ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের স্থান নেই -সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী কনভেনশনে বক্তাগণ

শান্তির ধর্ম ইসলামের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে তারা মূলত দেশ, জাতি ও ইসলামের চরম শত্রু। যুগে-যুগে এরা ইসলামকে কলুষিত করেছে। ধর্মের নামে সন্ত্রাস শুধু ইসলাম ধর্মেই নয়; সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া অন্য ধর্মাবলম্বী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে রাতকানা আচরণ করে। নিউজিল্যান্ডে এতো বড় নৃশংস হত্যাকা-ের পরও এটাকে খ্রিষ্ট ধর্মীয় জঙ্গিবাদ হিসেবে প্রচার না করে ফলাও করে প্রচার করা হয় ইসলাম বিষয়ে। অথচ ইসলামে সন্ত্রাস এ জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।

 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’ত আয়োজিত শনিবার বিকালে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী ওলামা-মাশায়েখ ও বুদ্ধিজীবী কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের শীর্ষনেতা শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী এসব কথা বলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী’র সভাপতিত্বে কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। উদ্বোধক ছিলেন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ¦ মুহাম্মদ মহসিন

 

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, ধর্মের নামে যারাই সন্ত্রাস করবে তাদের সাথে ইসলামের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। জেহাদের নামে যারাই সন্ত্রাস করছে তারা আদর্শিকভাবে কখনো সালাফী, কখনো খারেজী, কখনো বা অন্য কোন বিকৃত সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। ৭১-এর স্বাধীনতার বিরোধিতারাও কোন না কোনভাবে আদর্শিকভাবে এসব জেহাদী গোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত, যে কারণে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছে। মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে। এরা সবাই মূলত ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের মতাদর্শ বিরোধী।

 

তারা বলেন, ইসলামের নামে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে জড়িতদের প্রধান টার্গেট সুফিবাদে বিশ্বাসী শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো। সালাফী তথা আহলে হাদিস মতবাদে বিশ্বাসী ধর্মীয় নেতাদের কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা ও বাংলাদেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা, জাতীয় দিবস বিদ্বেষী বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মীয় জ্ঞানশুন্য তরুণ প্রজন্ম জঙ্গীদের দিকে ঝুঁকছে। সরাসরি জঙ্গীদের সমর্থনে ওদের অনেক বক্তব্য ইউটিউব জুড়ে বিস্তৃত। যেখানে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ওদের মতবাদে বিশ্বাসী ছাড়া বাকীরা সবাই মুশরিক। আর প্রত্যেক মুশরিককেই কতল করতে হবে জিহাদের অংশ হিসেবে। অথচ ইসলামের নামে নিরপরাধ মানুষ খুন করে তাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সমাজে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামের আগমন। এজন্য আমাদের সুন্নি ওলামা-মাশায়েখ ও বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সময়ের দাবীতে রূপ নিয়েছে।

 

কনভেনশনে অংশ নেন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অসিউর রহমান, আঞ্জুমান রিসার্চ সেন্টারের মহা-পরিচালক, দেশবরেণ্য লেখক ও গবেষক আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে তরিকত আল্লামা আব্দুল বারী জিহাদী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের মহাসচিব পীরে তরিকত সৈয়দ মুহাম্মদ মছিহুদৌলা, শাইখুল হাদিস আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী, আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদশের যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, ঢাবির সহযোগি অধ্য্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ শাহ্, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদাররেসীন যুগ্ম-মহাসচিব ড. অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুর রহমান, জবির প্রফেসর মুুহাম্মদ আব্দুল অদুদ, অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ আব্দুল আলিম রেজভী, অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যক্ষ আহমদ হোসাইন আল-কাদেরী, আযহার গ্রেজুয়েট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দীন আযহারী, অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম, অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আহমদ রেজা, ঢাকা মহানগর গাউছিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্জ আব্দুল মালেক বুলবুল, অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, আলহাজ্জ মুহাম্মদ আবুল কালাম কাদেরী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মুফতি জসিম উদ্দীন আযহারী, মুফতি হাফিজ মুনিরুজ্জামান আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ আবু জাফর মুহাম্মদ মাঈনুদ্দীন, প্রভাষক এম এস মাসুম বাকি বিল্লাহ, অধ্যক্ষ শোয়াইব রেজা, অধ্যক্ষ আজিজুল হক আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ আব্দুল হক, অধ্যক্ষ নিজামুদ্দীন আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ কাজী মহিউদ্দীন মোল্লা, চন্দনাইশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী, ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন নঈমী, এডভোকেট ইসলাম উদ্দীন দুলাল, মাওলানা জিয়াউল হক রিজভী, মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল-কাদেরী, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম আল-কাদেরী, মুফতি গিয়াস উদ্দীন আত-তাহেরী, আঞ্জুমানে আশরাফিয়া বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মাহবুব আশরাফী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক, গাউছিয়া কমিটি দুবাই শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ফজলুল কবির, এডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হাসান প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন- আমাদের তরুণ প্রজন্ম আশংকাজনক হারে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দিকে ঝুঁকছে। এর পিছনে অনেক কারণ আছে। একদিকে কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ ইসলাম-প্রিয় তরুণদের আকৃষ্ট করছে কিছু বিভ্রান্ত গোষ্ঠী। অন্য দিকে ধর্ম বিদ্বেষী চক্র ইসলাম, কোরআন, নবী-রসুল এবং মসজিদ-মাদরাসা ইত্যাদি নিয়ে প্রায়শই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকে। যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার শামিল এবং আমাদের সংবিধান বিরোধী। এতে করে ধর্মপ্রিয় তরুণদের মধ্যে একধরনের কষ্টবোধ অনুভূত হয়। এই কষ্টবোধটাকেই চরমপন্থীরা ব্যবহার করে জঙ্গি তৈরি করে। বিশেষ করে ইসলামের পবিত্র পরিভাষা ‘জিহাদ’ এর ভুল ব্যাখ্যা করে তাদেরকে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে। মূলত জিহাদ আর তথাকথিত জঙ্গিবাদের মধ্যে দূরতম কোন সম্পর্কও নেই। সুতরাং জঙ্গিবাদ দমনে শুধু মুসলিম তরুণদের দিকে মনোযোগ দিলেই হবে না। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে কেউ যাতে চরমপন্থাকে উস্কে দিতে না পারে সে দিকেও সমান তালে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই বরগুনায় রিফাত হত্যাকা-ের কথাই যদি বলিÑ কতটা নৃশংস হত্যাকান্ড দেখল দেশের মানুষ। যারা এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িত তারা কেউ মাদরাসার ছাত্র নয়। এরা যদি মাদরাসার ছাত্র হতো তবে এই ঘটনা দিয়ে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীরা ইসলামকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতো যেমনটি আমরা অহরহ দেখছি। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। সন্ত্রাসী যেই হোক, যে ধর্মের অনুসারীই হোক, যে ঘরানারই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। কারণ সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই।

 

বক্তারা আরো বলেন- সন্ত্রাসের সাথে মাদকের সম্পর্কও রয়েছে। মাদকে আসক্ত হয়ে প্রতিনিয়তই সুস্থ জীবন থেকে দুরে সরে যাচ্ছে বহু তরুণ, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সরকারি হিসাবে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন অন্তত ৭০ লাখ। পরিবার ও সমাজের ওপর কতটা উদ্বেগজনক প্রভাব ফেলছে এই মাদকের নেশা। নেশার অর্থ যোগাড় করতে না পেরে নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেÑ প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় এমন সংবাদ পাওয়া যায়। সম্প্রতিকালের আলোচিত সব হত্যাকা-ের পিছনে মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পৃক্ত প্রমাণিত। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক আজ দেশের জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। এই সংকট হতে উত্তরণে সরকার, প্রশাসনসহ সচেতন সর্বমহলের সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই। বিশেষত গণসচেতনাবোধ এই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

» কলাপাড়ায় আয়কর মেলার উদ্বোধন

» কলাপাড়ায় সেতু ভেঙ্গে খালে।। দূর্ভোগে সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

» নবনিযুক্ত নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল মুইদ কে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানালেন ডামুড্যা প্রেসক্লাব

» প্রাথমিক শিক্ষকদের উন্নীত গ্রেডের পিক্সেশন হবে উচ্চধাপে

» বেনাপোল বাজারে লবণের দাম বৃদ্ধি গুজবে ক্রেতাদের ভিড়

» যুবলীগ ফ্রান্স শাখা নিয়ে ষড়যন্ত্র ত্যাগী কর্মী মেনে নিবেনা

» ঝিনাইদহের স্থানীয় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তীতে যাত্রীরা

» ঝিনাইদহে আলোচিত স্কুলছাত্র সিফাত হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন

» হরিণাকুন্ডুতে ৯মামলার আসামি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী নিহত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের স্থান নেই -সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী কনভেনশনে বক্তাগণ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

শান্তির ধর্ম ইসলামের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে তারা মূলত দেশ, জাতি ও ইসলামের চরম শত্রু। যুগে-যুগে এরা ইসলামকে কলুষিত করেছে। ধর্মের নামে সন্ত্রাস শুধু ইসলাম ধর্মেই নয়; সকল ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া অন্য ধর্মাবলম্বী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে রাতকানা আচরণ করে। নিউজিল্যান্ডে এতো বড় নৃশংস হত্যাকা-ের পরও এটাকে খ্রিষ্ট ধর্মীয় জঙ্গিবাদ হিসেবে প্রচার না করে ফলাও করে প্রচার করা হয় ইসলাম বিষয়ে। অথচ ইসলামে সন্ত্রাস এ জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই।

 

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’ত আয়োজিত শনিবার বিকালে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক বিরোধী ওলামা-মাশায়েখ ও বুদ্ধিজীবী কনভেনশনে সভাপতির বক্তব্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের শীর্ষনেতা শেরে মিল্লাত আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী এসব কথা বলেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী’র সভাপতিত্বে কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। উদ্বোধক ছিলেন আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ¦ মুহাম্মদ মহসিন

 

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, ধর্মের নামে যারাই সন্ত্রাস করবে তাদের সাথে ইসলামের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। জেহাদের নামে যারাই সন্ত্রাস করছে তারা আদর্শিকভাবে কখনো সালাফী, কখনো খারেজী, কখনো বা অন্য কোন বিকৃত সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত। ৭১-এর স্বাধীনতার বিরোধিতারাও কোন না কোনভাবে আদর্শিকভাবে এসব জেহাদী গোষ্ঠির সঙ্গে সম্পৃক্ত, যে কারণে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অসংখ্য মানুষ হতাহত হয়েছে। মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়েছে। এরা সবাই মূলত ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের মতাদর্শ বিরোধী।

 

তারা বলেন, ইসলামের নামে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে জড়িতদের প্রধান টার্গেট সুফিবাদে বিশ্বাসী শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো। সালাফী তথা আহলে হাদিস মতবাদে বিশ্বাসী ধর্মীয় নেতাদের কুরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা ও বাংলাদেশের সংবিধান, গণতন্ত্র, জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা, জাতীয় দিবস বিদ্বেষী বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মীয় জ্ঞানশুন্য তরুণ প্রজন্ম জঙ্গীদের দিকে ঝুঁকছে। সরাসরি জঙ্গীদের সমর্থনে ওদের অনেক বক্তব্য ইউটিউব জুড়ে বিস্তৃত। যেখানে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ওদের মতবাদে বিশ্বাসী ছাড়া বাকীরা সবাই মুশরিক। আর প্রত্যেক মুশরিককেই কতল করতে হবে জিহাদের অংশ হিসেবে। অথচ ইসলামের নামে নিরপরাধ মানুষ খুন করে তাদের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সমাজে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামের আগমন। এজন্য আমাদের সুন্নি ওলামা-মাশায়েখ ও বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া সময়ের দাবীতে রূপ নিয়েছে।

 

কনভেনশনে অংশ নেন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি সৈয়দ অসিউর রহমান, আঞ্জুমান রিসার্চ সেন্টারের মহা-পরিচালক, দেশবরেণ্য লেখক ও গবেষক আল্লামা এম এ মান্নান, পীরে তরিকত আল্লামা আব্দুল বারী জিহাদী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আত বাংলাদেশের মহাসচিব পীরে তরিকত সৈয়দ মুহাম্মদ মছিহুদৌলা, শাইখুল হাদিস আল্লামা কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফী, আল্লামা আশরাফুজ্জামান আল-কাদেরী, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদশের যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, ঢাবির সহযোগি অধ্য্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ শাহ্, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মুদাররেসীন যুগ্ম-মহাসচিব ড. অধ্যক্ষ একেএম মাহবুবুর রহমান, জবির প্রফেসর মুুহাম্মদ আব্দুল অদুদ, অধ্যক্ষ আল্লামা হাফেজ আব্দুল আলিম রেজভী, অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক, অধ্যক্ষ আহমদ হোসাইন আল-কাদেরী, আযহার গ্রেজুয়েট এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ জালাল উদ্দীন আযহারী, অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম, অধ্যক্ষ আ.ন.ম. আহমদ রেজা, ঢাকা মহানগর গাউছিয়া কমিটির সভাপতি আলহাজ্জ আব্দুল মালেক বুলবুল, অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুল মতিন, আলহাজ্জ মুহাম্মদ আবুল কালাম কাদেরী, মুফতি মাহমুদুল হাসান, মুফতি জসিম উদ্দীন আযহারী, মুফতি হাফিজ মুনিরুজ্জামান আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ আবু জাফর মুহাম্মদ মাঈনুদ্দীন, প্রভাষক এম এস মাসুম বাকি বিল্লাহ, অধ্যক্ষ শোয়াইব রেজা, অধ্যক্ষ আজিজুল হক আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ আব্দুল হক, অধ্যক্ষ নিজামুদ্দীন আল-কাদেরী, অধ্যক্ষ কাজী মহিউদ্দীন মোল্লা, চন্দনাইশ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী, ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন নঈমী, এডভোকেট ইসলাম উদ্দীন দুলাল, মাওলানা জিয়াউল হক রিজভী, মাওলানা ইকবাল হোসাইন আল-কাদেরী, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম আল-কাদেরী, মুফতি গিয়াস উদ্দীন আত-তাহেরী, আঞ্জুমানে আশরাফিয়া বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মাহবুব আশরাফী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম শাহাদত হোসাইন মানিক, গাউছিয়া কমিটি দুবাই শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ফজলুল কবির, এডভোকেট মুহাম্মদ ইকবাল হাসান প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন- আমাদের তরুণ প্রজন্ম আশংকাজনক হারে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দিকে ঝুঁকছে। এর পিছনে অনেক কারণ আছে। একদিকে কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ ইসলাম-প্রিয় তরুণদের আকৃষ্ট করছে কিছু বিভ্রান্ত গোষ্ঠী। অন্য দিকে ধর্ম বিদ্বেষী চক্র ইসলাম, কোরআন, নবী-রসুল এবং মসজিদ-মাদরাসা ইত্যাদি নিয়ে প্রায়শই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকে। যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার শামিল এবং আমাদের সংবিধান বিরোধী। এতে করে ধর্মপ্রিয় তরুণদের মধ্যে একধরনের কষ্টবোধ অনুভূত হয়। এই কষ্টবোধটাকেই চরমপন্থীরা ব্যবহার করে জঙ্গি তৈরি করে। বিশেষ করে ইসলামের পবিত্র পরিভাষা ‘জিহাদ’ এর ভুল ব্যাখ্যা করে তাদেরকে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করে। মূলত জিহাদ আর তথাকথিত জঙ্গিবাদের মধ্যে দূরতম কোন সম্পর্কও নেই। সুতরাং জঙ্গিবাদ দমনে শুধু মুসলিম তরুণদের দিকে মনোযোগ দিলেই হবে না। ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে কেউ যাতে চরমপন্থাকে উস্কে দিতে না পারে সে দিকেও সমান তালে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই বরগুনায় রিফাত হত্যাকা-ের কথাই যদি বলিÑ কতটা নৃশংস হত্যাকান্ড দেখল দেশের মানুষ। যারা এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িত তারা কেউ মাদরাসার ছাত্র নয়। এরা যদি মাদরাসার ছাত্র হতো তবে এই ঘটনা দিয়ে এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীরা ইসলামকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতো যেমনটি আমরা অহরহ দেখছি। এক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট। সন্ত্রাসী যেই হোক, যে ধর্মের অনুসারীই হোক, যে ঘরানারই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। কারণ সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই।

 

বক্তারা আরো বলেন- সন্ত্রাসের সাথে মাদকের সম্পর্কও রয়েছে। মাদকে আসক্ত হয়ে প্রতিনিয়তই সুস্থ জীবন থেকে দুরে সরে যাচ্ছে বহু তরুণ, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সরকারি হিসাবে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন অন্তত ৭০ লাখ। পরিবার ও সমাজের ওপর কতটা উদ্বেগজনক প্রভাব ফেলছে এই মাদকের নেশা। নেশার অর্থ যোগাড় করতে না পেরে নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছেÑ প্রায় প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় এমন সংবাদ পাওয়া যায়। সম্প্রতিকালের আলোচিত সব হত্যাকা-ের পিছনে মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সম্পৃক্ত প্রমাণিত। সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদক আজ দেশের জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। এই সংকট হতে উত্তরণে সরকার, প্রশাসনসহ সচেতন সর্বমহলের সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই। বিশেষত গণসচেতনাবোধ এই সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited