নারায়ণগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে হত্যার বর্ণনা ঘাতকের মুখে

Spread the love

কুয়াকাটা নিউজ:- রোকসানা আক্তার। ফুটফুটে সুন্দর একটি শিশু। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। কতইবা বয়স হবে। বাবা-মায়ের খুব আদরের সন্তান। প্রতিদিনের মত স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ছুটির পর আবার বাসায় ফিরবে, এমনটাই হবার কথা। কিন্তু সে ফিরে আসেনি। ৬ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয় রোকসানার বাবা আসরাফুল ইসলামের কাছে। তিনি টাকা দিতে রাজিও হন। দুইদিন পর মেয়েকে ফেরত পেয়েছেন, তবে জীবিত নয়, মৃত। বেড়ানোর কথা বলে কথিত দুলাভাই রায়হান কবির সোহাগ রোকসানাকে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। এসময় চিৎকার চেঁচামেচি করলে নরপিচাশ রোকসানার হাত-পা ও মুখ বেধে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। পরে একটি বস্তায় ভরে হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় রোকসানার লাশ একটি ব্রিজের ঢালে ফেলে দেয়। ঘাতক রায়হান নিজের দোষ স্বীকার করে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরআগে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ ২২ টি হোসেন গার্ডেন রোড এলাকার কবির হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার সকালে এক প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তবে স্কুল ছাত্রী রোকসানাকে উদ্ধারে পুলিশের চরম গাফলতি ছিল। পুলিশ কার্যকরী ভুমিকা নিয়ে হয়তো তাকে উদ্ধার করতে পারতো। কিন্তু পুলিশ তা করেনি। এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের। কারণ রোকসানাকে অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন ৬ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ উদাসীন থাকে।

 

অভিযোগ আছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা সামারী বাণিজ্যে বেশি ব্যস্ত থাকে। কাকে ধরবে কাকে ছাড়বে, কোথা থেকে অবৈধ আয় করবে, কোথা থেকে বেশি মাসোহারা পাওয়া যায় এই হিসেব নিয়েই মুশগুল থাকে তারা। ফলে কার্যকরী নিরাপত্তা সেবা থেকে বঞ্চিত সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) মো. শরফুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ প্রথমে রায়হান কবির সোহাগের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্কুল ছাত্রী রোকসানাকে অপহরণ করে নিজ বাসায় নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পরে নিহত রোকসানার হাত পা বেঁধে বস্তায় ভরে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকসায় করে সোনারগাঁয়ের কাইক্কারটেক চর এলাকায় নিয়ে ব্রীজের নিচে ফেলে দিয়ে আসে।

 

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয় রায়হান। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় তাকে নারায়নগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

 

যেভাবে অপহরণ ও হত্যা

 

পারিবারিক ও পুলিশের তথ্যমতে, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল আরামবাগ এলাকায় আসরাফুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন। তার তিন মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে সবার ছোট রোকসানা আক্তার একই এলাকায় গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। রোকসানার বড় বোন আরমিনা ওরফে রাখি এবং রায়হান কবির সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন পাখি গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। এই সুবাদে তারা দুজন বান্ধবী। এই সম্পর্কের সূত্রধরে পাখির স্বামী রায়হান কবির সোহাগ রোকসানাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। রোকসানা তাকে দুলাভাই দুলাভাই বলে ডাকতো। রায়হান গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি এলাকায় নীটকনর্সানে চাকুরী করতো। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতয়ালী থানার শাসনগাছা এলাকায়। বন্দরে নবীগঞ্জ ২২নং টি হোসেন গার্ডেন কবির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। বতর্মানে সে বেকার। এদিকে রায়হানের স্ত্রী বাসায় না থাকায় ২৩ জানুয়ারি সে রোকসানাদের বাসায় যায়। এবং রোকসানাকে বেড়ানোর কথা বলে বন্দরে নবীগঞ্জ ২২ টি হোসেন গার্ডেন কবির হোসেনের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে রোকসানাকে ধর্ষণ করে। এসময় সে চিৎকার চেঁচামেচি করলে তার হাত-পা-মুখ বেধে গলায় পাড়া (পা দিয়ে চেপে) শ^াসরোধ করে হত্যা করে। এরপর একটি প্ল্যাস্টিকের বস্তায় ভরে রোকসানার হাত-পা-মুখ বাধা লাশ ব্রিজের ঢালে ফেলে দিয়ে আসে।

 

নিহত রোকসানার পরিবার এই ঘৃণ্য ও নৃশংস ঘটনার জন্য ঘাতক রায়হানের তার দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানিয়েছে।

 

উল্লেখ্য রোকসানা আক্তার ২৩ জানুয়ারি স্কুলের উদ্দেশ্যে গোদনাইল আরামবাগের বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তবে তার স্কুল ব্যাগটি বাসার পাশে পাওয়া যায়। এঘটনায় রোকসানার বাবা আসরাফুল ইসলাম ২৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে। ওইদিন রাতে আসরাফুলের কাছে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ওইপ্রান্ত থেকে বলা হয় আপনার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তার মুক্তিপন বাবদ ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। এবং টাকাটা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এসে দিয়ে যেতে হবে। না হলে আপনার মেয়ের লাশ পাবেন। আসরাফুল ইসলাম টাকা দিতে রাজি হন। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ রোকসানাকে উদ্ধারে পুলিশ কার্যকরি কোন উদ্যোগ নেয়নি।

 

এদিকে ২ জানুয়ারি সকালে সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশ^ থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে। অজ্ঞাত লাশ হিসেবে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওদিকে লোকমুখে বস্তবন্দি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আসরাফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কারিনা বেগম ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। সেখানে গিয়ে তারা লাশটি তাদের মেয়ে রোকসানার বলে সনাক্ত করেন।

 

নিহত রোকসানার মামাতো ভাই কাদির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২৪ তারিখ জিডি করার পর রাতেই আসরাফুল ইসলামের মোবাইলে ফোন আসে এবং মুক্তিপনের জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজিও হয়েছিল পরিবার। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা তেমন কোন তৎপরতা দেখায়নি। মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশ তৎপর হলে হয়তো রোকসানাকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» বিড়ির উপর বৈষম্যমূলক অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে যশোরের শার্শায় মানববন্ধন

» মৌলভীবাজারে ১৬৪৬ টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

» ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসি এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন

» বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে নিখোঁজ মানসিক প্রতিবন্ধীকে উদ্ধারে নেমেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিশেষ টিম

» গলাচিপায় জোলেখার বাজারে বেহাল দশা

» ফতুল্লায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে নগদ টাকা ও ঢেউটিন বিতরণ

» শরীয়তপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে যুবক নিখোঁজ

» চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক আলমগীর

» ভারতের পেট্রাপোলে হুন্ডির টাকাসহ আটক বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ৩ কনস্টেবল অবশেষে মুক্ত।। ইমিগ্রেশনের কর্মচারী রুহুল কারাগারে

» ঝিনাইদহে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে স্কুল ছাত্রীকে হত্যার বর্ণনা ঘাতকের মুখে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

কুয়াকাটা নিউজ:- রোকসানা আক্তার। ফুটফুটে সুন্দর একটি শিশু। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। কতইবা বয়স হবে। বাবা-মায়ের খুব আদরের সন্তান। প্রতিদিনের মত স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। ছুটির পর আবার বাসায় ফিরবে, এমনটাই হবার কথা। কিন্তু সে ফিরে আসেনি। ৬ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করা হয় রোকসানার বাবা আসরাফুল ইসলামের কাছে। তিনি টাকা দিতে রাজিও হন। দুইদিন পর মেয়েকে ফেরত পেয়েছেন, তবে জীবিত নয়, মৃত। বেড়ানোর কথা বলে কথিত দুলাভাই রায়হান কবির সোহাগ রোকসানাকে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। এসময় চিৎকার চেঁচামেচি করলে নরপিচাশ রোকসানার হাত-পা ও মুখ বেধে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। পরে একটি বস্তায় ভরে হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় রোকসানার লাশ একটি ব্রিজের ঢালে ফেলে দেয়। ঘাতক রায়হান নিজের দোষ স্বীকার করে সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরআগে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ ২২ টি হোসেন গার্ডেন রোড এলাকার কবির হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার সকালে এক প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ রায়হানকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। তবে স্কুল ছাত্রী রোকসানাকে উদ্ধারে পুলিশের চরম গাফলতি ছিল। পুলিশ কার্যকরী ভুমিকা নিয়ে হয়তো তাকে উদ্ধার করতে পারতো। কিন্তু পুলিশ তা করেনি। এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের। কারণ রোকসানাকে অপহরণের পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপন ৬ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ উদাসীন থাকে।

 

অভিযোগ আছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিসহ অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা সামারী বাণিজ্যে বেশি ব্যস্ত থাকে। কাকে ধরবে কাকে ছাড়বে, কোথা থেকে অবৈধ আয় করবে, কোথা থেকে বেশি মাসোহারা পাওয়া যায় এই হিসেব নিয়েই মুশগুল থাকে তারা। ফলে কার্যকরী নিরাপত্তা সেবা থেকে বঞ্চিত সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।

 

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) মো. শরফুদ্দিন আহমেদ জানান, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ প্রথমে রায়হান কবির সোহাগের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে স্কুল ছাত্রী রোকসানাকে অপহরণ করে নিজ বাসায় নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পরে নিহত রোকসানার হাত পা বেঁধে বস্তায় ভরে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকসায় করে সোনারগাঁয়ের কাইক্কারটেক চর এলাকায় নিয়ে ব্রীজের নিচে ফেলে দিয়ে আসে।

 

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হয় রায়হান। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় তাকে নারায়নগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমদ হুমায়ুন কবিরের আদালতে হাজির করা হয়। পরে সে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

 

যেভাবে অপহরণ ও হত্যা

 

পারিবারিক ও পুলিশের তথ্যমতে, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল আরামবাগ এলাকায় আসরাফুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন। তার তিন মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে সবার ছোট রোকসানা আক্তার একই এলাকায় গোদনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। রোকসানার বড় বোন আরমিনা ওরফে রাখি এবং রায়হান কবির সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন পাখি গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। এই সুবাদে তারা দুজন বান্ধবী। এই সম্পর্কের সূত্রধরে পাখির স্বামী রায়হান কবির সোহাগ রোকসানাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। রোকসানা তাকে দুলাভাই দুলাভাই বলে ডাকতো। রায়হান গোদনাইল চৌধুরীবাড়ি এলাকায় নীটকনর্সানে চাকুরী করতো। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতয়ালী থানার শাসনগাছা এলাকায়। বন্দরে নবীগঞ্জ ২২নং টি হোসেন গার্ডেন কবির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতো। বতর্মানে সে বেকার। এদিকে রায়হানের স্ত্রী বাসায় না থাকায় ২৩ জানুয়ারি সে রোকসানাদের বাসায় যায়। এবং রোকসানাকে বেড়ানোর কথা বলে বন্দরে নবীগঞ্জ ২২ টি হোসেন গার্ডেন কবির হোসেনের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে রোকসানাকে ধর্ষণ করে। এসময় সে চিৎকার চেঁচামেচি করলে তার হাত-পা-মুখ বেধে গলায় পাড়া (পা দিয়ে চেপে) শ^াসরোধ করে হত্যা করে। এরপর একটি প্ল্যাস্টিকের বস্তায় ভরে রোকসানার হাত-পা-মুখ বাধা লাশ ব্রিজের ঢালে ফেলে দিয়ে আসে।

 

নিহত রোকসানার পরিবার এই ঘৃণ্য ও নৃশংস ঘটনার জন্য ঘাতক রায়হানের তার দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানিয়েছে।

 

উল্লেখ্য রোকসানা আক্তার ২৩ জানুয়ারি স্কুলের উদ্দেশ্যে গোদনাইল আরামবাগের বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তবে তার স্কুল ব্যাগটি বাসার পাশে পাওয়া যায়। এঘটনায় রোকসানার বাবা আসরাফুল ইসলাম ২৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করে। ওইদিন রাতে আসরাফুলের কাছে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ওইপ্রান্ত থেকে বলা হয় আপনার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তার মুক্তিপন বাবদ ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। এবং টাকাটা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এসে দিয়ে যেতে হবে। না হলে আপনার মেয়ের লাশ পাবেন। আসরাফুল ইসলাম টাকা দিতে রাজি হন। বিষয়টি পুলিশকেও জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ রোকসানাকে উদ্ধারে পুলিশ কার্যকরি কোন উদ্যোগ নেয়নি।

 

এদিকে ২ জানুয়ারি সকালে সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশ^ থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে। অজ্ঞাত লাশ হিসেবে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওদিকে লোকমুখে বস্তবন্দি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আসরাফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কারিনা বেগম ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। সেখানে গিয়ে তারা লাশটি তাদের মেয়ে রোকসানার বলে সনাক্ত করেন।

 

নিহত রোকসানার মামাতো ভাই কাদির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২৪ তারিখ জিডি করার পর রাতেই আসরাফুল ইসলামের মোবাইলে ফোন আসে এবং মুক্তিপনের জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজিও হয়েছিল পরিবার। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা তেমন কোন তৎপরতা দেখায়নি। মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশ তৎপর হলে হয়তো রোকসানাকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited