নুসরাত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হাফেজ কাদের গ্রেফতার

Spread the love

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও এজহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) তাকে রাজধানী ঢাকার হোসনী দালান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিক পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়। আবদুল কাদেরকে গ্রামের লোকজন মানিক নামেই চিনত। সে আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্বসফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। ৪ ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের ৫ নম্বর।

 

তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও হাফেজ আবদুল কাদের শিবিরের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত বলে জানা যায়। কাদের সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তাদের স্বীকারোক্তিতে আবদুল কাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন হাফেজ আবদুল কাদের গেট পাহারার দায়িত্বে ছিল এবং ঘটনার আগের দিন ৫ এপ্রিল খুনের পরিকল্পনার বৈঠকে ছিল মানিক। গ্রেফতারকৃত আসামিরা তার হোস্টেলে বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

গত ৭ এপ্রিল মালামাল নিয়ে হোস্টেল ত্যাগ করে হাফেজ আবদুল কাদের। পরদিন ৮ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়িতে ছিল। মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের খবর জানতে পেরে বাড়ি ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় আবদুল কাদের মানিক।এরপর ১২ এপ্রিল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর আবদুল কাদেরের নাম আসায় ওই দিন বিকালেই বসতঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান আবদুল কাদেরের বাবা-মা ও পরিবারের সব সদস্যরা। তার এক ভাই দিনমজুর, একভাই মালদ্বিপ ও এক ভাই ঢাকায় একটি কারখানায় চাকরি করেন। তিন বোন বিবাহিত। আবদুল কাদের অবিবাহিত। পিবিআই এজাহারভুক্ত ৮ জন আসামির মধ্যে ৭ আসামিসহ ১৬ জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এবার আবদুল কাদেরকেও গ্রেফতার করা হলো।

 

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে নুসরাত ওই বিল্ডিংয়ের তিনতলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪-৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

 

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ৮ জনের মান উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এবার সেই প্রিয়া সাহা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বহিষ্কার

» এবার সেই প্রিয়ার চুমুর ভিডিও ভাইরাল! (ভিডিও)

» বন্যা কবলিতদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যা নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি: এনামুল হক শামীম

» শরীয়তপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও ফলদ বৃক্ষমেলা শুরু

» নিরাপদ চিকিৎসার দাবীতে মৌলভীবাজারে মানববন্ধন

» অলিলা গ্র“পের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত ৬ শত কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ

» রেল লাইন সংস্কারের দাবীতে কুলাউড়ায় মানববন্ধন

» রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত

» রাবিতে ডিপ্লোমাধারীদের বিভিসি রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবি

» গ্রেটার সিলেট কাউন্সিল ইন ইউকের ১৭তম বাৎসরিক সাধারন সভা কভেন্ট্রিতে অনুষ্ঠিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৮ই শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নুসরাত হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হাফেজ কাদের গ্রেফতার

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও এজহারভুক্ত আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) তাকে রাজধানী ঢাকার হোসনী দালান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে আসামি হাফেজ আবদুল কাদের মানিক পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়। আবদুল কাদেরকে গ্রামের লোকজন মানিক নামেই চিনত। সে আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্বসফরপুর গ্রামের মনছুর খান পাঠান বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে। তার বাবা সাহেবের হাটের চা দোকানি। ৪ ভাই তিন বোনের মধ্যে হাফেজ আবদুল কাদের ৫ নম্বর।

 

তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হলেও হাফেজ আবদুল কাদের শিবিরের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত বলে জানা যায়। কাদের সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও ফাজিল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি অধ্যক্ষ সিরাজের অনুগত হিসেবে মাদ্রাসার হোস্টেলে থাকতেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম তাদের স্বীকারোক্তিতে আবদুল কাদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন হাফেজ আবদুল কাদের গেট পাহারার দায়িত্বে ছিল এবং ঘটনার আগের দিন ৫ এপ্রিল খুনের পরিকল্পনার বৈঠকে ছিল মানিক। গ্রেফতারকৃত আসামিরা তার হোস্টেলে বৈঠক হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

গত ৭ এপ্রিল মালামাল নিয়ে হোস্টেল ত্যাগ করে হাফেজ আবদুল কাদের। পরদিন ৮ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়িতে ছিল। মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরের খবর জানতে পেরে বাড়ি ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় আবদুল কাদের মানিক।এরপর ১২ এপ্রিল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পর আবদুল কাদেরের নাম আসায় ওই দিন বিকালেই বসতঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান আবদুল কাদেরের বাবা-মা ও পরিবারের সব সদস্যরা। তার এক ভাই দিনমজুর, একভাই মালদ্বিপ ও এক ভাই ঢাকায় একটি কারখানায় চাকরি করেন। তিন বোন বিবাহিত। আবদুল কাদের অবিবাহিত। পিবিআই এজাহারভুক্ত ৮ জন আসামির মধ্যে ৭ আসামিসহ ১৬ জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এবার আবদুল কাদেরকেও গ্রেফতার করা হলো।

 

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে নুসরাত ওই বিল্ডিংয়ের তিনতলায় যান। সেখানে মুখোশপরা ৪-৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এ সময় নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

 

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ৮ জনের মান উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাত ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited