বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

Spread the love

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে অপরিপক্ক মন্তব্য করে এ খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

প্রস্তাবিত বাজেটে আরো ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করে বিজিএমইএ নেতারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আরো ২ শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। কেননা, পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে ছোট ছোট কারখানা। এ জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

 

রাজধানীর একটি হোটেলে রবিবার প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে বিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ বাড়তি প্রণোদনা দেয়ায় বাজেটে ৭০ ভাগ খুশি বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম ও মো. মশিউল আজম (সজল)।

 

রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ অবদান রাখে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে কয়েক কোটি মানুষ। প্রস্তাবিত বাজেটের আগে আমাদের দাবি ছিল ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনার। এতে টাকার পরিমাণ দাঁড়াতো ১৮ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু দেয়া হয়েছে এক শতাংশ হারে।

 

এটি যথেষ্ট নয়। এ জন্য চুড়ান্ত বাজেটে ৩ শতাংশ হারে বরাদ্দ দাবি করছি। দ্রার বিনিময় হারকে প্রণোদনা বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল ডলার প্রতি ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদান। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। অথচ মোট রপ্তানি আয়ের ওপর ডলার প্রতি ১ টাকা অবমূল্যায়ন হলেও পোশাক খাতে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পায়, সে হিসাবে ১ শতাংশ প্রণোদনা কম।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তৈরি পোশাক খাত একটি বিরাট চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ কারণে পণ্য বহুখীকরণ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এ খাতে প্রযুক্তির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। টেকনোলজি না থাকার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে উঠা যাচ্ছে না। রুবানা আরো বলেন, বিশের সবচেয়ে বেশি কমপ্লায়েন্স কারখানা এখন বাংলাদেশে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রতি মাসে কিছু কিছু করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতিনিয়ত শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাব্লিশড। আর সাহায্য দরকার নেই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে হলেও বেতন দিয়েছে।

 

পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ বেশি থাকলেও বছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। নানা রকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিৎ। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন (ভিডিও)

» বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলা: আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

» ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত (ভিডিও)

» গলাচিপায় নির্মানাধীনব্রিজের ডাইভার্সন বাধ কেটে দিয়েছে এলাকাবাসী

» মৌলভীবাজারে বন্যা কবলিত এলাকায় বাড়ছে পানি বাহিত রোগ

» বৃদ্ধ নারীকে ৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাননাশের হুমকিতে দিশেহারা!

» শিশু ও নারী নির্যাতন এবং যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» রাণীনগরের সেই বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ৩টি গ্রাম প্লাবিত; পানি বন্দি প্রায় ১৫ হাজার মানুষ

» সরকারি হাসপাতালে নবজাতকের গলা কেটে পালিয়ে গেলেন নার্স

» ঔষধ কোম্পানী প্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মানববন্ধন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে অপরিপক্ক মন্তব্য করে এ খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

প্রস্তাবিত বাজেটে আরো ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করে বিজিএমইএ নেতারা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিয়ে ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় আরো ২ শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। কেননা, পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্রমেই বন্ধ হচ্ছে ছোট ছোট কারখানা। এ জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

 

রাজধানীর একটি হোটেলে রবিবার প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে বিজিএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ বাড়তি প্রণোদনা দেয়ায় বাজেটে ৭০ ভাগ খুশি বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহসভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম ও মো. মশিউল আজম (সজল)।

 

রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ অবদান রাখে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে কয়েক কোটি মানুষ। প্রস্তাবিত বাজেটের আগে আমাদের দাবি ছিল ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনার। এতে টাকার পরিমাণ দাঁড়াতো ১৮ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। কিন্তু দেয়া হয়েছে এক শতাংশ হারে।

 

এটি যথেষ্ট নয়। এ জন্য চুড়ান্ত বাজেটে ৩ শতাংশ হারে বরাদ্দ দাবি করছি। দ্রার বিনিময় হারকে প্রণোদনা বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব ছিল ডলার প্রতি ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদান। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি। অথচ মোট রপ্তানি আয়ের ওপর ডলার প্রতি ১ টাকা অবমূল্যায়ন হলেও পোশাক খাতে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পায়, সে হিসাবে ১ শতাংশ প্রণোদনা কম।

 

এক প্রশ্নের জবাবে তৈরি পোশাক খাত একটি বিরাট চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ কারণে পণ্য বহুখীকরণ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া এ খাতে প্রযুক্তির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। টেকনোলজি না থাকার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে পেরে উঠা যাচ্ছে না। রুবানা আরো বলেন, বিশের সবচেয়ে বেশি কমপ্লায়েন্স কারখানা এখন বাংলাদেশে। কিন্তু ক্রেতাদের কাছে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া ছোট কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না। প্রতি মাসে কিছু কিছু করে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

 

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রতিনিয়ত শুনতে হয়, আমরা ম্যাচিউরড, এস্টাব্লিশড। আর সাহায্য দরকার নেই। কিন্তু এটা ঠিক নয়। পোশাকে কিন্তু ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি নেই। গড়ে ৫ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি রয়েছে। গত এক মাসে আমরা ৩০টি ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। ঈদের আগে অনেকে মেশিন বিক্রি করে হলেও বেতন দিয়েছে।

 

পোশাক খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রণোদনা বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বরাদ্দ বেশি থাকলেও বছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকার প্রণোদনা উঠিয়েছি। নানা রকম আমলাতান্ত্রিক ঝামেলার কারণে অনেকেই ইনসেন্টিভ পান না, নেনও না। নতুন বাজারের ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাড়ানো উচিৎ। পোশাক খাতকে পরাজিত বনের বিড়াল বানাবেন না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited