স্বাদ যেমনই হোক, সবার কৌতূহল সাত রং নিয়ে

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  শ্রীমঙ্গলে আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিনে “সাত রঙা” চায়ের স্বাদ যেমনই হোক, কিন্তু সবার কৌতূহল রং নিয়ে। কালো চা, সবুজ চা, মশলা (দারুচিনি লবন), লেবু চা, ঘনীভূত দুধ চা, সাদা চা, অরেঞ্চ চাসহ চায়ের স্তর ১০টিতে নিয়ে গেলেও  সবখানে সাত রঙা চা নামেই খ্যাতি অর্জন করেছে। যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভীষণ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছ গ¬াসে ভিন্ন রঙে সাজানো এক কাপ চা। চামচ ছাড়া যতই নাড়াচাড়া করা হোক না কেন স্তরগুলো ভাঙবে না। সাত রং চায়ের উদ্ভাবক হচ্ছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রমেশ রাম গৌড। জীবন চলার তাগিদে ভাগ্য বদলে ২০০০ সালের ৫ মার্চ স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে ও ১ ভাইকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের রামনগর মণিপুরি পাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। এবং পৌরশহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।

 

চাকরি ছেড়ে রমেশ ২০০১ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে নিজে একটি চায়ের দোকান দেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০২ সালে প্রথম দিকে একটি গ¬¬াসে ২টি স্তরে দুই রঙা চা উদ্ভাবন করে হৈ চৈ ফেলে দেন রমেশ। নিজের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দুই থেকে ১০ রঙা চা তৈরি করা শিখেছেন। শুরু করেন, চা নিয়ে আরো ব্যাপক গবেষনা। রাতে দোকান বন্ধ করার পর চা নিয়ে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। বিভিন্ন স্তরে চা বসানোর জন্য প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা অনুশীলন করতেন। এভাবেই চায়ের স্তর ১০টিতে নিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু, সবখানে তার এই চা সাত রঙা নামেই খ্যাতি অর্জন করেছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিমিস্ট লোকজন রমেশের বিখ্যাত চা পান করেছেন। দেশের বাহিরেও বিশিস্ট ব্যক্তিগণ সেই সাত রঙা’ চায়ের স্বাদ নিতে এসেছেন। সেই বিখ্যাত  “নীলকণ্ঠ টি কেবিন” থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব পাচ্ছে। যদিও বর্তমানে অন্যান্য চা প্রস্তুতকারক এবং দোকান সমূহ বহুস্তর চা প্রস্তুত করছে।

 

রংধনুর সাতটি আলাদা আলাদা রং দিতে এক স্তরের উপর আরেক স্তর ঢেলে দেয়া হয়। সাত রং চায়ের উপরের স্তরটি দারুচিনি স্বাদের হয়ে থাকে। যেখানে এর নিচের স্তরটি লেবুর স্বাদ প্রদান করে। চতুর্থ স্তরে ঘনীভূত দুধের সাথে কালো চা থাকে, যখন নিচের স্তর গুলোতে মিষ্টি, লবঙসহ শরবত সবুজ চা, দারুচিনি এবং গোপন মশলা দিয়ে করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি এই চায়ের রহস্য, উদ্ভাবনের গল্প, পর্যটকদের মনোভাব বিষয়ে মাঠকর্ম গবেষেণা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। সাত রঙা চায়ের ৭০ ভাগ ক্রেতা ঘুরতে এসে স্বাদ নেন। এদের মধ্যে ৬০ ভাগই প্রথমবারের মতো এই চা পান করেন। আগতদের ৮৫ ভাগই চায়ের স্বাদ নয়, সাতটি রঙের প্রতি বেশি কৌতূহলী। মণিপুরি অধ্যুষিত রামনগর ‘আদি নীলকণ্ঠ’ চা কেবিনে। খোলামেলা পরিবেশে সাধারণ একটি দোকান। ভেতর-বাইরে বসার জায়গা করা। সেখানে বসে আগন্তুকরা চায়ের অর্ডার করছেন। গল্প-আড্ডা দিচ্ছেন আর চা পান করছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ৭৮ কোটি ৩০ লক্ষ বার দেখা হয়েছে যেই গান ভিডিও সহ

» গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি

» তুরস্কে বাস উল্টে বাংলাদেশিসহ ১৭ জনের মৃত্যু

» খালেদা জিয়ার কারামুক্তিতে বাধা সরকার: মির্জা ফখরুল

» নেত্রকোনায় ব্যাগের ভেতর শিশুর কাটা মাথা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত

» প্রেমের টানে আমেরিকান নারী এখন লক্ষ্মীপুরে

» জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জিএম কাদের

» পটুয়াখালীর গলাচিপায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

» যশোরের শার্শা উপজেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

» রাংঙ্গাবালী উপজেলায় বর্জ্রপাতে এক জনের মৃত্যু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বাদ যেমনই হোক, সবার কৌতূহল সাত রং নিয়ে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার:  শ্রীমঙ্গলে আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিনে “সাত রঙা” চায়ের স্বাদ যেমনই হোক, কিন্তু সবার কৌতূহল রং নিয়ে। কালো চা, সবুজ চা, মশলা (দারুচিনি লবন), লেবু চা, ঘনীভূত দুধ চা, সাদা চা, অরেঞ্চ চাসহ চায়ের স্তর ১০টিতে নিয়ে গেলেও  সবখানে সাত রঙা চা নামেই খ্যাতি অর্জন করেছে। যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভীষণ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছ গ¬াসে ভিন্ন রঙে সাজানো এক কাপ চা। চামচ ছাড়া যতই নাড়াচাড়া করা হোক না কেন স্তরগুলো ভাঙবে না। সাত রং চায়ের উদ্ভাবক হচ্ছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার রমেশ রাম গৌড। জীবন চলার তাগিদে ভাগ্য বদলে ২০০০ সালের ৫ মার্চ স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে ও ১ ভাইকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরের রামনগর মণিপুরি পাড়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। এবং পৌরশহরের নতুন বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে চাকরি নেন।

 

চাকরি ছেড়ে রমেশ ২০০১ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফিনলে টি কোম্পানির কাকিয়াছড়া চা বাগানে নিজে একটি চায়ের দোকান দেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০২ সালে প্রথম দিকে একটি গ¬¬াসে ২টি স্তরে দুই রঙা চা উদ্ভাবন করে হৈ চৈ ফেলে দেন রমেশ। নিজের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে তিনি এখন পর্যন্ত দুই থেকে ১০ রঙা চা তৈরি করা শিখেছেন। শুরু করেন, চা নিয়ে আরো ব্যাপক গবেষনা। রাতে দোকান বন্ধ করার পর চা নিয়ে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। বিভিন্ন স্তরে চা বসানোর জন্য প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা অনুশীলন করতেন। এভাবেই চায়ের স্তর ১০টিতে নিয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু, সবখানে তার এই চা সাত রঙা নামেই খ্যাতি অর্জন করেছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের বিমিস্ট লোকজন রমেশের বিখ্যাত চা পান করেছেন। দেশের বাহিরেও বিশিস্ট ব্যক্তিগণ সেই সাত রঙা’ চায়ের স্বাদ নিতে এসেছেন। সেই বিখ্যাত  “নীলকণ্ঠ টি কেবিন” থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব পাচ্ছে। যদিও বর্তমানে অন্যান্য চা প্রস্তুতকারক এবং দোকান সমূহ বহুস্তর চা প্রস্তুত করছে।

 

রংধনুর সাতটি আলাদা আলাদা রং দিতে এক স্তরের উপর আরেক স্তর ঢেলে দেয়া হয়। সাত রং চায়ের উপরের স্তরটি দারুচিনি স্বাদের হয়ে থাকে। যেখানে এর নিচের স্তরটি লেবুর স্বাদ প্রদান করে। চতুর্থ স্তরে ঘনীভূত দুধের সাথে কালো চা থাকে, যখন নিচের স্তর গুলোতে মিষ্টি, লবঙসহ শরবত সবুজ চা, দারুচিনি এবং গোপন মশলা দিয়ে করা হয়ে থাকে। সম্প্রতি এই চায়ের রহস্য, উদ্ভাবনের গল্প, পর্যটকদের মনোভাব বিষয়ে মাঠকর্ম গবেষেণা করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। সাত রঙা চায়ের ৭০ ভাগ ক্রেতা ঘুরতে এসে স্বাদ নেন। এদের মধ্যে ৬০ ভাগই প্রথমবারের মতো এই চা পান করেন। আগতদের ৮৫ ভাগই চায়ের স্বাদ নয়, সাতটি রঙের প্রতি বেশি কৌতূহলী। মণিপুরি অধ্যুষিত রামনগর ‘আদি নীলকণ্ঠ’ চা কেবিনে। খোলামেলা পরিবেশে সাধারণ একটি দোকান। ভেতর-বাইরে বসার জায়গা করা। সেখানে বসে আগন্তুকরা চায়ের অর্ডার করছেন। গল্প-আড্ডা দিচ্ছেন আর চা পান করছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited