কথিত সাংবাদিক মুন্নার নির্যাতনে ঘর ছাড়া স্ত্রী-সন্তান” ভিডিও সহ

Spread the love

নিউজ ডেস্ক: নারী-শিশু নির্যাতন রোধে সাংবাদিকদের কলম সদা বলিয়ান থাকলেও এবার স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার ‘বড়’ সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মামুনুর রশিদ মুন্নার বিরুদ্ধে। স্ত্রীর সাথে সাংবাদিকতার দাম্ভিকতা জাহির করে টানা তিন বছর যাবত যৌতুকের দাবীতে নির্মমভাবে নির্যাতন চলিয়ে যাচ্ছে ওই সাংবাদিক পরিচয় দানকারী। শুধু নির্যাতনই নয়, ফেইসবুকে একাধীক নারীর সাথেও অন্তরঙ্গ আলাপচারীতা ও পরকীয়া প্রেমেও মজেছেন নারীলোভী মুন্না। ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে তার ওই আলাপচারীতার একাধিক স্ক্রিনশটও পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ করেছেন মুন্নার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৗস। নিরুপায় হয়ে ফতুল্লা মডেল থানা ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

জানা গেছে, বিগত ১মাস যাবত মাত্র আড়াই বছরের শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে অভিযুক্ত মুন্না। অসহায় হয়ে হতভাগা সন্তান নিয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বরাবরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সে। তবে, এখানেও পদে পদে মুন্নার হুমকির শিকার হচ্ছেন তিনি। ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগের তদন্ত দেয়া হয়েছে এএসআই এজাজুল হককে। মুন্নার স্ত্রীর ভাষ্য মতে, বিগত ৬ বছর পুর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় ০৩ বছর বেকার জীবন যাপন করেছিল মুন্না। তখন বেকার থাকলেও সংসার শুখের ছিল বলেই জানিয়েছেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। তবে, কোন এক মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পরই যেন খোলস থেকে বের হয় সে। সাংবাদিকতার দাম্ভিকতা দেখিয়ে শুরু হয় স্ত্রীর উপর নির্যাতন। যৌতুকের দাবীতে মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলাও দায়ের করেছিল স্ত্রী জান্নাতুল। পরে পারিবারিক ভাবে আপোষ মিমাংশার মাধ্যমে মামলা তুলে নেয়া হয়। কিন্তু মামলা তুলে নিলেও একই ভাবে নির্যাতন বহাল রাখে মুন্না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল মুন্না। শুধু মুন্নাই নয়, তার পিতা দুলাল হাওলাদারও ছিল একজন মাদক ব্যবসায়ী! পেশায় বর্তমানে রিক্সা চালক হলেও আড়ালে মাদকের স্বর্গরাজ্য কায়েমের লক্ষই ছিল এই পিতা-পুত্র’দ্বয়ের। এমন তথ্যও পাওয়া গেছে খোদ মুন্নার স্ত্রীর কাছ থেকেই। জানা গেছে, শুরুতে মাদরাসায় পড়া-শুনা করতো মুন্না। তখন টুক-টাক তাবিজ-কবজের কারবার করতো। তাবিজের দরুন একাধিক ব্যক্তিদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। সেই থেকে এলাকায় তাবিজ মুন্না নামে খ্যাতি লাভ করে সে। এছাড়ও, সাংবাদিকতার পরিচয় দেয়ার পূর্বে কুতুবপুর এলাকার এক হকারের কাছ থেকে পত্রিকা বিক্রয়ের সমস্ত টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছিল মুন্না। এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় বেশ সমালোচনার মুখে পরে কথিত ওই সাংবাদিক।

 

বিগত প্রায় ০২ বছর পূর্বে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে পাগলার তালতলা এলাকায় একটি জুয়ার আসর থেকে চাঁদা ও মাসোহারা আদায় করতে গেলে জুয়ারীদেরই তোপের মুখে পরে মারধরের শিকার হয় মুন্না। এরপর মিমাংশার মাধ্যমে নতুন ডিজিটাল ক্যামেড়া ‘উপহার’ লাভ করে জুয়ারীদের কাছ থেকে। সঙ্গে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে সে। এরপর নিয়মিতই জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায় করে আসছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও পাগলার নয়ামাটি, নন্দলালপুর, চিতাশাল, বৌবাজার, রসূলপুর, নূরবাগ, দেলপাড়া ও ভূইঘড় সহ গোটা কুতুবপুর এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে মাসোহারা আদায় করছে মুন্না। এসব অপকর্মের হোতা হয়েও নিজেকে ‘বড়’ সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে থাকে সে। অথচ দেখা গেছে, সংবাদ লেখাতো দুরের কথা একটি ছবির ক্যাপশন লেখারও যোগ্যতা নেই এই মুন্নার ! সেই সাথে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

এবিষয়ে মুন্নার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ‘আমার সাথে বিয়ের পর থেকে মুন্না ও তার বাবা মাদক ব্যবসা করতো। তার বাবা রিক্সা চালানোর পাশাপাশি কৌশলে মাদক ব্যবসা করতো। মুন্না বর্তমানে সাংবাদিকতা করলেও সে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছে। তার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সক্ষতা রয়েছে। বাসায় থাকাবস্থায় তার মোবাইলে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যরাও ফোন করতো। আমি তার এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে সে ওই সব পুলিশের ফোন কল দেখিয়ে আমাকে সহ আমার আত্মীয়-স্বজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিত। আমি মুন্নার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে রাতের আঁধারে মুন্নাসহ তার বাবা দুলাল হাওলাদার ও মা সবাই মিলে ঘরের দরজা আটকে দিয়া আমাকে মারধর করত। বেশ কয়েকবার খুন করতে চেষ্টাও চালিয়েছিল তারা। গত ঈদের (ঈদুল ফিতর- ১৮) পূর্বে মুন্না আমাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে ছিল। গত ১মাস ধরে আমাকে সন্তান সহ বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আমি আমার শিশু সন্তান নিয়ে বাবার বাসায় মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছি। সে আমাদের খোজ-খবর নেয় না। ভরপ পোষন দেয় না। উল্টো বিভিন্ন মেয়েদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়েছে।’

 

মুন্নার স্ত্রী আরো বলেন, আমাদের ভরন পোষন না দিলেও কয়েকদিন পুর্বে একটি মটর সাইকেল কিনে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুন্না এতো টাকা পেল কই? এমন প্রশ্ন কুতুবপুর এলাকার একাধিক বাসীন্দাদেরও। শুধু তাই নয়,‘সাংবাদিকতার পরিচয়ে বিভিন্ন ভাবে নিরিহ মানুষদের জিম্মি করে আসছে মুন্না। এসব কারণে শাহীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যর জুতো পিটার শিকার হতে হয়েছে মুন্নাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুন্না তার বাবার চালিত রিক্সায় চরে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করতেন। কিন্তু মানুষের কাছে সে তার পিতার পরিচয় গোপনই রেখেছিল। এমনটি নিজের বাবার পরিচয় লুকিয়ে তাকে পার্সনাল রিক্সা ড্রাইভার হিসিবে পরিচয় দিত। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে মুন্নার ভাষ্য ছিল, “অন্য রিক্সাচালককেও ভাড়া দিতে হতো, তাই আমার বাবাকেও রিক্সা ভাড়ার টাকা দিয়ে দেই।”

 

মুন্নার স্ত্রী জানান, আমার স্বামী তার বাবার রিক্সায় চলাফেরা করা সহ রাত্র গভীর হলে তারা বাবা-ছেলে রিক্সা নিয়ে কোথাও বের হত। আবার ভোর রাত্রে বাসায় ফিরত। আমার ধারণা, তারা বাবা ছেলে এখনও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এত শত অভিযোগের বোঝা কাঁধে নিয়েও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে গোটা কুতুবপুর চষে বেড়াচ্ছেন মুন্না। তবে, দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মুন্না তার পত্রিকার সাংবাদিক নয় বলে এই প্রতিবেদকে তিনি জানান। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এধরনের লোক সাংবাদিকতার পেশায় জড়িত হয়ে গোটা সাংবাদিক সমাজকেই কলঙ্কিত করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রকৃত সাংবাদিকদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কথিত ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর বলা সকল অপকর্মের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড এবং ফেইসবুকের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে পাঠদান

» কলাপাড়ায় গাঁজা সহ ব্যবসায়ী আটক

» এবার হাসপাতালে যাওয়ার পথে নার্সকে কুপিয়ে হত্যা

» গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

» খুনির সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির ‘সম্পর্কের তথ্য’ ফাঁস

» দশমিনা-উলানিয়া সড়কের কারপিটিংপিচ উঠে খানা খন্দের সৃষ্টি

» দশমিনায় চাঁই ব্যবহারের ফলে: গল্পেরমত থেকে যাবে দেশী প্রজাতির মাছ

» কলাপাড়ায় গৃহবধু হত্যা মামলায় শ্বশুড় গ্রেফতার

» সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোলের প্রচার সম্পাদক রাসেলের উপর প্রাননাশের হুমকিতে থানায় জিডি

» কেরোসিনের চুলা বিস্ফোরণে তিন ছাত্রী দগ্ধ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কথিত সাংবাদিক মুন্নার নির্যাতনে ঘর ছাড়া স্ত্রী-সন্তান” ভিডিও সহ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

নিউজ ডেস্ক: নারী-শিশু নির্যাতন রোধে সাংবাদিকদের কলম সদা বলিয়ান থাকলেও এবার স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ফতুল্লার ‘বড়’ সাংবাদিক পরিচয় দানকারী মামুনুর রশিদ মুন্নার বিরুদ্ধে। স্ত্রীর সাথে সাংবাদিকতার দাম্ভিকতা জাহির করে টানা তিন বছর যাবত যৌতুকের দাবীতে নির্মমভাবে নির্যাতন চলিয়ে যাচ্ছে ওই সাংবাদিক পরিচয় দানকারী। শুধু নির্যাতনই নয়, ফেইসবুকে একাধীক নারীর সাথেও অন্তরঙ্গ আলাপচারীতা ও পরকীয়া প্রেমেও মজেছেন নারীলোভী মুন্না। ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে তার ওই আলাপচারীতার একাধিক স্ক্রিনশটও পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ করেছেন মুন্নার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৗস। নিরুপায় হয়ে ফতুল্লা মডেল থানা ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।

জানা গেছে, বিগত ১মাস যাবত মাত্র আড়াই বছরের শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে অভিযুক্ত মুন্না। অসহায় হয়ে হতভাগা সন্তান নিয়ে থানা পুলিশসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারস্থ হচ্ছেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক বরাবরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সে। তবে, এখানেও পদে পদে মুন্নার হুমকির শিকার হচ্ছেন তিনি। ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগের তদন্ত দেয়া হয়েছে এএসআই এজাজুল হককে। মুন্নার স্ত্রীর ভাষ্য মতে, বিগত ৬ বছর পুর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় ০৩ বছর বেকার জীবন যাপন করেছিল মুন্না। তখন বেকার থাকলেও সংসার শুখের ছিল বলেই জানিয়েছেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। তবে, কোন এক মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার পরই যেন খোলস থেকে বের হয় সে। সাংবাদিকতার দাম্ভিকতা দেখিয়ে শুরু হয় স্ত্রীর উপর নির্যাতন। যৌতুকের দাবীতে মারধরের অভিযোগে আদালতে মামলাও দায়ের করেছিল স্ত্রী জান্নাতুল। পরে পারিবারিক ভাবে আপোষ মিমাংশার মাধ্যমে মামলা তুলে নেয়া হয়। কিন্তু মামলা তুলে নিলেও একই ভাবে নির্যাতন বহাল রাখে মুন্না।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার আগে থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল মুন্না। শুধু মুন্নাই নয়, তার পিতা দুলাল হাওলাদারও ছিল একজন মাদক ব্যবসায়ী! পেশায় বর্তমানে রিক্সা চালক হলেও আড়ালে মাদকের স্বর্গরাজ্য কায়েমের লক্ষই ছিল এই পিতা-পুত্র’দ্বয়ের। এমন তথ্যও পাওয়া গেছে খোদ মুন্নার স্ত্রীর কাছ থেকেই। জানা গেছে, শুরুতে মাদরাসায় পড়া-শুনা করতো মুন্না। তখন টুক-টাক তাবিজ-কবজের কারবার করতো। তাবিজের দরুন একাধিক ব্যক্তিদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। সেই থেকে এলাকায় তাবিজ মুন্না নামে খ্যাতি লাভ করে সে। এছাড়ও, সাংবাদিকতার পরিচয় দেয়ার পূর্বে কুতুবপুর এলাকার এক হকারের কাছ থেকে পত্রিকা বিক্রয়ের সমস্ত টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছিল মুন্না। এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় বেশ সমালোচনার মুখে পরে কথিত ওই সাংবাদিক।

 

বিগত প্রায় ০২ বছর পূর্বে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে পাগলার তালতলা এলাকায় একটি জুয়ার আসর থেকে চাঁদা ও মাসোহারা আদায় করতে গেলে জুয়ারীদেরই তোপের মুখে পরে মারধরের শিকার হয় মুন্না। এরপর মিমাংশার মাধ্যমে নতুন ডিজিটাল ক্যামেড়া ‘উপহার’ লাভ করে জুয়ারীদের কাছ থেকে। সঙ্গে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে সে। এরপর নিয়মিতই জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায় করে আসছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও পাগলার নয়ামাটি, নন্দলালপুর, চিতাশাল, বৌবাজার, রসূলপুর, নূরবাগ, দেলপাড়া ও ভূইঘড় সহ গোটা কুতুবপুর এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে মাসোহারা আদায় করছে মুন্না। এসব অপকর্মের হোতা হয়েও নিজেকে ‘বড়’ সাংবাদিক হিসেবে জাহির করে থাকে সে। অথচ দেখা গেছে, সংবাদ লেখাতো দুরের কথা একটি ছবির ক্যাপশন লেখারও যোগ্যতা নেই এই মুন্নার ! সেই সাথে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

 

এবিষয়ে মুন্নার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ‘আমার সাথে বিয়ের পর থেকে মুন্না ও তার বাবা মাদক ব্যবসা করতো। তার বাবা রিক্সা চালানোর পাশাপাশি কৌশলে মাদক ব্যবসা করতো। মুন্না বর্তমানে সাংবাদিকতা করলেও সে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছে। তার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সক্ষতা রয়েছে। বাসায় থাকাবস্থায় তার মোবাইলে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যরাও ফোন করতো। আমি তার এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে সে ওই সব পুলিশের ফোন কল দেখিয়ে আমাকে সহ আমার আত্মীয়-স্বজনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিত। আমি মুন্নার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে রাতের আঁধারে মুন্নাসহ তার বাবা দুলাল হাওলাদার ও মা সবাই মিলে ঘরের দরজা আটকে দিয়া আমাকে মারধর করত। বেশ কয়েকবার খুন করতে চেষ্টাও চালিয়েছিল তারা। গত ঈদের (ঈদুল ফিতর- ১৮) পূর্বে মুন্না আমাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়ে ছিল। গত ১মাস ধরে আমাকে সন্তান সহ বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আমি আমার শিশু সন্তান নিয়ে বাবার বাসায় মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছি। সে আমাদের খোজ-খবর নেয় না। ভরপ পোষন দেয় না। উল্টো বিভিন্ন মেয়েদের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়েছে।’

 

মুন্নার স্ত্রী আরো বলেন, আমাদের ভরন পোষন না দিলেও কয়েকদিন পুর্বে একটি মটর সাইকেল কিনে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। মুন্না এতো টাকা পেল কই? এমন প্রশ্ন কুতুবপুর এলাকার একাধিক বাসীন্দাদেরও। শুধু তাই নয়,‘সাংবাদিকতার পরিচয়ে বিভিন্ন ভাবে নিরিহ মানুষদের জিম্মি করে আসছে মুন্না। এসব কারণে শাহীবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যর জুতো পিটার শিকার হতে হয়েছে মুন্নাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মুন্না তার বাবার চালিত রিক্সায় চরে বিভিন্ন জায়গায় চলাফেরা করতেন। কিন্তু মানুষের কাছে সে তার পিতার পরিচয় গোপনই রেখেছিল। এমনটি নিজের বাবার পরিচয় লুকিয়ে তাকে পার্সনাল রিক্সা ড্রাইভার হিসিবে পরিচয় দিত। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে মুন্নার ভাষ্য ছিল, “অন্য রিক্সাচালককেও ভাড়া দিতে হতো, তাই আমার বাবাকেও রিক্সা ভাড়ার টাকা দিয়ে দেই।”

 

মুন্নার স্ত্রী জানান, আমার স্বামী তার বাবার রিক্সায় চলাফেরা করা সহ রাত্র গভীর হলে তারা বাবা-ছেলে রিক্সা নিয়ে কোথাও বের হত। আবার ভোর রাত্রে বাসায় ফিরত। আমার ধারণা, তারা বাবা ছেলে এখনও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এত শত অভিযোগের বোঝা কাঁধে নিয়েও নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে গোটা কুতুবপুর চষে বেড়াচ্ছেন মুন্না। তবে, দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে মুন্না তার পত্রিকার সাংবাদিক নয় বলে এই প্রতিবেদকে তিনি জানান। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এধরনের লোক সাংবাদিকতার পেশায় জড়িত হয়ে গোটা সাংবাদিক সমাজকেই কলঙ্কিত করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রকৃত সাংবাদিকদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কথিত ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর বলা সকল অপকর্মের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড এবং ফেইসবুকের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited