস মোকাদ্দেস বলেন, যারা সড়ক ও জনপদের বিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ স্থাপনা তুলেছেন তাদের বিরূদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যের এক বছরের করাদণ্ড

» অবশেষে ওএসডি হলেন জামালপুরের সেই ডিসি: প্রতিমন্ত্রী

» মৌলভীবাজারে ৭দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

» জুড়ীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রবের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

» ইলিশে গরম গলাচিপার বাজার

» শরীয়তপুরের গোসাইরহাট মেঘনার চরে মহিষের খামার

» গাছ বিপদের বন্ধু তাই গাছ লাগান পরিবেশ বাচাঁন

» কবিরাজের অপচিকিৎসায় দশমিনায় যুবকের আত্মহত্যা

» তিন বছর পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছে এক বাংলাদেশি নারী

» নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১০ই ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মৎস্য বন্দর মহিপুরে চলছে খাস জমি দখলের মাহোৎসব; যেন দেখার কেউ নেই

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি,১৭জুলাই।। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মৎস্য বন্দর মহিপুরে সরকারী খাস জমি দখলের মাহোৎসব চলছে। নির্মান করা হচ্ছে পাকা আধা পাকা অসংখ্য স্থাপনা। সরকারী পুকুরও রক্ষা পাচ্ছেনা ওই দখলদারদের হাত থেকে। এছাড়া শেখ কামাল সেতু দু’পাশ দখল করে নির্মান করা হচ্ছে ইমারত। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী ও স্থানীয় তহসিল অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনে দুপুরে ফ্রি স্টাইলে এসব স্থাপনার কাজ চলছে।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভূমি অফিসের একমাত্র খাস পুকুরটি দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় অর্ধশত দোকান ঘর। এছাড়া ওখানকার তহসিল অফিসের নিজস্ব পুকুরটিও দখল করে তোলা হয়েছে প্রায় আট-দশটি দোকান ঘর। বর্তমানে অনেক স্থাপনা নির্মানধীন। দিনে দুপুরেই কাজ চলছে এসব স্থাপনার। যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমানে মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গেটের বিপরীতে জমি দখল করে নতুন স্থাপনার কাজ চলছে। সব মিলিয়ে মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারী জমি দখল করে ঘর তোলার হিড়িক চলছে। ফলে বে-দখল হচ্ছে সরকারী জমি।

 

জানা য়ায়, মহিপুর বাজারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমি বর্তমানে বে-দখল রয়েছে। এদিকে ভূমি অফিসের রয়েছে ৯.২৩ একর জমি। এর মধ্যে বেশির ভাগই প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের শেখ রাসেল সেতুর নিচের জমি দখল করে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। মহিপুর এস আর ও এস বি লিমিটেডের সভাপতি ওমর ফারুক আকন জানান, তাদের সমিতির সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা দখল করে একটি অবৈধ স্থাপনা তুলেছে শানু মাঝি নামে এক ব্যক্তি। এভাবে মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে সরকারী জমি দখল করে প্রায় দুইশতাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হয়েছে। আবার অনেক স্থানে স্থাপনা নির্মানের কাজ চলছে।

 

মহিপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব সত্তার হাওলাদার বলেন, রাতের আধারে এসব অবৈধ স্থাপনা তোলা হয়েছে। এর ফলে বাজারের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। সাবেক ইউপি সদস্য হাজী আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, পুকুর ছিল সাধারন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের একমাত্র অবলম্বন। এ পুকুরে মাছের চাষ হত। বড় বড় মাছ ছিল। মানুষ ধরে খেত। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পুকুর গুলির অস্তিত্ব এখন বিলীন হয়ে গেছে। মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আজিজুর রহমান (তহশিলদার) বলেন, পূর্বতন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা এক বছরের বন্দোবস্ত দিয়ে গেছেন। আর এ সুযোগ কাছে লাগিয়ে বন্দোবস্ত গ্রহীতারা পাকা স্থাপনা তুলেছে।স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় একের পর এক নতুন স্থাপনা উঠছে। আমি যোগদানের পর সকল বিষয় উর্ধ্বতনদের অবহিত করেছি।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিবুর রহমান বলেন, মহিপুরের যে সমস্ত খাস পুকুর ও খাস জমি বেদখল হয়ে গেছে তা উদ্ধারে খুব দ্রুত এবং জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালীকে ছাড় দেয়া হবেনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মো.অলিউজ্জামান বলেন, আমাদের সকল বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। মহিপুরে যেসব বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তার মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়ে গেছে। এখন যেসব স্থাপনা রয়েছে তা সম্পূর্ন অবৈধ। ইতোমধ্যে ৩০.১০.২০১৭ তারিখে ২৯৭ নংস্মারকের মাধ্যমে এসব উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ শামস মোকাদ্দেস বলেন, যারা সড়ক ও জনপদের বিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ স্থাপনা তুলেছেন তাদের বিরূদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited