স্বাধীনতার এই মাসে আমাদের অঙ্গীকার

Spread the love

বাংলাদেশের মানুষ চিরদিন স্বাধীনচেতা। ঐতিহাসিক কাল থেকেই এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে এই জাতি বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারত বর্ষ ১৯৪৭ সালে বিভক্ত হয় এবং পাকিস্তান নামক একটি অকার্যকর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসন ব্যবস্থায় বাঙালীদের প্রতিনিধিত্ব যথাযথ স্থান পায়নি। তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোতে বাঙালীদের অংশীদারিত্বের দাবি উঠতে থাকে। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে হক-ভাসানীর যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও ১৯৫৭ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা কেড়ে নেয়।’৬২ সালে কুখ্যাত শিক্ষা নীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হয়। পাক সরকার পর্যায়ক্রমে বাঙালীদের শোষণ ও নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। বাঙালীদের স্বাধীনতা, জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরিফকে নিয়ে ‘নিউক্লিয়াস’ নামে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন। ‘নিউক্লিয়াস’ পরবর্তীতে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বি. এল. এফ নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে শেখ ফজলুল হক মনি ও তোফায়েল আহমেদকে নিইক্লিয়াসের সদস্য করা হয়। নিইক্লিয়াসই ৬ দফা আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার আন্দোলনসহ বাঙালীকে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য পর্যায়ক্রমে উদ্বুদ্ধ করে। ‘নিউক্লিয়াস’ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরী, জাতীয় সংগীত, স্বাধীনতার ইসতেহার প্রণয়ন এবং ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে ‘এ বারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ নিউক্লিয়াসের অবদান বলেই ইতিহাস স্বীকৃত। এসময় পাবনার কৃতি সন্তান মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ছিলেন নিউক্লিয়াসের কনিষ্টতম সদস্য। যিনি স্বাধীনতাকালীন সময় বৃহত্তর পাবনার মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময় কয়েক মাস পাবনা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

নিউক্লিয়াসই ছাত্র যুব সমাজকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে সংগঠিত করে তোলে। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও স্বাধীনতা উত্তরকালে দলীয় সরকার গঠনের কারণে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে যে দল বা যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন, তারা দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তা আধুনিক বিশ্বে গ্লোবাল ভিলেজেরই সুফল। নতুন প্রজন্মকে ঘটা করে বুঝাবার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। তারা সব জানেন এবং বুঝেন। তার চেয়ে বড় কথা যারা যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। দেশের উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের পরিবার ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন দুর্নীতির মাধ্যমে বেশি করেছে বলে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত।

 

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বির্সজন দিয়ে প্রণীত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান। এই ক্রটিপূর্ণ সংবিধানের কারণেই দেশে আজ দুর্নীতিবাজ আমলা, ব্যবসায়ী, মাসলম্যান, অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে। যার কারণে দেশে আজ রাজনীতির নামে হানাহানি, প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশলে কতিপয় অসৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে। দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে চলছে দলীয়তন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিতন্ত্র। সীমাহীন দুর্নীতি আর অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দেশে একাধিক বার সামরিক শাসন জারি হয়েছে। ব্রিটিশ-পাকিস্তানী ঔপনিবেসিক আইন এখনো দেশে বহাল রয়েছে। যদিও কিছু আইন সংশোধন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুল আলম খান বলেছেন,“যে আইন ও বিধির দ্বারা বিদেশি শাসকেরা শাসন করে, সে আইন ও বিধিকে বদলীয়ে নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই স্বাধীনতার মূল কথা। বিদেশি শাসক বদলীয়ে দেশীয় শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে ঔপনিবেসিক আমলের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা জনগণের জন্য ‘এক ধরণের পরাধীনতা’। যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘অভ্যন্তরীণ পরাধীনতা’ “(Internal Colonialism)”। সংবিধান মোতাবেক জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস হলেও শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশীদারিত্ব আজ নেই বললেই চলে। প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন আসলেই বিভিন্ন হিংসাত্বক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে প্রাণ হারায় সাধারণ মানুষ, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অগ্নিদগ্ধ ও বিনষ্ট হয়। এই পরিস্থিতিতে জনগণের মুক্তির জন্য জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। এককেন্দ্রীকতা, পরিবারতন্ত্র, ও জেলাতন্ত্রের কারণে পেশাজীবী, কর্মজীবী, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে কোন সুফল বয়ে আনে না। এই জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, সেই বাংলার জন্য যেখানে ক্ষুধা, বেকারত্ব থাকবে না। যেখানে কেউ বঞ্চিত হবে না। প্রতিটি নাগরিক তাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা পাবে এবং প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব ক্ষেত্রে তার যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্যই আজ প্রয়োজন ফেডারেল পদ্ধতির কেন্দ্রীয় সরকার, নি¤œকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সমন্বয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং ৭টি হতে ৯টি প্রদেশ গঠন। প্রতিটি প্রদেশে প্রাদেশিক আইন সভা ও প্রাদেশিক সরকার গঠন এবং প্রতিটি প্রদেশে হাইকোর্ট বিভাগ স্থাপন করা। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করা। এর মাধ্যমেই আমাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বর্তমানের এককেন্দ্রীকতা, পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতি মুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

 

তাই আসুন দেশ ও জাতির স্বার্থে সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য উক্ত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাই এবং আমাদের অসমাপ্ত কাজ নতুন প্রজন্মকে সমাপ্ত করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করি। লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বরগুনার পাথরঘাটায় গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

» নোবেলের আসল চেহারা ফাঁস করলো কলকাতা মিডিয়া!

» এবার ভারতে ইসলাম গ্রহণের হিড়িক

» গাজীপুরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় ৩৭ যুবক-যুবতীকে গ্রেফতার

» আসামি ধরতে এবার ‘হুজুর’ সাজলেন পুলিশ

» মনের সুখই আসল সুখ বা অপরকে সুখী করানোই প্রকৃত সুখ

» কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশী নিহত

» বেনাপোল চেকপোস্ট নারীর ব্যাগে মিলল ৪০ হাজার ডলার ও ১৩ লাখ রুপি

» বাংলাদেশের নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো

» প্রতিদিনের কথা এবং দৈনিক আলোকিত সকাল এ প্রকাশিত রেলওয়ে পুলিশ সম্পর্কিত সংবাদটি ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার এই মাসে আমাদের অঙ্গীকার

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

বাংলাদেশের মানুষ চিরদিন স্বাধীনচেতা। ঐতিহাসিক কাল থেকেই এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে এই জাতি বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারত বর্ষ ১৯৪৭ সালে বিভক্ত হয় এবং পাকিস্তান নামক একটি অকার্যকর রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসন ব্যবস্থায় বাঙালীদের প্রতিনিধিত্ব যথাযথ স্থান পায়নি। তখন পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামোতে বাঙালীদের অংশীদারিত্বের দাবি উঠতে থাকে। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে হক-ভাসানীর যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও ১৯৫৭ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা কেড়ে নেয়।’৬২ সালে কুখ্যাত শিক্ষা নীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হয়। পাক সরকার পর্যায়ক্রমে বাঙালীদের শোষণ ও নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। এ অবস্থা বেশি দিন চলতে দেয়া যায় না। বাঙালীদের স্বাধীনতা, জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে মেধাবী ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও কাজী আরিফকে নিয়ে ‘নিউক্লিয়াস’ নামে একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন। ‘নিউক্লিয়াস’ পরবর্তীতে বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা বি. এল. এফ নামে পরিচিত হয়। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে শেখ ফজলুল হক মনি ও তোফায়েল আহমেদকে নিইক্লিয়াসের সদস্য করা হয়। নিইক্লিয়াসই ৬ দফা আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার আন্দোলনসহ বাঙালীকে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য পর্যায়ক্রমে উদ্বুদ্ধ করে। ‘নিউক্লিয়াস’ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরী, জাতীয় সংগীত, স্বাধীনতার ইসতেহার প্রণয়ন এবং ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে ‘এ বারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ নিউক্লিয়াসের অবদান বলেই ইতিহাস স্বীকৃত। এসময় পাবনার কৃতি সন্তান মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ছিলেন নিউক্লিয়াসের কনিষ্টতম সদস্য। যিনি স্বাধীনতাকালীন সময় বৃহত্তর পাবনার মুজিব বাহিনীর প্রধান এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময় কয়েক মাস পাবনা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

নিউক্লিয়াসই ছাত্র যুব সমাজকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে সংগঠিত করে তোলে। স্বাধীনতা অর্জিত হলেও স্বাধীনতা উত্তরকালে দলীয় সরকার গঠনের কারণে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে যে দল বা যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন, তারা দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তা আধুনিক বিশ্বে গ্লোবাল ভিলেজেরই সুফল। নতুন প্রজন্মকে ঘটা করে বুঝাবার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। তারা সব জানেন এবং বুঝেন। তার চেয়ে বড় কথা যারা যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। দেশের উন্নয়নের চেয়ে নিজেদের পরিবার ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন দুর্নীতির মাধ্যমে বেশি করেছে বলে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত।

 

মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে বির্সজন দিয়ে প্রণীত হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান। এই ক্রটিপূর্ণ সংবিধানের কারণেই দেশে আজ দুর্নীতিবাজ আমলা, ব্যবসায়ী, মাসলম্যান, অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে। যার কারণে দেশে আজ রাজনীতির নামে হানাহানি, প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশলে কতিপয় অসৎ নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে। দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে চলছে দলীয়তন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিতন্ত্র। সীমাহীন দুর্নীতি আর অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কারণে দেশে একাধিক বার সামরিক শাসন জারি হয়েছে। ব্রিটিশ-পাকিস্তানী ঔপনিবেসিক আইন এখনো দেশে বহাল রয়েছে। যদিও কিছু আইন সংশোধন করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুল আলম খান বলেছেন,“যে আইন ও বিধির দ্বারা বিদেশি শাসকেরা শাসন করে, সে আইন ও বিধিকে বদলীয়ে নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই স্বাধীনতার মূল কথা। বিদেশি শাসক বদলীয়ে দেশীয় শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে ঔপনিবেসিক আমলের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা জনগণের জন্য ‘এক ধরণের পরাধীনতা’। যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘অভ্যন্তরীণ পরাধীনতা’ “(Internal Colonialism)”। সংবিধান মোতাবেক জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস হলেও শাসন ব্যবস্থায় জনগণের অংশীদারিত্ব আজ নেই বললেই চলে। প্রতিবার জাতীয় নির্বাচন আসলেই বিভিন্ন হিংসাত্বক রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে প্রাণ হারায় সাধারণ মানুষ, রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অগ্নিদগ্ধ ও বিনষ্ট হয়। এই পরিস্থিতিতে জনগণের মুক্তির জন্য জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। এককেন্দ্রীকতা, পরিবারতন্ত্র, ও জেলাতন্ত্রের কারণে পেশাজীবী, কর্মজীবী, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে কোন সুফল বয়ে আনে না। এই জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করি নাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, সেই বাংলার জন্য যেখানে ক্ষুধা, বেকারত্ব থাকবে না। যেখানে কেউ বঞ্চিত হবে না। প্রতিটি নাগরিক তাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা পাবে এবং প্রতিটি মানুষ স্ব স্ব ক্ষেত্রে তার যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্য অর্জনের জন্যই আজ প্রয়োজন ফেডারেল পদ্ধতির কেন্দ্রীয় সরকার, নি¤œকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সমন্বয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং ৭টি হতে ৯টি প্রদেশ গঠন। প্রতিটি প্রদেশে প্রাদেশিক আইন সভা ও প্রাদেশিক সরকার গঠন এবং প্রতিটি প্রদেশে হাইকোর্ট বিভাগ স্থাপন করা। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন করা। এর মাধ্যমেই আমাদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বর্তমানের এককেন্দ্রীকতা, পরিবারতন্ত্র ও দুর্নীতি মুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

 

তাই আসুন দেশ ও জাতির স্বার্থে সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য উক্ত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাই এবং আমাদের অসমাপ্ত কাজ নতুন প্রজন্মকে সমাপ্ত করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করি। লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাবনা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited