রাঙ্গাবালীতে করাতকল ব্যবসা

Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলচিপা: নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ করাতকল (স’মিল) ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতায় থাকা ১১টি করাতকল প্রভাবশালী মালিকরা বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চালাচ্ছে। এজন্য প্রতিমাসে ওই অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিতে হচ্ছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতাধীন বনের ১-৩ কিলোমিটারের মধ্যে প্রভাবশালীরা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাতকল (স’মিল) চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৭ মে ২০১২ইং সালের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের গেজেটের এক প্রজ্ঞাপনের বিধি অনুযায়ীÑসংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত কিংবা অন্য যেকোন ধরণের সরকারি বন থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।

 

এমনকি সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনস্বাস্থ্য কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করবে এমন স্থানের ২০০ মিটার দূরে করাতকল স্থাপন করতে হবে। উল্লেখিত কোন স্থানে করাতকল স্থাপন করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে মালিক তা বন্ধ করে দিবে। তানাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই করাতকল বন্ধ করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই রেঞ্জের চরমোন্তাজ স্লুইস বাজারে বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জিয়া ফরাজির করাতকল, একই এলাকায় বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মাসুমের করাতকল, দারভাঙা বন থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আবু মিয়ার করাতকল, দারভাঙা স্লুইস এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে ফিরোজের করাতকল, মধ্য চরমোন্তাজে বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে জামাল শরিফের করাতকল, চরবেষ্টিন এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে শাহাজাদার করাতকল, নলুয়া এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে মহিউদ্দিনের করাতকল, চরমো-ল এলাকায় বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মোহন হোসেনের করাতকলসহ বিভিন্ন এলাকায় ১১টি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাতকল বন হতে ১-৩ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বিধিমালা বহির্ভূত।

 

স্থানীয়রা জানায়, ওইসব লাইসেন্সবিহীন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে ৪-৫ বছর আগে করাতকল স্থাপন করা হলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্টরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই রেঞ্জের আওতাধীন একাধিক করাতকল মালিক জানান, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে নির্ধারিত অংকের মাসোয়ারা দিয়ে করাতকল চালানো হচ্ছে। একারণে ওইসব করাতকলের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। চরবেষ্টিন ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার আওতাধীন ৫টি করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। বাকি করাতকলগুলো কিভাবে চলছে তা আমি বলতে পারব না।

 

এ ব্যাপারে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চরমোন্তাজ সদর ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এসব করাতকল কোন সময় চুরি করে চালায়, আবার আমরা না থাকলে চালায়। আমি অল্পদিন আগে এসেছি। আগের বিট অফিসার তাদের নোটিশ করেছে। মাসোয়ারা আদায় করার বিষয়টি সত্য না।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» ফুুুুটবল খেলোয়াড় হতে না পেরেই হলেন নাট্যকার

» আমি মৃত্যুর মুখে, আমাকে বাঁচান

» আমেরিকায় অভিনেত্রী মৌসুমীকে আজীবন সম্মাননা

» নুসরাতকে হত্যার হুকুম দিয়ে ভুল করেছি, জবানবন্দিতে সিরাজ উদ দৌলা

» বান্দরবানের রুমায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ১০ সদস্য আহত

» বান্দরবানে মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ বৌদ্ধ ভিক্ষুর

» পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রনে, চায়না শ্রমিক সহ নিহত ২; পুলিশ সহ আহত ১৫

» তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মতবিনিময় ও পরিদর্শন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

» কলাপাড়ায় আস্থা প্রকল্পের উদ্যোগে উদযাপিত হলো যুব সমাবেশ

» বাগেরহাটে সব দোকানেই মিলছে গ্যাস সিলিন্ডার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৬ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গাবালীতে করাতকল ব্যবসা

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

সঞ্জিব দাস, গলচিপা: নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে চলছে অবৈধ করাতকল (স’মিল) ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতায় থাকা ১১টি করাতকল প্রভাবশালী মালিকরা বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে চালাচ্ছে। এজন্য প্রতিমাসে ওই অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোয়ারা দিতে হচ্ছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের আওতাধীন বনের ১-৩ কিলোমিটারের মধ্যে প্রভাবশালীরা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাতকল (স’মিল) চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৭ মে ২০১২ইং সালের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের গেজেটের এক প্রজ্ঞাপনের বিধি অনুযায়ীÑসংরক্ষিত, রক্ষিত, অর্পিত কিংবা অন্য যেকোন ধরণের সরকারি বন থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না।

 

এমনকি সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনস্বাস্থ্য কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করবে এমন স্থানের ২০০ মিটার দূরে করাতকল স্থাপন করতে হবে। উল্লেখিত কোন স্থানে করাতকল স্থাপন করা হলে ৯০ দিনের মধ্যে মালিক তা বন্ধ করে দিবে। তানাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই করাতকল বন্ধ করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই রেঞ্জের চরমোন্তাজ স্লুইস বাজারে বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে জিয়া ফরাজির করাতকল, একই এলাকায় বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মাসুমের করাতকল, দারভাঙা বন থেকে তিন কিলোমিটার দূরে আবু মিয়ার করাতকল, দারভাঙা স্লুইস এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে ফিরোজের করাতকল, মধ্য চরমোন্তাজে বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে জামাল শরিফের করাতকল, চরবেষ্টিন এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে শাহাজাদার করাতকল, নলুয়া এলাকায় বন থেকে এক কিলোমিটার দূরে মহিউদ্দিনের করাতকল, চরমো-ল এলাকায় বন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মোহন হোসেনের করাতকলসহ বিভিন্ন এলাকায় ১১টি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ করাতকল বন হতে ১-৩ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বিধিমালা বহির্ভূত।

 

স্থানীয়রা জানায়, ওইসব লাইসেন্সবিহীন এবং বিধি বহির্ভূতভাবে ৪-৫ বছর আগে করাতকল স্থাপন করা হলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্টরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই রেঞ্জের আওতাধীন একাধিক করাতকল মালিক জানান, বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে নির্ধারিত অংকের মাসোয়ারা দিয়ে করাতকল চালানো হচ্ছে। একারণে ওইসব করাতকলের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। চরবেষ্টিন ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার আওতাধীন ৫টি করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। বাকি করাতকলগুলো কিভাবে চলছে তা আমি বলতে পারব না।

 

এ ব্যাপারে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চরমোন্তাজ সদর ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এসব করাতকল কোন সময় চুরি করে চালায়, আবার আমরা না থাকলে চালায়। আমি অল্পদিন আগে এসেছি। আগের বিট অফিসার তাদের নোটিশ করেছে। মাসোয়ারা আদায় করার বিষয়টি সত্য না।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited