ধমানো যাচ্ছে না ফতুল্লার কতিপয় সোর্সদের কথিত কর্মকান্ড!

বিশেষ প্রতিবেদক: ধমানো যাচ্ছে না ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কথিত সোর্সদের কথিত কর্মকান্ড। ডিউটিবিহীন কতিপয় পুলিশ সদস্যরা সিএনজি বাহিনীর মাধ্যমে আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতিবিহীন চালাচ্ছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান। অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তারা পুলিশ সদস্যদের চাইতে ব্যবহার করছে নিয়োজিত সোর্সদের। সোর্সদের নিকট অবৈধভাবে হ্যান্ডকাপ প্রদান করে ফতুল্লা থানার তালিকাভূক্ত বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে সক্ষম হলেও অবৈধপন্থায় অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে কতিপয় পুলিশ বর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ফলে একদিকে যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে পুলিশের ভাবমূতি সে সাথে ফতুল্লা মডেল থানার বিচক্ষন অফিসার ইনচার্জ কামালউদ্দিনের অর্জিত সুনাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের নামে সিএনজি বাহিনীর অভিযান বন্ধকরাসহ সোর্সদের দৌরাত্ব বন্ধের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মঙ্গনুল হক এবং ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি(অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে ফতুল্লায় বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশংকা সহ আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য পুলিশ সদস্যরা তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সোর্সদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। তবে অপরাধীদের গ্রেফতারের সময় আসামি ছাড়া কিংবা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে কেউ জড়িত থাকলে কোন ভাবেই তাদের ছাড় দেয়া হবে না। কারন, আইনের উর্দ্ধে কেউ নয়। তিনি আরো বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন সোর্স কিংবা পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। সুনিদিষ্ট প্রমানসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর পুলিশ সোর্সরা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সূত্রে জানা যায়, যেই পুলিশ সোর্স দিয়ে অপরাধ দমন করা হয় সেই পুলিশ সোর্সরাাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ যেন শর্ষেতে ভূত! কার্যত এখন পুলিশ সোর্সরাই চালাচ্ছে ফতুল্লা থানার কার্য্যক্রম। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্মকর্তারা হয়ে পড়ছেন সোর্স নির্ভরশীল। ফতুল্লাা পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ব হয়রানি, চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে থানা পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্য হচ্ছে। সোর্সদের দৌরাত্বে থানার কার্যক্রম বেহাল হয়ে পড়েছে। ফতল্লা থানার সোর্সরাই এখন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। আর এ ক্ষেত্রে থানা এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

 

এলাকার ফুটপাথের দোকান থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল নিয়ে মধ্যস্থতা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়,সোর্সদের দাবিকৃত মাসোয়ারা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো এমনকি সোর্সদের মধ্যস্থতায় ছাড়ানো থেকে শুরু করে সব ধরনের সিদ্ধান্তই নিচ্ছে সোর্সরা। ফতুল্লা থানার এলাকা গুলোতে এখন পুলিশের চেয়ে সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সোর্সরাই থানার ওসির ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সোর্স মামলার আসামিদের পক্ষ নিয়ে পুলিশের নাম পরিচয় ব্যবহার করে বাদীকে হুমকি দেন। মূলত থানা চালাচ্ছেন পুলিশ সোর্সরা এমনটাই অভিযোগ ফতুল্লার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন। ফতুল্লা থানা এলাকার যে সকল সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি তাদের মধ্যে অণ্যতম ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার সুরুজ্জামান ওরফে চায়না, পারভেজ, জাহাঙ্গীর, রাসেল, ফতুল্লা থানা গেইট এলাকার জুয়ারী জাফর, ভোলাইল এলাকার ওয়াসিম, কাদির, নবীনগরের সাদ্দাম, শাহাদাত, ফাজিঁলপুর এলাকার দস্তোগি, নূরা, আবু, পঞ্চবটি বস্তি এলাকার আবুল, সাগর, হরিহর পাড়া আমতলা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে পুলিশ সোর্স আকাশ, পাপ্পু, শান্তিনগর এলাকার, শান্ত, ভোলাইল এলাকার জলিল, কাদির, ওয়াসিম, সহিদ, মাসদাইর এলাকার দিলীপ, ল্যাংড়া মান্নান, শান্ত, কাইল্যা রিপন, পাগলা এলাকার লিয়াকত, আনার, আলমগীর, লিটন, লালখা, সেহাচর, রামারবাগ ও শিবুমার্কেট এলাকার নাসির, লিমন, সাথী, জাহাঙ্গীর, ধর্মগঞ্জ এলাকার আলম, হাসান, জহির, রবিউল, কাশিঁপুর এলাকার মাহাবুব, শাহীন, পঞ্চবটি এলাকার পাপ্পু, জাহাঙ্গীর, কাইল্যা মাহাবুব, ইব্রাহীম, আবু, বোছা সোহেল, এতিম খানা এলাকার সাদ্দাম, শাহাদাত, খলিল, নাছির, নবীনগর এলাকার সফিক, বক্তাবলী এলাকার আলমগীর, রাসেল, শাহীবাজার এলাকার মাহাবুব, জুয়েল, লিটন। এ সকল সোর্সরাই ফতুল্লার বিভিন্ন মাদক স্পট,ঝুট সন্ত্রাস,তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের হয়ে কাজ করে থাকে। সন্ত্রাসীদের তথ্য অনুয়ারী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মিস গাইডের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে হয়রানী করা থেকে শুরু করে নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইলিং করে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। এমনকি ফতুল্লা মডেল থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।

 

সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় বসবাস সুরুজ্জামান ওরফে চায়না নামক এক সোর্সের বাড়ী। সোর্স চায়না দীর্ঘদীন ধরে ফতুল্লা থানা পুলিশ সদস্যদের সাথে সোর্সের কাজ করে আসছে। পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় স্থাণীয় একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদৈর কাছ থেকে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। সোর্স সুরুজ্জামান ওরফে চায়নার চাহিদা মোতাবেক মাসোয়ারা না দিলে নানা ভাবে হয়রানী করারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সোর্স চায়না নিজেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে গার্মেন্টে কর্মরত এক ব্যাক্তি জানান, এক সময় সে মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিল। এখন আর সে মাদক ব্যবসা করেন না। বিসিক এলাকায় অবস্থিত একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ সোর্স চায়না তার কাছে মাসোয়ারা দাবি করে। দাবিকৃত মাসোয়ারা দাবিকৃত অপরাগতা প্রকাশ করাসহ মাদক ব্যবসার সাথে সে জড়িত নয় দাবি করলেও নানা ভাবে সোর্স চায়না লোকটিকে ভয় দেখাচ্ছে। সোর্স সুরুজ্জামান চায়নার ভয়তে বর্তমানে ঐ লোকটি পলাতক রয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

 

এমনকি কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর এবং সাথী নামের দুই সোর্স প্রতিপক্ষের লোকজনদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই আমিনুলকে দিয়ে ব্যবসায়ী শামীম আহাম্মেদকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করান। এ সময় পুলিশ শামীমকে না পেয়ে শামীমের দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করলেও কোন ধরনের মাদক পাননি। তারপরেও এস আই আমিনুল শামীমের দুই বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেন। এতেও ক্ষান্ত হননি এস আই আমিনুল। তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি মিজানের কাছ থেকে কন্ট্রাক এর মাধ্যমে পাথর ব্যবসায়ী শামীমকে নানা ভাবে হয়রানী করছে। এস আই আমিনুলের অত্যাচারসহ মিথ্যা মামলার হুমকিতে এস আই আমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে ফতুল্লার সর্বত্র। বর্তমানে ফতুল্লা থানার রাজত্ব সোর্সদে দখলেই বলা চলে। এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার বিচক্ষন ওসি কামাল উদ্দিন থাকার পরেও পুলিশ সোর্সদের এমন অত্যাচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ফতুল্লাবাসী।

 

ফতুল্লাবাসী মনে করেন, পুলিশ সোর্সদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে পুলিশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই বিতর্কিত উল্লেখিত সোর্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সোর্সদের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু সোর্সদের বিষয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেছেন।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» দুর্নীতিতে বালিশ পর্দাকে হারিয়েছে মোবাইল চার্জার

» নাইক্ষ্যংছড়ির শান্তিপূর্ন পরিবেশ চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

» নাইজেরিয়ায় একসঙ্গে ৪০০ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

» রেকর্ড গড়ে বিয়ে করলে প্রেমিকা

» আবরার হ’ত্যা: আলোচিত অমিত সাহাকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার

» পদ্মা সেতুতে বসছে ১৫ তম স্প্যান

» পুলিশ বাহিনীর অবদানের গল্পে মৌসুমী

» ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজে ভবন উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

» ইকুয়েডরকে গোলবন্যায় ভাসাল আর্জেন্টিনা

» তুর্কি হামলায় সিরিয়া থেকে পালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৯শে আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধমানো যাচ্ছে না ফতুল্লার কতিপয় সোর্সদের কথিত কর্মকান্ড!

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

বিশেষ প্রতিবেদক: ধমানো যাচ্ছে না ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কথিত সোর্সদের কথিত কর্মকান্ড। ডিউটিবিহীন কতিপয় পুলিশ সদস্যরা সিএনজি বাহিনীর মাধ্যমে আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের অনুমতিবিহীন চালাচ্ছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান। অভিযানে পুলিশ কর্মকর্তারা পুলিশ সদস্যদের চাইতে ব্যবহার করছে নিয়োজিত সোর্সদের। সোর্সদের নিকট অবৈধভাবে হ্যান্ডকাপ প্রদান করে ফতুল্লা থানার তালিকাভূক্ত বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে সক্ষম হলেও অবৈধপন্থায় অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে কতিপয় পুলিশ বর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ফলে একদিকে যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে পুলিশের ভাবমূতি সে সাথে ফতুল্লা মডেল থানার বিচক্ষন অফিসার ইনচার্জ কামালউদ্দিনের অর্জিত সুনাম বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের নামে সিএনজি বাহিনীর অভিযান বন্ধকরাসহ সোর্সদের দৌরাত্ব বন্ধের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মঙ্গনুল হক এবং ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি(অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবে ফতুল্লায় বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আশংকা সহ আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য পুলিশ সদস্যরা তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সোর্সদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। তবে অপরাধীদের গ্রেফতারের সময় আসামি ছাড়া কিংবা বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে কেউ জড়িত থাকলে কোন ভাবেই তাদের ছাড় দেয়া হবে না। কারন, আইনের উর্দ্ধে কেউ নয়। তিনি আরো বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন সোর্স কিংবা পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। সুনিদিষ্ট প্রমানসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর পুলিশ সোর্সরা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সূত্রে জানা যায়, যেই পুলিশ সোর্স দিয়ে অপরাধ দমন করা হয় সেই পুলিশ সোর্সরাাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ যেন শর্ষেতে ভূত! কার্যত এখন পুলিশ সোর্সরাই চালাচ্ছে ফতুল্লা থানার কার্য্যক্রম। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ কর্মকর্তারা হয়ে পড়ছেন সোর্স নির্ভরশীল। ফতুল্লাা পুলিশের সোর্সদের দৌরাত্ব হয়রানি, চাঁদাবাজি উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে থানা পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্য হচ্ছে। সোর্সদের দৌরাত্বে থানার কার্যক্রম বেহাল হয়ে পড়েছে। ফতল্লা থানার সোর্সরাই এখন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দেন। আর এ ক্ষেত্রে থানা এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

 

এলাকার ফুটপাথের দোকান থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল নিয়ে মধ্যস্থতা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা আদায়,সোর্সদের দাবিকৃত মাসোয়ারা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো এমনকি সোর্সদের মধ্যস্থতায় ছাড়ানো থেকে শুরু করে সব ধরনের সিদ্ধান্তই নিচ্ছে সোর্সরা। ফতুল্লা থানার এলাকা গুলোতে এখন পুলিশের চেয়ে সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি হয়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সোর্সরাই থানার ওসির ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। অনেক সোর্স মামলার আসামিদের পক্ষ নিয়ে পুলিশের নাম পরিচয় ব্যবহার করে বাদীকে হুমকি দেন। মূলত থানা চালাচ্ছেন পুলিশ সোর্সরা এমনটাই অভিযোগ ফতুল্লার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন। ফতুল্লা থানা এলাকার যে সকল সোর্সদের দৌরাত্ব বেশি তাদের মধ্যে অণ্যতম ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকার সুরুজ্জামান ওরফে চায়না, পারভেজ, জাহাঙ্গীর, রাসেল, ফতুল্লা থানা গেইট এলাকার জুয়ারী জাফর, ভোলাইল এলাকার ওয়াসিম, কাদির, নবীনগরের সাদ্দাম, শাহাদাত, ফাজিঁলপুর এলাকার দস্তোগি, নূরা, আবু, পঞ্চবটি বস্তি এলাকার আবুল, সাগর, হরিহর পাড়া আমতলা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বর্তমানে পুলিশ সোর্স আকাশ, পাপ্পু, শান্তিনগর এলাকার, শান্ত, ভোলাইল এলাকার জলিল, কাদির, ওয়াসিম, সহিদ, মাসদাইর এলাকার দিলীপ, ল্যাংড়া মান্নান, শান্ত, কাইল্যা রিপন, পাগলা এলাকার লিয়াকত, আনার, আলমগীর, লিটন, লালখা, সেহাচর, রামারবাগ ও শিবুমার্কেট এলাকার নাসির, লিমন, সাথী, জাহাঙ্গীর, ধর্মগঞ্জ এলাকার আলম, হাসান, জহির, রবিউল, কাশিঁপুর এলাকার মাহাবুব, শাহীন, পঞ্চবটি এলাকার পাপ্পু, জাহাঙ্গীর, কাইল্যা মাহাবুব, ইব্রাহীম, আবু, বোছা সোহেল, এতিম খানা এলাকার সাদ্দাম, শাহাদাত, খলিল, নাছির, নবীনগর এলাকার সফিক, বক্তাবলী এলাকার আলমগীর, রাসেল, শাহীবাজার এলাকার মাহাবুব, জুয়েল, লিটন। এ সকল সোর্সরাই ফতুল্লার বিভিন্ন মাদক স্পট,ঝুট সন্ত্রাস,তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের হয়ে কাজ করে থাকে। সন্ত্রাসীদের তথ্য অনুয়ারী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের মিস গাইডের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে হয়রানী করা থেকে শুরু করে নানা ভাবে ব্ল্যাক মেইলিং করে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। এমনকি ফতুল্লা মডেল থানার কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।

 

সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকায় বসবাস সুরুজ্জামান ওরফে চায়না নামক এক সোর্সের বাড়ী। সোর্স চায়না দীর্ঘদীন ধরে ফতুল্লা থানা পুলিশ সদস্যদের সাথে সোর্সের কাজ করে আসছে। পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা থাকায় স্থাণীয় একাধিক মাদক ব্যবসায়ীদৈর কাছ থেকে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে আসছে দীর্ঘদীন ধরে। সোর্স সুরুজ্জামান ওরফে চায়নার চাহিদা মোতাবেক মাসোয়ারা না দিলে নানা ভাবে হয়রানী করারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সোর্স চায়না নিজেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসা ছেড়ে বর্তমানে গার্মেন্টে কর্মরত এক ব্যাক্তি জানান, এক সময় সে মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিল। এখন আর সে মাদক ব্যবসা করেন না। বিসিক এলাকায় অবস্থিত একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে। গত কয়েকদিন ধরে পুলিশ সোর্স চায়না তার কাছে মাসোয়ারা দাবি করে। দাবিকৃত মাসোয়ারা দাবিকৃত অপরাগতা প্রকাশ করাসহ মাদক ব্যবসার সাথে সে জড়িত নয় দাবি করলেও নানা ভাবে সোর্স চায়না লোকটিকে ভয় দেখাচ্ছে। সোর্স সুরুজ্জামান চায়নার ভয়তে বর্তমানে ঐ লোকটি পলাতক রয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন।

 

এমনকি কথিত সোর্স জাহাঙ্গীর এবং সাথী নামের দুই সোর্স প্রতিপক্ষের লোকজনদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই আমিনুলকে দিয়ে ব্যবসায়ী শামীম আহাম্মেদকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করান। এ সময় পুলিশ শামীমকে না পেয়ে শামীমের দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করলেও কোন ধরনের মাদক পাননি। তারপরেও এস আই আমিনুল শামীমের দুই বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেন। এতেও ক্ষান্ত হননি এস আই আমিনুল। তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী পিচ্চি মিজানের কাছ থেকে কন্ট্রাক এর মাধ্যমে পাথর ব্যবসায়ী শামীমকে নানা ভাবে হয়রানী করছে। এস আই আমিনুলের অত্যাচারসহ মিথ্যা মামলার হুমকিতে এস আই আমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে ফতুল্লার সর্বত্র। বর্তমানে ফতুল্লা থানার রাজত্ব সোর্সদে দখলেই বলা চলে। এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার বিচক্ষন ওসি কামাল উদ্দিন থাকার পরেও পুলিশ সোর্সদের এমন অত্যাচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ফতুল্লাবাসী।

 

ফতুল্লাবাসী মনে করেন, পুলিশ সোর্সদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে পুলিশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই বিতর্কিত উল্লেখিত সোর্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, সোর্সদের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেহেতু সোর্সদের বিষয়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেছেন।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited