সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার আইন করবে না: তথ্যমন্ত্রী

Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জঙ্গি-অপরাধী-রাজাকারচক্রকে গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে এদের দমনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

 

বৃহস্পতিবার (৩ মে ২০১৮) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম গণতন্ত্রের পরিপূরক এবং সরকার নয়, গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হচ্ছে জঙ্গি, রাজাকার, মাফিয়া, কালোবাজারি ও অপরাধীচক্র। এদের দমনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

 

শেখ হাসিনার সরকার গণমাধ্যমের সংকোচনে বিশ্বাসী নয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও গণমাধ্যমের পরিপূরক সম্পর্ক বজায় রয়েছে, যা গণমাধ্যমের বিকাশ ত্বরাণ্বিত করছে। কিন্তু মালিকপক্ষের ভূমিকা কতটা মুক্তগণমাধ্যমের সহায়ক তা বিশ্লেষণ করে সাংবাদিকদের পেশাজীবি সংগঠন থেকে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও মূল্যায়ন আশা করে সরকার।

 

তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতনকারীর কোন দায়মুক্তির বিধান দেশে নেই এবং ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক ডাকাতসহ ক্ষমতা অপব্যবহারকারী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লেখার পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান। এসকল বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সরকারকে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করেছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু খন্ডিত, অসত্য বা গুজব ছড়ানো কখনো সাংবাদিকতা নয়।’

 

‘সরকারের ভাষ্য না নিয়ে অনেক বিদেশি সংস্থার প্রতিবেদনই একতরফা, তথ্যবিভ্রাটে ভরা ও ক্ষেত্র বিশেষে উদ্দেশ্যমূলক বলে তা গ্রহণযোগ্য নয়’, বলেন ইনু।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক শাসন সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিদের জঞ্জাল যেমন এখনো গণতন্ত্রে সক্রিয়, ঠিক তেমনি গণমাধ্যমের ভেতরও ঐ সামরিক-সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদীদের অনুচরচক্রও বর্তমান। এদের কারণেই
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম উভয়েই এখনো হুমকির মুখে।

 

শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বাস করে, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। সামরিক ও স্বৈরশাসকদের আমলে খুনী ও অপরাধীদের যে দায়মুক্তির বিধান করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার সরকারই তা বাতিল করেছে, অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করেছে। সুতরাং এটা প্রমানিত যে, আমাদের সরকার কখনও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে উন্মুক্ত আদালতে’, বলেন মন্ত্রী।

 

সাংবাদিকবৃন্দ যাতে কোনোভাবেই অনর্থক হয়রানির স্বীকার না হন, সেজন্য আমরা সিআরপিসি বা দন্ডবিধিও সংশোধন করেছি উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘মানহানির মামলায় তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধান বাতিল করা হয়েছে। এখন এ ধরনের মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিককে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে পূর্বে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

শুধু দেশি নয়, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরাসহ বিদেশি চ্যানেলগুলোও এখানে স্বাধীনভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, বলেন ইনু। জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» পীর আজাদগংদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও স্বারকলিপি

» কলাপাড়ায় তিন দিন ব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা শুরু

» ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু কাওছার

» বৃটেনের বার্মিংহামে মৌলভীবাজারবাসীর মিলন মেলায় মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ দ্রত বাস্তবায়নের দাবী

» আগৈলঝাড়ায় গ্রামীণ নারীদের নিয়ে তথ্য আপার উঠান বৈঠক

» আগৈলঝাড়ায় তিন জনের বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

» মৌলভীবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

» দলছুট কচুরিপানার মতো ভাসছে বিধবা শেফালির সংসার

» মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কলরেট বৃদ্ধি গ্রাকদের প্রত্যাখ্যান

» সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার আইন করবে না: তথ্যমন্ত্রী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, সিনিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জঙ্গি-অপরাধী-রাজাকারচক্রকে গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্ণনা করে এদের দমনে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

 

বৃহস্পতিবার (৩ মে ২০১৮) দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম গণতন্ত্রের পরিপূরক এবং সরকার নয়, গণমাধ্যমের প্রতিপক্ষ হচ্ছে জঙ্গি, রাজাকার, মাফিয়া, কালোবাজারি ও অপরাধীচক্র। এদের দমনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

 

শেখ হাসিনার সরকার গণমাধ্যমের সংকোচনে বিশ্বাসী নয় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ও গণমাধ্যমের পরিপূরক সম্পর্ক বজায় রয়েছে, যা গণমাধ্যমের বিকাশ ত্বরাণ্বিত করছে। কিন্তু মালিকপক্ষের ভূমিকা কতটা মুক্তগণমাধ্যমের সহায়ক তা বিশ্লেষণ করে সাংবাদিকদের পেশাজীবি সংগঠন থেকে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন ও মূল্যায়ন আশা করে সরকার।

 

তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতনকারীর কোন দায়মুক্তির বিধান দেশে নেই এবং ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক ডাকাতসহ ক্ষমতা অপব্যবহারকারী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লেখার পূর্ণ স্বাধীনতা বিদ্যমান। এসকল বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সরকারকে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করেছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু খন্ডিত, অসত্য বা গুজব ছড়ানো কখনো সাংবাদিকতা নয়।’

 

‘সরকারের ভাষ্য না নিয়ে অনেক বিদেশি সংস্থার প্রতিবেদনই একতরফা, তথ্যবিভ্রাটে ভরা ও ক্ষেত্র বিশেষে উদ্দেশ্যমূলক বলে তা গ্রহণযোগ্য নয়’, বলেন ইনু।  তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সামরিক শাসন সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিদের জঞ্জাল যেমন এখনো গণতন্ত্রে সক্রিয়, ঠিক তেমনি গণমাধ্যমের ভেতরও ঐ সামরিক-সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদীদের অনুচরচক্রও বর্তমান। এদের কারণেই
গণতন্ত্র ও গণমাধ্যম উভয়েই এখনো হুমকির মুখে।

 

শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বাস করে, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। সামরিক ও স্বৈরশাসকদের আমলে খুনী ও অপরাধীদের যে দায়মুক্তির বিধান করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার সরকারই তা বাতিল করেছে, অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করেছে। সুতরাং এটা প্রমানিত যে, আমাদের সরকার কখনও বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে উন্মুক্ত আদালতে’, বলেন মন্ত্রী।

 

সাংবাদিকবৃন্দ যাতে কোনোভাবেই অনর্থক হয়রানির স্বীকার না হন, সেজন্য আমরা সিআরপিসি বা দন্ডবিধিও সংশোধন করেছি উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘মানহানির মামলায় তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধান বাতিল করা হয়েছে। এখন এ ধরনের মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিককে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে পূর্বে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

শুধু দেশি নয়, বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরাসহ বিদেশি চ্যানেলগুলোও এখানে স্বাধীনভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, বলেন ইনু। জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাংবাদিক সোহরাব হাসান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited