কুলাউড়ায় চাঞ্চল্যকর জলাল হত্যার রহস্য উন্মোচন

Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় চাঞ্চল্যকর জলাল হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই। দীর্ঘ ৮ বছর পর জানা গেল সংঘবদ্ধ গাছ চোর চক্রকে আড়াল করতেই সাজানো হয় এই হত্যা নাটক। ওই দিন সঙ্গীয় চোর চক্রের সদস্যদের পরামর্শে জলালের আপন দু’ ভাই মকজ্জিল ও মকদ্দিছ এই হত্যা নাটকের পরিকল্পনা করে।

 

এবং তাদের ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে স্থানীয় কয়েকজনকে জেলও খাটায়। ৪ বার তদন্ত রির্পোটে মামলার বাদী নিহত জলালের আপন বড় ভাই মকজ্জিল আলীর নারাজির প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পর পিবিআইর তদন্তে বেরিয়ে আসে এই ঘটনার অন্তরালের প্রকৃত রহস্য। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এই তথ্য জানান জেলা পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: তরিকুল ইসলাম।

 

জানা যায়, জেলার কুলাউড়া উপজেলার কেওলাকান্দি বিলের পাড় এলাকার আরজু মিয়ার পুত্র মকজ্জিল আলী (৩৫) গত ২০১০ সালের ১১ মে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১০ সালের  ১০ মে  রাত থেকে তার ছোট ভাই ভিকটিম জলাল (২০) বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করার একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার আরেক ভাই ময়না মিয়া গরু চরাতে গিয়ে তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশের টিলার ঢালুতে লাশ দেখতে পায়। ওই ঘটনায় নিহত জলালের বন্ধু জাবের (২২), পংখী (২৩), মীর (৩৫), শাহিদ (৫৫), রেমান (৬০), মসুদ (৪৫) সহ সন্দেহ ভাজনদের আসামী করে কুলাউড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার এজহারে উল্লেখ করেন, তার মামাতো বোন রোকেয়ার বাড়িতে ভিকটিম সহ আসামীদের যাতায়াত থাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার তদন্তভার পড়ে এসআই মোঃ শফিকুল ইসলামের উপর। তিনি মামলাটি ১৪ মাস তদন্ত করে কোন ক্লো উদঘাটন করতে না পেরে চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। বাদীর নারাজী আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে একে একে কুলাউড়া থানার তথকালিন ওসি আজিজুর রহমান, ওসি মোঃ সেলিম নেওয়াজ ও সিআইডির উপর ন্যাস্ত হয়। সর্বশেষ সিআইডির চুড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধেও বাদী নারাজী আবেদন করলে আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআই মৌলভীবাজারের উপর ন্যস্ত করেন। পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে তদন্তের একপর্যায়ে জানতে পারেন বাদী মকজ্জিল আলীসহ একটি গাছ চোর চক্র এই ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এই পরিকল্পনা করেন।

 

প্রাপ্ত তথ্য ভিত্তিতে ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কুলাউড়া থানার কেওলা কান্দি বিলের পাড়ের আরজু মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া, ইদ্্িরছ কোম্পানীর ছেলে আহাদ মিয়া, মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ছৈয়ব আলীকে গ্রেফতার করেন। আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলার বাদী মোঃ মকজ্জিল আলীকেও গ্রেফতার করা হয়। হত্যার ঘটনাস্থলও চিহ্নিতকরসহ ঘটনায় ব্যবহৃত ঠেলাগাড়ি ও গাছ কাটার করাতও উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদী মোঃ মকজ্জিল আলীসহ গ্রেফতারকৃত আজাদ, আহাদ, ছৈয়ব আলী এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পিবিআই সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ মে রাত ১২টার দিকে রোশন ও আজাদের দুটি ঠেলাগাড়িসহ আজাদ, ছৈয়ব আলী, ভিকটিম জলাল, মকদ্দিছ, রোশন এবং মকজ্জিল চাতলাপুর বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে যায়। সেখানে যাওয়ার পর হরিধন ও মাখন চৌকিদার এর সহায়তায় তারা একটি কড়ই গাছ কাটে। গাছটিকে কয়েক টুকরো করে। গাছের টুকরো গুলো আজাদ ও রোশনের ঠেলাগাড়িতে উঠায়। আজাদের ঠেলাতে ছৈয়ব আলী, নিহত জলাল, আজাদ ও আহাদ ধরে। রোশনের ঠেলাতে মকদ্দিছ, রোশন ও বাদী মোঃ মকজ্জিল আলী ধরে।

 

রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঠেলা চালিয়ে চাতলাপুর রাবার বাগানের কাঁচা রাস্তায় মোকামের আম গাছের ঢালুতে আসলে আজাদের ঠেলার এক্সেল ভেঙ্গে কাটা গাছের অংশ জলালের উপর পড়ে। তখন সকলেই জলালের উপর হতে গাছের অংশ সরায়। এতে জলাল ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর আহত হয়। এই ঘটনার পর প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে মোঃ মকজ্জিল আলী ও মকদ্দিছ জলালকে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে আসার পরই জলাল মারা যায়। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মকজ্জিল আলী ও তার ভাই মকদ্দিছ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে জলালের লাশ তাদের বাড়ির পিছনে টিলার ঢালুতে রাখে। এছাড়া জলাল গুরুত্বর আহত হওয়ার পরেও চোরাইকৃত গাছের লোভ সামলাতে না পেরে ভিকটিমকে চিকিৎসালয়ে না নিয়ে আসামী আজাদ, ছৈয়ব আলী, রোশন ও আহাদ মিলে রোশনের ঠেলাগাড়ি দিয়ে কাটা গাছের অংশ কছমলি পার এলাকার খালিকের বাড়িতে এবং অন্যগুলো হাজীপুর স-মিলে নিয়ে আসে। পরদিন লাশের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্তলে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

 

পংখী, জাবের, মীর, জলিল, রেমান, শাহিদ, মসুদ মিয়াসহ জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী রোকেয়ার বাড়িতে জলালের যাতায়াত নিয়ে অন্তকোন্দলের বিষয়টি উল্লেখ করে বাদী মোঃ মকজ্জিল আলী নিহত জলাল হত্যায় সন্দেহভাজনদের আসামী করে মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বর্তমানে উচ্চ আদালত হতে জামিনে আছেন। এই সাজানো ঘটনার পর থেকে রোকেয়ার প্রবাসী স্বামী দেশে এসে রোকেয়ার সাথে কোন যোগাযোগ না করে অন্যত্র বিবাহ করে। মামলাটির থানা পুলিশের নিকট তদন্তের পর্যায়ে রোকেয়ার বাড়ি সংলগ্ন আকমল আলীকে বাদী মকজ্জিল আলী মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তাকে প্রত্যক্ষ সাক্ষী সাজিয়ে আদালতে একটি এফিটডেভিট দায়ের করে। একইভাবে আকমল আলীর স্ত্রী শাহানাকেও প্রত্যক্ষ সাক্ষী বানানোর চেষ্টা করলে শাহানা রাজী না হলে এই নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ব্রয়লার থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু: নির্মানাধীন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাংচুর

» সংবাদ প্রকাশিত পর থেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকে

» সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ ও ঠিকাদার এর উপর হামলার কারণে বহিষ্কার বান্দরবানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১২ নেতাকর্মী

» নাইক্ষ্যংছড়িতে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালত

» লামায় কিশোর কিশোরীর স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

» বিড়ির উপর বৈষম্যমূলক অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে যশোরের শার্শায় মানববন্ধন

» মৌলভীবাজারে ১৬৪৬ টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

» ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসি এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন

» বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধীকে উদ্ধারে নেমেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিশেষ টিম

» গলাচিপায় জোলেখার বাজারে বেহাল দশা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় চাঞ্চল্যকর জলাল হত্যার রহস্য উন্মোচন

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার: কুলাউড়ায় চাঞ্চল্যকর জলাল হত্যার রহস্য উন্মোচন করল পিবিআই। দীর্ঘ ৮ বছর পর জানা গেল সংঘবদ্ধ গাছ চোর চক্রকে আড়াল করতেই সাজানো হয় এই হত্যা নাটক। ওই দিন সঙ্গীয় চোর চক্রের সদস্যদের পরামর্শে জলালের আপন দু’ ভাই মকজ্জিল ও মকদ্দিছ এই হত্যা নাটকের পরিকল্পনা করে।

 

এবং তাদের ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে স্থানীয় কয়েকজনকে জেলও খাটায়। ৪ বার তদন্ত রির্পোটে মামলার বাদী নিহত জলালের আপন বড় ভাই মকজ্জিল আলীর নারাজির প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পর পিবিআইর তদন্তে বেরিয়ে আসে এই ঘটনার অন্তরালের প্রকৃত রহস্য। পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এই তথ্য জানান জেলা পিবিআই এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদাত হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এর পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: তরিকুল ইসলাম।

 

জানা যায়, জেলার কুলাউড়া উপজেলার কেওলাকান্দি বিলের পাড় এলাকার আরজু মিয়ার পুত্র মকজ্জিল আলী (৩৫) গত ২০১০ সালের ১১ মে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১০ সালের  ১০ মে  রাত থেকে তার ছোট ভাই ভিকটিম জলাল (২০) বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করার একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার আরেক ভাই ময়না মিয়া গরু চরাতে গিয়ে তাদের বাড়ির পশ্চিম পাশের টিলার ঢালুতে লাশ দেখতে পায়। ওই ঘটনায় নিহত জলালের বন্ধু জাবের (২২), পংখী (২৩), মীর (৩৫), শাহিদ (৫৫), রেমান (৬০), মসুদ (৪৫) সহ সন্দেহ ভাজনদের আসামী করে কুলাউড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার এজহারে উল্লেখ করেন, তার মামাতো বোন রোকেয়ার বাড়িতে ভিকটিম সহ আসামীদের যাতায়াত থাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে ওই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার তদন্তভার পড়ে এসআই মোঃ শফিকুল ইসলামের উপর। তিনি মামলাটি ১৪ মাস তদন্ত করে কোন ক্লো উদঘাটন করতে না পেরে চূড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন। বাদীর নারাজী আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে একে একে কুলাউড়া থানার তথকালিন ওসি আজিজুর রহমান, ওসি মোঃ সেলিম নেওয়াজ ও সিআইডির উপর ন্যাস্ত হয়। সর্বশেষ সিআইডির চুড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধেও বাদী নারাজী আবেদন করলে আদালত মামলাটির তদন্তভার পিবিআই মৌলভীবাজারের উপর ন্যস্ত করেন। পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করে তদন্তের একপর্যায়ে জানতে পারেন বাদী মকজ্জিল আলীসহ একটি গাছ চোর চক্র এই ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে এই পরিকল্পনা করেন।

 

প্রাপ্ত তথ্য ভিত্তিতে ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত কুলাউড়া থানার কেওলা কান্দি বিলের পাড়ের আরজু মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া, ইদ্্িরছ কোম্পানীর ছেলে আহাদ মিয়া, মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ছৈয়ব আলীকে গ্রেফতার করেন। আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে এই মামলার বাদী মোঃ মকজ্জিল আলীকেও গ্রেফতার করা হয়। হত্যার ঘটনাস্থলও চিহ্নিতকরসহ ঘটনায় ব্যবহৃত ঠেলাগাড়ি ও গাছ কাটার করাতও উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদী মোঃ মকজ্জিল আলীসহ গ্রেফতারকৃত আজাদ, আহাদ, ছৈয়ব আলী এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পিবিআই সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১০ মে রাত ১২টার দিকে রোশন ও আজাদের দুটি ঠেলাগাড়িসহ আজাদ, ছৈয়ব আলী, ভিকটিম জলাল, মকদ্দিছ, রোশন এবং মকজ্জিল চাতলাপুর বাগানের ১০ নম্বর সেকশনে যায়। সেখানে যাওয়ার পর হরিধন ও মাখন চৌকিদার এর সহায়তায় তারা একটি কড়ই গাছ কাটে। গাছটিকে কয়েক টুকরো করে। গাছের টুকরো গুলো আজাদ ও রোশনের ঠেলাগাড়িতে উঠায়। আজাদের ঠেলাতে ছৈয়ব আলী, নিহত জলাল, আজাদ ও আহাদ ধরে। রোশনের ঠেলাতে মকদ্দিছ, রোশন ও বাদী মোঃ মকজ্জিল আলী ধরে।

 

রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঠেলা চালিয়ে চাতলাপুর রাবার বাগানের কাঁচা রাস্তায় মোকামের আম গাছের ঢালুতে আসলে আজাদের ঠেলার এক্সেল ভেঙ্গে কাটা গাছের অংশ জলালের উপর পড়ে। তখন সকলেই জলালের উপর হতে গাছের অংশ সরায়। এতে জলাল ঘটনাস্থলেই তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর আহত হয়। এই ঘটনার পর প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে মোঃ মকজ্জিল আলী ও মকদ্দিছ জলালকে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়িতে আসার পরই জলাল মারা যায়। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মকজ্জিল আলী ও তার ভাই মকদ্দিছ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে জলালের লাশ তাদের বাড়ির পিছনে টিলার ঢালুতে রাখে। এছাড়া জলাল গুরুত্বর আহত হওয়ার পরেও চোরাইকৃত গাছের লোভ সামলাতে না পেরে ভিকটিমকে চিকিৎসালয়ে না নিয়ে আসামী আজাদ, ছৈয়ব আলী, রোশন ও আহাদ মিলে রোশনের ঠেলাগাড়ি দিয়ে কাটা গাছের অংশ কছমলি পার এলাকার খালিকের বাড়িতে এবং অন্যগুলো হাজীপুর স-মিলে নিয়ে আসে। পরদিন লাশের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্তলে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

 

পংখী, জাবের, মীর, জলিল, রেমান, শাহিদ, মসুদ মিয়াসহ জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী রোকেয়ার বাড়িতে জলালের যাতায়াত নিয়ে অন্তকোন্দলের বিষয়টি উল্লেখ করে বাদী মোঃ মকজ্জিল আলী নিহত জলাল হত্যায় সন্দেহভাজনদের আসামী করে মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বর্তমানে উচ্চ আদালত হতে জামিনে আছেন। এই সাজানো ঘটনার পর থেকে রোকেয়ার প্রবাসী স্বামী দেশে এসে রোকেয়ার সাথে কোন যোগাযোগ না করে অন্যত্র বিবাহ করে। মামলাটির থানা পুলিশের নিকট তদন্তের পর্যায়ে রোকেয়ার বাড়ি সংলগ্ন আকমল আলীকে বাদী মকজ্জিল আলী মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে তাকে প্রত্যক্ষ সাক্ষী সাজিয়ে আদালতে একটি এফিটডেভিট দায়ের করে। একইভাবে আকমল আলীর স্ত্রী শাহানাকেও প্রত্যক্ষ সাক্ষী বানানোর চেষ্টা করলে শাহানা রাজী না হলে এই নিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহের এক পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited