বিশেষ ওষুধ সেবন করিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের পাকস্থলী থেকে পায়ু পথে বের করে আনা হতো ইয়াবা: দেবদাস ভট্টাচার্য

Spread the love

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীতে ইয়াবা পাচারে রোহিঙ্গা শিশুদের ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ জন্য শিশুদেরকে জীবনের ঝুঁকিতেও ফেলা হতো। স্কচটেপ দিয়ে ইয়াবার বড় আকারের ক্যাপসুল বানিয়ে, তা শিশুদের গিলে খাওয়ানো হতো। এরপর ঢাকায় আসার পর তা পেট থেকে বের কর হতো।

 

আজ সোমবার (২৮ মে ২০১৮)ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অভিনব এই পদ্ধতির কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য। ধরা পড়া দুটি শিশুর একটি শিশু একেকটি চালানে ৩৫০০ এবং আরেকটি শিশু ১৫০০ করে ইয়াবা বড়ি ঢাকায় নিয়ে এসেছে। আর ইয়াবার ক্যাপসুল গেলা থেকে শুরু করে রাজধানীতে আানর পর তা বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটিই যন্ত্রণাদায়ক। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এমনই এক চালান এবার ধরা পড়েছে। ‘আ’ ও ‘ব’ অদ্যক্ষরে ১২ বছর বয়সী শিশুটি এভাবে টাকার বিনিময়ে রাজধানীতে একাধিক চালানও নিয়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২৭ মে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে ছয় জনকে ইয়াবাসহ আটক করেন গোয়েন্দারা। তাদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা। তারা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মামুন শেখ জানান, তিনি এবং তার সহযোগী রেজোয়ান দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আনছেন। রেজোয়ান কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠান এবং মামুন শেখ ঢাকায় সে বড়ি গ্রহণ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার জানান, রেজোয়ান মাদক মামলার পলাতক আসামি। তার সঙ্গেই আটক দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে রেজোয়ান উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই শিশুকে টাকার বিনিময়ে এভাবে পাকস্থলিতে করে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন।এতে দুই শিশু রাজি হলে রেজোয়ান ৫০টি করে করে ইয়াবা বড়ি স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ক্যাপসুলের মতো তৈরি করেন। এ রকম ৭০টি ক্যাপসুল একটি শিশুকে এবং ৩০টি ক্যাপসুল অন্য একটি শিশুকে পানি দিয়ে গেলান। এরপর বাস বা ট্রেনে দুই শিশুকে নিয়ে আসা হতো রাজধানীতে। এভাবে বাসে তিন থেকে চারটি চালান আনা হতো।

 

আটক মামুন পুলিশকে জানান, ইয়াবার চালান আনার সময় যাত্রা পথে শিশুদেরকে কোনো খাবার বা পানি পান করতে দেয়া হতো না। ঢাকায় আসার পর বিশেষ ওষুধ সেবন করিয়ে পাকস্থলী থেকে পায়ু পথে বের করে আনা হতো ইয়াবা। প্রতি চালানের জন্য একটি শিশুকে ১৫ হাজার এবং অন্যজনকে ১০হাজার টাকা দেয়া হতো। আর এই ইয়াবা রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতেন ধরা পড়া চার জন।

 

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা, পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী, সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)মোঃ শাহজাহান পিপিএম ও জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)ওবায়দুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগীতার জুলাই’১৯ মাসের চ্যাম্পিয়ন হলেন ঢাকা মুহাম্মদপুরের মমতা ইসলাম

» প্রসূতির গোপনাঙ্গে সুই-সুতা রেখেই সেলাই!

» ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী: বরিশালে আরো ১ জনের মৃত্যু

» কক্সবাজার এবং খাগড়াছড়ির আশ্রয় শিবিরের কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি না

» জন্মদিনে নিজের পাঁচটি গোপন কথা ফাঁস করলেন পূজা

» বেনাপোল বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশসহ চোর আটক

» নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন দ্বীপ ও চরে থাকা সাধারণ মানুষ

» কুলাউড়ায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» কবরে শুয়ে যেন স্বাধীন বাংলার স্বাদ নিতে পারি- লিপি ওসমান

» কলাপাড়ায় খালে অবৈধ বাঁধ ও স্লুইজ গেট দখল মুক্ত করতে অভিযান শুরু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশেষ ওষুধ সেবন করিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের পাকস্থলী থেকে পায়ু পথে বের করে আনা হতো ইয়াবা: দেবদাস ভট্টাচার্য

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীতে ইয়াবা পাচারে রোহিঙ্গা শিশুদের ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ জন্য শিশুদেরকে জীবনের ঝুঁকিতেও ফেলা হতো। স্কচটেপ দিয়ে ইয়াবার বড় আকারের ক্যাপসুল বানিয়ে, তা শিশুদের গিলে খাওয়ানো হতো। এরপর ঢাকায় আসার পর তা পেট থেকে বের কর হতো।

 

আজ সোমবার (২৮ মে ২০১৮)ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে অভিনব এই পদ্ধতির কথা জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য। ধরা পড়া দুটি শিশুর একটি শিশু একেকটি চালানে ৩৫০০ এবং আরেকটি শিশু ১৫০০ করে ইয়াবা বড়ি ঢাকায় নিয়ে এসেছে। আর ইয়াবার ক্যাপসুল গেলা থেকে শুরু করে রাজধানীতে আানর পর তা বের করে আনার পুরো প্রক্রিয়াটিই যন্ত্রণাদায়ক। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে এমনই এক চালান এবার ধরা পড়েছে। ‘আ’ ও ‘ব’ অদ্যক্ষরে ১২ বছর বয়সী শিশুটি এভাবে টাকার বিনিময়ে রাজধানীতে একাধিক চালানও নিয়ে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২৭ মে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে ছয় জনকে ইয়াবাসহ আটক করেন গোয়েন্দারা। তাদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা। তারা পাকস্থলীতে ইয়াবা বহন করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মামুন শেখ জানান, তিনি এবং তার সহযোগী রেজোয়ান দীর্ঘদিন ধরে এই কৌশলে ইয়াবা পাচার করে আনছেন। রেজোয়ান কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠান এবং মামুন শেখ ঢাকায় সে বড়ি গ্রহণ করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার জানান, রেজোয়ান মাদক মামলার পলাতক আসামি। তার সঙ্গেই আটক দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে রেজোয়ান উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই শিশুকে টাকার বিনিময়ে এভাবে পাকস্থলিতে করে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন।এতে দুই শিশু রাজি হলে রেজোয়ান ৫০টি করে করে ইয়াবা বড়ি স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ক্যাপসুলের মতো তৈরি করেন। এ রকম ৭০টি ক্যাপসুল একটি শিশুকে এবং ৩০টি ক্যাপসুল অন্য একটি শিশুকে পানি দিয়ে গেলান। এরপর বাস বা ট্রেনে দুই শিশুকে নিয়ে আসা হতো রাজধানীতে। এভাবে বাসে তিন থেকে চারটি চালান আনা হতো।

 

আটক মামুন পুলিশকে জানান, ইয়াবার চালান আনার সময় যাত্রা পথে শিশুদেরকে কোনো খাবার বা পানি পান করতে দেয়া হতো না। ঢাকায় আসার পর বিশেষ ওষুধ সেবন করিয়ে পাকস্থলী থেকে পায়ু পথে বের করে আনা হতো ইয়াবা। প্রতি চালানের জন্য একটি শিশুকে ১৫ হাজার এবং অন্যজনকে ১০হাজার টাকা দেয়া হতো। আর এই ইয়াবা রাজধানীর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করতেন ধরা পড়া চার জন।

 

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) (উত্তর) বিভাগ এর উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মশিউর রহমান বিপিএম পিপিএম-সেবা, পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী, সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)মোঃ শাহজাহান পিপিএম ও জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার রহমান,অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি)ওবায়দুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited