কুয়াকাটার দুই জেলেকে প্রতিহিংসামূলক চোর সাজানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Spread the love

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: কুয়াকাটার দুই জেলেকে প্রতিহিংসামূলক চোর সাজানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমাজে হেয়পতিপন্ন করার লক্ষে চোর সাজানোর ফলে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। রবিবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি জেলে মো. সরোয়ার গাজী ও নজরুল ইসলাম শরীফ লিখিত বক্তব্যে এমনটাই দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি দুই জেলে জানান, মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক রাজা মোল্লার নির্দেশে গত ৫ আগষ্ট রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের খুরমাতলা এলাকায় অপর জেলে মামুন ঘরামীকে আনতে যায়। জেলে মামুন ঘরামীসহ তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ কাজী, ছলেমান গাজী, রুহুল আমিন মোল্লা তাদের তিন জেলেকে চোর সন্দেহে মারধর করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাগর মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যায়। সাগর মোল্লা পূর্ব প্রতিহিংসার জের ধরে জেলে মো. সরোয়ার গাজী ও নজরুল ইসলাম শরীফকে মারধর করে পুলিশে দেয় এবং মামুন ঘরামীকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের আদালতে প্রেরণ করেন। লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, মামুন ঘরামী কাউন্সিলর সাগর মোল্লার অনুসারী বিধায় তাকে ছেড়ে দেয় এবং সরোয়ার গাজী তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনুসারী হওয়ায় উদ্দেশ্যমূলক পুলিশে দেয়। জেলে নজরুল ইসলাম শরীফের সাথে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ গাজীর ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে চোর সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। তারা আরও বলেন, চোর প্রমাণ না হলেও সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে মান সম্মানের হানী ঘটায়।

 

এসময় জেলে নজরুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমার ছেলে মনির শরীফ কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। মনির শরীফ এ ঘটনার পর থেকে মাদ্রায়ার যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমি চোর না হয়েও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার ছেলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই। অপর জেলে সরোয়ার গাজী বলেন, এ ঘটনার পর থেকে তার ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্কুলে গেলে তারা সহপাঠিদের দ্বারা বঞ্চনার শিকার হয়। এ বিষয়ে ট্রলার মালিক রাজা মোল্লা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ওই দুই জেলে দীর্ঘ বছর তার ট্রলারে সমুদ্রে মাছ শিকার করে আসছে।

 

তিনি দাদন টাকা দিয়ে মামুন ঘরামীকে আনতে পাঠিয়েছিলেন। তারা চোর না পরিস্থিতির শিকার। এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর সাগর মোল্লা বলেন, স্থানীয় লোকজন তাদেরকে চোর সন্দেহ করে আমার কাছে বাসায় নিসে আসেন। আমি কোন অভিভাবক না পেয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। মামুন ঘরামী বাসার ফেরার পথে ওদের সাথে দেখা হয় বিধায় তাকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, ওই দুই জেলেকে চোর সন্দেহে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। আসলে ওরা চোর না, পরিস্থিতির শিকার।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের পৃথক কয়েকটি অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামী-১,ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-২

» বেনাপোলের আমড়া খালি এলাকা থেকে ৪১ টি সোনার বার সহ আটক-৪

» গাইবান্ধায় বিলের পাড়ে হাত পা বাধা অবস্থায় এক নারী উদ্ধার

» পুলিশ যা জানালো ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পর

» রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের মত বিনিময় সভা

» ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার: নুসরাতের বাবা-মায়ের নামাজ আদায়

» বাজেট ইতিবাচক, আরো ৫৬৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা চায় বিজিএমইএ

» ছাত্রদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে যা করতেন শিক্ষিকা!

» ছেলে থাকেন দালানে, মায়ের জায়গা ঝুপড়িতে

» সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন চাইলে যে ব্যবস্থা নিবেন ব্যারিস্টার সুমন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটার দুই জেলেকে প্রতিহিংসামূলক চোর সাজানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: কুয়াকাটার দুই জেলেকে প্রতিহিংসামূলক চোর সাজানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সমাজে হেয়পতিপন্ন করার লক্ষে চোর সাজানোর ফলে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। রবিবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি জেলে মো. সরোয়ার গাজী ও নজরুল ইসলাম শরীফ লিখিত বক্তব্যে এমনটাই দাবি করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি দুই জেলে জানান, মৎস্য বন্দর আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক রাজা মোল্লার নির্দেশে গত ৫ আগষ্ট রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের খুরমাতলা এলাকায় অপর জেলে মামুন ঘরামীকে আনতে যায়। জেলে মামুন ঘরামীসহ তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ কাজী, ছলেমান গাজী, রুহুল আমিন মোল্লা তাদের তিন জেলেকে চোর সন্দেহে মারধর করেন। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাগর মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যায়। সাগর মোল্লা পূর্ব প্রতিহিংসার জের ধরে জেলে মো. সরোয়ার গাজী ও নজরুল ইসলাম শরীফকে মারধর করে পুলিশে দেয় এবং মামুন ঘরামীকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের আদালতে প্রেরণ করেন। লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন, মামুন ঘরামী কাউন্সিলর সাগর মোল্লার অনুসারী বিধায় তাকে ছেড়ে দেয় এবং সরোয়ার গাজী তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনুসারী হওয়ায় উদ্দেশ্যমূলক পুলিশে দেয়। জেলে নজরুল ইসলাম শরীফের সাথে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ গাজীর ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে চোর সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। তারা আরও বলেন, চোর প্রমাণ না হলেও সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে মান সম্মানের হানী ঘটায়।

 

এসময় জেলে নজরুল ইসলাম শরীফ বলেন, আমার ছেলে মনির শরীফ কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। মনির শরীফ এ ঘটনার পর থেকে মাদ্রায়ার যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমি চোর না হয়েও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমার ছেলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই। অপর জেলে সরোয়ার গাজী বলেন, এ ঘটনার পর থেকে তার ছেলে-মেয়েরাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। স্কুলে গেলে তারা সহপাঠিদের দ্বারা বঞ্চনার শিকার হয়। এ বিষয়ে ট্রলার মালিক রাজা মোল্লা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ওই দুই জেলে দীর্ঘ বছর তার ট্রলারে সমুদ্রে মাছ শিকার করে আসছে।

 

তিনি দাদন টাকা দিয়ে মামুন ঘরামীকে আনতে পাঠিয়েছিলেন। তারা চোর না পরিস্থিতির শিকার। এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর সাগর মোল্লা বলেন, স্থানীয় লোকজন তাদেরকে চোর সন্দেহ করে আমার কাছে বাসায় নিসে আসেন। আমি কোন অভিভাবক না পেয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি। মামুন ঘরামী বাসার ফেরার পথে ওদের সাথে দেখা হয় বিধায় তাকে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছি। কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, ওই দুই জেলেকে চোর সন্দেহে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। আসলে ওরা চোর না, পরিস্থিতির শিকার।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited