বিরল রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জন

মাদারীপুর জেলার রাজৈর পৌর এলাকার আলমদস্তার গ্রামের আ. রাজ্জাক শেখ। তার দুই সন্তান ও এক বোন বিরল রোগে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে খুইয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিও। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

পেশায় রং মিস্ত্রী রাজ্জাকের একমাত্র ছেলে আব্বাসের একটি পা অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। শরীর জুড়ে আঁচিলে ভরা। এছাড়া তার মেয়ে প্রতিবন্ধী। ২৪ বছর ধরে বড় মেয়ে বিছানায়। আর বোন ৪০ বছর ধরে প্রতিবন্ধী জীবন কাটাচ্ছে জরাজীর্ণ বিছানায়। তার ১৭ বছর বয়সে আরেক মেয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন বছর আগে।

 

রাজ্জাক শেখ জানান, ছেলেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামী-দামী সব হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছেন। কিন্তু উন্নতির পরিবর্তে দিনদিন অবনতির হয়ে ডান পা ফুলে হাতির পায়ের মতো হয়েছে। নির্গত হচ্ছে এক ধরণের রস। ছেলেটির সারা শরীর জুড়েই হয়েছে ছোট বড় হাজারো আঁচিল। বয়সের চেয়ে শারীরিক গঠন ছোট। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিজমা সবই গেছে। আছে শুধু বাড়িটুকু। তাই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

 

প্রতিবেশী হালিমা শেখ বলেন, ‘এই পরিবারের তিন ভাই-বোন ও তাদের এক ফুফু শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েই জন্ম নেয়। এক বোন চিকিৎসার অভাবে ৩ বছর আগে মারা গেছে। একমাত্র ছেলে আব্বাসের যে কি রোগ হয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না। ওর চিকিৎসার জন্য ওর বাবা অনেক টাকা খরচ করতে গিয়ে জমিজমা হারিয়ে এখন নিঃস্ব।

 

আরেক প্রতিবেশী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ছোট্ট আব্বাসের ডান পা ফুলে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। সারা শরীরে ঘায়ের মত হয়েছে। শরীরে দুর্গন্ধ শুরু হয়েছে। আগে ছেলেটি স্কুলে গেলেও এখন আর যেতে পারছেনা। ওর সুচিকিৎসা দেওয়া এই গরীব পরিবারের পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী আব্বাসকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।

 

আব্বাসের মা আলপনা বেগম বলেন, ‘ঘরে তিনটি মানুষ মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমার স্বামী রং মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেই হিমশিম খায়। ওদের চিকিৎসার জন্য জমিজমা বিক্রি করেছি। অনেক টাকা ধারকর্জ করেছি। এখন এই বাড়িটুকুই আছে। আমরা এখন কি করবো জানি না। সরকার যদি আমাগো সাহায্য করতো তাইলে আমাগো একমাত্র ছেলে আব্বাস মনে হয় সুস্থ হইয়া যাইতো।

 

বিরল রোগে আক্রান্ত আব্বাস শেখ বলেন, ‘আমার পা দিন দিন ফুলে মোটা হচ্ছে আর সারা শরীরে গোটা গোটা হচ্ছে। আবার পা থেকে দুর্গন্ধ রস বের হচ্ছে। তাই স্কুলেও যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমার অনেক ইচ্ছা হয় লেখাপড়া করার। অন্য সবার মত খেলাধুলা করার। কিন্তু আমার দিন দিন যে অবস্থা হচ্ছে জানি না কি হবে। আমার বাঁচতে খুব ইচ্ছা করে। আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই।

 

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মন্ডল বলেন, ‘আব্বাস যে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছে এটাকে আসলে এ্যালিফেন্ট ডিজিজ রোগ বলা হয়। তার পা দেখতে অনেকটা হাতির পায়ের মত। এই রোগটি যদিও জটিল, কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালে বিশেষ ধরণের অপারেশন ও ঔষধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব। আমি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আব্বাস ও ওদের পরিবারের আরো দুই জনের শারীরিক অবস্থা দেখাবো। কর্তৃপক্ষের সাথে ওদের চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলবো।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» মৌলভীবাজারে ৩য় ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস পালিত

» খাটো জাতের নারিকেল চাষে দশমিনায় কৃষক ঝুঁকছে

» দশমিনা উপজেলার সবুজবাগ এলাকায় দশমিনায় শিশুকে পিটিয়ে আহত

» সকল দপ্তরে জয় বাংলা স্লোগানে প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করা হোক: মোঃ দুলাল মিয়া

» ফখরুল-রিজভীসহ ১৩৫ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় ২টি মামলা

» জামিন হয়নি খালেদা জিয়ার যা বললেন তার আইনজীবী

» রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার জন্মদিন পালনকারী ওসি মোস্তফাকে প্রত্যাহার

» মিসেস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’র মুকুট জিতলেন উর্বী ইসলাম

» এমপি পারভীন হক সিকদার’র পক্ষ থেকে দুঃস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও শীতবস্ত্র বিতরণ

» র‌্যাব-৬, সিপিসি-২’র সফল অভিযানে মহেশপুরে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিরল রোগে আক্রান্ত মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

মাদারীপুর জেলার রাজৈর পৌর এলাকার আলমদস্তার গ্রামের আ. রাজ্জাক শেখ। তার দুই সন্তান ও এক বোন বিরল রোগে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে খুইয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিও। তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

 

পেশায় রং মিস্ত্রী রাজ্জাকের একমাত্র ছেলে আব্বাসের একটি পা অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। শরীর জুড়ে আঁচিলে ভরা। এছাড়া তার মেয়ে প্রতিবন্ধী। ২৪ বছর ধরে বড় মেয়ে বিছানায়। আর বোন ৪০ বছর ধরে প্রতিবন্ধী জীবন কাটাচ্ছে জরাজীর্ণ বিছানায়। তার ১৭ বছর বয়সে আরেক মেয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন বছর আগে।

 

রাজ্জাক শেখ জানান, ছেলেকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামী-দামী সব হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছেন। কিন্তু উন্নতির পরিবর্তে দিনদিন অবনতির হয়ে ডান পা ফুলে হাতির পায়ের মতো হয়েছে। নির্গত হচ্ছে এক ধরণের রস। ছেলেটির সারা শরীর জুড়েই হয়েছে ছোট বড় হাজারো আঁচিল। বয়সের চেয়ে শারীরিক গঠন ছোট। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিজমা সবই গেছে। আছে শুধু বাড়িটুকু। তাই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

 

প্রতিবেশী হালিমা শেখ বলেন, ‘এই পরিবারের তিন ভাই-বোন ও তাদের এক ফুফু শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েই জন্ম নেয়। এক বোন চিকিৎসার অভাবে ৩ বছর আগে মারা গেছে। একমাত্র ছেলে আব্বাসের যে কি রোগ হয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না। ওর চিকিৎসার জন্য ওর বাবা অনেক টাকা খরচ করতে গিয়ে জমিজমা হারিয়ে এখন নিঃস্ব।

 

আরেক প্রতিবেশী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ছোট্ট আব্বাসের ডান পা ফুলে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। সারা শরীরে ঘায়ের মত হয়েছে। শরীরে দুর্গন্ধ শুরু হয়েছে। আগে ছেলেটি স্কুলে গেলেও এখন আর যেতে পারছেনা। ওর সুচিকিৎসা দেওয়া এই গরীব পরিবারের পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী আব্বাসকে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।

 

আব্বাসের মা আলপনা বেগম বলেন, ‘ঘরে তিনটি মানুষ মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত। আমার স্বামী রং মিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেই হিমশিম খায়। ওদের চিকিৎসার জন্য জমিজমা বিক্রি করেছি। অনেক টাকা ধারকর্জ করেছি। এখন এই বাড়িটুকুই আছে। আমরা এখন কি করবো জানি না। সরকার যদি আমাগো সাহায্য করতো তাইলে আমাগো একমাত্র ছেলে আব্বাস মনে হয় সুস্থ হইয়া যাইতো।

 

বিরল রোগে আক্রান্ত আব্বাস শেখ বলেন, ‘আমার পা দিন দিন ফুলে মোটা হচ্ছে আর সারা শরীরে গোটা গোটা হচ্ছে। আবার পা থেকে দুর্গন্ধ রস বের হচ্ছে। তাই স্কুলেও যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমার অনেক ইচ্ছা হয় লেখাপড়া করার। অন্য সবার মত খেলাধুলা করার। কিন্তু আমার দিন দিন যে অবস্থা হচ্ছে জানি না কি হবে। আমার বাঁচতে খুব ইচ্ছা করে। আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই।

 

রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মন্ডল বলেন, ‘আব্বাস যে জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছে এটাকে আসলে এ্যালিফেন্ট ডিজিজ রোগ বলা হয়। তার পা দেখতে অনেকটা হাতির পায়ের মত। এই রোগটি যদিও জটিল, কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় হাসপাতালে বিশেষ ধরণের অপারেশন ও ঔষধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা সম্ভব। আমি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আব্বাস ও ওদের পরিবারের আরো দুই জনের শারীরিক অবস্থা দেখাবো। কর্তৃপক্ষের সাথে ওদের চিকিৎসার ব্যাপারে কথা বলবো।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited