সোনারগাঁ থানার ওসি ও এসআইয়ের অপসারন হচ্ছে কি?

Spread the love

গত কয়েকদিন ধরে টক অব দ্যা নারায়নগঞ্জ হচ্ছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার করা চাঁদাবাজির মামলা। সোনারগাঁয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে, এমনকি পুরো দেশেই চলছে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ওসি ও এসআইয়ের অপসারন চেয়ে নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন মামলার বাদী যুবলীগ নেতা ও সাবেক এমপির এপিএস জাহিদুল ইসলাম স্বপন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, সোনারগাঁও থানা পুলিশ চারিত্রিক সনদের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে, সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোগরাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু পুলিশের তৈরিকৃত কাগজে স্বাক্ষর করেন নি।

 

জানা গেছে, পুলিশ তাদের পদ, পদবি ও ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। স্বাক্ষীদেরকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাই মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম স্বপন সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠ তদন্তের পরিবেশ এখনো পুলিশ প্রশাসন ঠিক করতে পারে নি। আমি ও স্বাক্ষীরা এলাকায় যেতে পারছি না। তাই ওসি ও এসআই সাধন বসাককে অপসারন না করলে তদন্ত সঠিক ও নিরপেক্ষ হবে না। তাই তিনি অতিদ্রুত দুই পুলিশ কর্মকর্তার অপসারন চান। ইতিমধ্যে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম ও এসআই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে আদালতে। একটি মামলা তদন্তের জন্য রয়েছে ও অন্য মামলায় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে আদালত।

 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : উপজেলার চৌদানা মৌজার দত্তপাড়া গ্রামের ১৭২ শতাংশ জমি বায়না করেন সাবেক এমপির এপিএস ও যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন। বায়নার পরে গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দত্তপাড়ার বাসায় উঠেন তিনি। পরে ভূমিদস্যু মোস্তফা কামাল স্বপনকে বাড়ী থেকে বের করতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহন। স্বপন বাড়ীতে উঠার পরদিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর এস.আই আপন বাড়ী থেকে স্বপনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে দিনের বেলায় এমন কর্মকান্ড বিতর্কিত হবে পুলিশ তাই আবার কাগজ-পত্র নিয়ে আসতে বলে ছেড়ে দেয় স্বপনকে।

 

রয়েল রিসোর্টে আলোচনা: চলতি মাসের ৭ তারিখ বিকেলে মোস্তফা কামাল, অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম, এস.আই সাধন বসাকসহ পুলিশ সদস্যরা এবং কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত থেকে স্বপনকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। আর অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম এর সাথে দেড় কোটি টাকায় রফাদফা হয়। যার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা নগদে গ্রহন করে রাত ১০টার মধ্যে বাড়ী ছাড়তে নির্দেশ দেয় মোরশেদ আলম পিপিএম, এমনই জানালেন জাহিদুল ইসলাম স্বপন।

 

ঘটনার রাতে কি ঘটেছিলো:

গত ৮ অক্টোবর রাত ২.৩০ মিনিটে স্বপনকে থানায় আটকে রেখে মারধরের ঘটনার একটি অডিও ক্লীপ পাওয়া গগেছে। ১৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে স্বপন ও তার দুই আত্মীয়কে বাড়ি থেকে ধরে নেওয়া, ওসির সঙ্গে মোবাইল ফোনে এসআই সাধনের কথা বলা ও দিকনির্দেশনা নেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এ সময় স্বপনকে আটকের পর তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে যেতে বলে ওসি। এ ছাড়া থানায় নিয়ে স্বপন ও আত্মীয়দের নাম-ঠিকানা রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে স্বপনকে একটি কক্ষে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করা হয়। এ সময় স্বপনকে উদ্দেশ করে ওসি মোরশেদকে বলতে শোনা যায়, ‘তোকে এখন কোন বাপ বাঁচাবে?’ এসআই সাধন বলেন, স্বপনকে দেওয়া ওই জমির পাওয়ার ছুটিয়ে দেওয়া হবে। এ কথা বলে ওসি ও এসআইকে হাসাহাসি করতে শোনা যায়। পরে এসআই সাধন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে হাত সোজা করতে বলেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি দেওয়ার শব্দ শোনা যায়। এ সময় স্বপনকে ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। পরে স্বপনের আত্মীয় আনিছুরকে ওই কক্ষ থেকে বের করে থানার জেলখানায় ঢোকানো হয়। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে বলে একজন কনস্টেবল পুলিশের এক কর্মকর্তাকে বলেন। ওই কর্মকর্তা তাকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসার জন্য বলেন। ওই সময় পর্যন্ত থানার ভেতরে যা ঘটেছে সবই অডিও রেকর্ডে রয়েছে।

 

পুলিশকে আসামী করে মামলা:

চলতি মাসের ১১ তারিখ অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম ও এসআই সাধনের বিরুদ্ধে মামলা করে জাহিদুল ইসলাম স্বপন। পিটিশন নং ২০৫/১৮. মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত ৬টি সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার, নারায়নগঞ্জকে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপারের নীচে হবে না। আদালত তার আদেশে বলে, বাদীর মাথায় পিস্তল ঠিকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর।

 

সোনারগাঁ থানার ওসি ও এসআইয়ের অপসারন চেয়ে সংবাদ সম্মেলন:

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এস আই সাধন বসাকের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। তাদের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর থেকে ওসি ও এসআই মামলা তুলে নিতে বারবার হুমকি দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক স্বপদে বহাল থাকলে তদন্ত কাজে প্রভাবিত করবে। এজন্য তিনি দুই জনের অপসারণ দাবি করেন। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব শহীদ হানিফ খান মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন পুলিশের নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জমির মালিক মাছুম চৌধুরী এবং আনিছুর রহমান।

 

জাহিদুল ইসলাম স্বপনের বক্তব্য:

তিনি বলেন, উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় প্রায় আট কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জমি নিয়ে এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। ওসি মোরশেদ ও এসআই সাধন ওই শিল্প মালিকের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ৭ অক্টোবর রাতে বিরোধপূর্ণ জমির বাড়ি থেকে তাকে এবং আনিছুর রহমানসহ তার দুই আত্মীয়কে থানায় নিয়ে যান। পরে থানায় আটকে রেখে ওই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় স্বপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

পুলিশের বক্তব্য:

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা জারি ছিলো। রাতে বিরোধপূর্ন জমিতে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করছিলো। পুলিশ গেলে মাছুম চৌধুরী পালিয়ে যায়। তখন স্বপন পালাতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পায়।

 

ডাক্তারের বক্তব্য:

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হ্যাপী দাস চিকিৎসা করেন স্বপনকে। তিনি রেজিস্ট্রারে মারধর করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে পায়ে কোন আঘাতের কথা তিনি লিখেন নি। খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার জানায়, স্বপনের হাতে ও শরীরে মারের দাগ রয়েছে। তবে পায়ে কোন আঘাতের চিহৃ নেই। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেন নি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের পৃথক কয়েকটি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী-১,ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-২

» বেনাপোলের আমড়া খালি এলাকা থেকে ৪১ টি সোনার বার সহ আটক-৪

» গাইবান্ধায় বিলের পাড়ে হাত পা বাধা অবস্থায় এক নারী উদ্ধার

» পুলিশ যা জানালো ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পর

» রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মত বিনিময় সভা

» ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার: নুসরাতের বাবা-মায়ের নামাজ আদায়

» বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

» ছাত্রদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে যা করতেন শিক্ষিকা!

» ছেলে থাকেন দালানে, মায়ের জায়গা ঝুপড়িতে

» সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন চাইলে যে ব্যবস্থা নিবেন ব্যারিস্টার সুমন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁ থানার ওসি ও এসআইয়ের অপসারন হচ্ছে কি?

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

গত কয়েকদিন ধরে টক অব দ্যা নারায়নগঞ্জ হচ্ছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার করা চাঁদাবাজির মামলা। সোনারগাঁয়ের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে, এমনকি পুরো দেশেই চলছে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ওসি ও এসআইয়ের অপসারন চেয়ে নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন মামলার বাদী যুবলীগ নেতা ও সাবেক এমপির এপিএস জাহিদুল ইসলাম স্বপন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, সোনারগাঁও থানা পুলিশ চারিত্রিক সনদের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর নিয়েছে। তবে, সাদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা ও মোগরাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু পুলিশের তৈরিকৃত কাগজে স্বাক্ষর করেন নি।

 

জানা গেছে, পুলিশ তাদের পদ, পদবি ও ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। স্বাক্ষীদেরকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাই মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম স্বপন সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠ তদন্তের পরিবেশ এখনো পুলিশ প্রশাসন ঠিক করতে পারে নি। আমি ও স্বাক্ষীরা এলাকায় যেতে পারছি না। তাই ওসি ও এসআই সাধন বসাককে অপসারন না করলে তদন্ত সঠিক ও নিরপেক্ষ হবে না। তাই তিনি অতিদ্রুত দুই পুলিশ কর্মকর্তার অপসারন চান। ইতিমধ্যে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম ও এসআই সাধন বসাকের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে আদালতে। একটি মামলা তদন্তের জন্য রয়েছে ও অন্য মামলায় এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে আদালত।

 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত : উপজেলার চৌদানা মৌজার দত্তপাড়া গ্রামের ১৭২ শতাংশ জমি বায়না করেন সাবেক এমপির এপিএস ও যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপন। বায়নার পরে গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ তারিখে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দত্তপাড়ার বাসায় উঠেন তিনি। পরে ভূমিদস্যু মোস্তফা কামাল স্বপনকে বাড়ী থেকে বের করতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহন। স্বপন বাড়ীতে উঠার পরদিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর এস.আই আপন বাড়ী থেকে স্বপনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু প্রকাশ্যে দিনের বেলায় এমন কর্মকান্ড বিতর্কিত হবে পুলিশ তাই আবার কাগজ-পত্র নিয়ে আসতে বলে ছেড়ে দেয় স্বপনকে।

 

রয়েল রিসোর্টে আলোচনা: চলতি মাসের ৭ তারিখ বিকেলে মোস্তফা কামাল, অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম, এস.আই সাধন বসাকসহ পুলিশ সদস্যরা এবং কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত থেকে স্বপনকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। আর অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম এর সাথে দেড় কোটি টাকায় রফাদফা হয়। যার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা নগদে গ্রহন করে রাত ১০টার মধ্যে বাড়ী ছাড়তে নির্দেশ দেয় মোরশেদ আলম পিপিএম, এমনই জানালেন জাহিদুল ইসলাম স্বপন।

 

ঘটনার রাতে কি ঘটেছিলো:

গত ৮ অক্টোবর রাত ২.৩০ মিনিটে স্বপনকে থানায় আটকে রেখে মারধরের ঘটনার একটি অডিও ক্লীপ পাওয়া গগেছে। ১৮ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে স্বপন ও তার দুই আত্মীয়কে বাড়ি থেকে ধরে নেওয়া, ওসির সঙ্গে মোবাইল ফোনে এসআই সাধনের কথা বলা ও দিকনির্দেশনা নেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এ সময় স্বপনকে আটকের পর তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে যেতে বলে ওসি। এ ছাড়া থানায় নিয়ে স্বপন ও আত্মীয়দের নাম-ঠিকানা রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়। পরে স্বপনকে একটি কক্ষে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করা হয়। এ সময় স্বপনকে উদ্দেশ করে ওসি মোরশেদকে বলতে শোনা যায়, ‘তোকে এখন কোন বাপ বাঁচাবে?’ এসআই সাধন বলেন, স্বপনকে দেওয়া ওই জমির পাওয়ার ছুটিয়ে দেওয়া হবে। এ কথা বলে ওসি ও এসআইকে হাসাহাসি করতে শোনা যায়। পরে এসআই সাধন ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে হাত সোজা করতে বলেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি দেওয়ার শব্দ শোনা যায়। এ সময় স্বপনকে ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। পরে স্বপনের আত্মীয় আনিছুরকে ওই কক্ষ থেকে বের করে থানার জেলখানায় ঢোকানো হয়। এ সময় তার শরীর তল্লাশি করে মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে বলে একজন কনস্টেবল পুলিশের এক কর্মকর্তাকে বলেন। ওই কর্মকর্তা তাকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসার জন্য বলেন। ওই সময় পর্যন্ত থানার ভেতরে যা ঘটেছে সবই অডিও রেকর্ডে রয়েছে।

 

পুলিশকে আসামী করে মামলা:

চলতি মাসের ১১ তারিখ অভিযুক্ত সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম ও এসআই সাধনের বিরুদ্ধে মামলা করে জাহিদুল ইসলাম স্বপন। পিটিশন নং ২০৫/১৮. মামলাটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্ত ৬টি সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার, নারায়নগঞ্জকে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপারের নীচে হবে না। আদালত তার আদেশে বলে, বাদীর মাথায় পিস্তল ঠিকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর।

 

সোনারগাঁ থানার ওসি ও এসআইয়ের অপসারন চেয়ে সংবাদ সম্মেলন:

সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম ও এস আই সাধন বসাকের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম। তাদের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর থেকে ওসি ও এসআই মামলা তুলে নিতে বারবার হুমকি দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওসি মোরশেদ আলম ও এসআই সাধন বসাক স্বপদে বহাল থাকলে তদন্ত কাজে প্রভাবিত করবে। এজন্য তিনি দুই জনের অপসারণ দাবি করেন। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব শহীদ হানিফ খান মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন পুলিশের নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম স্বপন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জমির মালিক মাছুম চৌধুরী এবং আনিছুর রহমান।

 

জাহিদুল ইসলাম স্বপনের বক্তব্য:

তিনি বলেন, উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় প্রায় আট কোটি টাকা মূল্যের দেড় একর জমি নিয়ে এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। ওসি মোরশেদ ও এসআই সাধন ওই শিল্প মালিকের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ৭ অক্টোবর রাতে বিরোধপূর্ণ জমির বাড়ি থেকে তাকে এবং আনিছুর রহমানসহ তার দুই আত্মীয়কে থানায় নিয়ে যান। পরে থানায় আটকে রেখে ওই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় স্বপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

পুলিশের বক্তব্য:

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মোরশেদ আলম পিপিএম বলেন, আদালতের ১৪৪ ধারা জারি ছিলো। রাতে বিরোধপূর্ন জমিতে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করছিলো। পুলিশ গেলে মাছুম চৌধুরী পালিয়ে যায়। তখন স্বপন পালাতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পায়।

 

ডাক্তারের বক্তব্য:

সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হ্যাপী দাস চিকিৎসা করেন স্বপনকে। তিনি রেজিস্ট্রারে মারধর করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে পায়ে কোন আঘাতের কথা তিনি লিখেন নি। খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার জানায়, স্বপনের হাতে ও শরীরে মারের দাগ রয়েছে। তবে পায়ে কোন আঘাতের চিহৃ নেই। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ)’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেন নি।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited