অকাল বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,০৭ মার্চ।। অকাল বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকায় রবিশস্যের ক্ষেতে পানি জমে আছে। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজারো কৃষক। তরমুজের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমী ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পচে গেছে ডাল ক্ষেত। এর ফলে ওইসব কৃষক এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন। এছাড়া অনেক তরমুজ চাষীরা নিঃস্ব হওয়ার শংঙ্খায় রয়েছে। অকালের ঝড়োহাওয়া আর ভারি বৃষ্টির কারনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক,ক্ষুদ্র,মাঝারি ও বড় সকল শ্রেণির কৃষক ক্ষতির কবলে পড়েছেন। তাদের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঠে এখন শুধুই পানি আর পানি। কেউ কেউ ক্ষেত থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ পানি দ্রুত শুকিয়ে নেয়ার জন্য ক্ষেতে লাইন কেটে পাশের খালের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন। কেউ বা আবার নতুন করে ক্ষেতে বীজ বপন করেছে। এ চিত্র ছিল সর্বত্র।

 

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে,এ উপজেলার ১৬ হাজার ৭০০ কৃষক বৃষ্টিতে অপুরনীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অন্তত ১৭ হাজার দুই শ’ ৯০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ডালজাতীয় খেসারীর ছয় হাজার এক শ’ ৭৫ একর আবাদী জমির শতকরা ৪০ ভাগ সম্পুর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। একই ভাবে পাঁচ হাজার পাঁচ শ’ ৫৭ একর তরমুজ ক্ষেতের ৬০ ভাগ, মুগডালের চার হাজার ৮১৬ একর আবাদি জমির অর্ধেকটা, ফেলন ডালের সাত হাজার ২৮৬ একর আবাদী জমির ৩০ ভাগ সম্পুর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। একই ভাবে মরিচ, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু, সূর্যমূখী ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বৃষ্টিতে।

 

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গামইরতলা গ্রামে কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, সে ৪ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অকাল বৃষ্টিতে তার ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন গাছ যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য ঔষধ দিচ্ছি।
ধানখালীর লোন্দা গ্রামের কৃষক মো.অহিদুল জানান, এ বছর তিনি এক একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত তার প্রায় ২০ শতাংশ তরমুজের ক্ষতি হয়েছে। দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অপর কৃষক আলামিন খাঁন বলেন, তার ক্ষেতে তরমুজের ফলন বেশ হয়ে ছিল। হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে তরমুজ ক্ষেত। লোকসানের দুশ্চিন্তায় পরেছে তিনি।

 

নীলগঞ্জের সবজি চাষী সুলতান গাজী জানান, মরিচ, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া,পুঁইশাক জাতীয় শস্য ও শাকসবজির বীজতলা করেছেন তা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ধুলাসার ইউপি চেয়াম্যান মো.আবদুল জলিল আকন জানান, কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই হতাশা জনক। তরমুজ ছাড়াও খেসারী.মুগডাল,মরিচের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মন্নান জানান, বৃষ্টি অব্যহত থাকলে আরো রবি শষ্য নষ্ট হওয়ার শংঙ্খ ছিলো। বিষয়টি দেখার জন্য প্রত্যেক উপ-সহকারী কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত

» ঝিনাইদহের মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজে নবীন বরণ

» শৈলকুপায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবীতে মানববন্ধন

» শৈলকুপায় নারী নির্যাতন মামলায় ৪ শিক্ষক-কর্মচারী কারাগারে

» ঝিনাইদহের ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের কৃষি ভিত্তিক রোবট আবিস্কার

» ব্যারিস্টার তাপসকে ভোট দিয়ে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ুন: বাংলাদেশের ডেপুটি এটর্নী জেনারেল এড. আবুল হাশেম

» মৌলভীবাজারে অগ্নিকাণ্ড, একই পরিবারের ৫ জন নিহত

» আমরা চাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যেন বজায় থাকে: তাপস

» দুর্নীতির অভিযোগে ডেসটিনির রফিকুল আমীনের ৩ বছরের কারাদণ্ড

» আত্রাইয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ, ১৫ই মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অকাল বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি,০৭ মার্চ।। অকাল বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকায় রবিশস্যের ক্ষেতে পানি জমে আছে। ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজারো কৃষক। তরমুজের পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমী ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পচে গেছে ডাল ক্ষেত। এর ফলে ওইসব কৃষক এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন। এছাড়া অনেক তরমুজ চাষীরা নিঃস্ব হওয়ার শংঙ্খায় রয়েছে। অকালের ঝড়োহাওয়া আর ভারি বৃষ্টির কারনে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হঠাৎ করে দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক,ক্ষুদ্র,মাঝারি ও বড় সকল শ্রেণির কৃষক ক্ষতির কবলে পড়েছেন। তাদের স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মাঠে এখন শুধুই পানি আর পানি। কেউ কেউ ক্ষেত থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ পানি দ্রুত শুকিয়ে নেয়ার জন্য ক্ষেতে লাইন কেটে পাশের খালের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন। কেউ বা আবার নতুন করে ক্ষেতে বীজ বপন করেছে। এ চিত্র ছিল সর্বত্র।

 

কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে,এ উপজেলার ১৬ হাজার ৭০০ কৃষক বৃষ্টিতে অপুরনীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অন্তত ১৭ হাজার দুই শ’ ৯০ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ডালজাতীয় খেসারীর ছয় হাজার এক শ’ ৭৫ একর আবাদী জমির শতকরা ৪০ ভাগ সম্পুর্ণভাবে নষ্ট হয়েছে। একই ভাবে পাঁচ হাজার পাঁচ শ’ ৫৭ একর তরমুজ ক্ষেতের ৬০ ভাগ, মুগডালের চার হাজার ৮১৬ একর আবাদি জমির অর্ধেকটা, ফেলন ডালের সাত হাজার ২৮৬ একর আবাদী জমির ৩০ ভাগ সম্পুর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। একই ভাবে মরিচ, চিনাবাদাম, মিষ্টি আলু, সূর্যমূখী ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বৃষ্টিতে।

 

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গামইরতলা গ্রামে কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, সে ৪ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে। এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। অকাল বৃষ্টিতে তার ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন গাছ যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য ঔষধ দিচ্ছি।
ধানখালীর লোন্দা গ্রামের কৃষক মো.অহিদুল জানান, এ বছর তিনি এক একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এ পর্যন্ত তার প্রায় ২০ শতাংশ তরমুজের ক্ষতি হয়েছে। দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অপর কৃষক আলামিন খাঁন বলেন, তার ক্ষেতে তরমুজের ফলন বেশ হয়ে ছিল। হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে তরমুজ ক্ষেত। লোকসানের দুশ্চিন্তায় পরেছে তিনি।

 

নীলগঞ্জের সবজি চাষী সুলতান গাজী জানান, মরিচ, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া,পুঁইশাক জাতীয় শস্য ও শাকসবজির বীজতলা করেছেন তা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ধুলাসার ইউপি চেয়াম্যান মো.আবদুল জলিল আকন জানান, কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই হতাশা জনক। তরমুজ ছাড়াও খেসারী.মুগডাল,মরিচের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মন্নান জানান, বৃষ্টি অব্যহত থাকলে আরো রবি শষ্য নষ্ট হওয়ার শংঙ্খ ছিলো। বিষয়টি দেখার জন্য প্রত্যেক উপ-সহকারী কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited