কালনাগিনী সাপ ঠিক কতটা বিষাক্ত

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কালনাগিনী দংশন করলে আর রক্ষে নেই! প্রাণ বায়ু বিসর্জন দিয়ে দিতে হবে। সত্যি বলতে এই সব ধারণাই আমাদের অজ্ঞতা ও আমাদের ভুল ধারণা। বাস্তবিকপক্ষে কালনাগিনী অমন বিষাক্ত কোনো সাপ তো নয় ই আর অলৌকিক ও ভয়ানক কিছুই নয়। বাংলা সিনেমাতে কালনাগিনী সাপের ভয়ংকর কালো রূপ দেখে আমাদের সবার মনে এটা বদ্ধ ধারণা হয়ে গেছে যে কালনাগিনী সাপটা আসলেই মারাত্মক ভয়ানক এক সাপ। কেউ কেউ তো এটাকে অলৌকিক ক্ষমতাধর সাপ ও ভেবে থাকেন।

 

প্রকৃত পক্ষে এই সাপটি শান্ত প্রকৃতির এবং দিবাচর। অর্থাৎ দিনে চলাফেরা করে। গ্রাম এলাকার মানুষ যেটাকে “উড়াল মহারাজ বা উড়াল গাড়া” নামে ডেকে থাকেন। তারা এ সাপটাকে যেভাবে বর্ণনা করতো শুনে গায়ে কাঁটা দিতো। কিন্তু এখন জেনেছি আসলে এটাই কালনাগিনী আর এটা কোনো আহামরি বিষাক্ত ও ভয়ানক কোনো সাপ নয়। কালনাগিনীর ইংরেজি নাম অর্নেট ফ্লাইয়িং স্নেইক। আর বাংলায় একে উড়ন্ত সাপ, উড়াল মহারাজ, কাল নাগিনী, কাল নাগ, নাগিন, আর হিন্দিতে কালা জিন নামে ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম- ঈৎুংড়ঢ়বষবধ ড়ৎহধঃধ যার তিনটি সাবস্পিশিস রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যেটা পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে ঈ.ড়.ড়ৎহধঃরংংরসধ। সাপটির মূলত দুই ধরণের রং হয়ে থাকে। একটা সবুজাভ হলুদ যার মাঝে ডোরা ডোরা রয়েছে আরেকটা কালচে যার মাঝে লালচে ও হলদে ডোরা রয়েছে।

 

পৃথিবীতে এখন অবধি জানা তথ্যমতে ৫ প্রজাতির উড়ন্ত সাপ রয়েছে অর্থাৎ যারা উড়তে পারে আর কালনাগিনী তাদের একটা। এরা আর্বোরিয়াল তথা বৃক্ষবাসী এবং এক গাছ হতে অন্য গাছে লাফিয়ে যেতে পারে যাকে গ¬াইডিং বলে। আর এই ব্যাপারটাকেই উড়ে যাওয়া বলা হয়। সাপটি মৃদুমাত্রায় বিষাক্ত এবং এ বিষ মানুষের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়। উলে¬খ- বিপন্ন প্রজাতির কালনাগিনী সাপ গত ৫ জুলাই দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসীন মিয়া মধুর বাসার সামনের একটি কলাগাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। শেষে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব এর সহযোগীতায় ‘কালনাগিনী সাপটি গত শুক্রবার বিকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» উদ্বোধনের দিনই পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী

» আফগান প্রেসিডেন্টের সমাবেশে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২৪

» প্রাথমিকের ৬৫% শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারেনা

» সাগরে ভাসছে প্রসাধনী ও তরল পদার্থ ভর্তি ব্যারেল বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া জাহাজ আরগো’র উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বামী কান কেটে নিয়েছিলো প্রেমিকের: এবার স্বামীর কান কাটলো প্রেমিক

» রাণীনগরের সাদেকুল তিন বছর ধরে গৃহবন্দি!

» দুর্নীতি নির্মুলে টাস্কফোর্স গঠনের দাবীতে মানববন্ধন

» ডাক্তারের কাছে গিয়ে হেনস্তার শিকার এক নারী ম্যাজিস্ট্রেট

» ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে ফওজিয়ার যোগদানে বাধা নেই

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কালনাগিনী সাপ ঠিক কতটা বিষাক্ত

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কালনাগিনী দংশন করলে আর রক্ষে নেই! প্রাণ বায়ু বিসর্জন দিয়ে দিতে হবে। সত্যি বলতে এই সব ধারণাই আমাদের অজ্ঞতা ও আমাদের ভুল ধারণা। বাস্তবিকপক্ষে কালনাগিনী অমন বিষাক্ত কোনো সাপ তো নয় ই আর অলৌকিক ও ভয়ানক কিছুই নয়। বাংলা সিনেমাতে কালনাগিনী সাপের ভয়ংকর কালো রূপ দেখে আমাদের সবার মনে এটা বদ্ধ ধারণা হয়ে গেছে যে কালনাগিনী সাপটা আসলেই মারাত্মক ভয়ানক এক সাপ। কেউ কেউ তো এটাকে অলৌকিক ক্ষমতাধর সাপ ও ভেবে থাকেন।

 

প্রকৃত পক্ষে এই সাপটি শান্ত প্রকৃতির এবং দিবাচর। অর্থাৎ দিনে চলাফেরা করে। গ্রাম এলাকার মানুষ যেটাকে “উড়াল মহারাজ বা উড়াল গাড়া” নামে ডেকে থাকেন। তারা এ সাপটাকে যেভাবে বর্ণনা করতো শুনে গায়ে কাঁটা দিতো। কিন্তু এখন জেনেছি আসলে এটাই কালনাগিনী আর এটা কোনো আহামরি বিষাক্ত ও ভয়ানক কোনো সাপ নয়। কালনাগিনীর ইংরেজি নাম অর্নেট ফ্লাইয়িং স্নেইক। আর বাংলায় একে উড়ন্ত সাপ, উড়াল মহারাজ, কাল নাগিনী, কাল নাগ, নাগিন, আর হিন্দিতে কালা জিন নামে ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম- ঈৎুংড়ঢ়বষবধ ড়ৎহধঃধ যার তিনটি সাবস্পিশিস রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যেটা পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে ঈ.ড়.ড়ৎহধঃরংংরসধ। সাপটির মূলত দুই ধরণের রং হয়ে থাকে। একটা সবুজাভ হলুদ যার মাঝে ডোরা ডোরা রয়েছে আরেকটা কালচে যার মাঝে লালচে ও হলদে ডোরা রয়েছে।

 

পৃথিবীতে এখন অবধি জানা তথ্যমতে ৫ প্রজাতির উড়ন্ত সাপ রয়েছে অর্থাৎ যারা উড়তে পারে আর কালনাগিনী তাদের একটা। এরা আর্বোরিয়াল তথা বৃক্ষবাসী এবং এক গাছ হতে অন্য গাছে লাফিয়ে যেতে পারে যাকে গ¬াইডিং বলে। আর এই ব্যাপারটাকেই উড়ে যাওয়া বলা হয়। সাপটি মৃদুমাত্রায় বিষাক্ত এবং এ বিষ মানুষের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়। উলে¬খ- বিপন্ন প্রজাতির কালনাগিনী সাপ গত ৫ জুলাই দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মো. মহসীন মিয়া মধুর বাসার সামনের একটি কলাগাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। শেষে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব এর সহযোগীতায় ‘কালনাগিনী সাপটি গত শুক্রবার বিকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited