দেশের পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও নির্মূলে বীরত্বের সাথে কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

Spread the love

মো:মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,ঢাকা:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠচিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যা দেশের উন্নয়নে প্রধান বাধা। দেশের পুলিশ বাহিনী তা প্রতিরোধ ও নির্মূলে বীরত্বের সাথে কাজ করছে। সম্প্রতি হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় ৪ জন পুলিশ সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। নির্ভীক এই ৪ পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আশুলিয়ার আশকোনা এবং মিরপুরের কল্যাণপুর পুলিশ জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছে। পুলিশ জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু দেশেই নয়, গত প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালন করছে। তাদের এ অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ সকালে রাজারবাগ  লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’র  উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশী-বিদেশী চক্র দেশের অগ্রযাত্রাকে বানচালের চেষ্টা করছে। তা মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবা আরও জনবান্ধব হতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদ ও বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা মোকাবিলা করে পুলিশ জনমনে আস্থা তৈরি করেছে। এ আস্থা ধরে রাখতে হবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে যেকথা বলেছিলেন-আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশবাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশবাহিনী। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ থাকতে হবে জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে। ’ শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে সরকার আরো জোরদার করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বহুমূখী পদেক্ষপ নিয়েছি।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশী-বিদেশী একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।  তিনি বলেন, কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মত বর্বরোচিত কর্মকান্ডে প্ররোচিত করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে ২১ জন পুলিশ সদস্য জঙ্গিগোষ্ঠী ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে জীবন দিয়েছেন। এই বীর পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী তিনি আরও বলেন,পুলিশ বাহিনীর ১২৩ শতাংশ বেতন বেড়েছে। পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মানসিকতা থাকতে হবে। পুলিশের সেবা আরো জনবান্ধব করতে হবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। বৈশ্বিক পরিম-লে আমাদের পুলিশ সদস্যদের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের আইন-শৃংখলাসহ গণতন্ত্রের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে নিরাপত্তা ও অপরাধের নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশের আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনা, অবকাঠামো এবং মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে কর্মক্ষেত্রে পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে । এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি একেএম শহীদুল হক এবং প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি মো.মোখলেসুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্যদিয়ে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পুলিশের ১০টি কন্টিনজেন্ট এবং পতাকাবাহীদলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

 

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্যারেড কমান্ডার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে সঙ্গে করে একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ৪টি ক্যাটাগরিতে ১৩২ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বিতরণ করেন। ২০১৬ সালের মরনোত্তর পুলিশ পদক বিপিএম পান গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য শহীদ রবিউল ইসলাম সিনিয়র এসি ডিবি ডিএমপিএবং শহীদ মো.সালাউদ্দিন খান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা। উভয়ের স্ত্রী এই মরনোত্তর পদক গ্রহণ করেন।

 

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে নিহত পুলিশ কনস্টেবল শহীদ জহীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর স্ত্রী এবং পুলিশ কনষ্টেবল শহীদ আনসারুল হক কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর মা মরনোত্তর পুলিশ পদক গ্রহণ করেন।  পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডি’র ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘রাজারবাগ-৭১’ নামের আবক্ষ মূর্তির নামফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি কেক কাটেন।

 

উল্লেখ্য, সোমবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে বলে পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানানো হয়েছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়রসহ সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের উধর্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনিতিক, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের পৃথক কয়েকটি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী-১,ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-২

» বেনাপোলের আমড়া খালি এলাকা থেকে ৪১ টি সোনার বার সহ আটক-৪

» গাইবান্ধায় বিলের পাড়ে হাত পা বাধা অবস্থায় এক নারী উদ্ধার

» পুলিশ যা জানালো ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পর

» রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মত বিনিময় সভা

» ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার: নুসরাতের বাবা-মায়ের নামাজ আদায়

» বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

» ছাত্রদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে যা করতেন শিক্ষিকা!

» ছেলে থাকেন দালানে, মায়ের জায়গা ঝুপড়িতে

» সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন চাইলে যে ব্যবস্থা নিবেন ব্যারিস্টার সুমন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেশের পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও নির্মূলে বীরত্বের সাথে কাজ করছে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মো:মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম,ঢাকা:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঔপনিবেশিক আমলের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের প্রতি অকুণ্ঠচিত্তে সেবার হাত প্রসারিত করতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ যা দেশের উন্নয়নে প্রধান বাধা। দেশের পুলিশ বাহিনী তা প্রতিরোধ ও নির্মূলে বীরত্বের সাথে কাজ করছে। সম্প্রতি হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় ৪ জন পুলিশ সদস্য আত্মোৎসর্গ করেছেন। নির্ভীক এই ৪ পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আশুলিয়ার আশকোনা এবং মিরপুরের কল্যাণপুর পুলিশ জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছে। পুলিশ জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড, অস্ত্রদাতা, প্রশিক্ষক এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু দেশেই নয়, গত প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালন করছে। তাদের এ অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ সকালে রাজারবাগ  লাইন্স মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’র  উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশী-বিদেশী চক্র দেশের অগ্রযাত্রাকে বানচালের চেষ্টা করছে। তা মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে একাত্ম হয়ে পুলিশের সেবা আরও জনবান্ধব হতে হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদ ও বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা মোকাবিলা করে পুলিশ জনমনে আস্থা তৈরি করেছে। এ আস্থা ধরে রাখতে হবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে যেকথা বলেছিলেন-আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের পুলিশবাহিনী স্বাধীন দেশের পুলিশবাহিনী। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ থাকতে হবে জনসেবা করার মানসিকতা নিয়ে। ’ শান্তিময় ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে সরকার আরো জোরদার করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে বহুমূখী পদেক্ষপ নিয়েছি।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল এবং আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু দেশী-বিদেশী একটি চক্র বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রাকে বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। গণতান্ত্রিক পথে মানুষের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এরা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।  তিনি বলেন, কোমলমতি যুবক-কিশোরদের ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সহিংস আক্রমণের মাধ্যমে মানুষ হত্যার মত বর্বরোচিত কর্মকান্ডে প্ররোচিত করছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে ২১ জন পুলিশ সদস্য জঙ্গিগোষ্ঠী ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে জীবন দিয়েছেন। এই বীর পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী তিনি আরও বলেন,পুলিশ বাহিনীর ১২৩ শতাংশ বেতন বেড়েছে। পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মানসিকতা থাকতে হবে। পুলিশের সেবা আরো জনবান্ধব করতে হবে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যগণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। বৈশ্বিক পরিম-লে আমাদের পুলিশ সদস্যদের অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের আইন-শৃংখলাসহ গণতন্ত্রের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে নিরাপত্তা ও অপরাধের নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশের আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিকল্পনা, অবকাঠামো এবং মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে কর্মক্ষেত্রে পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে । এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইজিপি একেএম শহীদুল হক এবং প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি মো.মোখলেসুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বর্ণাঢ্য পুলিশ প্যারেডের মধ্যদিয়ে এ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পুলিশের ১০টি কন্টিনজেন্ট এবং পতাকাবাহীদলের নয়নাভিরাম প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

 

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭’ উপলক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্যারেড কমান্ডার পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে সঙ্গে করে একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের মাঝে ৪টি ক্যাটাগরিতে ১৩২ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক বিতরণ করেন। ২০১৬ সালের মরনোত্তর পুলিশ পদক বিপিএম পান গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য শহীদ রবিউল ইসলাম সিনিয়র এসি ডিবি ডিএমপিএবং শহীদ মো.সালাউদ্দিন খান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুলশান থানা। উভয়ের স্ত্রী এই মরনোত্তর পদক গ্রহণ করেন।

 

একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে নিহত পুলিশ কনস্টেবল শহীদ জহীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর স্ত্রী এবং পুলিশ কনষ্টেবল শহীদ আনসারুল হক কিশোরগঞ্জ’র পক্ষে তাঁর মা মরনোত্তর পুলিশ পদক গ্রহণ করেন।  পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সিআইডি’র ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেন্টার এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘রাজারবাগ-৭১’ নামের আবক্ষ মূর্তির নামফলক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষ্যে একটি কেক কাটেন।

 

উল্লেখ্য, সোমবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ শুরু হচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে বলে পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগেই জানানো হয়েছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য ‘জঙ্গি মাদকের প্রতিকার, বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’। মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের মেয়রসহ সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ের উধর্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনিতিক, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি বৃন্দ এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited