জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী

সাপাহার (নওগাঁ) থেকে হাফিজুল হক:  রাজা নেই, রাজত্বও নেই, ২শত বছরের স্মৃতি নিয়ে রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী।

 

নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬ কিমি দুরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ীটি দীর্ঘ দিন পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কতিথ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, দুবলহাটি রাজবাড়ী ও রাজত্ব স্থাপিত হবার পুর্বে সেখানে রঘুনাথনামের এক ব্যাক্তি দীঘলি বিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে অস্থিত্বহীন খয়রা নদী দিয়ে যাতায়যাত করে লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি নদীতে নৌকা নোঙ্গর করলে স্বপ্নে দেখেন কে যেন তাকে বলছে “তুই যেখানে নৌকা বেধেছিস সেখানে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে, তুই সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর।

 

রঘুনাথ ভোরে নদীতে নেমে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা পেয়ে মাটির বেদী তৈরী করে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হলে তার বিত্ত বৈভবের সংবাদ পৌছে যায় মোঘল দরবারে। মুশিদাবাদ মোঘল দরবার রঘুনাথের কাছ থেকে প্রতি বছর ২২ শত কৈ মাছ রাজস্ব নিয়ে তাকে জমিদারি প্রদান করেন। হরনাথ রায় চৌধুরী প্রথম রাজা খেতাব পেয়ে ছিলেন। রাজা হরনাথ রায় চৌধূরী ও তার পুত্র রাজা কিঙ্করী রায় চৌধুরী রাজত্ব আমলে ব্যাপক উন্নতি সাধিত রাজ বংশের। তখন তাদের বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। সে সময় ৫ একর এলাকা জুড়ে নির্মিত বিশাল রাজ প্রাসাদে ৩ তলা, ৪ তলা ভবনের সাড়ে ৩ শত ঘর ও ৭ টি আঙ্গিনা ছিল। প্রাসাদে ১ টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল।

 

ব্রিটিশরা উক্ত সিংহাসন দুটি নিয়ে যায় বলে যায়। প্রাসাদের ভিতরে মঞ্চ ছিল, নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চাঅনের জন্য । প্রসাদের বাইরে ছিল বিশাল দীঘি, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে স্থাপিত স্কুলটি বর্তমানে রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ প্রাসাদের সামনের রোমান নকশার বড় বড় পিলারগুলো দেখলেই নওগাঁ, সিলেট, দিনাজপুর , পাবনা, বগুড়া, রংপূর, ভারতের কিছু অংশে রাজত্ব করা রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর প্রজা নির্যাতনের অনেক করুন কাহিনী এখনো এলাকার সাধারন মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে।

 

পাশাপাশি রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর জনহিতকর ও শামাজিক কিছু কাজের কথাও এলাকায় প্রচলিত আছে। দুবলহাটি রাজবাড়ীটি ঐতিহ্যবাহী হলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ রাজবাড়ীটির সামনে একটি সাইন বোর্ড টানানো ছাড়া আর কোন দায়িত্ব পালন করছেনা। যার কারনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ রাজবাড়ীটির লোহার বিম, দরজা-জানালা এলাকার দুর্বৃত্তরা আগেই খুলে নিয়ে গেছে। এখন দেয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে কিছু এলাকাবাসী। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন সরকার সু-দৃষ্টি দিয়ে রাজবাড়ীটি রক্ষনাবেক্ষন করলে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

সর্বশেষ আপডেট



» বসানো হলো পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান: দৃশ্যমান হল সেতুর ২ হাজার ৭০০ মিটার

» গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীর ভাঙ্গঁনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চরগোবরা গ্রাম

» বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ দুই নারী আটক

» কুয়াকাটায় ন্নিমমানের আবাসিক হোটেলের বিরুদ্ধে নারী ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ

» আগৈলঝাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান

» ঝিনাইদহের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হলেন আসিফ কাজল

» মহেশপুরের অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ প্রশাসন নির্বকার

» ঝিনাইদহে তৃতীয় লিঙ্গ সদস্যদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

» রাজনগরে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে অবহিতকরণ সভা

» রাজনগরে ভোক্তা অধিকার আইনে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

সাপাহার (নওগাঁ) থেকে হাফিজুল হক:  রাজা নেই, রাজত্বও নেই, ২শত বছরের স্মৃতি নিয়ে রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী।

 

নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬ কিমি দুরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ীটি দীর্ঘ দিন পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কতিথ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, দুবলহাটি রাজবাড়ী ও রাজত্ব স্থাপিত হবার পুর্বে সেখানে রঘুনাথনামের এক ব্যাক্তি দীঘলি বিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে অস্থিত্বহীন খয়রা নদী দিয়ে যাতায়যাত করে লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি নদীতে নৌকা নোঙ্গর করলে স্বপ্নে দেখেন কে যেন তাকে বলছে “তুই যেখানে নৌকা বেধেছিস সেখানে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে, তুই সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর।

 

রঘুনাথ ভোরে নদীতে নেমে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা পেয়ে মাটির বেদী তৈরী করে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হলে তার বিত্ত বৈভবের সংবাদ পৌছে যায় মোঘল দরবারে। মুশিদাবাদ মোঘল দরবার রঘুনাথের কাছ থেকে প্রতি বছর ২২ শত কৈ মাছ রাজস্ব নিয়ে তাকে জমিদারি প্রদান করেন। হরনাথ রায় চৌধুরী প্রথম রাজা খেতাব পেয়ে ছিলেন। রাজা হরনাথ রায় চৌধূরী ও তার পুত্র রাজা কিঙ্করী রায় চৌধুরী রাজত্ব আমলে ব্যাপক উন্নতি সাধিত রাজ বংশের। তখন তাদের বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। সে সময় ৫ একর এলাকা জুড়ে নির্মিত বিশাল রাজ প্রাসাদে ৩ তলা, ৪ তলা ভবনের সাড়ে ৩ শত ঘর ও ৭ টি আঙ্গিনা ছিল। প্রাসাদে ১ টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল।

 

ব্রিটিশরা উক্ত সিংহাসন দুটি নিয়ে যায় বলে যায়। প্রাসাদের ভিতরে মঞ্চ ছিল, নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চাঅনের জন্য । প্রসাদের বাইরে ছিল বিশাল দীঘি, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে স্থাপিত স্কুলটি বর্তমানে রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ প্রাসাদের সামনের রোমান নকশার বড় বড় পিলারগুলো দেখলেই নওগাঁ, সিলেট, দিনাজপুর , পাবনা, বগুড়া, রংপূর, ভারতের কিছু অংশে রাজত্ব করা রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর প্রজা নির্যাতনের অনেক করুন কাহিনী এখনো এলাকার সাধারন মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে।

 

পাশাপাশি রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর জনহিতকর ও শামাজিক কিছু কাজের কথাও এলাকায় প্রচলিত আছে। দুবলহাটি রাজবাড়ীটি ঐতিহ্যবাহী হলেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ রাজবাড়ীটির সামনে একটি সাইন বোর্ড টানানো ছাড়া আর কোন দায়িত্ব পালন করছেনা। যার কারনে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ রাজবাড়ীটির লোহার বিম, দরজা-জানালা এলাকার দুর্বৃত্তরা আগেই খুলে নিয়ে গেছে। এখন দেয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে কিছু এলাকাবাসী। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন সরকার সু-দৃষ্টি দিয়ে রাজবাড়ীটি রক্ষনাবেক্ষন করলে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

সংবাদটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited