রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬বছর পূর্ণ হলেও কাঁন্না থামেনি দু’পা হারানো রেবেকা’র

Spread the love

মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ঢাকা সাভারে সেই রানা প্লাজা ট্রাজিটির ৬ বছর কেটে গেছে, সাথে সাথে দেশের গার্মেন্টস খাতের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা রানা প্লাাজা ধ্বসের স্মৃতিও বিলীন হতে শুরু চলেছে। কিন্তু এখনো থেমে থেমে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কান্নার রোল, যেমন থামেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার বাসীন্দা রানা প্লাজা ট্রাজিটিতে দুই পাঁ হারানো রেবেকা খাতুনের কান্না।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাজার ট্রাজিটিতে সে সুধু দুই পায়ে হারাননি, সাথে সারা জিবনের মত হারিয়েছে তার মা সহ আরো দুই স্বজনকে। বুধবার এই ট্র্যাজিডির দিনটি ৬ বছর পূর্ণ হলো, গত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এই দিনে সেই মার্মাান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সাভারের রানা প্লাাজা ধ্বসের এই দিবসটিকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন রানা প্লাাজায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’পা হারানো রেবেকা খাতুনের বাড়ীতে, সে তার দুই বছরের কন্যা সন্তানকে পাশে রেখে অনেক কষ্ট করে চুলায় রান্না করছেন।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাাজা ধসের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে সবচাইতে তিনি বেশিদিন হাসপাতালে ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ্য হতে প্রায় ১০ মাসের মতো তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ঐ দুর্ঘটনায় তিনি তার মা সহ পরিবারের আরো দুইজন তার মা চান বানু ও ফুফু ও দাদিকে হারিয়েছেন। কান্না বিজরিত কন্ঠে রেবেকা খাতুন বলেন, রানা প্লাাজা ধসের ঘটনার ৬ বছর হয়ে গেলেও এখনো দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাাজা ধসের দুই বছর পুর্বে পছন্দ করে মোস্তাাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে বিয়ে করেন তিনি। এরপর রানা প্লাাজা ধসে মোস্তাাফিজুর আর রেবেকার সুখের সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। রানা প্লাাজার ইট-পাথরের স্তুপে হারিয়ে যান মা চান বানু বেগম। মারা যান দাদি ও ফুফু।

 

রেবেকা খাতুন সেই দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঘটনার পর তাঁর জ্ঞান ছিল না। দুই দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে সে দেখতে পায় তার পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা,ঘুটঘুটে অন্ধকার এক জায়গায় পড়ে আছেন তিনি । তখন চিৎকার করতে থাকলে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী কাছে আসেন। কিন্তু বোঝা তার শরিরে চাপা থাকায় তখনও উদ্ধার করতে পারেনি তারা। এ সময় রেবেকা উদ্ধার কর্মীদের তাঁর স্বামীর মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে তাঁর স্বামী এসে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর রেবেকাকে চিকিৎসা নিতে হয়। বাম পা কোমর পর্যন্ত ও ডান পা গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে তার।

 

রেবেকা খাতুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। সেটি স্থায়ী আমানত হিসাবে ব্যাংকে আছে। সেই স্থায়ী আমানতের টাকা দিয়ে কোনমতে তাদের সংসার চলে। তার দেখাশুনার জন্য তার স্বামী বাহিরে কাজ করতে পারেনা। তিনি বলেন আমার স্বামী আমার প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ঘর সংসারের সব কাজ করেন। এখন আর আমাদের কেউ খোজ নিতে আসে না।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» কমলগঞ্জে ভোক্তা অধিকার আইনে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ লংলা সিমেট্টি

» মোমিন মেহেদীর নেতৃত্বে মশার কয়েল ও স্প্রে প্রদান কর্মসূচী

» ঝিনাইদহ কালিচরনপুর ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশাল র‌্যালী ও লিফলেট বিতরণ

» ঝিনাইদহে বিজিবি’র মাদক বিরোধী সমাবেশ ও সনাক্তকরণ মহড়া

» কালীগঞ্জে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেফতার-২

» ঝিনাইদহে ফেন্সিডিলসহ মাটর সাইকেলের গ্যারেজের মালিক বাইক মিস্ত্রি জনি গ্রেফতার

» বেনাপোল তালশারী মডেল স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভোটাভুটিতে সেরা শিক্ষক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

» “পদ্মা সেতুর রেল লাইনের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলাকেও সংযুক্ত করা হবে”

» আলীকদমে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬বছর পূর্ণ হলেও কাঁন্না থামেনি দু’পা হারানো রেবেকা’র

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ঢাকা সাভারে সেই রানা প্লাজা ট্রাজিটির ৬ বছর কেটে গেছে, সাথে সাথে দেশের গার্মেন্টস খাতের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা রানা প্লাাজা ধ্বসের স্মৃতিও বিলীন হতে শুরু চলেছে। কিন্তু এখনো থেমে থেমে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কান্নার রোল, যেমন থামেনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার বাসীন্দা রানা প্লাজা ট্রাজিটিতে দুই পাঁ হারানো রেবেকা খাতুনের কান্না।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাজার ট্রাজিটিতে সে সুধু দুই পায়ে হারাননি, সাথে সারা জিবনের মত হারিয়েছে তার মা সহ আরো দুই স্বজনকে। বুধবার এই ট্র্যাজিডির দিনটি ৬ বছর পূর্ণ হলো, গত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এই দিনে সেই মার্মাান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সাভারের রানা প্লাাজা ধ্বসের এই দিবসটিকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন রানা প্লাাজায় ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু’পা হারানো রেবেকা খাতুনের বাড়ীতে, সে তার দুই বছরের কন্যা সন্তানকে পাশে রেখে অনেক কষ্ট করে চুলায় রান্না করছেন।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাাজা ধসের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে সবচাইতে তিনি বেশিদিন হাসপাতালে ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ্য হতে প্রায় ১০ মাসের মতো তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ঐ দুর্ঘটনায় তিনি তার মা সহ পরিবারের আরো দুইজন তার মা চান বানু ও ফুফু ও দাদিকে হারিয়েছেন। কান্না বিজরিত কন্ঠে রেবেকা খাতুন বলেন, রানা প্লাাজা ধসের ঘটনার ৬ বছর হয়ে গেলেও এখনো দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে।

 

রেবেকা খাতুন বলেন রানা প্লাাজা ধসের দুই বছর পুর্বে পছন্দ করে মোস্তাাফিজুর রহমান নামে এক যুবককে বিয়ে করেন তিনি। এরপর রানা প্লাাজা ধসে মোস্তাাফিজুর আর রেবেকার সুখের সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। রানা প্লাাজার ইট-পাথরের স্তুপে হারিয়ে যান মা চান বানু বেগম। মারা যান দাদি ও ফুফু।

 

রেবেকা খাতুন সেই দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঘটনার পর তাঁর জ্ঞান ছিল না। দুই দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে সে দেখতে পায় তার পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা,ঘুটঘুটে অন্ধকার এক জায়গায় পড়ে আছেন তিনি । তখন চিৎকার করতে থাকলে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী কাছে আসেন। কিন্তু বোঝা তার শরিরে চাপা থাকায় তখনও উদ্ধার করতে পারেনি তারা। এ সময় রেবেকা উদ্ধার কর্মীদের তাঁর স্বামীর মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে তাঁর স্বামী এসে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর রেবেকাকে চিকিৎসা নিতে হয়। বাম পা কোমর পর্যন্ত ও ডান পা গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে তার।

 

রেবেকা খাতুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। সেটি স্থায়ী আমানত হিসাবে ব্যাংকে আছে। সেই স্থায়ী আমানতের টাকা দিয়ে কোনমতে তাদের সংসার চলে। তার দেখাশুনার জন্য তার স্বামী বাহিরে কাজ করতে পারেনা। তিনি বলেন আমার স্বামী আমার প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ঘর সংসারের সব কাজ করেন। এখন আর আমাদের কেউ খোজ নিতে আসে না।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited