ভোলার চরফ্যাশনে একই সঙ্গে ৫ জেলের জানাজা পড়লেন গ্রামবাসী

ভোলার চরফ্যাশনের জিন্নগড় ইউনিয়নের উত্তর মাদ্রাজ গ্রামের নুরু মিয়া মহাজন বাড়ির দরজার জামে মসজিদের মাঠে একই সঙ্গে ৫ জনের জানাজা শেষে মরদেহগুলো মসজিদের কবরস্থনে দাফন করা হয়েছে। বাকি ২ জনের লাশ শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নে দাফন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং শোকাহত শতশত গ্রামবাসী অংশ নিলেও মৎস্য বিভাগের বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো লোক দেখা যায়নি। গত ৬ জুলাই ঝড়ে ঢেউয়ের তোপে চরফ্যাশনের ভাড়ানী ও সমারাজ ঘাটের ২টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ২৯ জেলেদের মধ্যে ৮ জেলের মৃতদেহ এবং ২ জেলেকে মৃতপ্রায় অবস্থায় বক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করা হলেও এখনো একই পরিবারের দুই ভাইসহ কমপক্ষে ১৯ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

 

এসব জেলেদের বাড়ি উপজেলার দুলারহাট থানার আহম্মদপুর ও মাদ্রাজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ট্রলার ডুবির ৬দিন পরও নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খবর না পাওয়ায় জেলেদের জীবন নিয়ে অজানা আশংকায় জেলে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে নিখোঁজ জেলে এবং ৮টি মরদেহসহ মনির মাঝি ও জুয়েলকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজে থাকা জেলে পরিবারগুলোর শোককে উস্কে দিয়েছে। আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভাড়ানী ঘাটের শাহজাহান মাঝির এবং সামরাজ ঘাটের মনির মাঝির ট্রলার গত ২জুলাই গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। দু’টি ট্রলারে ২৯ জন জেলে ছিল। সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের তোপে গত শনিবার ও রোববার রাতে টেংরার চর ও শিবচর এলাকায় ট্রলার দু’টি ডুবে যায়।

 

ঢেউয়ের তোপে দিকবিদিক ভেসে যায় দু’টি ট্রলারের সব জেলে। দূর্ঘটনার পরপর আশপাশে থাকা জেলে ট্রলারগুলো নিমজ্জিত জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঝড়ের তাণ্ডব চলায় সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্রোতের টানে ট্রলারসহ জেলেরা সাগরে ভেসে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানিয়েছে। নিখোঁজ ২৯ জেলের মধ্যে বুধবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৮টি মরদেহ ও জীবিত ২ জেলেকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ আছেন ভাড়ানী ঘাটের শাহাজাহান মাঝির ১৫ জেলেট্রলারসহ আরো ১৯জেলে। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, সামরাজ ঘাটের মনির মাঝির এবং ভাড়ানী ঘাটের শাহজাহান মাঝির ট্রলার দুটি সাগরে সী-গাল পয়েন্টে উঠেছে-এমনটা নিশ্চিত হয়ে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার সময় শনিবার ও রোবাবর রাতে ভয়ংকর ঢেউয়ের তোপে তাদের ট্রলার ডুবে যায়। শিবচর ও টেংরারচর ঘটে এই দুর্ঘটনা।

 

চরফ্যাশন খাস মহল মসজিদের পেশ ইমাম মাও. রফিকুল ইসলাম জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং শতশত গ্রামবাসী জানাযায় অংশ নেন। জানাজা শেষে হতভাগ্য ৫ জনের লাশ মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এসব ঘরে ছিল শোকের মাতম। এক সঙ্গে যাদের লাশ দাফন করা হয়েছে তারা হলেন, নাজিমউদ্দিন গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে কামাল হোসেন ও জিন্নাগড় ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে অলিউদ্দিন (৪০), বজলু হাওলাদারের ছেলে অজিউল্যাহ (৩০) ও আ. হকের ছেলে মাকসুদ (৩০) ও আব্দুস শহীদের ছেলে মো বাবুল। বাকি ২জন শশীভূষণ থানার রসুলপু উইনিয়নের । স্বজনদের কান্না যেন থামছে না।জেলেদের ৩টি গ্রামের মানুষ শোকে স্তব্দ হয়ে গেছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

» ঝিনাইদহের মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ

» শৈলকুপায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবীতে মানববন্ধন

» শৈলকুপায় নারী নির্যাতন মামলায় ৪ শিক্ষক-কর্মচারী কারাগারে

» ঝিনাইদহের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের কৃষি ভিত্তিক রোবট আবিস্কার

» ব্যারিস্টার তাপসকে ভোট দিয়ে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ুন: বাংলাদেশের ডেপুটি এটর্নী জেনারেল এড. আবুল হাশেম

» মৌলভীবাজারে অগ্নিকাণ্ড, একই পরিবারের ৫ জন নিহত

» আমরা চাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যেন বজায় থাকে: তাপস

» দুর্নীতির অভিযোগে ডেসটিনির রফিকুল আমীনের ৩ বছরের কারাদণ্ড

» আত্রাইয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১৫ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভোলার চরফ্যাশনে একই সঙ্গে ৫ জেলের জানাজা পড়লেন গ্রামবাসী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ভোলার চরফ্যাশনের জিন্নগড় ইউনিয়নের উত্তর মাদ্রাজ গ্রামের নুরু মিয়া মহাজন বাড়ির দরজার জামে মসজিদের মাঠে একই সঙ্গে ৫ জনের জানাজা শেষে মরদেহগুলো মসজিদের কবরস্থনে দাফন করা হয়েছে। বাকি ২ জনের লাশ শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নে দাফন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং শোকাহত শতশত গ্রামবাসী অংশ নিলেও মৎস্য বিভাগের বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো লোক দেখা যায়নি। গত ৬ জুলাই ঝড়ে ঢেউয়ের তোপে চরফ্যাশনের ভাড়ানী ও সমারাজ ঘাটের ২টি ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ২৯ জেলেদের মধ্যে ৮ জেলের মৃতদেহ এবং ২ জেলেকে মৃতপ্রায় অবস্থায় বক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করা হলেও এখনো একই পরিবারের দুই ভাইসহ কমপক্ষে ১৯ জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

 

এসব জেলেদের বাড়ি উপজেলার দুলারহাট থানার আহম্মদপুর ও মাদ্রাজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ট্রলার ডুবির ৬দিন পরও নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খবর না পাওয়ায় জেলেদের জীবন নিয়ে অজানা আশংকায় জেলে পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে নিখোঁজ জেলে এবং ৮টি মরদেহসহ মনির মাঝি ও জুয়েলকে জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজে থাকা জেলে পরিবারগুলোর শোককে উস্কে দিয়েছে। আহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভাড়ানী ঘাটের শাহজাহান মাঝির এবং সামরাজ ঘাটের মনির মাঝির ট্রলার গত ২জুলাই গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। দু’টি ট্রলারে ২৯ জন জেলে ছিল। সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের তোপে গত শনিবার ও রোববার রাতে টেংরার চর ও শিবচর এলাকায় ট্রলার দু’টি ডুবে যায়।

 

ঢেউয়ের তোপে দিকবিদিক ভেসে যায় দু’টি ট্রলারের সব জেলে। দূর্ঘটনার পরপর আশপাশে থাকা জেলে ট্রলারগুলো নিমজ্জিত জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঝড়ের তাণ্ডব চলায় সেসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। স্রোতের টানে ট্রলারসহ জেলেরা সাগরে ভেসে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানিয়েছে। নিখোঁজ ২৯ জেলের মধ্যে বুধবার কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৮টি মরদেহ ও জীবিত ২ জেলেকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ আছেন ভাড়ানী ঘাটের শাহাজাহান মাঝির ১৫ জেলেট্রলারসহ আরো ১৯জেলে। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, সামরাজ ঘাটের মনির মাঝির এবং ভাড়ানী ঘাটের শাহজাহান মাঝির ট্রলার দুটি সাগরে সী-গাল পয়েন্টে উঠেছে-এমনটা নিশ্চিত হয়ে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার সময় শনিবার ও রোবাবর রাতে ভয়ংকর ঢেউয়ের তোপে তাদের ট্রলার ডুবে যায়। শিবচর ও টেংরারচর ঘটে এই দুর্ঘটনা।

 

চরফ্যাশন খাস মহল মসজিদের পেশ ইমাম মাও. রফিকুল ইসলাম জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং শতশত গ্রামবাসী জানাযায় অংশ নেন। জানাজা শেষে হতভাগ্য ৫ জনের লাশ মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এসব ঘরে ছিল শোকের মাতম। এক সঙ্গে যাদের লাশ দাফন করা হয়েছে তারা হলেন, নাজিমউদ্দিন গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে কামাল হোসেন ও জিন্নাগড় ইউনিয়নের নুর মোহাম্মদের ছেলে অলিউদ্দিন (৪০), বজলু হাওলাদারের ছেলে অজিউল্যাহ (৩০) ও আ. হকের ছেলে মাকসুদ (৩০) ও আব্দুস শহীদের ছেলে মো বাবুল। বাকি ২জন শশীভূষণ থানার রসুলপু উইনিয়নের । স্বজনদের কান্না যেন থামছে না।জেলেদের ৩টি গ্রামের মানুষ শোকে স্তব্দ হয়ে গেছে।

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited