কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের কাছে জেএমবি সদস্যের আত্মসমর্পণ

Spread the love

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের নিকট ১ জন জেএমবি জঙ্গি সদস্যের আত্মসমর্পণ  করছে। আত্মসমর্পনকারী জঙ্গি সদস্য হল, নামঃ মোঃ সালাউদ্দীন আহম্মেদ সুজন(৩৪), পিতা-মোঃআব্দুল হালিম মোল্লা, মাতা হোসনে আরা খাতুন, সাং-দাঁদপুর, পোষ্ট+থানা-বাঘা, জেলা-রাজশাহী। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সি. সহকারী পরিচালকলিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং পক্ষে পরিচালক সালাউদ্দীন তার নিজ এলাকায় ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত সাধারণ লাইনে পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে কৃষি কাজ এবং নিজ এলাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের কাজ করতেন। পারিবারিকভাবে তিনি ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন এবং নিয়ম কানুনের মধ্যে বড় হন। পারিবারিক ভাবে তিনি হানাফি সম্প্রদায়ের নিয়ম কানুন মেনে চললেও মাঝে কিছুদিন আলহে-হাদিস অনুসরণ করেন।32

গত মার্চ ২০১৫ সালে তিনি তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় খাজানগরস্থ সুজন রাইচ মিলে ম্যানেজার পদে যোগদান করেন। রাইচ মিলে চাকুরীরত অবস্থায় উক্ত এলাকার আজিজুল, সাইজুদ্দীন, সাইফুল, জয়নাল ইত্যাদি লোকজনের সাথে পরিচয় হয়। এদের সাথে চলাফেরার সূত্র ধরে সালাউদ্দীন খাজানগরের বিভিন্ন মসজিদে গমন করতেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতেন। এভাবে চলতে থাকলে আনুমানিক মে ২০১৫ সালে এরা সম্মিলিতভাবে একটি সমিতি গড়ে তোলে। যেখানে সবাই সাপ্তাহিক ৫০ টাকা করে চাঁদা জমা দিত। আজিজুলদের পারিবারিক একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় তারা সাপ্তাহিকভাবে মিটিং করত এবং সেখানে তারা ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় ও সমিতির চাঁদা লেনদেনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করত। তারা সেসময় মুফতি জসিম উদ্দীন রহমানী সহ বিভিন্ন আলেম উলামাদের জিহাদী বক্তব্য সম্বিলিত পেনড্রাইভ/মেমোরি কার্ড আদান প্রদান করত এবং বক্তব্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করত। সালাউদ্দীন এসমস্ত বক্তব্য শুনে উদ্ভুদ্ধ হয় এবং তার মধ্যে জিহাদি মনোভাবের সৃষ্টি হয়। এভাবে ৪/৫ মাস চলার পর আজিজুল সহ অন্যান্যরা সালাউদ্দীনকে ধর্মীয় উগ্রপন্থার মাধ্যমে জিহাদের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। এছাড়াও দেশের প্রচলিত আইনের শাসনের অব্যবস্থাপনার কথা বলে, সালাউদ্দীনকে তারা জিহাদের পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা নিজেদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে পরিচয় দেয় এবং জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে বলে। প্রাথমিকভাবে জঙ্গি তথা উগ্রপন্থায় আদর্শিত হয়ে, সালাউদ্দীন কিছু দিন এদের সাথে চলাফেরা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আজিজুল, সাইজুদ্দীন, জয়নালসহ বাকিরা যখন সালাউদ্দীনকে চূড়ান্তভাবে জিহাদের জন্য এবং মানুষ হত্যার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসার জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে, তখন সে খানিকটা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে এবং তার জমা টাকা নিয়ে সমিতি থেকে বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সে তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে নিজেকে খানিকটা আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে।

 

গত ২০ মে ২০১৬ ইং তারিখে কুষ্টিয়াতে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে ডাঃ সানাউর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ নৃশংস জঙ্গি হামলা সহ সারা দেশের অন্যান্য জঙ্গি হামলার বৃদ্ধি পেলে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করে জঙ্গি বিরোধী সাড়াশি অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে জঙ্গিবাদে জড়িত এবং জঙ্গি ভাবধারায় আদর্শিত অনেককেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। এ সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় সবাইকে চিহ্নিত করা হয় এবং আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে ধৃত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। র‌্যাব-পুলিশের সাড়াশি অভিযানের এক পর্যায়ে জঙ্গি ভাবধারায় দীক্ষিত সালাউদ্দীনের সহযোগিরা আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক ধৃত হতে থাকলে সালাউদ্দীন ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন এবং কুষ্টিয়া থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের মত অন্ধকার পথ থেকে সরে এসে আত্মসমপর্ন করলে তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে বলে সরকার কর্তৃক ঘোষনা দেয়া হয়। সরকারের এই সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী ঘোষণায় অনেকেই আত্মসমর্পনে উদ্ধুদ্ধ হয় এবং বেশ কিছু জঙ্গী এ অন্ধকার পথ ছেড়ে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পন করে। সালাউদ্দীন নিজেও সরকারের এ আহবানে সাড়া দিয়ে জঙ্গিবাদ তথা ধর্মীয় উগ্রবাদের ও সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে আসার স্বপ্ন নিয়ে র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পন করার বিষয়টি ভাবতে থাকে। সে বুঝতে পারে আত্মগোপন কোন সমাধান নয়। তাই কৃতকর্মের বিষয়টি সে পরিবারকে অবগত করলে, পরিবারের সদস্যরা তাকে আত্মসমর্পনে উৎসাহিত করে র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে। র‌্যাব-১২ বিষয়টি নজরদারিতে নিয়ে আত্মসমপর্নের পথকে সুগম করে দেয়। ফলে জঙ্গী সালাউদ্দিন আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়ে র‌্যাবের নিকট আত্মসমপর্ন করছে।

 

সালাউদ্দীন তার নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আত্মসমর্পনের মত একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। জঙ্গীবাদ ইসলামের সঠিক পথ নয় বরং জঙ্গীবাদ ইসলামকে কুলষিত করছে। বিশ্বের শান্তি প্রিয় জনগোষ্ঠির কাছে আমাদের প্রিয় শান্তির ধর্ম ইসলামকে ক্রমান¦য়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমাদের লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করছে এই জঙ্গীবাদ। দেশকে পশ্চাৎপদ করে রাখার এই গভীর ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে আজ সরকার, আইন শৃংখলা বাহিনী ও জনগন ঐক্যবদ্ধ। মহাপরিচালক, র‌্যাব ফোর্সেস তার বক্তব্য অনেক বারই উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের ঘোষনা মোতাবেক কোন জঙ্গি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে র‌্যাবের পক্ষ হতে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাই মহাপরিচালক, র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ হতে আজকে আত্মসমর্পনকারী জঙ্গিকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হচ্ছে।

 

র‌্যাবের জঙ্গিবাদ তথা সন্ত্রাস বিরোধী এই কার্যক্রম আপনাদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সবসময়ই দেশ মাতৃকার সেবায় দৃঢ় প্রত্যয়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ফেসবুক কুরআন প্রতিযোগীতার জুলাই’১৯ মাসের চ্যাম্পিয়ন হলেন ঢাকা মুহাম্মদপুরের মমতা ইসলাম

» প্রসূতির গোপনাঙ্গে সুই-সুতা রেখেই সেলাই!

» ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী: বরিশালে আরো ১ জনের মৃত্যু

» কক্সবাজার এবং খাগড়াছড়ির আশ্রয় শিবিরের কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি না

» জন্মদিনে নিজের পাঁচটি গোপন কথা ফাঁস করলেন পূজা

» বেনাপোল বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশসহ চোর আটক

» নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন দ্বীপ ও চরে থাকা সাধারণ মানুষ

» কুলাউড়ায় ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

» কবরে শুয়ে যেন স্বাধীন বাংলার স্বাদ নিতে পারি- লিপি ওসমান

» কলাপাড়ায় খালে অবৈধ বাঁধ ও স্লুইজ গেট দখল মুক্ত করতে অভিযান শুরু

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৭ই ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের কাছে জেএমবি সদস্যের আত্মসমর্পণ

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের নিকট ১ জন জেএমবি জঙ্গি সদস্যের আত্মসমর্পণ  করছে। আত্মসমর্পনকারী জঙ্গি সদস্য হল, নামঃ মোঃ সালাউদ্দীন আহম্মেদ সুজন(৩৪), পিতা-মোঃআব্দুল হালিম মোল্লা, মাতা হোসনে আরা খাতুন, সাং-দাঁদপুর, পোষ্ট+থানা-বাঘা, জেলা-রাজশাহী। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর প্রেস বিজ্ঞপ্তি সি. সহকারী পরিচালকলিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং পক্ষে পরিচালক সালাউদ্দীন তার নিজ এলাকায় ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত সাধারণ লাইনে পড়ালেখা করেন। পরবর্তীতে কৃষি কাজ এবং নিজ এলাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের কাজ করতেন। পারিবারিকভাবে তিনি ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন এবং নিয়ম কানুনের মধ্যে বড় হন। পারিবারিক ভাবে তিনি হানাফি সম্প্রদায়ের নিয়ম কানুন মেনে চললেও মাঝে কিছুদিন আলহে-হাদিস অনুসরণ করেন।32

গত মার্চ ২০১৫ সালে তিনি তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় খাজানগরস্থ সুজন রাইচ মিলে ম্যানেজার পদে যোগদান করেন। রাইচ মিলে চাকুরীরত অবস্থায় উক্ত এলাকার আজিজুল, সাইজুদ্দীন, সাইফুল, জয়নাল ইত্যাদি লোকজনের সাথে পরিচয় হয়। এদের সাথে চলাফেরার সূত্র ধরে সালাউদ্দীন খাজানগরের বিভিন্ন মসজিদে গমন করতেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতেন। এভাবে চলতে থাকলে আনুমানিক মে ২০১৫ সালে এরা সম্মিলিতভাবে একটি সমিতি গড়ে তোলে। যেখানে সবাই সাপ্তাহিক ৫০ টাকা করে চাঁদা জমা দিত। আজিজুলদের পারিবারিক একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় তারা সাপ্তাহিকভাবে মিটিং করত এবং সেখানে তারা ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় ও সমিতির চাঁদা লেনদেনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করত। তারা সেসময় মুফতি জসিম উদ্দীন রহমানী সহ বিভিন্ন আলেম উলামাদের জিহাদী বক্তব্য সম্বিলিত পেনড্রাইভ/মেমোরি কার্ড আদান প্রদান করত এবং বক্তব্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করত। সালাউদ্দীন এসমস্ত বক্তব্য শুনে উদ্ভুদ্ধ হয় এবং তার মধ্যে জিহাদি মনোভাবের সৃষ্টি হয়। এভাবে ৪/৫ মাস চলার পর আজিজুল সহ অন্যান্যরা সালাউদ্দীনকে ধর্মীয় উগ্রপন্থার মাধ্যমে জিহাদের জন্য প্রস্তুত হতে বলে। এছাড়াও দেশের প্রচলিত আইনের শাসনের অব্যবস্থাপনার কথা বলে, সালাউদ্দীনকে তারা জিহাদের পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা নিজেদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে পরিচয় দেয় এবং জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে বলে। প্রাথমিকভাবে জঙ্গি তথা উগ্রপন্থায় আদর্শিত হয়ে, সালাউদ্দীন কিছু দিন এদের সাথে চলাফেরা করে। কিন্তু পরবর্তীতে আজিজুল, সাইজুদ্দীন, জয়নালসহ বাকিরা যখন সালাউদ্দীনকে চূড়ান্তভাবে জিহাদের জন্য এবং মানুষ হত্যার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসার জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে, তখন সে খানিকটা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে এবং তার জমা টাকা নিয়ে সমিতি থেকে বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সে তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে নিজেকে খানিকটা আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে।

 

গত ২০ মে ২০১৬ ইং তারিখে কুষ্টিয়াতে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে ডাঃ সানাউর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ নৃশংস জঙ্গি হামলা সহ সারা দেশের অন্যান্য জঙ্গি হামলার বৃদ্ধি পেলে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করে জঙ্গি বিরোধী সাড়াশি অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে জঙ্গিবাদে জড়িত এবং জঙ্গি ভাবধারায় আদর্শিত অনেককেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। এ সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনার সাথে জড়িত প্রায় সবাইকে চিহ্নিত করা হয় এবং আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে ধৃত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। র‌্যাব-পুলিশের সাড়াশি অভিযানের এক পর্যায়ে জঙ্গি ভাবধারায় দীক্ষিত সালাউদ্দীনের সহযোগিরা আইন শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক ধৃত হতে থাকলে সালাউদ্দীন ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন এবং কুষ্টিয়া থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের মত অন্ধকার পথ থেকে সরে এসে আত্মসমপর্ন করলে তাদেরকে পুনর্বাসন করা হবে বলে সরকার কর্তৃক ঘোষনা দেয়া হয়। সরকারের এই সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী ঘোষণায় অনেকেই আত্মসমর্পনে উদ্ধুদ্ধ হয় এবং বেশ কিছু জঙ্গী এ অন্ধকার পথ ছেড়ে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পন করে। সালাউদ্দীন নিজেও সরকারের এ আহবানে সাড়া দিয়ে জঙ্গিবাদ তথা ধর্মীয় উগ্রবাদের ও সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে আসার স্বপ্ন নিয়ে র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পন করার বিষয়টি ভাবতে থাকে। সে বুঝতে পারে আত্মগোপন কোন সমাধান নয়। তাই কৃতকর্মের বিষয়টি সে পরিবারকে অবগত করলে, পরিবারের সদস্যরা তাকে আত্মসমর্পনে উৎসাহিত করে র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে। র‌্যাব-১২ বিষয়টি নজরদারিতে নিয়ে আত্মসমপর্নের পথকে সুগম করে দেয়। ফলে জঙ্গী সালাউদ্দিন আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়ে র‌্যাবের নিকট আত্মসমপর্ন করছে।

 

সালাউদ্দীন তার নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আত্মসমর্পনের মত একটি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে আমরা মনে করি। জঙ্গীবাদ ইসলামের সঠিক পথ নয় বরং জঙ্গীবাদ ইসলামকে কুলষিত করছে। বিশ্বের শান্তি প্রিয় জনগোষ্ঠির কাছে আমাদের প্রিয় শান্তির ধর্ম ইসলামকে ক্রমান¦য়ে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমাদের লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করছে এই জঙ্গীবাদ। দেশকে পশ্চাৎপদ করে রাখার এই গভীর ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে আজ সরকার, আইন শৃংখলা বাহিনী ও জনগন ঐক্যবদ্ধ। মহাপরিচালক, র‌্যাব ফোর্সেস তার বক্তব্য অনেক বারই উল্লেখ করেছেন যে, সরকারের ঘোষনা মোতাবেক কোন জঙ্গি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে র‌্যাবের পক্ষ হতে পূর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাই মহাপরিচালক, র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ হতে আজকে আত্মসমর্পনকারী জঙ্গিকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হচ্ছে।

 

র‌্যাবের জঙ্গিবাদ তথা সন্ত্রাস বিরোধী এই কার্যক্রম আপনাদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সবসময়ই দেশ মাতৃকার সেবায় দৃঢ় প্রত্যয়ী।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited