ঝালকাঠি জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে আখ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকরা

Spread the love

এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি: আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খাবারের মধ্যে চিনি একটি অপরিহায্য পন্য। চিনি উৎপাদনের মুল কাচামাল হচ্ছে আখ। আখের ফলনের উপর চিনির উৎপাদন ও বাজার দর নির্ভর করে। বছর দক্ষিনাঞ্চলে আখের চাষ ভাল হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আখের ফলন ভাল হচ্ছে। তাই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে শুরু করেছে চাষীরা। আখ চাষে ফলন ভাল হওয়ায় অনেক চাষী আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আখ চাষে এঁটেল দো-আঁশ মাটি খুব ভাল। তাই এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষে উপযোগী হওয়ায় খুব বেশী খরচ ছাড়াই একটু পরিচর্যা করে ভাল ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকরা জানিয়েছে।

 

ঝালকাঠি কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, আধুনিক পদ্ধতিতে ভালো জাতের আখ চাষ করে ঝালকাঠিতে আখ চাষ করে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলার ১৭২ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এ বছর হলুদ রঙের আখ, চিবিয়ে খাওয়া আখ, টেনাই ও অমৃত জাতের আখের আবাদ করেছেন। সজ্জন পদ্ধতিতে আখের চাষ করায় কাদির মাঝখানে বিভিন্ন মৌসুমের শাক-সবজি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আশ্বিন মাসেই আখ চাষ করা হয়।

 

আখ চাষের পদ্ধতি, উৎপাদন ও বিপনন:
প্রথমে জমির মাটি এক ফুট গর্ত করতে হয়। গর্তের পাশে তিনফুট জায়গা রেখে মাটির সঙ্গে বিভিন্ন সার মিশিয়ে আখের চারা অর্থাৎ আখের মাথার অংশ রোপণ করা হয়। কিটনাশক সার ছাড়াই জৈব সার প্রয়োগ করে আখ চাড়া রোপন করার ৬ মাসের মধ্যে আখ বিক্রির উপযুক্ত হয়। আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। তবে তিনবার সেচের প্রয়োজন পড়ে। কম পরিশ্রমে ও অল্প ব্যয়ে বেশি সফলতা পাওয়ায় এখানে কৃষকরা আখ চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন। তবে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ঝালকাঠি জেলায় আখচাষিদের জন্য নেই কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নেই কোনো প্রকল্পও ।
আখ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এ বছর আখের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি তাঁর দুই একর জমিতে হলুদ বর্ণের গ্যান্ডারি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ১২ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করেছিলেন তিনি। পরে তা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

 

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝালকাঠির মাটির গুণগত মান খুবই ভালো। তাই সময়মতো আখের চারা রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হয়। বর্তমানে ধান ও অন্যান্য শাক-সবজির তুলনায় আখ চাষে খরচ কম হওয়ায় আখ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা। তবে ঝালকাঠিতে আখ চাষের ওপর কোনো প্রকল্প নেই। কৃষকরা শুধু পরামর্শটাই পায়। এ ছাড়া তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর কিছুই আসে না। যদি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বীজ ও সার দেওয়া যেত, তাহলে অনেক কৃষক অনেক উপকৃত হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বাউফলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

» আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই উৎপাদনে প্রথম ইউনিট।। ছয় হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ

» জঙ্গী দমনের মত মাদক নির্মূলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো

» ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের জার্সি পরা ওরা কারা?

» সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

» র‍্যাংকিংয়ে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ

» পাকিস্তানের বোলিং তোপে কোণঠাসা নিউজিল্যান্ড

» যশোরের বেনাপোল পুটখালী থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» শ্রমিকদের জন্য হাসপাতল, আবাসন, রেশনিং, শিক্ষা, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ন মৌলিক বিষয়ে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবীতে। মাননীয় স্পিকারের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

» উলাশীর নীলকুঠি পার্কে-বোমা হামলা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ১৫ লাখ টাকা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠি জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে আখ চাষে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

এস এম রেজাউল করিম, ঝালকাঠি: আমাদের নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় খাবারের মধ্যে চিনি একটি অপরিহায্য পন্য। চিনি উৎপাদনের মুল কাচামাল হচ্ছে আখ। আখের ফলনের উপর চিনির উৎপাদন ও বাজার দর নির্ভর করে। বছর দক্ষিনাঞ্চলে আখের চাষ ভাল হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে আখের ফলন ভাল হচ্ছে। তাই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে শুরু করেছে চাষীরা। আখ চাষে ফলন ভাল হওয়ায় অনেক চাষী আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আখ চাষে এঁটেল দো-আঁশ মাটি খুব ভাল। তাই এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষে উপযোগী হওয়ায় খুব বেশী খরচ ছাড়াই একটু পরিচর্যা করে ভাল ফলন পাওয়া যায় বলে কৃষকরা জানিয়েছে।

 

ঝালকাঠি কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায়, আধুনিক পদ্ধতিতে ভালো জাতের আখ চাষ করে ঝালকাঠিতে আখ চাষ করে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পেয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলার ১৭২ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এ বছর হলুদ রঙের আখ, চিবিয়ে খাওয়া আখ, টেনাই ও অমৃত জাতের আখের আবাদ করেছেন। সজ্জন পদ্ধতিতে আখের চাষ করায় কাদির মাঝখানে বিভিন্ন মৌসুমের শাক-সবজি চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আশ্বিন মাসেই আখ চাষ করা হয়।

 

আখ চাষের পদ্ধতি, উৎপাদন ও বিপনন:
প্রথমে জমির মাটি এক ফুট গর্ত করতে হয়। গর্তের পাশে তিনফুট জায়গা রেখে মাটির সঙ্গে বিভিন্ন সার মিশিয়ে আখের চারা অর্থাৎ আখের মাথার অংশ রোপণ করা হয়। কিটনাশক সার ছাড়াই জৈব সার প্রয়োগ করে আখ চাড়া রোপন করার ৬ মাসের মধ্যে আখ বিক্রির উপযুক্ত হয়। আখ চাষে সার ও কীটনাশক তেমন ব্যবহার করতে হয় না। তবে তিনবার সেচের প্রয়োজন পড়ে। কম পরিশ্রমে ও অল্প ব্যয়ে বেশি সফলতা পাওয়ায় এখানে কৃষকরা আখ চাষে বেশ আগ্রহী হচ্ছেন। তবে উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ঝালকাঠি জেলায় আখচাষিদের জন্য নেই কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং নেই কোনো প্রকল্পও ।
আখ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এ বছর আখের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি তাঁর দুই একর জমিতে হলুদ বর্ণের গ্যান্ডারি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ১২ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করেছিলেন তিনি। পরে তা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

 

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝালকাঠির মাটির গুণগত মান খুবই ভালো। তাই সময়মতো আখের চারা রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হয়। বর্তমানে ধান ও অন্যান্য শাক-সবজির তুলনায় আখ চাষে খরচ কম হওয়ায় আখ চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে কৃষকরা। তবে ঝালকাঠিতে আখ চাষের ওপর কোনো প্রকল্প নেই। কৃষকরা শুধু পরামর্শটাই পায়। এ ছাড়া তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর কিছুই আসে না। যদি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বীজ ও সার দেওয়া যেত, তাহলে অনেক কৃষক অনেক উপকৃত হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited