টাকা লাগবে না, বিনামূল্যে খেয়ে যান

হোটেলের সামনে ‘গরিবে নেওয়াজ’ নামে ছোট সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘তেল মাথায় দেন, গামছা নেন, গোসল করেন, ভাত খান, পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের চরবালিথা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সরদার। স্ত্রী ফজিলা খাতুন ও ছেলে সাগরকে নিয়ে বর্তমানে বসতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছোট হোটেলের মধ্যেই। হোটেলের নামকরণ ও পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন।

হোটেল মালিক আব্দুর রশিদ সরদার বলেন, কে কখন কোথায় বিপদে পড়েন তার কথা কারও জানা নেই। বিপদগ্রস্ত মানুষ যদি আমাকে এসে তার বিপদের কথা জানায় তবে তাকে আমি দেখব। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাকে খাওয়াব। এমন কেউ থাকলে আমি তাকে বলি, পয়সা দেয়া লাগবে না, বিনামূল্যে খেয়ে যান। তিনি আরও বলেন, অনেকেই আসেন রোগীর সঙ্গে। গরিব মানুষ। অনেক সময় তাদের ফ্রি খেতে দিতে হয়। অসহায় মানুষ কি করব? যেটুকু পারি দেই। আমার মৃত্যুর আগে যদি একটু দোয়া দেয়, তাই গরিবের জন্য এসব করি। মেডিকেল কলেজের অনেক ছাত্ররা আমার এখান থেকে খেয়ে যায়।

 

অনেক সময় অনেকে টাকা দিতে পারে না। পরে তারা দিয়ে দেয়। মেডিকেল কলেজ এলাকার প্রথম দোকানদার আমি, ছয় বছর আগে দোকান দিয়েছি। তখন ভ্যানের ওপর ছিল ছোট দোকান। খাবার বিক্রি করতাম। হোটেলটা করেছি তিন বছর আগে। স্ত্রী ও ছেলেটা আমার হোটেলের সহযোগী। দুঃখ প্রকাশ করে আব্দুর রশিদ বলেন, কিছুদিন আগে শ্যামনগর উপজেলা থেকে একটা রোগী ভর্তি হয়েছিল। তারা খুব গরিব মানুষ। আমাকে জানানোর পর তাকে দেখেছি। তার সঙ্গে থাকা স্বজনকে খেতে দিয়েছি। তবে সে আর সুস্থ হয়নি, মারা গাছে। তার মৃত্যুতে খুব দুঃখ পেয়েছি আমি।

 

এই দোকান মালিকের সঙ্গে আলাপকালে পাশে থাকা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক মিজানুর রহমান বলেন, চাচা দূর থেকে আসা মানুষদের অনেক উপকার করেন। সাধারণত কেউ হোটেলে ফ্রিতে খেতে আসে না। তবে তার কাছে এসে বিপদের কথা জানালে তিনি তাকে বিনামূল্যে খাওয়ান।

 

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» বিলুপ্ত এক সময়ের ঐহিত্যবাহী বাহন পালকি

» মাদারীপুরের কাঠাল বাড়ি-শিমুলিয়া পদ্মা নদীর নৌ-রুটে তীব্র নাব্যতা সংকটে

» ভাষার মিনার গড়ছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পাঁচ তরুন ভাষাযোদ্ধা

» রাতের আকাশে রং উড়িয়েছে বে-রংয়ের ফানুস বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারণা উৎসব শুরু

» পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বীমা দাবীর টাকা ফেরৎ দিল মেঘনা লাইফ ইনসুরেন্স কোম্পানি

» গভীর ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ফেসবুকে তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদে দশমিনায় সংবাদ সম্মেলন

» হরিণাকুন্ডুতে একই পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী, নেই থাকার ঘর

» ৬৬,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্ম বিরতি পালন

» প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আবরারের বাবা-মা গণভবনে

» শুধু ছেলেরাই কেন সংসার চালাবে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টাকা লাগবে না, বিনামূল্যে খেয়ে যান

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

হোটেলের সামনে ‘গরিবে নেওয়াজ’ নামে ছোট সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘তেল মাথায় দেন, গামছা নেন, গোসল করেন, ভাত খান, পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের চরবালিথা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ সরদার। স্ত্রী ফজিলা খাতুন ও ছেলে সাগরকে নিয়ে বর্তমানে বসতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছোট হোটেলের মধ্যেই। হোটেলের নামকরণ ও পয়সা থাকলেও খাবেন, না থাকলেও খাবেন।

হোটেল মালিক আব্দুর রশিদ সরদার বলেন, কে কখন কোথায় বিপদে পড়েন তার কথা কারও জানা নেই। বিপদগ্রস্ত মানুষ যদি আমাকে এসে তার বিপদের কথা জানায় তবে তাকে আমি দেখব। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তাকে খাওয়াব। এমন কেউ থাকলে আমি তাকে বলি, পয়সা দেয়া লাগবে না, বিনামূল্যে খেয়ে যান। তিনি আরও বলেন, অনেকেই আসেন রোগীর সঙ্গে। গরিব মানুষ। অনেক সময় তাদের ফ্রি খেতে দিতে হয়। অসহায় মানুষ কি করব? যেটুকু পারি দেই। আমার মৃত্যুর আগে যদি একটু দোয়া দেয়, তাই গরিবের জন্য এসব করি। মেডিকেল কলেজের অনেক ছাত্ররা আমার এখান থেকে খেয়ে যায়।

 

অনেক সময় অনেকে টাকা দিতে পারে না। পরে তারা দিয়ে দেয়। মেডিকেল কলেজ এলাকার প্রথম দোকানদার আমি, ছয় বছর আগে দোকান দিয়েছি। তখন ভ্যানের ওপর ছিল ছোট দোকান। খাবার বিক্রি করতাম। হোটেলটা করেছি তিন বছর আগে। স্ত্রী ও ছেলেটা আমার হোটেলের সহযোগী। দুঃখ প্রকাশ করে আব্দুর রশিদ বলেন, কিছুদিন আগে শ্যামনগর উপজেলা থেকে একটা রোগী ভর্তি হয়েছিল। তারা খুব গরিব মানুষ। আমাকে জানানোর পর তাকে দেখেছি। তার সঙ্গে থাকা স্বজনকে খেতে দিয়েছি। তবে সে আর সুস্থ হয়নি, মারা গাছে। তার মৃত্যুতে খুব দুঃখ পেয়েছি আমি।

 

এই দোকান মালিকের সঙ্গে আলাপকালে পাশে থাকা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক মিজানুর রহমান বলেন, চাচা দূর থেকে আসা মানুষদের অনেক উপকার করেন। সাধারণত কেউ হোটেলে ফ্রিতে খেতে আসে না। তবে তার কাছে এসে বিপদের কথা জানালে তিনি তাকে বিনামূল্যে খাওয়ান।

 

 

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited