গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ও কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৯ইং বুধবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ও কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব এম.এ মনিরুল হক, গ্রীন মুভমেন্টের চেয়ারম্যান বাপ্পী সরদার, সংগঠনের সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম বুলু, কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, রাজু আহমেদ খানসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, জ্বালানী মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা কমিশনকে দিতে হবে। পৃথিবীর সব দেশেই সরকার মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আনে, আর মূল্য নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রক কমিশন। অথচ আমাদের দেশে কমিশনকে অবজ্ঞা করে জ্বালানী মন্ত্রী মূল্যবৃদ্ধির বক্তব্য প্রদান করেন। সিপিবি’র সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আগামী ছয় মাসে গ্যাসের মূল্য আমদানির উপর কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে তা এখনই নির্ধারণ করতে চায় সরকার। যা মোটেও ন্যায় সংগত নয়। সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হলেও এই কমিশনের এবারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের শুনানি ও পরবর্তি সময়ে তাদের ভুমিকা জনমনে সঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

 

প্রথমতঃ কমিশনের নিজস্ব আইনের ২ (ঝ) উপধারা মতে এনার্জি সরবরাহ বা তদসম্পর্কিত বিশেষ সেবার মূল্যহার ৩৪ (৫) উপধারা মতে কমিশন কতৃর্ক নির্ধারিত ট্যারিফ কোন অর্থ বৎসরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না। এই ক্ষেত্রে কমিশন নিজস্ব আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গনশুনানি অনুষ্ঠিত করেছে।

 

দ্বিতীয়তঃ একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য কারো পক্ষপাত অবলম্বন করতে পারেনা, অথচ শুনানি চলা কালে কশিনের একজন সদস্য মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

 

তৃতীয়তঃ কোম্পনিগুলো ২৯ জানুয়ারি ৬৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে কমিশন ১১ই মার্চ গনশুনানীর আয়োজন করেন। অথচ শুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা জানতে পারলাম কোম্পানিগুলো ১০২.৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সংশোধনি প্রস্তাবের উপর শুনানি করছে। নাগরিকদের সাথে এধরনের লুকোচুরি করলেও বিইআরসি কোন ব্যাবস্থা নেইনি।

 

চতুর্থতঃ মহামান্য হাইকোর্ট ৩১মার্চ তাদের রায়ে বলেছেন, কোম্পানিসমূহের দুর্নীতি ৫০ শতাংশ কমালে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবেনা। এবং কমিশনকে দুর্নীতি তদন্ত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু এই নির্দেশের ১৬দিন অতিবাহিত হলেও কমিশন আজঅবধি কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করে নাই।

 

পঞ্চমতঃ মাননিয় জ্বালানি মন্ত্রির গত ১১ই এপ্রিলের বক্তব্য “গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছিনা,এটি সমন্বয় হচ্ছে। কারণ কম দামে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।” (সূত্রঃ প্রথম আলো, ১২ এপ্রিল ২০১৯) মন্ত্রি মহোদয়ের বক্তব্য একটি স্বাধীন কমিশনের উপর হস্তক্ষেপ বলে সাধারন নাগরিকগন মনে করেণ। অথচ কমিশন এখনো পর্যন্ত নির্বিকার।

 

ষষ্ঠতঃ এলএনজি’র মূল্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল না রেখেই আমদানি কারক কোম্পানী ও পেট্রো বাংলার প্রস্তাবিত মূল্যের উপর ভর করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের উপর কমিশনের কোন ভূমিকা না থাকা দুঃখজনক। সেই সাথে এলপিজি’র লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থার উদ্যোগ কমিশন এখন পর্যন্ত নেয়নি। উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের নাগরিকগন মনেকরে এই কমিশন লোক দেখানো গনশুনানি করেছে যা প্রমানিত।

 

তাহলে কারি কারি অর্থ ব্যয় করে কমিশন রেখে লাভ কি? আমাদের বক্তব্য, সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বৎসরে মূল্যস্ফৃতি ঘটেছে ৫.৫ শতাংশ সেখানে ১০২.৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ফলে মূল্যস্ফৃতি কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা পরিসংখ্যানের বিষয়। সিএনজি গ্যাসে ৪০.২৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব সড়কে সৃংখলা আনতে কমিটি কতৃর্ক ১১১ দফা সুপারিশের পরিপন্থী। সরকার যেখানে গন পরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সৃংখলা আনতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং খোঁজ খবর রাখছেন সেখানে প্রস্তাবিত মূল্য সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিসৃংখল অবস্থাকে উসকে দিচ্ছে। আবাসিক খাতে জ্বালানির সংকট চরমে এর মধ্যে দেশের ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবহার করতে পারছেনা, যারাও পারছে তারাও আবার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম গ্যাস ব্যাবহার করছে। গবেষকগন মনে করেন গ্যাসের মূল্য বাড়লে জিডিপি কমবে ২.৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমরা এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে পড়বো।

 

নাগরিকগণ যেহেতু কমিশনের উপর আস্থা রাখতে পারছে না তাই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সুরাহা করে দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি নাকরার পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে অনুরোধ করছি। জ্বালানী নিয়ন্ত্রক কমিশনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানী মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করতে আহ্বান জানাচ্ছি।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» নবীগঞ্জের সিএনজি চালক মামুনের লাশ জগন্নাথপুর থেকে উদ্ধার

» ফতুল্লায় শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন পালন

» গোসাইরহাটে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে কথিত দুই সাংবাদিক আটক

» শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধে অনশন কর্মসূচি স্থগিত

» বিশ লাখের ডাস্টবিন, তবুও বিষাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

» তুহিন হত্যাকাণ্ড, রিমান্ড শেষে বাবা-চাচাসহ ৩ জনকে জেলে প্রেরণ

» নিষেধ উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দশমিনার নদীতে মাছ শিকারে

» চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি রাজনগরে ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে হয়রানি

» গলাচিপায় ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

» বিজিবি’র হাতে আটক ভারতীয় সেই জেলে কারাগারে

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ও কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৯ইং বুধবার সকাল ১১ টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব ও কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব এম.এ মনিরুল হক, গ্রীন মুভমেন্টের চেয়ারম্যান বাপ্পী সরদার, সংগঠনের সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম বুলু, কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, রাজু আহমেদ খানসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, জ্বালানী মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা কমিশনকে দিতে হবে। পৃথিবীর সব দেশেই সরকার মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আনে, আর মূল্য নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রক কমিশন। অথচ আমাদের দেশে কমিশনকে অবজ্ঞা করে জ্বালানী মন্ত্রী মূল্যবৃদ্ধির বক্তব্য প্রদান করেন। সিপিবি’র সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আগামী ছয় মাসে গ্যাসের মূল্য আমদানির উপর কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে তা এখনই নির্ধারণ করতে চায় সরকার। যা মোটেও ন্যায় সংগত নয়। সভাপতির বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হলেও এই কমিশনের এবারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের শুনানি ও পরবর্তি সময়ে তাদের ভুমিকা জনমনে সঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

 

প্রথমতঃ কমিশনের নিজস্ব আইনের ২ (ঝ) উপধারা মতে এনার্জি সরবরাহ বা তদসম্পর্কিত বিশেষ সেবার মূল্যহার ৩৪ (৫) উপধারা মতে কমিশন কতৃর্ক নির্ধারিত ট্যারিফ কোন অর্থ বৎসরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না। এই ক্ষেত্রে কমিশন নিজস্ব আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গনশুনানি অনুষ্ঠিত করেছে।

 

দ্বিতীয়তঃ একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানের কোন সদস্য কারো পক্ষপাত অবলম্বন করতে পারেনা, অথচ শুনানি চলা কালে কশিনের একজন সদস্য মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন।

 

তৃতীয়তঃ কোম্পনিগুলো ২৯ জানুয়ারি ৬৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব করলে কমিশন ১১ই মার্চ গনশুনানীর আয়োজন করেন। অথচ শুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা জানতে পারলাম কোম্পানিগুলো ১০২.৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির সংশোধনি প্রস্তাবের উপর শুনানি করছে। নাগরিকদের সাথে এধরনের লুকোচুরি করলেও বিইআরসি কোন ব্যাবস্থা নেইনি।

 

চতুর্থতঃ মহামান্য হাইকোর্ট ৩১মার্চ তাদের রায়ে বলেছেন, কোম্পানিসমূহের দুর্নীতি ৫০ শতাংশ কমালে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হবেনা। এবং কমিশনকে দুর্নীতি তদন্ত করতে নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু এই নির্দেশের ১৬দিন অতিবাহিত হলেও কমিশন আজঅবধি কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করে নাই।

 

পঞ্চমতঃ মাননিয় জ্বালানি মন্ত্রির গত ১১ই এপ্রিলের বক্তব্য “গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছিনা,এটি সমন্বয় হচ্ছে। কারণ কম দামে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।” (সূত্রঃ প্রথম আলো, ১২ এপ্রিল ২০১৯) মন্ত্রি মহোদয়ের বক্তব্য একটি স্বাধীন কমিশনের উপর হস্তক্ষেপ বলে সাধারন নাগরিকগন মনে করেণ। অথচ কমিশন এখনো পর্যন্ত নির্বিকার।

 

ষষ্ঠতঃ এলএনজি’র মূল্য আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী দেশের সাথে মিল না রেখেই আমদানি কারক কোম্পানী ও পেট্রো বাংলার প্রস্তাবিত মূল্যের উপর ভর করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের উপর কমিশনের কোন ভূমিকা না থাকা দুঃখজনক। সেই সাথে এলপিজি’র লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থার উদ্যোগ কমিশন এখন পর্যন্ত নেয়নি। উপরোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের নাগরিকগন মনেকরে এই কমিশন লোক দেখানো গনশুনানি করেছে যা প্রমানিত।

 

তাহলে কারি কারি অর্থ ব্যয় করে কমিশন রেখে লাভ কি? আমাদের বক্তব্য, সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বৎসরে মূল্যস্ফৃতি ঘটেছে ৫.৫ শতাংশ সেখানে ১০২.৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ফলে মূল্যস্ফৃতি কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা পরিসংখ্যানের বিষয়। সিএনজি গ্যাসে ৪০.২৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব সড়কে সৃংখলা আনতে কমিটি কতৃর্ক ১১১ দফা সুপারিশের পরিপন্থী। সরকার যেখানে গন পরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সৃংখলা আনতে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং খোঁজ খবর রাখছেন সেখানে প্রস্তাবিত মূল্য সড়কে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিসৃংখল অবস্থাকে উসকে দিচ্ছে। আবাসিক খাতে জ্বালানির সংকট চরমে এর মধ্যে দেশের ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী এখনো রাষ্ট্রের জ্বালানি ব্যবহার করতে পারছেনা, যারাও পারছে তারাও আবার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম গ্যাস ব্যাবহার করছে। গবেষকগন মনে করেন গ্যাসের মূল্য বাড়লে জিডিপি কমবে ২.৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমরা এগিয়ে যাওয়ার বদলে পিছিয়ে পড়বো।

 

নাগরিকগণ যেহেতু কমিশনের উপর আস্থা রাখতে পারছে না তাই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সুরাহা করে দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি নাকরার পক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে অনুরোধ করছি। জ্বালানী নিয়ন্ত্রক কমিশনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানী মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করতে আহ্বান জানাচ্ছি।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited