নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ভুল, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে

Spread the love

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের উদ্দেশ্য মহৎ বটে। তবে এই পদক্ষেপ নেওয়া বড় ভুল ছিল যা থেকে দেশের অর্থনীতি খুব কম সুফল পাবে এবং যে টুকু পাবে, সেটিও হবে ক্ষণস্থায়ী। সরকারের উদ্যোগটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। কারণ রুপি নোট দুটি বাতিলের কারণে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব নির্বিশেষে সবার জীবনই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে। সে জন্য ভারত সরকারের উচিত হবে বাতিল নোট দুটি আবার চালু করা। তা না হলেও অন্তত ৫০০ রুপির পুরোনো নোটটি চালু করা উচিত, যেটি গরিব মানুষ হরহামেশা ব্যবহার করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে এমন অভিমতই দিয়েছেন ভারত সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (২০০৯-১২) ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ (২০১২-১৬) কৌশিক বসু। নোট দুটি বাতিলের পদক্ষেপকে ‘অপরিণত সিদ্ধান্ত’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এতে বড়জোর সাময়িকভাবে কিছু অবৈধ অর্থ ধরা পড়বে, দুর্নীতি রোধ হবে। তবে গোটা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কৌশিক বসুর মতে, দেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে রোধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে নেওয়া ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের পদক্ষেপ ভুল। এ জন্য যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেটিও খুবই দুর্বল। কাজটি করতে গিয়ে প্রচলিত আইনের দিকেও তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি। যে কারণে সরকারের উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে। কারণ রুপি নোট দুটি বাতিলের প্রভাবে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব নির্বিশেষে সবাই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে বাজারে জাল নোটও বেরিয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
পুরোনো নোট দুটি বদলাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের এখন ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে বিশাল লাইন বা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, উল্লেখ করে কৌশিক বসু বলেন, বিশেষ করে গরিব মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ তাঁদের যেমন কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, তেমনি নগদ অর্থে উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকার সংস্থান করতে হয়। কৌশিক বসুর মতে, ভারতে এখন সেই সব মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে, যাদের লক্ষ্য করে রুপি নোট দুটি বাতিল করা হয়নি। যেমন জুয়েলারি ও আবাসন ব্যবসায়ে সচরাচর নগদ অর্থে লেনদেন হয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকের কাছে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হিসেবে নগদ অর্থ থাকে। আবার অনেক নারীও সন্তানসন্ততি বা সংসারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর অগোচরে তাঁর পকেটের অর্থ নিয়ে সঞ্চয় করেন। এসবের কোনোটিই হয়তো কালো বা অবৈধভাবে উপার্জিত বা কর ফাঁকি দিয়ে গচ্ছিত নয়। অথচ এর সঞ্চয়কারী মানুষজনই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।
কালোটাকার পরিমাণ বেড়ে গেলে সমাজে আয়-বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেয়, এমন মত দিয়ে কৌশিক বসু বলেন, এটি সরকারকেও অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো পরিষেবাসমূহে বর্ধিত বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখে। কৌশিক বসু মনে করেন, ভারতে বিপুল পরিমাণ ‘কালোটাকা’ বা নগদ অর্থ এবং অন্যান্য উপায়ে সম্পদ রক্ষিত আছে। এসব নগদ রুপি ও সম্পদ মজুত করা হয়েছে কর ফাঁকি দিয়ে। সরকারের নতুন নীতির কারণে জনগণ কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক পণ্যের চাহিদা কমেছে; যা কিনা কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ওপর প্রভাব ফেলছে। পরিণতিতে তাঁরা নিজেদের কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিতে পারেন।
কৌশিক বসু বলেন, ভারতে কালোটাকা যেন টাকা নয়। কারণ ভারতীয়রা কালোটাকা সোনা, রুপা ও আবাসন ক্রয়ে বিনিয়োগ করে এবং বিদেশের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখে। আর কালোটাকার মালিকদের আরেকটা অংশ তাদের ওই অর্থ বদলিয়ে বাজারে আসা নতুন নোট সংগ্রহ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» শরীয়তপুরে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে আত্নহত্যা করেছে এক যুবক

» কাঁঠালিয়ায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চোর গ্রেপ্তার

» ঝালকাঠি-বরিশাল রুটে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

» ঝালকাঠির সুগন্ধা তীরে হচ্ছে ডিসি পার্ক, উদ্যোগ্রের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় জেলাবাসী

» জাবিতে ভিসি বিরোধী জোটের নতুন করে পূর্নগঠন

» বিটুমিন পোড়া গন্ধ-বিষাক্ত ধোঁয়া ও বিকট শব্দে স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত!

» প্রকৃতির টানে দুই শিক্ষার্থী সাইক্লিস্ট পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায়

» মৌলভীবাজারে বজ্রপাতে ২ গরুর মৃত্যু

» গলাচিপায় প্রতিবন্ধীকে মারধর হাসপাতালে ভর্তি

» ঝিনাইদহের অজ গ্রামের বনবাদাড়ে নাম না জানা শাঁকসব্জিতে ভরপুর

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন








ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ভুল, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমবে

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের উদ্দেশ্য মহৎ বটে। তবে এই পদক্ষেপ নেওয়া বড় ভুল ছিল যা থেকে দেশের অর্থনীতি খুব কম সুফল পাবে এবং যে টুকু পাবে, সেটিও হবে ক্ষণস্থায়ী। সরকারের উদ্যোগটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। কারণ রুপি নোট দুটি বাতিলের কারণে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব নির্বিশেষে সবার জীবনই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে। সে জন্য ভারত সরকারের উচিত হবে বাতিল নোট দুটি আবার চালু করা। তা না হলেও অন্তত ৫০০ রুপির পুরোনো নোটটি চালু করা উচিত, যেটি গরিব মানুষ হরহামেশা ব্যবহার করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে এমন অভিমতই দিয়েছেন ভারত সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (২০০৯-১২) ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ (২০১২-১৬) কৌশিক বসু। নোট দুটি বাতিলের পদক্ষেপকে ‘অপরিণত সিদ্ধান্ত’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এতে বড়জোর সাময়িকভাবে কিছু অবৈধ অর্থ ধরা পড়বে, দুর্নীতি রোধ হবে। তবে গোটা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। কৌশিক বসুর মতে, দেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে রোধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে নেওয়া ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের পদক্ষেপ ভুল। এ জন্য যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেটিও খুবই দুর্বল। কাজটি করতে গিয়ে প্রচলিত আইনের দিকেও তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি। যে কারণে সরকারের উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে। কারণ রুপি নোট দুটি বাতিলের প্রভাবে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব নির্বিশেষে সবাই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে বাজারে জাল নোটও বেরিয়ে গেছে। তাই ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
পুরোনো নোট দুটি বদলাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের এখন ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে বিশাল লাইন বা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, উল্লেখ করে কৌশিক বসু বলেন, বিশেষ করে গরিব মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ তাঁদের যেমন কোনো ব্যাংক হিসাব নেই, তেমনি নগদ অর্থে উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকার সংস্থান করতে হয়। কৌশিক বসুর মতে, ভারতে এখন সেই সব মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে, যাদের লক্ষ্য করে রুপি নোট দুটি বাতিল করা হয়নি। যেমন জুয়েলারি ও আবাসন ব্যবসায়ে সচরাচর নগদ অর্থে লেনদেন হয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও অনেকের কাছে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হিসেবে নগদ অর্থ থাকে। আবার অনেক নারীও সন্তানসন্ততি বা সংসারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর অগোচরে তাঁর পকেটের অর্থ নিয়ে সঞ্চয় করেন। এসবের কোনোটিই হয়তো কালো বা অবৈধভাবে উপার্জিত বা কর ফাঁকি দিয়ে গচ্ছিত নয়। অথচ এর সঞ্চয়কারী মানুষজনই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।
কালোটাকার পরিমাণ বেড়ে গেলে সমাজে আয়-বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেয়, এমন মত দিয়ে কৌশিক বসু বলেন, এটি সরকারকেও অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো পরিষেবাসমূহে বর্ধিত বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখে। কৌশিক বসু মনে করেন, ভারতে বিপুল পরিমাণ ‘কালোটাকা’ বা নগদ অর্থ এবং অন্যান্য উপায়ে সম্পদ রক্ষিত আছে। এসব নগদ রুপি ও সম্পদ মজুত করা হয়েছে কর ফাঁকি দিয়ে। সরকারের নতুন নীতির কারণে জনগণ কৃচ্ছ্রসাধনের পথে হাঁটছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক পণ্যের চাহিদা কমেছে; যা কিনা কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ওপর প্রভাব ফেলছে। পরিণতিতে তাঁরা নিজেদের কর্মকাণ্ড কমিয়ে দিতে পারেন।
কৌশিক বসু বলেন, ভারতে কালোটাকা যেন টাকা নয়। কারণ ভারতীয়রা কালোটাকা সোনা, রুপা ও আবাসন ক্রয়ে বিনিয়োগ করে এবং বিদেশের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখে। আর কালোটাকার মালিকদের আরেকটা অংশ তাদের ওই অর্থ বদলিয়ে বাজারে আসা নতুন নোট সংগ্রহ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited