পিঁপড়ায় ধরা সেই নবজাতককে বাঁচাতে এএসপির উদ্যোগ

Spread the love

মনের সবটুকু অনুনয়ে ডাক্তারের হাত দুটি জড়িয়ে ধরলেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠে বললেন, ডাক্তার সাহেব শিশুটি বাঁচবে তো। আমি আপনার অনেক সুনাম শুনে মধ্য রাতে আপনার কাছে এসেছি। আপনার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে চেষ্টা করলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যাবে। কথাগুলো শুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. উত্তম কুমার সাহা চেয়ার ছেড়ে শেখ বিলাল হোসেনের কাছে এসে হাতটি জড়িয়ে ধরলেন।

 

শেখ বিলাল হোসেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) পদে কর্মরত। এসময় চেম্বারে অনেক ভিড় ছিল। পুলিশের এ সহমর্মিতা দেখে অন্য রোগীরা অবাক। পুলিশ কর্মকর্তার এমন অনুনয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হলেন ডাক্তার। শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরেই শেবাচিমের আই কেয়ার স্ক্যানু বিভাগের ইউনিট-১ এ চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ৪ এপ্রিল পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পূর্বকার্তিপাশা গ্রামের হতদরিদ্র সোহরাব গাজী মরিচক্ষেতে একটি শপিংব্যাগের ভেতরে কুড়িয়ে পায় শিশুটিকে। এ সময় তিনি দেখেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির রক্তমাখা শরীরটা কামড়ে ধরেছে অসংখ্য লাল পিঁপড়া। এমনকি নবজাতকের নাভির ‘ফুল’ পর্যন্ত কাটা হয়নি।

 

দ্রুত শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে স্ত্রী নূরজাহান বেগমের কোলে তুলে দেন তিনি। পরে দুমকী থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পটুয়াখালী হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডা. সিদ্বার্থ শংকর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি আর্থিকভাবে সচ্ছল না থাকায় কোথাও নিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। ডাক্তারের এমন পরামর্শে পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলেন চিন্তার কোনো কারণ নেই। শিশুটির চিকিৎসার ভার আমি নেব। এ সময় এএসপি বিলাল হোসেন হাসপাতালে অন্য একটি কাজে এসেছিলেন। এরপর শিশুটিকে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

 

পটুয়াখালী থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিশুটির পেছনে সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করে আসছেন এএসপি বিলাল হোসেন। এমনকি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে প্রতিনিয়ত ঢাকায় তার ডাক্তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বৃহস্পতিবার শেবাচিমের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমারের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, শিশুটির ওজন মাত্র সাড়ে ৯শ গ্রাম। অপরিপক্ব হওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে অবস্থা একেবারে খারাপ নয়। এদিকে শিশুটির জন্য বরিশাল হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে কুড়িয়ে পাওয়া পরিবারের সদস্যরা। যদিও হতভাগ্য সেই মায়ের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিলাল হোসেন বলেন, একটি দরিদ্র পরিবার যদি রাস্তায় পড়ে থাকা শিশুটির পাশে দাঁড়াতে পারে তাহলে আমি কেন পারবো না, এ ভাবনা থেকেই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছি।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» উদ্বোধনের দিনই পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী

» আফগান প্রেসিডেন্টের সমাবেশে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২৪

» প্রাথমিকের ৬৫% শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারেনা

» সাগরে ভাসছে প্রসাধনী ও তরল পদার্থ ভর্তি ব্যারেল বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া জাহাজ আরগো’র উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বামী কান কেটে নিয়েছিলো প্রেমিকের: এবার স্বামীর কান কাটলো প্রেমিক

» রাণীনগরের সাদেকুল তিন বছর ধরে গৃহবন্দি!

» দুর্নীতি নির্মুলে টাস্কফোর্স গঠনের দাবীতে মানববন্ধন

» ডাক্তারের কাছে গিয়ে হেনস্তার শিকার এক নারী ম্যাজিস্ট্রেট

» ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে ফওজিয়ার যোগদানে বাধা নেই

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পিঁপড়ায় ধরা সেই নবজাতককে বাঁচাতে এএসপির উদ্যোগ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মনের সবটুকু অনুনয়ে ডাক্তারের হাত দুটি জড়িয়ে ধরলেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠে বললেন, ডাক্তার সাহেব শিশুটি বাঁচবে তো। আমি আপনার অনেক সুনাম শুনে মধ্য রাতে আপনার কাছে এসেছি। আপনার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে চেষ্টা করলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যাবে। কথাগুলো শুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. উত্তম কুমার সাহা চেয়ার ছেড়ে শেখ বিলাল হোসেনের কাছে এসে হাতটি জড়িয়ে ধরলেন।

 

শেখ বিলাল হোসেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) পদে কর্মরত। এসময় চেম্বারে অনেক ভিড় ছিল। পুলিশের এ সহমর্মিতা দেখে অন্য রোগীরা অবাক। পুলিশ কর্মকর্তার এমন অনুনয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হলেন ডাক্তার। শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরেই শেবাচিমের আই কেয়ার স্ক্যানু বিভাগের ইউনিট-১ এ চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ৪ এপ্রিল পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পূর্বকার্তিপাশা গ্রামের হতদরিদ্র সোহরাব গাজী মরিচক্ষেতে একটি শপিংব্যাগের ভেতরে কুড়িয়ে পায় শিশুটিকে। এ সময় তিনি দেখেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির রক্তমাখা শরীরটা কামড়ে ধরেছে অসংখ্য লাল পিঁপড়া। এমনকি নবজাতকের নাভির ‘ফুল’ পর্যন্ত কাটা হয়নি।

 

দ্রুত শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে স্ত্রী নূরজাহান বেগমের কোলে তুলে দেন তিনি। পরে দুমকী থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পটুয়াখালী হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডা. সিদ্বার্থ শংকর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি আর্থিকভাবে সচ্ছল না থাকায় কোথাও নিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। ডাক্তারের এমন পরামর্শে পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলেন চিন্তার কোনো কারণ নেই। শিশুটির চিকিৎসার ভার আমি নেব। এ সময় এএসপি বিলাল হোসেন হাসপাতালে অন্য একটি কাজে এসেছিলেন। এরপর শিশুটিকে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

 

পটুয়াখালী থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিশুটির পেছনে সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করে আসছেন এএসপি বিলাল হোসেন। এমনকি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে প্রতিনিয়ত ঢাকায় তার ডাক্তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বৃহস্পতিবার শেবাচিমের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমারের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, শিশুটির ওজন মাত্র সাড়ে ৯শ গ্রাম। অপরিপক্ব হওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে অবস্থা একেবারে খারাপ নয়। এদিকে শিশুটির জন্য বরিশাল হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে কুড়িয়ে পাওয়া পরিবারের সদস্যরা। যদিও হতভাগ্য সেই মায়ের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিলাল হোসেন বলেন, একটি দরিদ্র পরিবার যদি রাস্তায় পড়ে থাকা শিশুটির পাশে দাঁড়াতে পারে তাহলে আমি কেন পারবো না, এ ভাবনা থেকেই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছি।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited