ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কটি যেন মৃত্যুকূপ!

Spread the love

কুয়াকাটা নিউজ:- নারায়ণগঞ্জ টু মুন্সিগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজু হয়ে থাকায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মনে হয় এই সড়কগুলো দেখার জন্য কেউ নেই। সড়কগুলোর বেহাল দশায় দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে। দীর্ঘদীন ধরে এ সড়কটি বেহলা অবস্থায় থাকার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত লাখ মানুষকে। দীর্ঘদীন ধরে লাখো মানুষ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গন্তব্যস্থলে ছুটলেও এ রাস্তাটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

 

নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর মতিঝিলে একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করেন। তিনি জানান, প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে তার ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়। মুন্সিগঞ্জ থেকে হাজার যাত্রী ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ-দিঘীরপাড়-টঙ্গিবাড়ি- বালিগাও রুটে বাস চলাচল করে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ থেকে যারা ঢাকয় সরকারী বে-সরকারী চাকুরী করে তাদের অবস্থা খুবই করুন। মুন্সিগঞ্জ থেকে বাসে উঠলে কখন ঢাকা আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার সময়ও একই অবস্থা। এমন অবস্থা হয় যাত্রীরা বাসে উঠে ক্লান্তিতে একটু ঘুমের মতো পড়লে বাস যখন গর্ত অতিক্রম করে তখন যাত্রীদের অধিকাংশই ছোট-বড় আহত হয়। বিকল্প রাস্তা হিসেবে মোক্তারপুর থেকে সিএনজিতে করে বন্ধন বা উৎসব বাসে ফ্লাইওভার দিয়ে কিছুটা দুর্ভোগ সড়কতো নয় যেন মরনফাঁদ! লাঘবের চেষ্টা করে চলেছেন তারা।

তিনি জানালেন, আগে যানজটের কারনে শনিআখড়া থেকে শুরু করে গুলিস্তান পর্যন্ত কয়েক ঘন্টা বসে থাকতে হতো। ফ্লাইওভার হওয়ার পর আমাদের সে কষ্ট দুর হয়ে যায়। কিন্তু ফ্লাইওভার হওয়ার সবটুকু সুবিধা কেড়ে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের বেহাল রাস্তাঘাট। বাসা থেকে বের হওয়ার পর যে ভোগান্তি শুরু হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রাস্তায় বড় বড় গর্তের কারনে যানবাহন চলাচল কষ্টকর। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

 

দেওভোগ নাগবাড়ি মদ্রাসা রোড এলাকার বাসিন্দা সানজিদা আফরিন জানান, বাসা থেকে বের হলেই আমাদের কষ্ট শুরু হয়। আগে ঢাকা যেতে যানজটের কবলে পড়তাম। আর এখন নিজ এলাকা থেকেই দুর্ভোগ শুরু হয়। যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার যাটজটের দুর্ভোগ কমালেও নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট আমাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেরামত ও সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে ইট-সুরকি বের হয়ে এসেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান উড়াল সেতু হওয়ার পর খুব দ্রুত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাতায়াত করা গেলেও নারায়ণগঞ্জে এসে অনেকেরই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। কারণ শহরের সড়কগুলোর বেহাল দশা। প্রধান সড়কগুলোর কোন রকম থাকলেও বিভিন্ন শাখা সড়কসহ শহরতলীর সড়কগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। এ যেন রাস্তা না এক একটা মরণ ফাঁদ।

সদর উপজেলার ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের সবকটিতেই বেশির ভাগ সড়কের করুণ অবস্থা। কাশিপুর ইউনিয়নের ভোলাইল থেকে নাগবাড়ী মোড়, ভোলাইল থেকে গেউদ্দার বাজার সড়ক, সম্রাট হল থেকে কাশিপুর ঈদগাহ, বাংলাবাজার থেকে দেওভোগ মাদ্রাসা ডাইভারসন রোড, কুতুবপুর ইউনিয়নের ফতুল¬া খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সংলগ্ন তক্কারমাঠ থেকে পিলকুনী হয়ে পাগলা বাজার সড়ক। জালকুড়ি থেকে দেলপাড়া হয়ে পাগলা বাজার সড়ক। মাহমুদপুর থেকে মিজমিজি, গিরিধারা থেকে তুষারধারা সড়কে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দকে ভরা।

 

দেলপাড়া টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা হাজি মতিউর রহমান মাষ্টার জানান, শিল্পঘন এলাকা হওয়ায় পাগলা এলাকার বিভিন্ন সড়কগুলোতে প্রতিদিন ২০/২৫ টন মালামাল বহনকারী ট্রাক ও কভার্ডভ্যান চলাচল করায় সড়কগুলো বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দকের কারণে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

 

আর কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু জানান, এলজিইডির কাজের থিকনেস ১ ইঞ্চি। কিন্তু কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কগুলো (পাগলা, জালকুড়ি, ভুঁইগড়, তক্কারমাঠ, পিলকুনী) দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ট্রাক চলাচল করে। এই ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় রি-রোলিং মিল বেশি হওয়ায় ট্রাকগুলোও ২০/৩০ টন লোডেড থাকে। যার ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে সড়কগুলো খানাখন্দক হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য কিছু কিছু সড়কে পানি জমে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কাশিপুর ইউপিতে ভোলাইল নাগবাড়ী সড়কের সবচেয়ে দুরবস্থা। স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সম্প্রতি ৮০ কোটি টাকা উন্নয়নের চাহিদাপত্র দিয়েছেন। শিগগিরই বেহাল সড়কগুলো সংস্কার সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করছেন।

 

এলজিইডির প্রকৌশলী জানান, আমাদের ৮টি প্রধান সড়ক। এরপর ৮টি শাখা সড়ক ও ২১টি গ্রামীণ সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হয়। চাহিদা বেশি থাকলেও বরাদ্দ খুবই কম। এছাড়া গ্রামীণ সড়কগুলোতে ১০ টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচলের নিয়ম না থাকলেও চলছে ২৫/৩০ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক কভার্ডভ্যান। এতে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বেশকিছু বেহাল সড়কের তালিকা প্রস্তুত করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের অভিমতে জানান, অতিশীঘ্র যেন সড়কগুলো দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে মেরামত করে চলাচলের উপযোগি করবে এটাই প্রত্যাশা ভোক্তভোগী সকলের। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজর দিবে বলে আশাবাদী স্থানীয় জনগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ঝিনাইদহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় ও সিও সংস্থার আয়োজনে কারাবন্দীদের সাথে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা

» ঝিনাইদহে গোয়েন্দা পুলিশের সফল অভিযানে একাধিক মামলার আসামি দেশীয় ওয়ান শুটারগান ও গুলি সহ গ্রেফতার

» মৌলভীবাজারে সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবসায়ী আহত

» রাম আদালত সক্রিয়করণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে – জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান

» ঝালকাঠিতে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে আমনের বীজ বিতরন

» “ন্যাশনাল সার্ভিস ১ম-৪র্থ পর্বের কর্মীদের পুনরায় নিয়োগ এবং চলমান কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করে স্থায়ী কর্মসংস্থান প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ও ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে” মানববন্ধন

» যশোরের বেনাপোল দৌলতপুর সীমান্তে ফেন্সিডিল মহিলাসহ আটক-২

» শার্শা থানার এসআই মামুন লুঙ্গী,গেঞ্জি পড়ে ছদ্ববেশে খুনের আসামীকে গ্রেফতার করলেন

» চলতি বাজেটে মুঠোফোনে বর্ধিত কর বাতিলের দাবিতে গণসমাবেশ

» রংপুরে ঘুষ নেয়ার ভিডিও করায় সাংবাদিককে পেটাল পুলিশ, ৪ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১১ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কটি যেন মৃত্যুকূপ!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কুয়াকাটা নিউজ:- নারায়ণগঞ্জ টু মুন্সিগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজু হয়ে থাকায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মনে হয় এই সড়কগুলো দেখার জন্য কেউ নেই। সড়কগুলোর বেহাল দশায় দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে। দীর্ঘদীন ধরে এ সড়কটি বেহলা অবস্থায় থাকার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত লাখ মানুষকে। দীর্ঘদীন ধরে লাখো মানুষ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গন্তব্যস্থলে ছুটলেও এ রাস্তাটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

 

নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর মতিঝিলে একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করেন। তিনি জানান, প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে তার ঢাকায় আসা যাওয়া করতে হয়। মুন্সিগঞ্জ থেকে হাজার যাত্রী ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ-দিঘীরপাড়-টঙ্গিবাড়ি- বালিগাও রুটে বাস চলাচল করে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ থেকে যারা ঢাকয় সরকারী বে-সরকারী চাকুরী করে তাদের অবস্থা খুবই করুন। মুন্সিগঞ্জ থেকে বাসে উঠলে কখন ঢাকা আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার সময়ও একই অবস্থা। এমন অবস্থা হয় যাত্রীরা বাসে উঠে ক্লান্তিতে একটু ঘুমের মতো পড়লে বাস যখন গর্ত অতিক্রম করে তখন যাত্রীদের অধিকাংশই ছোট-বড় আহত হয়। বিকল্প রাস্তা হিসেবে মোক্তারপুর থেকে সিএনজিতে করে বন্ধন বা উৎসব বাসে ফ্লাইওভার দিয়ে কিছুটা দুর্ভোগ সড়কতো নয় যেন মরনফাঁদ! লাঘবের চেষ্টা করে চলেছেন তারা।

তিনি জানালেন, আগে যানজটের কারনে শনিআখড়া থেকে শুরু করে গুলিস্তান পর্যন্ত কয়েক ঘন্টা বসে থাকতে হতো। ফ্লাইওভার হওয়ার পর আমাদের সে কষ্ট দুর হয়ে যায়। কিন্তু ফ্লাইওভার হওয়ার সবটুকু সুবিধা কেড়ে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জের বেহাল রাস্তাঘাট। বাসা থেকে বের হওয়ার পর যে ভোগান্তি শুরু হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রাস্তায় বড় বড় গর্তের কারনে যানবাহন চলাচল কষ্টকর। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

 

দেওভোগ নাগবাড়ি মদ্রাসা রোড এলাকার বাসিন্দা সানজিদা আফরিন জানান, বাসা থেকে বের হলেই আমাদের কষ্ট শুরু হয়। আগে ঢাকা যেতে যানজটের কবলে পড়তাম। আর এখন নিজ এলাকা থেকেই দুর্ভোগ শুরু হয়। যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার যাটজটের দুর্ভোগ কমালেও নারায়ণগঞ্জের রাস্তাঘাট আমাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেরামত ও সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে ইট-সুরকি বের হয়ে এসেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান উড়াল সেতু হওয়ার পর খুব দ্রুত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে যাতায়াত করা গেলেও নারায়ণগঞ্জে এসে অনেকেরই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। কারণ শহরের সড়কগুলোর বেহাল দশা। প্রধান সড়কগুলোর কোন রকম থাকলেও বিভিন্ন শাখা সড়কসহ শহরতলীর সড়কগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। এ যেন রাস্তা না এক একটা মরণ ফাঁদ।

সদর উপজেলার ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের সবকটিতেই বেশির ভাগ সড়কের করুণ অবস্থা। কাশিপুর ইউনিয়নের ভোলাইল থেকে নাগবাড়ী মোড়, ভোলাইল থেকে গেউদ্দার বাজার সড়ক, সম্রাট হল থেকে কাশিপুর ঈদগাহ, বাংলাবাজার থেকে দেওভোগ মাদ্রাসা ডাইভারসন রোড, কুতুবপুর ইউনিয়নের ফতুল¬া খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সংলগ্ন তক্কারমাঠ থেকে পিলকুনী হয়ে পাগলা বাজার সড়ক। জালকুড়ি থেকে দেলপাড়া হয়ে পাগলা বাজার সড়ক। মাহমুদপুর থেকে মিজমিজি, গিরিধারা থেকে তুষারধারা সড়কে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দকে ভরা।

 

দেলপাড়া টাওয়ার এলাকার বাসিন্দা হাজি মতিউর রহমান মাষ্টার জানান, শিল্পঘন এলাকা হওয়ায় পাগলা এলাকার বিভিন্ন সড়কগুলোতে প্রতিদিন ২০/২৫ টন মালামাল বহনকারী ট্রাক ও কভার্ডভ্যান চলাচল করায় সড়কগুলো বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দকের কারণে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

 

আর কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু জানান, এলজিইডির কাজের থিকনেস ১ ইঞ্চি। কিন্তু কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সড়কগুলো (পাগলা, জালকুড়ি, ভুঁইগড়, তক্কারমাঠ, পিলকুনী) দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ট্রাক চলাচল করে। এই ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় রি-রোলিং মিল বেশি হওয়ায় ট্রাকগুলোও ২০/৩০ টন লোডেড থাকে। যার ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে সড়কগুলো খানাখন্দক হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

 

কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য কিছু কিছু সড়কে পানি জমে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কাশিপুর ইউপিতে ভোলাইল নাগবাড়ী সড়কের সবচেয়ে দুরবস্থা। স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সম্প্রতি ৮০ কোটি টাকা উন্নয়নের চাহিদাপত্র দিয়েছেন। শিগগিরই বেহাল সড়কগুলো সংস্কার সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করছেন।

 

এলজিইডির প্রকৌশলী জানান, আমাদের ৮টি প্রধান সড়ক। এরপর ৮টি শাখা সড়ক ও ২১টি গ্রামীণ সড়ক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হয়। চাহিদা বেশি থাকলেও বরাদ্দ খুবই কম। এছাড়া গ্রামীণ সড়কগুলোতে ১০ টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচলের নিয়ম না থাকলেও চলছে ২৫/৩০ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক কভার্ডভ্যান। এতে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বেশকিছু বেহাল সড়কের তালিকা প্রস্তুত করে পরিকল্পনা বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের অভিমতে জানান, অতিশীঘ্র যেন সড়কগুলো দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে মেরামত করে চলাচলের উপযোগি করবে এটাই প্রত্যাশা ভোক্তভোগী সকলের। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজর দিবে বলে আশাবাদী স্থানীয় জনগণ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited