ঝিনাইদহে সাঞ্চাই নদীতে ব্রীজ নেই, ৪০টি গ্রামের মানুষের মালামাল নিয়ে যাতায়াত ২৫ কিলোমিটার ঘুরে

ঝিনাইদহ সংবাদাতা: ঝিনাইদহ সদরের সাঞ্চাই নদীর ব্রীজটি প্রায়২ বছর আগে ভেঙ্গে পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে ব্রীজ নির্মান না হওয়ায় অত্রাঞ্চলের অন্তত: ৪০ গ্রামের মানুষের যোগোযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিকল্প পারাপার হিসাবে ব্রীজের পাশে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে সাঁকোটির বেহাল দশা। ফলে কৃষি পণ্যসহ মালামাল নিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে মানুষ যাতায়াত করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা রয়েছে বেশি ঝুকিতে।৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র কামরুল ইসলাম জানান, আমাদের চলাচল করার সময় চরম ঝুকি নিয়ে পার হতে হয়। ওপার থেকে কোন সাইকেল আসলেও আসলে আমদের দাড়িয়ে থাকতে হয়। পারাপার হতে অনেক দেরী হয়। মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু বলেন, নির্মাণ ত্রুটির কারনেই এ ব্রীজটি মাত্র ২১ বছরের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়েছে বলে এলকাবাসী মনে করছে। আগামীতে যে ব্রীজটি নির্মান করা হবে তা যেন সঠিক নিয়ম মেনে করা হয়। কৃষক মঞ্জের আলী বলেন, এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আনেক কৃষি পন্য একবারে পারাপার করতে পারছি।

 

এতে সময়ও যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আমাদের খরচ বাড়ছে। ফুরসন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া-টিকারী সড়কের টিকারী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাঞ্চাই নদী। এ নদীর উপর বাজারের কাছেই ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় ব্রীজটি। এলজিইডি বিভাগ ব্রীজটি নির্মাণ করে। এই ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করে ঝিনাইদহের জিতড়, ভবানীপুর, ধননঞ্জয়পুর, মাড়ন্দি, নারিকেলবাড়িয়া, টিকারী, দহখোলা, লক্ষিপুর, মালঞ্চিসহ অন্তত: ৪০ গ্রামের মানুষ। তাদের চলাচলের একমাত্র পথ এ রাস্তাটি। ব্রীজ না থাকায় মালামাল নিয়ে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

 

প্রায় ২ বছর আগে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। এরপর গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ব্রীজটি নতুন করে নির্মানের জন্য টেন্ডার হয়। সংশ্লিস্ট ঠিকাদার কাজ না করায় চলতি অর্থ বছরে দ্বিতীয় বারের মত টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদারও এখন পর্যন্তও কাজ শুরু করেননি। তাই ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকার, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। অতি দ্রুত ব্রীজটি নির্মানের দাবি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের। এ বিষয়ে ঠিকাদার মনিরুজ্জামান রানা জানান, যদি কোন দুর্যোগ না হয় তাহলে আগামী দুই মসের মধ্যেই নির্মান কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করি।

 

ঝিনাইদহ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলি আব্দুল মালেক জানান, ৫৪ মি: আরসিসি গাডার ব্রীজটি প্রথমে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে প্রথম টেন্ডার করা হয়। পরে আবারো ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে টেন্ডার করা হয় যার চুক্তি মুল্য ৬৩,৮২,১৮৭ টাকা। সাঞ্চাই নদীর এ ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন এলাকার হাজারো মানুষ। খুব শীঘ্রই ব্রীজটি নির্মাণ করা হবে। আগের ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হয়। তাই ব্রীজটি নির্মানের জন্য দ্বিতীয়বারের মত টেন্ডার সম্পন করতে হয়েছে।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» এস এ গেমস আর্চারিতে দশে দশ বাংলাদেশ

» দশমিনায় দূর্নীতি বিরোধী মানববন্ধন ও সভা অনুষ্ঠিত

» জরাজীর্ণ বসতঘরে জীবন-যাপন দশমিনায় মিনারা’র

» যশোরের বেনাপোলে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিসব-২০১৯ উদযাপন

» যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন

» বিপিএলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

» ডাকসু ভিপি নুরের পদত্যাগ চায় ছাত্রলীগের ২৩ নেতা

» গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে রুম্পার কথিত প্রেমিককে

» প্রধানমন্ত্রী আজ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করবেন

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে সাঞ্চাই নদীতে ব্রীজ নেই, ৪০টি গ্রামের মানুষের মালামাল নিয়ে যাতায়াত ২৫ কিলোমিটার ঘুরে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

ঝিনাইদহ সংবাদাতা: ঝিনাইদহ সদরের সাঞ্চাই নদীর ব্রীজটি প্রায়২ বছর আগে ভেঙ্গে পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে ব্রীজ নির্মান না হওয়ায় অত্রাঞ্চলের অন্তত: ৪০ গ্রামের মানুষের যোগোযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিকল্প পারাপার হিসাবে ব্রীজের পাশে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

 

বর্তমানে সাঁকোটির বেহাল দশা। ফলে কৃষি পণ্যসহ মালামাল নিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে মানুষ যাতায়াত করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা রয়েছে বেশি ঝুকিতে।৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র কামরুল ইসলাম জানান, আমাদের চলাচল করার সময় চরম ঝুকি নিয়ে পার হতে হয়। ওপার থেকে কোন সাইকেল আসলেও আসলে আমদের দাড়িয়ে থাকতে হয়। পারাপার হতে অনেক দেরী হয়। মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু বলেন, নির্মাণ ত্রুটির কারনেই এ ব্রীজটি মাত্র ২১ বছরের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়েছে বলে এলকাবাসী মনে করছে। আগামীতে যে ব্রীজটি নির্মান করা হবে তা যেন সঠিক নিয়ম মেনে করা হয়। কৃষক মঞ্জের আলী বলেন, এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আনেক কৃষি পন্য একবারে পারাপার করতে পারছি।

 

এতে সময়ও যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আমাদের খরচ বাড়ছে। ফুরসন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া-টিকারী সড়কের টিকারী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাঞ্চাই নদী। এ নদীর উপর বাজারের কাছেই ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় ব্রীজটি। এলজিইডি বিভাগ ব্রীজটি নির্মাণ করে। এই ব্রীজের উপর দিয়ে চলাচল করে ঝিনাইদহের জিতড়, ভবানীপুর, ধননঞ্জয়পুর, মাড়ন্দি, নারিকেলবাড়িয়া, টিকারী, দহখোলা, লক্ষিপুর, মালঞ্চিসহ অন্তত: ৪০ গ্রামের মানুষ। তাদের চলাচলের একমাত্র পথ এ রাস্তাটি। ব্রীজ না থাকায় মালামাল নিয়ে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

 

প্রায় ২ বছর আগে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। এরপর গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ব্রীজটি নতুন করে নির্মানের জন্য টেন্ডার হয়। সংশ্লিস্ট ঠিকাদার কাজ না করায় চলতি অর্থ বছরে দ্বিতীয় বারের মত টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদারও এখন পর্যন্তও কাজ শুরু করেননি। তাই ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকার, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। অতি দ্রুত ব্রীজটি নির্মানের দাবি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের। এ বিষয়ে ঠিকাদার মনিরুজ্জামান রানা জানান, যদি কোন দুর্যোগ না হয় তাহলে আগামী দুই মসের মধ্যেই নির্মান কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করি।

 

ঝিনাইদহ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলি আব্দুল মালেক জানান, ৫৪ মি: আরসিসি গাডার ব্রীজটি প্রথমে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে প্রথম টেন্ডার করা হয়। পরে আবারো ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে টেন্ডার করা হয় যার চুক্তি মুল্য ৬৩,৮২,১৮৭ টাকা। সাঞ্চাই নদীর এ ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন এলাকার হাজারো মানুষ। খুব শীঘ্রই ব্রীজটি নির্মাণ করা হবে। আগের ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হয়। তাই ব্রীজটি নির্মানের জন্য দ্বিতীয়বারের মত টেন্ডার সম্পন করতে হয়েছে।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited