কুয়াকাটার চর বিজয় এক নতুন দিগন্ত

Spread the love

জাকারিয়া জাহিদ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা চর বিজয় (হাইরের চর) অপার সম্ভাবনা রয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি মাঝখানে একটি দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন হবে আনুমানিক ৫ হাজার একর।

 

যেন সমুদ্রে সৌন্দর্যের জৌলস বয়ে চলছে। লাল কাকড়া আর লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির বিচারণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে। দুর থেকে প্রত্যেক ভ্রমন পিপাসুর নজর কাড়ে দ্বীপটি। কুয়াকাটা থেকে পূর্বকোণ গঙ্গামতি দিয়ে প্রায় ৩০ কিলো দক্ষিণে অবস্থিত এ চরটি। এ দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয়ের চার পাশে ক্ষুর্ধাত জেলেরা মাছ শিকার করছে। জেলেরা তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে বাসা দিয়ে মাছ শিকার করছে। মাছ শিকার করে বিক্রী বা শুটকি করছে অনেক। কুয়াকাটাকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে নতুনের সন্ধানে বের হয় কুয়াকাটা সী ট্যুরিজম। ঘুরার পথে দেখা মিলে সৃষ্টির দৃষ্টি নন্দিত এ চর বিজয়। 

কুয়াকাটা সমুদ্র পথে আর একটি দর্শনীয় স্পট হয়ে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কুয়াকাটার ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ। দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয় ঘুরে দেখা গেছে- পর্যটন নগরী কুয়াকাটা গভীর সমুদ্রে দক্ষিণ পূর্ব কোণে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এ চরটি। স্থানীয় মাছ ধরা জেলেরা হাইরের চর বলে জানে। কুয়াকাটার সী ট্যুরিজমের উদ্যোগে ট্যুরিস্ট বোট নিয়ে গত কয়েক দিন আগে নতুনের সন্ধানে ঢাকার পর্যটক আর স্থানীয় কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের একটি টিম বের হলে দেখা মিলে যায় এ চরটির। বিজয়ে মাসকে কেন্দ্র করে ওই ট্যুর প্রেমিকরা চর বিজয় নামে আখ্যায়িত করেন।

বর্ষার ছয় মাস এ চরটি ডুবে থাকে আবার শীতের মৌশুমে ধু ধু বালুর চরে জেগে উঠে। যার সাথে মিশে আছে অতিথি পাখীর সমারোহ এবং চরটি জুড়ে রয়েছে লাল কাকড়ার বিচারণ। যেন প্রকৃতি নিপুন হাতে আবিস্কার করেছে চরটি। ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সারা মিলছে। মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছনো গভীর সমুদ্রের এরকম চর জেগে উঠায় কুয়াকাটায় আর একটি দর্শনীয় স্পটের মাত্রা যোগ হলো বলে মন্তব্য করছেন সেখানে যাওয়া ট্যুর অপারেটরা।

চরটি ঘুরে কুয়াকাটায় ফিরে আসা ঢাকা বনশ্রীর দম্পত্তি সীমা আক্তার (৩৪) বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যুর করছি। কিন্তু কুয়াকাটার সমুদ্রে মধ্যে এত সুন্দর একটি দৃশ্য দেখব কল্পনা করেনি। কিযে ভাল লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা। যেন এক অন্য ভুবন। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না আমাদের দেশে এরকম একটি চর জেগে উঠছে, এটি কুয়াকাটার জন্য আর্শিবাদ।  ট্যুর প্রেমিক কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যডমিন ও ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করাই আমার কাজ এবং সে গুলোকে প্রচার করা দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়। আজ ঘুরতে এসে যা পেলাম এ চর বিজয় স্পট পর্যটকদের কাছে শুধু কুয়াকাটা নয় গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ট্যুরিজমের জন্য রোল মডেল হয়ে দাড়াবে।

কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যাডমিন ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবয় সমিতিন লিঃ‘র সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, আমাদের সমুদ্রের মধ্যে এত সুন্দর একটি চর জেগে আছে তা আগে জানতাম না। এটাকে এখন শুধু সরকারি বেসরকারি ভাবে আমাদের ব্রাডিং করে বিশ্বের কছে পৌঁছে দিতে হবে। তা হইলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

চর সর্ম্পকে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, কুয়াকাটা গভীর সমুদ্রে যে চর বিজয় জেগে উঠেছে। আমি ঘুরতে এসে যা দেখলাম সৃষ্টির যে রহস্য রয়েছে তা এখানেই প্রমান। অজানা অচেনা লক্ষ লক্ষ পাখির কলরব আর লাল কাকড়ার বিচারণে আকড়ে আছে বিশাল এ চরটিতে। এসব দৃশ্য দেখে দেশী বিদেশী পর্যটকের আকৃষ্ট করবে। তাই এই চর বিজয়কে পর্যটনের আওতাভূক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। এ ব্যাপারে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, চরটির কথা শুনেছি অনেক সুন্দর আমিও কিছু দিনের মধ্যেই ঐ চর বিজয় পরির্দশনে যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

» উদ্বোধনের দিনই পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেন চলবে: রেলমন্ত্রী

» আফগান প্রেসিডেন্টের সমাবেশে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২৪

» প্রাথমিকের ৬৫% শিক্ষার্থী বাংলাই পড়তে পারেনা

» সাগরে ভাসছে প্রসাধনী ও তরল পদার্থ ভর্তি ব্যারেল বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া জাহাজ আরগো’র উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি

» গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বামী কান কেটে নিয়েছিলো প্রেমিকের: এবার স্বামীর কান কাটলো প্রেমিক

» রাণীনগরের সাদেকুল তিন বছর ধরে গৃহবন্দি!

» দুর্নীতি নির্মুলে টাস্কফোর্স গঠনের দাবীতে মানববন্ধন

» ডাক্তারের কাছে গিয়ে হেনস্তার শিকার এক নারী ম্যাজিস্ট্রেট

» ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ পদে ফওজিয়ার যোগদানে বাধা নেই

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটার চর বিজয় এক নতুন দিগন্ত

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

জাকারিয়া জাহিদ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা চর বিজয় (হাইরের চর) অপার সম্ভাবনা রয়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি মাঝখানে একটি দ্বীপ। দ্বীপটির আয়তন হবে আনুমানিক ৫ হাজার একর।

 

যেন সমুদ্রে সৌন্দর্যের জৌলস বয়ে চলছে। লাল কাকড়া আর লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির বিচারণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে। দুর থেকে প্রত্যেক ভ্রমন পিপাসুর নজর কাড়ে দ্বীপটি। কুয়াকাটা থেকে পূর্বকোণ গঙ্গামতি দিয়ে প্রায় ৩০ কিলো দক্ষিণে অবস্থিত এ চরটি। এ দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয়ের চার পাশে ক্ষুর্ধাত জেলেরা মাছ শিকার করছে। জেলেরা তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে বাসা দিয়ে মাছ শিকার করছে। মাছ শিকার করে বিক্রী বা শুটকি করছে অনেক। কুয়াকাটাকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে নতুনের সন্ধানে বের হয় কুয়াকাটা সী ট্যুরিজম। ঘুরার পথে দেখা মিলে সৃষ্টির দৃষ্টি নন্দিত এ চর বিজয়। 

কুয়াকাটা সমুদ্র পথে আর একটি দর্শনীয় স্পট হয়ে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন কুয়াকাটার ট্যুরিজম কর্তৃপক্ষ। দৃষ্টি নন্দিত চর বিজয় ঘুরে দেখা গেছে- পর্যটন নগরী কুয়াকাটা গভীর সমুদ্রে দক্ষিণ পূর্ব কোণে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত এ চরটি। স্থানীয় মাছ ধরা জেলেরা হাইরের চর বলে জানে। কুয়াকাটার সী ট্যুরিজমের উদ্যোগে ট্যুরিস্ট বোট নিয়ে গত কয়েক দিন আগে নতুনের সন্ধানে ঢাকার পর্যটক আর স্থানীয় কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকের একটি টিম বের হলে দেখা মিলে যায় এ চরটির। বিজয়ে মাসকে কেন্দ্র করে ওই ট্যুর প্রেমিকরা চর বিজয় নামে আখ্যায়িত করেন।

বর্ষার ছয় মাস এ চরটি ডুবে থাকে আবার শীতের মৌশুমে ধু ধু বালুর চরে জেগে উঠে। যার সাথে মিশে আছে অতিথি পাখীর সমারোহ এবং চরটি জুড়ে রয়েছে লাল কাকড়ার বিচারণ। যেন প্রকৃতি নিপুন হাতে আবিস্কার করেছে চরটি। ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সারা মিলছে। মাত্র দেড় ঘন্টায় পৌছনো গভীর সমুদ্রের এরকম চর জেগে উঠায় কুয়াকাটায় আর একটি দর্শনীয় স্পটের মাত্রা যোগ হলো বলে মন্তব্য করছেন সেখানে যাওয়া ট্যুর অপারেটরা।

চরটি ঘুরে কুয়াকাটায় ফিরে আসা ঢাকা বনশ্রীর দম্পত্তি সীমা আক্তার (৩৪) বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যুর করছি। কিন্তু কুয়াকাটার সমুদ্রে মধ্যে এত সুন্দর একটি দৃশ্য দেখব কল্পনা করেনি। কিযে ভাল লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা। যেন এক অন্য ভুবন। চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না আমাদের দেশে এরকম একটি চর জেগে উঠছে, এটি কুয়াকাটার জন্য আর্শিবাদ।  ট্যুর প্রেমিক কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যডমিন ও ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি করাই আমার কাজ এবং সে গুলোকে প্রচার করা দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়। আজ ঘুরতে এসে যা পেলাম এ চর বিজয় স্পট পর্যটকদের কাছে শুধু কুয়াকাটা নয় গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ট্যুরিজমের জন্য রোল মডেল হয়ে দাড়াবে।

কুয়াকাটা সী ট্যুরিজমের এ্যাডমিন ও কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবয় সমিতিন লিঃ‘র সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, আমাদের সমুদ্রের মধ্যে এত সুন্দর একটি চর জেগে আছে তা আগে জানতাম না। এটাকে এখন শুধু সরকারি বেসরকারি ভাবে আমাদের ব্রাডিং করে বিশ্বের কছে পৌঁছে দিতে হবে। তা হইলে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে বিকাশ ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

চর সর্ম্পকে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, কুয়াকাটা গভীর সমুদ্রে যে চর বিজয় জেগে উঠেছে। আমি ঘুরতে এসে যা দেখলাম সৃষ্টির যে রহস্য রয়েছে তা এখানেই প্রমান। অজানা অচেনা লক্ষ লক্ষ পাখির কলরব আর লাল কাকড়ার বিচারণে আকড়ে আছে বিশাল এ চরটিতে। এসব দৃশ্য দেখে দেশী বিদেশী পর্যটকের আকৃষ্ট করবে। তাই এই চর বিজয়কে পর্যটনের আওতাভূক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। এ ব্যাপারে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, চরটির কথা শুনেছি অনেক সুন্দর আমিও কিছু দিনের মধ্যেই ঐ চর বিজয় পরির্দশনে যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited