প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে দুপুরে খাবার পাবে শিশু শিক্ষার্থীরা

Spread the love

সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি (মিডডে মিল) চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা এপ্রিল মাস থেকে বাস্তবায়নের কথা। এটি স্থায়ীভাবে পরিচালনা করতে ইতোমধ্যে স্কুল ফিডিং খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

 

জানা গেছে, শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন দুপুরে স্কুল টিফিন হিসেবে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, ঝরে পড়া কমে আসবে। এ কার্যক্রম স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে পরিচালনা করতে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। সাত পৃষ্ঠার এই খসড়া নীতিমালার বিষয়ে উন্মুক্ত মতামত গ্রহণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।

 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিশুদের সব চাহিদা পূরণ ও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর শিক্ষা-লক্ষ্য অর্জন ও মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রযাত্রা শুরু হবে। এতে বলা হয়, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিশু জনসমষ্টি, যারা প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অধ্যয়ন করে। বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে দুটি শিফট চালু করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত থাকতে চায় না। এজন্য দুপুরে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্কুল ফিডিং নীতির আওতায় এনে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত; শিশুদের গুণগত মান বৃদ্ধিসহ গ্রাম ও শহরের ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার মানের পার্থক্য দূরীকরণ; শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ ও পুষ্টি সহায়তার ফলে তাদের মেধার উৎকর্ষ সাধন, চিন্তা ও কল্পনা শক্তির বিকাশ, সৃজনশীলতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিপূর্বক তাদের দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করা। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ভর্তি, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও পাঠে মনোযোগী এবং ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে। প্রতিবন্ধী শিশুদের এর আওতায় আনা হবে। এনপিও, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন স্তরের সংগঠনকে এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা হবে। অর্থায়নের বিষয়ে বলা হয়েছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বার্ষিক বরাদ্দ ও অন্যান্য সূত্র থেকে সংগৃহীত অর্থ এ কর্মসূচিতে জোগান দেয়া হবে।

 

স্কুল ফিডিং নীতিমালা সম্পর্কে ডিপিই অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী বলেন, সারা দেশে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দেয়া হবে। এটি স্কুল মিডডে মিল নামে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সকলের মতামত চাওয়া হয়েছে। যৌক্তিক মতামতগুলো বিবেচনায় এনে চলতি মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» মানুষ নামের অমানুষগুলো…

» বাউফলে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

» আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই উৎপাদনে প্রথম ইউনিট।। ছয় হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা পরিশোধ

» জঙ্গী দমনের মত মাদক নির্মূলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো

» ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের জার্সি পরা ওরা কারা?

» সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুদ্ধ করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

» র‍্যাংকিংয়ে বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ

» পাকিস্তানের বোলিং তোপে কোণঠাসা নিউজিল্যান্ড

» যশোরের বেনাপোল পুটখালী থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» শ্রমিকদের জন্য হাসপাতল, আবাসন, রেশনিং, শিক্ষা, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ন মৌলিক বিষয়ে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবীতে। মাননীয় স্পিকারের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক স্কুলে বিনামূল্যে দুপুরে খাবার পাবে শিশু শিক্ষার্থীরা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি (মিডডে মিল) চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা এপ্রিল মাস থেকে বাস্তবায়নের কথা। এটি স্থায়ীভাবে পরিচালনা করতে ইতোমধ্যে স্কুল ফিডিং খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হতে পারে।

 

জানা গেছে, শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন দুপুরে স্কুল টিফিন হিসেবে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে স্কুলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, ঝরে পড়া কমে আসবে। এ কার্যক্রম স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে পরিচালনা করতে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। সাত পৃষ্ঠার এই খসড়া নীতিমালার বিষয়ে উন্মুক্ত মতামত গ্রহণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে।

 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিশুদের সব চাহিদা পূরণ ও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর শিক্ষা-লক্ষ্য অর্জন ও মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রযাত্রা শুরু হবে। এতে বলা হয়, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিশু জনসমষ্টি, যারা প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অধ্যয়ন করে। বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে দুটি শিফট চালু করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত থাকতে চায় না। এজন্য দুপুরে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে স্কুল ফিডিং নীতির আওতায় এনে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত; শিশুদের গুণগত মান বৃদ্ধিসহ গ্রাম ও শহরের ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার মানের পার্থক্য দূরীকরণ; শিশুদের ক্ষুধা নিবারণ ও পুষ্টি সহায়তার ফলে তাদের মেধার উৎকর্ষ সাধন, চিন্তা ও কল্পনা শক্তির বিকাশ, সৃজনশীলতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিপূর্বক তাদের দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করা। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ভর্তি, উপস্থিতির হার বৃদ্ধি ও পাঠে মনোযোগী এবং ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে। প্রতিবন্ধী শিশুদের এর আওতায় আনা হবে। এনপিও, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন স্তরের সংগঠনকে এ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা হবে। অর্থায়নের বিষয়ে বলা হয়েছে, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বার্ষিক বরাদ্দ ও অন্যান্য সূত্র থেকে সংগৃহীত অর্থ এ কর্মসূচিতে জোগান দেয়া হবে।

 

স্কুল ফিডিং নীতিমালা সম্পর্কে ডিপিই অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী বলেন, সারা দেশে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরে খাবার দেয়া হবে। এটি স্কুল মিডডে মিল নামে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সকলের মতামত চাওয়া হয়েছে। যৌক্তিক মতামতগুলো বিবেচনায় এনে চলতি মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited