অদ্য ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার প্রেস রিলিজ

এ কে এম সাফায়াত আলম: অদ্য ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখ সকাল ৯:০০ ঘটিকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর থানাধীন ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগ হতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সুপারিণটেনডেন্ট প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী সুপারিণটেনডেন্ট প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইনস্ট্রাক্টর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, ইনস্ট্রাক্টর প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী ইনস্ট্রাক্টর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, মনিটরিং অফিসার (উপবৃত্তি), সহকারী মনিটরিং অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের অফিস ষ্টাফ, প্রধান শিক্ষক এবং এস.এম.সি সভাপতিসহ প্রায় ২০৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব মোস্তাফিজুর রহমান, এম.পি ও মাননীয় মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধান অতিথি এবং জনাব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব বিজয় ভূষণ পাল, পরিচালক, পলিসি অপারেশন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনাব মোঃ রমজান আলী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জনাব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির, অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

মুক্ত আলোচনা পর্বে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগনের নিকট থেকে বক্তব্য শোনা হয়। এ পর্বে জনাব এমদাদ হোসেন ভূঞা, সহ সভাপতি, বেরাইদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুলশান, ঢাকা এবং সিনিয়র সাব এডিটর, দৈনিক যুগান্তর জানান, আজ একটি দুসংবাদ ছাপা হয়েছে তা হলো, ৭ মার্চের প্রোগ্রামে অভিভাবক অংশগ্রহণ না করতে দেয়ায় একটি শিশু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি শিশুদের আবেগকে মূল্যায়ন করার জন্য মা, বাবাসহ সকলকে অনুরোধ করেন। বিদ্যালয়ের মধ্যে লাইব্রেরী কক্ষ স্থাপন এবং লাইব্রেরীয়ান পদ তৈরীর প্রস্তাব দেন। জনাব কুব্বত আলী খান, সহকারী সুপার, মানকিগঞ্জ জানান, ত্রিশ বছরে একটি পদোন্নতি পেয়েছি কিন্তু স্কেল ছাড়া, আমাদের নিয়োগ বিধি নাই।

 

কর্মশালায় সরকারের গৃহীত কর্মসূচী রুপকল্প-২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (SDG ) বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। বর্তমান সরকার বিদ্যালয়ে গমন উপযোগী সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন, ঝরেপড়া রোধ এবং দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুলফিডিং কর্মসূচী পরিচালনা, সমগ্র দেশে উপবৃত্তির পরিধি সম্প্রসারণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলন, আঞ্চলিক অনগ্রসরতা বিবেচনায় রেখে পাহাড়ী অঞ্চল, চর, হাওর-বাওড়, চা-বাগান ও দুর্গম এলাকাসহ বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়াকে আন্ন্দঘন, শিশুবান্ধব, অংশগ্রহণমূলক, যোগ্যতাভিত্তিক করণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও উন্নত,প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে।তিনি বলেন, আমি সারাদেশে অভিভাবক, মা, এবং প্রাথমিক শিক্ষা সশ্লিষ্ট সকলের সাথে মত বিনিময় করে চলেছি। সকলে মিলে কাজ করলে সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারা যাবে। দেশ মাতৃকার কাছে আমাদের রিন রয়েছে। সেই রিন পরিশোধ করতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা সে শপথ করবো। সে মোতাবেক আমরাসকল কাজ করবো।তিনি আগামী জুনের মধ্যে মা’ দের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সকল শিশুদের মিড-ডে-মিল চালু করতে হবে।

 

বিশেষ অতিথি জনাব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্দি করে জাতির পিতার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে ১৯৭২ সালে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়টি সংবিধানে অর্ন্তভূক্ত হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর ভর্তি নিশ্চিতকরণ, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন, শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা আনয়ন, আঞ্চলিক অনগ্রসরতা বিবেচনায় বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষার সর্বস্তরে সম-অধিকার, নিশ্চিতকরণ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষা লাভের অবারিত সুযোগসৃস্টি, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে অক্ষরদান কর্মসূচী, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ, ঝরেপরা রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু ইত্যাদি কার্যক্রম আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে সকলকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

 

ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, মহাপরিচালক প্র্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলেন, রুপকল্প-২০২১, ২০৪১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার কাংখিত উন্নয়নের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে এবং সুদৃঢ় নির্দেশনায় বর্তমান সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ বছর আমরা ৬-১২ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করছি। এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘মানসম্মত শিক্ষা, শেখ হাসিনার দীক্ষা’ অত্যন্ত সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ, যা প্রেক্ষিত পরিকল্পনাসমূহের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রেরণা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। আমাদের যেতে হবে আরো বহুদুর। আজকে যে শিশুটি প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আসছে, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদশকে সে নেতৃত্ব দিবে। এই শিশুটিকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থেই যথাযথভাবে গড়ে তুলতে না পারি, যদি তার মধ্যে মানবতাবোধ, নৈতিকতাবোধ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত দেশপ্রেম সৃষ্টি না হয়, তাহলে আগামীতে আমাদের এই প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। সেটি কখনোই কাংখিত হতে পারেনা। আমরা নিজ থেকেই প্র্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামের আগে ‘উন্নয়নের বাতিঘর’ এই দুটি শব্দ যোগ করে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বভার কাধেঁ তুলে নিয়েছি।

 

 

আমরা জাতির মানব সম্পদের যথাযথ উন্নয়নের অত্যন্ত ফলপ্রসু ভিত্তিভুমি সৃষ্টি করব এবং উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান এই দেশকে পথ দেখাব। এই আস্থা, এই প্রতীতি আমাদের বিশাল পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে, প্রতিটি অংশীজনের মাঝে সঞ্চারিত করছি এবং সে লক্ষ্যেই আজকের এই বিশাল সমাবেশ।তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের তাদের অর্জন গুলোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রচারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, ‘এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’প্রাথমিক শিক্ষা।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» কলাপাড়ায় আলোচিত শ্রমিকলীগ সভাপতি বুদাই দল থেকে বহিস্কার

» মৌলভীবাজারে এইচআইভি/এইডস বিষয়ক মতবিনিময় সভা

» দশমিনায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রান বিতরন

» ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিমঝিম মিত্র গ্রেফতার

» ইউটিউবে নতুন নীতিমালা, সংকটের মুখে ইউটিউবাররা

» বাবরি মসজিদে জমি দেওয়া নিয়ে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

» বুলবুলকে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সুন্দরবন

» ঝিনাইদহের সিমান্তে বিজিবি কর্তৃক সাড়ে ২৯ লাখ টাকার ২১৬টি সোনার আংটি উদ্ধার

» গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টা : আটক ১০

» রাজাপুরে পিতার মাথায় রড ঢুকিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক ছেলে গ্রেফতার

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৮শে কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অদ্য ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক কর্মশালার প্রেস রিলিজ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

এ কে এম সাফায়াত আলম: অদ্য ০৮ মার্চ ২০১৮ তারিখ সকাল ৯:০০ ঘটিকায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর থানাধীন ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেট বিভাগ হতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সুপারিণটেনডেন্ট প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী সুপারিণটেনডেন্ট প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ইনস্ট্রাক্টর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, ইনস্ট্রাক্টর প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী ইনস্ট্রাক্টর উপজেলা রিসোর্স সেন্টার, মনিটরিং অফিসার (উপবৃত্তি), সহকারী মনিটরিং অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের অফিস ষ্টাফ, প্রধান শিক্ষক এবং এস.এম.সি সভাপতিসহ প্রায় ২০৫০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কর্মশালায় বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব মোস্তাফিজুর রহমান, এম.পি ও মাননীয় মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধান অতিথি এবং জনাব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে তিলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জনাব বিজয় ভূষণ পাল, পরিচালক, পলিসি অপারেশন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনাব মোঃ রমজান আলী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জনাব ড. এ এফ এম মনজুর কাদির, অতিরিক্ত সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

মুক্ত আলোচনা পর্বে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগনের নিকট থেকে বক্তব্য শোনা হয়। এ পর্বে জনাব এমদাদ হোসেন ভূঞা, সহ সভাপতি, বেরাইদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুলশান, ঢাকা এবং সিনিয়র সাব এডিটর, দৈনিক যুগান্তর জানান, আজ একটি দুসংবাদ ছাপা হয়েছে তা হলো, ৭ মার্চের প্রোগ্রামে অভিভাবক অংশগ্রহণ না করতে দেয়ায় একটি শিশু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি শিশুদের আবেগকে মূল্যায়ন করার জন্য মা, বাবাসহ সকলকে অনুরোধ করেন। বিদ্যালয়ের মধ্যে লাইব্রেরী কক্ষ স্থাপন এবং লাইব্রেরীয়ান পদ তৈরীর প্রস্তাব দেন। জনাব কুব্বত আলী খান, সহকারী সুপার, মানকিগঞ্জ জানান, ত্রিশ বছরে একটি পদোন্নতি পেয়েছি কিন্তু স্কেল ছাড়া, আমাদের নিয়োগ বিধি নাই।

 

কর্মশালায় সরকারের গৃহীত কর্মসূচী রুপকল্প-২০২১, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (SDG ) বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। বর্তমান সরকার বিদ্যালয়ে গমন উপযোগী সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন, ঝরেপড়া রোধ এবং দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুলফিডিং কর্মসূচী পরিচালনা, সমগ্র দেশে উপবৃত্তির পরিধি সম্প্রসারণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রচলন, আঞ্চলিক অনগ্রসরতা বিবেচনায় রেখে পাহাড়ী অঞ্চল, চর, হাওর-বাওড়, চা-বাগান ও দুর্গম এলাকাসহ বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়াকে আন্ন্দঘন, শিশুবান্ধব, অংশগ্রহণমূলক, যোগ্যতাভিত্তিক করণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও উন্নত,প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে।তিনি বলেন, আমি সারাদেশে অভিভাবক, মা, এবং প্রাথমিক শিক্ষা সশ্লিষ্ট সকলের সাথে মত বিনিময় করে চলেছি। সকলে মিলে কাজ করলে সরকারের লক্ষমাত্রা অর্জন করতে পারা যাবে। দেশ মাতৃকার কাছে আমাদের রিন রয়েছে। সেই রিন পরিশোধ করতে হবে। আজকের অনুষ্ঠানে আমরা সে শপথ করবো। সে মোতাবেক আমরাসকল কাজ করবো।তিনি আগামী জুনের মধ্যে মা’ দের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সকল শিশুদের মিড-ডে-মিল চালু করতে হবে।

 

বিশেষ অতিথি জনাব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্দি করে জাতির পিতার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে ১৯৭২ সালে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের বিষয়টি সংবিধানে অর্ন্তভূক্ত হয়। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সদিচ্ছার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর ভর্তি নিশ্চিতকরণ, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন, শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা আনয়ন, আঞ্চলিক অনগ্রসরতা বিবেচনায় বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন, শিক্ষার সর্বস্তরে সম-অধিকার, নিশ্চিতকরণ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষা লাভের অবারিত সুযোগসৃস্টি, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে অক্ষরদান কর্মসূচী, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ, ঝরেপরা রোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু ইত্যাদি কার্যক্রম আর্ন্তজাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে সকলকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

 

ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি, মহাপরিচালক প্র্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলেন, রুপকল্প-২০২১, ২০৪১ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষার কাংখিত উন্নয়নের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে এবং সুদৃঢ় নির্দেশনায় বর্তমান সরকারের সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ বছর আমরা ৬-১২ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করছি। এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘মানসম্মত শিক্ষা, শেখ হাসিনার দীক্ষা’ অত্যন্ত সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ, যা প্রেক্ষিত পরিকল্পনাসমূহের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রেরণা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। আমাদের যেতে হবে আরো বহুদুর। আজকে যে শিশুটি প্রাক-প্রাথমিক স্তরে আসছে, ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদশকে সে নেতৃত্ব দিবে। এই শিশুটিকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থেই যথাযথভাবে গড়ে তুলতে না পারি, যদি তার মধ্যে মানবতাবোধ, নৈতিকতাবোধ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত দেশপ্রেম সৃষ্টি না হয়, তাহলে আগামীতে আমাদের এই প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। সেটি কখনোই কাংখিত হতে পারেনা। আমরা নিজ থেকেই প্র্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামের আগে ‘উন্নয়নের বাতিঘর’ এই দুটি শব্দ যোগ করে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বভার কাধেঁ তুলে নিয়েছি।

 

 

আমরা জাতির মানব সম্পদের যথাযথ উন্নয়নের অত্যন্ত ফলপ্রসু ভিত্তিভুমি সৃষ্টি করব এবং উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান এই দেশকে পথ দেখাব। এই আস্থা, এই প্রতীতি আমাদের বিশাল পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে, প্রতিটি অংশীজনের মাঝে সঞ্চারিত করছি এবং সে লক্ষ্যেই আজকের এই বিশাল সমাবেশ।তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের তাদের অর্জন গুলোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা প্রচারের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, ‘এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’প্রাথমিক শিক্ষা।

 

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited