তরিকুলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

Spread the love

বিএপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম আর নেই। রোববার বিকাল  ৫টা ৫ মিনিটি অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তরিকুল ইসলামকে ঢাকার অ্যাপেলো হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে অ্যাপেলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

পারিবারিক পরিচিতি:
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী। তরিকুল ইসলাম দুই পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী নারর্গিস ইসলাম তার অন্যতম রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান।

 

শিক্ষাজীবন:
১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। একটানা আট বৎসর শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৬১ সালে তিনি এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই. এ. এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি.এ. (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম. এ ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:
পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এম. এম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিও ছিলেন তিনি। বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিকজীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন ও নির্যাতনের শিকার হন। যশোর এম. এম কলেজে শহীদ মিনার তৈরি উদ্যোগ নিতে গিয়েও তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন এম. এন. এ মিঃ আহম্মদ আলী সর্দার কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় তাকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাকে রাজবন্দি হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করতে হয়। সাবেক পাকিস্তান আমল ও পরবর্তিতে বাংলাদেশ আমলে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানের জন্যে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত হন এবং বেশ কিছুদিন হাজতবাস করেন।

 

জাতীয় রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম একজন প্রথম সারির নেতা। ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। ভাসানী আহুত ফারাক্কা লং মার্চে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নয়মাস ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয়ের পর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বাকশাল আমলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য রাখার কারণে তরিকুল ইসলাম নির্যাতনের শিকার হন ও কারাবরণ করেন। ১৯৭৩ সালে তরিকুল ইসলাম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তরিকুল ইসলাম তিন মাস কারাভোগ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি ফ্রন্টের হ্যাঁ/না নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। মরহুম মশিউর যাদুমিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ (ভাসানী) বিলুপ্ত হলে তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনে ভূমিকা রাখেন। যশোর সদর নির্বাচনী এলাকা (যশোর-৩) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের জেলা আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৮২ সালের ৫ মার্চ তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি এরশাদ কর্তৃক কারারুদ্ধ হন এবং দীর্ঘ তিন মাস অজ্ঞাত স্থানে আটক থাকেন। অতঃপর তথাকথিত এরশাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকেন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

 

১৯৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর ১৯৯১ এর সংসদ নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তরিকুল ইসলাম সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯২ সালে ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী রোজা রাজুকে পরাজিত করে যশোর-৩ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপি’র মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হলে তিনি সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

 

যশোর উন্নয়নে অবদান:
তরিকুল ইসলামকে যশোরের উন্নয়নের রূপকার বলা হয়। যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও করোনারি কেয়ার ইউনিট, বিভাগীয় কাষ্টমস অফিস, বেনাপোল স্থল বন্দরসহ অনেক অর্জনের কৃতিত্বের দাবিদার তিনি।

 

সামাজিক কর্মকাণ্ড:
তরিকুল ইসলাম যশোর সরকারি সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সদস্য, যশোর ইনস্টিটিউটের সহকারী সম্পাদক, যশোরের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগরণী চক্র’- এর সভাপতি, কিংশুক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা ও যশোর ক্লাবের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে আধুনিকীকরণে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

দেশ ভ্রমণ:
তরিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত, দলীয়, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, গণচীন, উত্তর কোরিয়া, হংকং, ইটালী, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, ভুটান, সাউথ আফ্রিকা, সাইপ্রাস, ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েনা, আর্জেন্টিনা, সুইজারল্যান্ড ও কানাডাসহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেন এবং যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সফর করেন। তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে বস্তির আগুনে ৩ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

» কবুতর পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা দশম শ্রেণীর ছাত্র রূপঙ্কর চৌধুরী

» সেভ দ্য রোড ও অনলাইন প্রেস ইউনিটির উদ্যেগে বন্যাদূর্গত পরিবারকে ত্রাণ প্রদান

» কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ১৭তম দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

» রাজধানীর মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন

» বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দশমিনায় শোক দিবস পালিত

» রাজনগরে তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

» বাউফলে জাতীয় শোক দিবস পালিত

» যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিপ্রবিতে জাতীয় শোক দিবস পালিত

» কলাপাড়ায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২রা ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তরিকুলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

বিএপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম আর নেই। রোববার বিকাল  ৫টা ৫ মিনিটি অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তরিকুল ইসলামকে ঢাকার অ্যাপেলো হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তাকে কয়েক দিন আগে পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে অ্যাপেলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের মরদেহ দেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

পারিবারিক পরিচিতি:
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী। তরিকুল ইসলাম দুই পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী নারর্গিস ইসলাম তার অন্যতম রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তিনি যশোর সরকারি সিটি কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান।

 

শিক্ষাজীবন:
১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। একটানা আট বৎসর শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৬১ সালে তিনি এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই. এ. এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি.এ. (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম. এ ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:
পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এম. এম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিও ছিলেন তিনি। বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিকজীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন ও নির্যাতনের শিকার হন। যশোর এম. এম কলেজে শহীদ মিনার তৈরি উদ্যোগ নিতে গিয়েও তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন এম. এন. এ মিঃ আহম্মদ আলী সর্দার কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় তাকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাকে রাজবন্দি হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করতে হয়। সাবেক পাকিস্তান আমল ও পরবর্তিতে বাংলাদেশ আমলে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানের জন্যে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত হন এবং বেশ কিছুদিন হাজতবাস করেন।

 

জাতীয় রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম একজন প্রথম সারির নেতা। ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। ভাসানী আহুত ফারাক্কা লং মার্চে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নয়মাস ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয়ের পর তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বাকশাল আমলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য রাখার কারণে তরিকুল ইসলাম নির্যাতনের শিকার হন ও কারাবরণ করেন। ১৯৭৩ সালে তরিকুল ইসলাম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তরিকুল ইসলাম তিন মাস কারাভোগ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি ফ্রন্টের হ্যাঁ/না নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। মরহুম মশিউর যাদুমিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ (ভাসানী) বিলুপ্ত হলে তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গঠনে ভূমিকা রাখেন। যশোর সদর নির্বাচনী এলাকা (যশোর-৩) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের জেলা আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৮২ সালের ৫ মার্চ তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি এরশাদ কর্তৃক কারারুদ্ধ হন এবং দীর্ঘ তিন মাস অজ্ঞাত স্থানে আটক থাকেন। অতঃপর তথাকথিত এরশাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকেন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

 

১৯৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর ১৯৯১ এর সংসদ নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তরিকুল ইসলাম সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯২ সালে ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী রোজা রাজুকে পরাজিত করে যশোর-৩ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপি’র মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হলে তিনি সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

 

যশোর উন্নয়নে অবদান:
তরিকুল ইসলামকে যশোরের উন্নয়নের রূপকার বলা হয়। যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও করোনারি কেয়ার ইউনিট, বিভাগীয় কাষ্টমস অফিস, বেনাপোল স্থল বন্দরসহ অনেক অর্জনের কৃতিত্বের দাবিদার তিনি।

 

সামাজিক কর্মকাণ্ড:
তরিকুল ইসলাম যশোর সরকারি সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সদস্য, যশোর ইনস্টিটিউটের সহকারী সম্পাদক, যশোরের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগরণী চক্র’- এর সভাপতি, কিংশুক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা ও যশোর ক্লাবের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে আধুনিকীকরণে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

দেশ ভ্রমণ:
তরিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত, দলীয়, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, গণচীন, উত্তর কোরিয়া, হংকং, ইটালী, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, ভুটান, সাউথ আফ্রিকা, সাইপ্রাস, ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েনা, আর্জেন্টিনা, সুইজারল্যান্ড ও কানাডাসহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেন এবং যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সফর করেন। তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited