‘ইউরোপ প্রবাসী’ এক ব্যক্তির ইশারায় বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা-সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম

Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়া ‘ইউরোপ প্রবাসী’ এক ব্যক্তির ইশারায় রাজধানীর বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা করা হয়।

 

এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হেলাল উদ্দিন নগরীর একজন পেশাদার খুনি বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম (সিটি)ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। আজ বুধবার (ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭)পৌনে ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সিদ্দিক মুন্সি হত্যায় জড়িত হেলালকে গ্রেফতার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সিদ্দিক হত্যার ঠিকাদার ছিল হেলাল। অর্থাৎ এই হত্যার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয় প্রবাসী সেই ব্যক্তি। হেলাল মূলত পেশাদার খুনি। সে হত্যার ঠিকাদারি নেয়। তার অধীনে অনেক পেশাদার খুনি আছে। সে এই অভিযানে অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিক মুন্সি হত্যায় হেলালের নেতৃত্বে ৬ জন অংশ নেয়। যার মধ্যে ২ জন ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিল। এর মধ্যে ২ জন গ্রেফতার হয়েছে। পিচ্ছি আল-আলামিন ও সাদ্দাম নামে আরো দুইজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি দুইজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান জানান, হেলাল অপারেশনাল কমান্ডার হওয়ায় হত্যার সময় সে সহ দুইজন ভেতরে ডুকেনি। বাকি ৪ জন সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়। এ হত্যাকাণ্ডে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র দল নেতা হিসেবে হেলালের কাছে জমা থাকে। তার মধ্যে ৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১টি ৯ এমএম পিস্তল ও ৪টি ৭.৬৫ মডেলের। এ সময় ৯ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল বলেন, এ ঘটনায় ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়। বাইরে শব্দ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা রুমে ডুকে দরজা লক করে দেয়। এয়ার টাইট থাকায় বাইরে আওয়াজ না হয়ে থাকতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান জানান, হেলাল মালেক ও সূর্যমুখী হোটেলের ডাবল মার্ডারের আসামি। হেলালের পরিচয় হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সে এক সময় ছাত্রদলের মধ্যম সারির নেতা ছিল। সে দীর্ঘদিন যাবৎ পেশাদার খুনি হিসেবে কাজ করে আসছিল এবং হত্যার ঠিকাদারিও করতো। তার নেতৃত্বে এমন অনেক পেশাদার খুনি আছে। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুলজানান, পুলিশ মনে করছে, হেলালের সাথে সিদ্দিক মুন্সির কোনো ঝামেলা ছিল না। খুনিরা মূলত ভারাটে। তাদের কাছে খুন হলো চা-পানি পান করার মতো। এ হত্যায় আর্থিক চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল জানান, ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীও এক সময় ছাত্রদলের নেতা ছিল। সে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে হেলালকে এই দায়িত্ব দেয়।

 

তখন হেলালকে প্রলুব্ধ করে বলা হয়েছিল, সিদ্দিক মুন্সির অফিসে নগদ অনেক টাকা পাওয়া যাবে। কেন সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, তবে সাধারণ কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা বলে মনে করছে না পুলিশ।  এর পেছনে ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীর বাইরে আরো কেউ থাকতে পারে কিনা, যে তাকে দায়িত্ব দিয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রবাসী সেই সন্ত্রাসী রাজধানীর বাড্ডায় ফোর মার্ডারসহ আরো হত্যার সাথে জড়িত। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সিদ্দিক মুন্সি হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হেলালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহজাহান সাজু। ডিবি উত্তর বিভাগের এডিসি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হেলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)।

 

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ‘এমএস মুন্সি ওভারসিজ’ নামে রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে চার দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মকর্তা মির্জা পারভেজ (৩০), মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৯) গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানী থানায় নিহত ব্যবসায়ী সিদ্দিকের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  সিসিটিভির ফুটেজে চারজন সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে নগরবাসী তথা জনসাধারণের সহায়তা চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  এরপর গত ২৩ নভেম্বর বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যা মামলার তদন্ত ভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ডিবি উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম,ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী,দক্ষিণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ,পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান,সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

সর্বশেষ আপডেট



» পাকিস্তানের বোলিং তোপে কোণঠাসা নিউজিল্যান্ড

» যশোরের বেনাপোল পুটখালী থেকে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ আটক-৩

» শ্রমিকদের জন্য হাসপাতল, আবাসন, রেশনিং, শিক্ষা, পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ন মৌলিক বিষয়ে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবীতে। মাননীয় স্পিকারের বরাবর স্বারকলিপি প্রদান

» উলাশীর নীলকুঠি পার্কে-বোমা হামলা ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ১৫ লাখ টাকা

» ধামইরহাট মঙ্গল খাল পুনঃ খনন হওয়ায় খুশি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির উপকারভোগী কৃষকরা

» বেনাপোলে জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান সিষ্টার হেলেনা জাহাঙ্গীরের সুস্থতা কামনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

» ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়া

» কলাপাড়ায় তেগাছিয়ার খেঁয়াঘাট টি যেন এখন মরণ ফাঁদ! যাত্রীদের চরম দুর্ভ্যোগ

» টাকা ছাড়াই ১৮ জন বেকার যুবককে পুলিশে চাকরি দিলেন এসপি মাহবুবুর রহমান

» প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বন্ধের পরিকল্পনা নেই: প্রতিমন্ত্রী

লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন





ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com
Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
আজ বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ, ১২ই আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘ইউরোপ প্রবাসী’ এক ব্যক্তির ইশারায় বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা-সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:
Spread the love

মোঃ মাসুদ হাসান মোল্লা রিদম, ঢাকা: বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে পালিয়ে যাওয়া ‘ইউরোপ প্রবাসী’ এক ব্যক্তির ইশারায় রাজধানীর বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা করা হয়।

 

এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হেলাল উদ্দিন নগরীর একজন পেশাদার খুনি বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম (সিটি)ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। আজ বুধবার (ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭)পৌনে ১২টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সিদ্দিক মুন্সি হত্যায় জড়িত হেলালকে গ্রেফতার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সিদ্দিক হত্যার ঠিকাদার ছিল হেলাল। অর্থাৎ এই হত্যার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয় প্রবাসী সেই ব্যক্তি। হেলাল মূলত পেশাদার খুনি। সে হত্যার ঠিকাদারি নেয়। তার অধীনে অনেক পেশাদার খুনি আছে। সে এই অভিযানে অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিক মুন্সি হত্যায় হেলালের নেতৃত্বে ৬ জন অংশ নেয়। যার মধ্যে ২ জন ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিল। এর মধ্যে ২ জন গ্রেফতার হয়েছে। পিচ্ছি আল-আলামিন ও সাদ্দাম নামে আরো দুইজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি দুইজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান জানান, হেলাল অপারেশনাল কমান্ডার হওয়ায় হত্যার সময় সে সহ দুইজন ভেতরে ডুকেনি। বাকি ৪ জন সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়। এ হত্যাকাণ্ডে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র দল নেতা হিসেবে হেলালের কাছে জমা থাকে। তার মধ্যে ৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১টি ৯ এমএম পিস্তল ও ৪টি ৭.৬৫ মডেলের। এ সময় ৯ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল বলেন, এ ঘটনায় ২৫ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করা হয়। বাইরে শব্দ না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা রুমে ডুকে দরজা লক করে দেয়। এয়ার টাইট থাকায় বাইরে আওয়াজ না হয়ে থাকতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান জানান, হেলাল মালেক ও সূর্যমুখী হোটেলের ডাবল মার্ডারের আসামি। হেলালের পরিচয় হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সে এক সময় ছাত্রদলের মধ্যম সারির নেতা ছিল। সে দীর্ঘদিন যাবৎ পেশাদার খুনি হিসেবে কাজ করে আসছিল এবং হত্যার ঠিকাদারিও করতো। তার নেতৃত্বে এমন অনেক পেশাদার খুনি আছে। জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুলজানান, পুলিশ মনে করছে, হেলালের সাথে সিদ্দিক মুন্সির কোনো ঝামেলা ছিল না। খুনিরা মূলত ভারাটে। তাদের কাছে খুন হলো চা-পানি পান করার মতো। এ হত্যায় আর্থিক চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল জানান, ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীও এক সময় ছাত্রদলের নেতা ছিল। সে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে হেলালকে এই দায়িত্ব দেয়।

 

তখন হেলালকে প্রলুব্ধ করে বলা হয়েছিল, সিদ্দিক মুন্সির অফিসে নগদ অনেক টাকা পাওয়া যাবে। কেন সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে মনিরুল বলেন, তবে সাধারণ কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা বলে মনে করছে না পুলিশ।  এর পেছনে ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীর বাইরে আরো কেউ থাকতে পারে কিনা, যে তাকে দায়িত্ব দিয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রবাসী সেই সন্ত্রাসী রাজধানীর বাড্ডায় ফোর মার্ডারসহ আরো হত্যার সাথে জড়িত। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সিদ্দিক মুন্সি হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হেলালকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহজাহান সাজু। ডিবি উত্তর বিভাগের এডিসি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হেলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)।

 

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ‘এমএস মুন্সি ওভারসিজ’ নামে রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে চার দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মকর্তা মির্জা পারভেজ (৩০), মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৯) গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানী থানায় নিহত ব্যবসায়ী সিদ্দিকের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  সিসিটিভির ফুটেজে চারজন সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারে নগরবাসী তথা জনসাধারণের সহায়তা চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  এরপর গত ২৩ নভেম্বর বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যা মামলার তদন্ত ভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (এডিশনাল ডিআইজি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ডিবি উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম,ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির পূর্ব বিভাগের উপ কমিশনার খোন্দকার নুরুননবী,দক্ষিণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ,পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান,সিরিয়াস ক্রাইমের উপ কমিশনার মোদাছ্ছের হোসেন, জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান ও অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ।

নিউজটি শেয়ার করুন:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Click Here



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



About Us | Privacy Policy | Terms & Conditions | Contact Us | Sitemap
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: আবুল কালাম আজাদ, খোকন
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক : কামাল হোসেন খান
সম্পাদক : এডভোকেট মো: ফেরদৌস খান
বার্তা সম্পাদক : মো: সো‌হেল অাহ‌ম্মেদ
সহ-সম্পাদক : নুরুজ্জামান কাফি
মফস্বল বিভাগ প্রধান: উত্তম কুমার হাওলাদার
যোগাযোগ: বাড়ী- ৫০৬/এ, রোড- ৩৫,
মহাখালী, ডি ও এইচ এস, ঢাকা- ১২০৬,
ফোন: +৮৮ ০১৭৩১ ৬০০ ১৯৯, ৯৮৯১৮২৫,
বার্তা এবং বিজ্ঞাপন : + ৮৮ ০১৬৭৪ ৬৩২ ৫০৯।
বিজ্ঞাপন এবং নিউজ : + ৮৮ ০১৭১৬ ৮৯২ ৯৭০।
News: editor.kuakatanews@gmail.com

© Copyright BY KuakataNews.Com

Design & Developed BY PopularITLimited